Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Manasi O Marmabani - Year 15; Vol.1 মানসী ও মর্ম্মবাণী - খন্ড ১; বর্ষ ১৫"

See other formats




€ সঙ্িভ্র মালিক পশ্রিক] 3 


৯৫্ণ র্্_৯হ্ম খত 


( ফাল্গুন ১৩২৯-_শ্রাবণ ১৩৩০ ) 


সম্পাদক-_ 
মহারাজ খজগদিন্্রনাথ রায় 
ও 


ন্লীপভাতকুমার £খোপাধায় বি-এ, বার-এট-ল 


কলিকাতা 
১৪-এ র।মতচ্মু বহর লেন, “মা'নপী* প্রেসে 
জ্রীমীতলচন্্র ভট্টাচার্য্য কর্তৃক মুড্রিত ও প্রকাশিত 


৬৩৩০ 


বাণ্মাসিক সূচীপত্র 


(ফান্তন ১৩২৯--শ্রাবণ ১৩৩০) 
বিষয়-সুচী 


আকাল বর্ষ। (কবিত1)- 


প্রণটীজ্ববাপ দা চৌপুলী ২৬৯ 
বআগ্শান্ধ (গল্প )-- 
শ্রীবৈনাথ বন্োপাশায় ৩৯৭ 
অস্ধের কাচিনী( কবিত!)-- 
জীতীপতি পর্ন ঘে'ষ বি-এ ৩৪৯ 
অপুণ ( উপন্তাস )-- 
. প্রীঘা্ক তট্টাচার্ধয বি-এ ১৮, ১২৬ ২১৭, 
৩৮ ৪৯৩, &:১ 
অত'গী ( কবিত1 ).- 
শ্ীসতীন্ত্রমোহন চটে ।পাধায় ১৩৪ 
অভিশগ গ্রাম (কবিচ1)-- 
কালিদাস রায় বি-এ 54৪৭৫ 
অমরকণ্টক ও নেমা ওয়ার ( সচিন্ব ১.২. র্‌ 
প্রীগৌরহ্রি নম ১৪৪ 
অধাচিত উপদেশ ( কবিত।)-_ 
উীকালিদাপ রায় বি.এ * ৩৩৭ 
জনা অশোক ত্ৃস্ত-- 
ভ্ীঅদুজনাথ বন্দোপাধ্যায় বি-এ ৯৩ 
অক্রনদী ( কবিতা )-_ 
উীবিজরলাল চট্টোপাধায় বি-এ ১৪ 
“আবার তোর! মানুষ হ*-.. 
গ্পতীশচজ্জ ঘটক এম. &, বি-এল ৩১ 
আখাদিতা ( কবি )--. 
শ্ীপ্রফু্রকুমার মণল বি.এ ৫৫২ 
আনয়-পরিণযা"( কবিত| )-- 
জীকালিযাস রাঁর বি-এ ২৮০ 
ইজিপ্টে নব জাবিস্কায়_ 


উপঞ্চপ (সচিত্র )-ভ্রীপুলিনগ্বহাণী নত ০ 
একজন অতি বড় ধীর কথ! (সচিন )-_ 
জঃরিছর শেঠ 
একটি দিন (ভ্রমণ )-_ 
ভীমতী স'যৃবালা মির 
ঘতিহাপিক যুগের ততস্ক র- 
শ্রীদ্মৃতল্'ল শীল এম-এ 
কামিনী ও কাঞ্চন ( কবি1)-_ 
শক রচ ধর 
কালাজর-_ 
ভীমরুণকুমার মখোপাধায় এষ-বি 
কালিদ।স বাঙ্গালী কি না 
রা বাহাছুর ভ্ীবত'আ্মোহন সিংহ বি-এ 


. কাশ্মীর জমণ-( সর্টিত )-- 


বীপূর্ণচজরায় এম.এ বি-থল 
কোকিল ( কবিত1)-__ 

গবিশ্বেশ্বর তট্াচারধ্য বি-এ 
খড়মের বৌল! ( নক! )-. 

ভীমনোমোহন চাউাপাধা!র 
গোশীভাব (গল্প). 

জীমতী রসীবাল। বনু 
গ্রন্থ মযালোচনা 
ছণ্টা (গল্প)-_-্ীজোতিরিজনাথ ঠাকু 
চোয় ( গল্প )-- 

শ্রীমতী কিরণবাল! দেবী 
ছলনামদী (কবিত1)- 

অধ্যাপক জীপরিলকুমার ঘোষ এম-এ 
জগৎ রূপ-_ 


৩৩৪ 


১৩৫ 


৩৯৫ 
৫১৫ 
২৭৩ 
রর 

ড$ 


৮৮ 


০ ই৩॥ 
৯৫) ২৮৭, ৫৬৭ 


৪৩1 


৩৯৪ 
* 


৩ম 


জববগপুর £ সচিত্র )-- 
অধ্যাপক ভ্রীকালীপদ মিআ এমএ বি'এল 


২৪৮ 
জৈননের গ্রাগৈতি্াসিক গুরু বা তীর্ঘককর 
শ্রীত্মৃতলাগ শীল এম-ঞ ২৮৯ 
জ্যোতি ( গল্প )-- 
শ্রীমতী অধিয়! দেবী ২ 
ঝাল (কবিভ1)-- ৃঁ 
শ্ী/ভীশচন্জ ঘটক এম-এ ব-এল ৪'৮ 
তারকেম্বর (ভ্রমণ )-. 
জততী গিরিবাল! দেবী ৪৪৯ 
ভাঙার ধে'ন (কবিতা )-- 
ভীপ্ীপতিপ্রন্ন ঘোষ বি-এ ১৩5 
তিষ্যএক্ষিতর কথ! (সঠত্র) 
, স্ষধ্যাপক আযোগীক্নাথ লম'দ্দার বিএ ৩২৬ 
নালন্দা সম্বন্ধে যকধিং-_ 
শ্রীকশীক্নাথ বস্তু এম-এ ৪৭৮ 
মাহীর সন্মান-_ 
ভ্রীদত। সঃযুহাল! মি্জ ৪৩৩ 
দারীর শ্বাধীনতা। ও পাঁবআতা-ক 
শ্রীমতী অনুরূণ1 দেবী ৪০১ 
নিজ্ঞাতূয়। (গল্প) 
| শ্রীপণীন্দ্রথাল রায় এম-এ ৬৪ 
৬নিরচন মুখোপাধ্যায় ( চিত্র) 
রমন্মথনাধ ঘোষ এষ-এ ৪৫৩) ৫২৬ 
পথহার! (গল )-- 
শ্রীমতী হুরধ্যমুখী দেবী ৩৭৫ 
পন্থা-_্রীথেস্বর ভট্টাচার্য বি-এ ৯৪ 
গিচিত (গন) 
শ্রীমতী কিরণবাল! দেশী ৩৩ 
পল্লীর বসস্তোৎনব-্রীম হী গিরিবাল! দনেখী ২৩৩ 
গাঁট বা ভুট-_ হীমন্মথনাথ নিংহ ৩৯১ 
পাঠানের প্রতিধিংসা-- 
,. ই্ধনওয়ারীলাঁল বন্থ এমএ ৩৮৯ 
পাহা পু 
সধ/1পক ভীংমেশডজ্জ মুমদা এ এম-এ, 
পি-এইচভি, প্রেষটাদ রাজন স্কলার. ৩৮৫ 


পিতৃতীন (গল্প )--ভীতাঙ্ককুমুদ কষ মিত্র ৪৭৬ 
প্রতাপ পিংহ"-এর গান (স্বরলিপি) 
ভ্ীমাশী মে!ফিনী সেন গুপ্ত। ৮৩, ১৫৩ 
প্রতিবাদের উত্তর-_- 
রাও বাহাহর শ্রীষশীন্দ্রমোধন দিংহ বি- ১৪৩ 
প্রাথমিক শিক্ষা _ 
অধ্াপক শ্হ্মচন্ত্র দাশগুপ্ত এম.এ ৮ 
প্রাচীন সাঙ্কাগ্ত নগর-_ 
শ্রীঙঘঘুজনাথ বন্দ্োপাধ্যা্ন বি-এ ৪৪৭ 
ফত্তন (কবিতা )-শ্ঞান্দি।দ রায় বি"এ ৬৩ 
বসন্ত দেষে (ঞাবত )-- 
একান্দান রা বি-এ ১০৪ 
বাদ্দাদ। দাট্যপা(ংত্য ও সমালোচনা! 
শী মততুপন্ষ্ণ ংচীধুন্ী এম এ ৮ 
1বধায় স্মবত__ 
জীমতী রাঁধারাণী ৭৪ ৩৫৫ 
বিষ্ঠাপৃতির কাব্য 
গ্রীমাড্ন্্রলান অগচার্য্য বি-এ ৫১৮ 
বিদ্যার জাঁধার্জ (কবিতা )-- 
জবা লদাদ রায় বি-এ ৫৬৭ 
বিবাছেঞ বিঞ্ঞাপন (গল্প )-- 
রী প্রফুল্ল মার মণল বিএ ১৬২ 
বিবাহের “ধীহু (গর )-- 
শ্রীমতী বিভাবতী খোষ ১১৭ 
বিঙাপ ( কবিতা )-% 
শ্রবজঙলাপ চট্রোপাধ্যাক্জ বিএ ২৮৬ 
বেঙ্গণ জ্য।ম্বুক্ন্ন কোরের কথ! (সচিত্র )-- 
হাবিদ্ধান আ্রগফুল্লকুমার সেন বি-এ €ৎ 
১৩৮, ৩৩৩ 
বৈদে।একী-- 
গ্রগৌরছরি সেন ৪১৩ 
বার্থ (কবিতা )-- 
দ্ধধাাপক ভপরধ্লকুমার ঘোষ এমএ ৫৩৯ 
ভোটান কাঞ্া (গ'ন)- * 
রয় ঝাঁহাদুর প্ীণীননাথ 
সান্যাল বি-এ,) এমবি ১৯. 


মনোরূপ-- 
জীনগেজনাথ হালদার এম এ বি-এল ১৯৩ 
মহত্বের পুরস্কার ( কবিত! )-- ্ 
প্বিজয়লাল চট্টোপাধায় বিএ ২৮৮ 
দুক্তিনাথ (ভ্রদণ )- 
শ্ীশরচন্ত্র আচার্য ১ ১১) 
১১০) ২০৫, ২৯৮, ৪২৮) ৫৪৪ 
মুক্তি-পাঁগল (কবিত1)-- 
গ্রীতীন্্রমোহন চট্টোপাধ্যায় ৪২ 
মু বধির বন্ধু ৮যামিনীনাথ বন্দয্যোপাধ্য।র (দচত্র)-- 
প্ীপ্রীশচন্ত্র গোস্বামী বি.এ ২৫৮ 
মৌর্ঘয নাআজোর অধঃপন-_ 
অধ্যাপক শ্রীনীলম্ি আঁচর্ধয এম-, বি-এল 
১৭৮ 


ম্যাকৃপিম গকি- ভ্রীগ্রস়কুমার সম।দ।র বি-এ ২৯১, ৫৬৪ 
রবীন্দ্রনাথের কাব্যে প্রক্কৃতির প্রভাব-- 
অধ্যাপক শ্রমহীতোষকুমার রায় চৌধুরী 
এমএ ২৫, ১৯৮ 
৮রাগ1 প্যারীমোহন সৃখোপাধ্যায়__ 
প্রীমন্মগনাধ ঘোষ এম.এ ৭২ 
রাণী রানমণির স্বপন (কবিত1)-- 


শ্রীকুমুদ রঞ্জন মল্লিক বি-এ ২৪৭ 
রামকৃষ্ণ সংঘ ( সচিত্ত)- 
প্রীনরেন্তরনাথ লাঁহ এ. এ, পি-এইচ-ভি, 
প্রেম্টাদ রায়টাদ স্কলার ১৫৩ 
শক্তির উদ্বোধন-_ 
অগ্াযাপক জীপ্রস্নকূমার আচার্য্য এম-এ, 
পিএই-ডি (লগ্ন) ডি-কাট (লণ্ডন) ৩১৬ 
শাশে বর (গল্প )_- 
শ্রীবগত্বকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বি-এ ৫৬৪ 


1/৩ 


শিকার ও শ্রিকারী (সনিত্ধ )-- 
ভীব্রংদজনারারণ আগার্ধয চৌধুরী 
৩৫৪) ৪৬৩; ৫৩১ 
মৃতীত্ব'-ঘাদল ও মেকী-_ 
শ্রীহে'গেশচভ্্র ভট্টাচার্য 
সতীত্বের কথা--অধ্যাপক ছিনয়েশচজ্ দেন 
এম-এ, ডি-এল ৩৭ 
সভ্যবাঁপ1 (উপন্যাগ )--- রম 
উীগ্রভাতকুমার মুখোপাধ্যার বি-এ, বাঁর-এট-ল 


১৫৯ 


৭৫) ১৮৮, ২৮১, ৩৭৯, ৪৬৮ 
সন্ধা! (গলপ )-__ 
ভ্রীষতী অনয! দেবী ৫১৪ 
সাঁচি ( সচিত) - চি. 
অধ্যাপক ভ্ীকালীপদ মিজ্ব এম-এ, বি-ধলী ৪১৫ 
সাহিত্য সম'চার-_ 8৮৪ 
লাহিত্যদন্মিলন ও বন্ধিমচঞ্জরঁ. 
ঞ্রপঙ্গধর মিশ্র ৫১৬ 
সাহিত্য সাধনার জাদর্শ-- 
শ্রীশিবয়তন মিত্র বিএ ২২৪, ৩৩৮ 
শিচ্ধম্‌ ও স্বন্তিক ( সচিন্ধ )-_ 
প্রীযাখালয়াজ রাজ এম-এ ১৪৭ 
স্বীণিক্ষ!- 
অধ্যাপক ছেমচজ দাশপ্তত এম-এ ২১৪ 
্বস্থা রক্ষায় জপত্তি-- 
*্রীনলী* ১৩৪ 
হীরানাল (গল্প )- 
উপ্রভাতকুষার মুখেপাধ্যার বি-এ, 
বার-এট-ল ৫৫৩ 
হেমচন্দ্র ( সচিত্র )- 
*শ্রীমঘধনাথ ঘোষ এম 'এ ২৬২, ৩৫৩ 


1৮৯ 


লেখক-সূচী 


ীদক্রুবচত্জ ধর-_ জীগৌরহরি সেন__ 
কামিনী ও কাঞ্চন ( কবিত।) ৫১৫ অময়কণ্টক ও নেমাওয়ার (সচির) 
প্ীদতুলরষ্ণ চৌধুরী এম-এ-_ বৈদেশিকী 
বাঙ্গাল! নাট্যসাহিহ্য ও সমা:লাচন! ৮ ভ্ীজে)[তিরিক্্নাথ ঠাকুর-_ 
শ্রীমতী 'সনুরূপ' দেবী- নানীর স্বাধীনতা '$ পবিজ্রতা ৪৮১ শা (গলপ) 
শ্রীমতী অশ্িঃ। দেবী-- জ্ীদিখিঙয় রার চৌধুরী__ 
জ্যোতি (গল্প) ট ইজিপ.টে নব আবিষ্কার 
, লন্ধ্যা এ ৫১* রাঁর বাহাছুর ভ্রীদীননাথ সান্তাল বি-এ, এব-বি-_ 
প্ীজমৃতলাল শীল এম-এ-_ ভোটান রাজ্য (গান) 
দৈনঘের প্রাগৈতিহাসিক গুরু বাতীর্ঘকর ২৮৯ ্রীনগেক্জনাথ হাপমার এষ-এ, বি-এল-__ 
 প্রতিহাসিক যুগের তীর্ক্কর ৩৯৫ জগৎ-রূপ 
নদ্ুঙ্গনাথ বন্দেযোপাধ্যা বি-এ-- মনোক্ধপ 
অররাজ অশোক শুস্ত ৯৩ ঞ্জ্রীনন্গী*__ 
প্রাচীন সাক্কস্ট নগর চি স্বাস্থারক্ষায় আপত্তি 
জীঅরুণকুমার মুখোপাধ্যায় এম-ব ঞীনরেন্দ্রনাঁথ লাহ! এম-এ, পি-এইচ-ডি, 
কালাজর 8০৮ প্রেম্টাদ রারটাদ স্কলার-_ 
ভীকাতিদাস রাগ বি.এ রামকৃষ্ণ সংঘ ( সচিআ্) 
কান্তন (কবিতা) ৬2 গ্রীনয়েশচন্দ্র সেনগুপ্ত এম-এ, ভি-এল-_ 
বদস্ত শেষে , রখ ূ ৮ সতীত্বের কথা 
আস পরিপয়। এ ২৮* অধ্যাপক শ্রীনীলমশি আচার্য এম-এ, বি-এল-- 
অযাচিত উপদশ এ ট মৌর্য্য সাপ্াজ্যের অধঃপতন 
জড় রর +1€. প্রীপক্ষধর মিশ্র * 
বিস্তারজাহাদ এ সাহিওা-সন্মিলন ও বহি মক্তব 
অধ্যাপক ভীকাশীপদ মি এম-এ, বি'এল_ অধ্যাপক ্রীপরিমলকুমার ঘোধ এম-এ-_ 
জবরপপুর ( লচিজ ) ছলনামরী (কবিতা) 
সাচি এঁ ৪১৫ বর্থ ঞ্ 
ঙ্গ 
রী টি রে ) 1... ৩৩. শ্রীপ্ুলিনবিহারী দত্ত 
রঃ ঁ ৬ উপগপ্ত (সচিত্র) 
প্ীকুমুদরঞ্জন মল্লিক বি-এ_ ০০১০১ হি 
.. ঝাণী রালমণির শবপ্ন ( কাবা) ২৪৭ াঙ্ীর গণ (চিজ) 
জমতী পিরিবাণা দেবী_ জীপ্রসুল্লকুদার মণ্ডল বি-এ-- 
পাড়ার মা নক বিবাহের বিজ্ঞাপন (গল্প) 


স্টিরকেন্বর ( অমণ ) ৪৪৪ জানা পিত! ( কৰিতা) 


1৯ 


হাবিলদার জী প্রচুযাচজ সেন বি-৫- 
বেল আ্যাছুলে্ল কোরের কথা (সচিজ) ৫*, 


৯১৩৮৪ ৩৩৪ 
ধপ্রভাতকুমার সুখ শাধ্যায়, বি-এ, বার- এট ল-_ 
সত্ধ্যবাল! ( উপন্তান) ৭৫) ১৮৮) ২৮১১ 
৩৭৯) ৪৬৮ 
হীরালাল (গল্প) ৫৫৩ 
অধ্যাপক ভীঞসন্নকুমার আচার্য এম-&, পি-এইচ-ডি (লন) 
| ডিগিট ( লগুন )-. 
শক্তির উদ্বোধন ৩১৬ 
জীপ্রলননকুমার সমাদ্দার বি-এ-- 
ম্যাকিম গর্ক ২৯১, ৫৬০ 
শ্রীফণীক্রনাথ বনু এম-এ-_ রর 
নালন্দা সন্বন্ধে বংকিঞ্চিং ৪৭৮ 
জ্রীবনওয়াবীলাল বনু হম. এস 
পাঠানের প্রতিহিংস। ৩৮৯ 


জ্ীবসন্কুমার বন্দ্যোপাঁধা।র বি-এ--. 


শাপে বর (গর) ৫৬৪ 
জীবিজয়লাল চট্টোপাধ্যায় বি.এ__ 

জ্র“দী (কবিতা) ১৪ 

বিলাপ ৮ 

মন্ত্র পুরস্কার এ ২৮৮ 
প্রীষতী বিভতাবতী ঘে'ষ-- 

বিব'ছের যৌডুক (গল) ১১৭ 
জবিস্বেশবর ভট্টাচার্য্য বি-এ-_ রা 

কোকিল (কবিতা) ৮৮ 

গন! ৯৭ 
গ্রীবৈতনাথ বন্দ পাধ।র__ 


অন্নিশুদ্ধি (গল্প) 
জীবরজেজ্নারায়ণ আচাধ্য চৌধুরী-_ 

শিকার ও শ্রিকাঁরী (সচিত্র) ৩৫*, ৪৬৩, ৫৩৬ 
প্র. নোমোহন চট্রে পাধা।য়__ 


৩৯৭ 


খড়মের বৌল! (নক!) চি 
প্ীমন্মখনাথ ধোষ এম.এ 
ঝাজ। প্যারীমোহন মুখোপাধ্যায় চা 


ছেমচজ ( মচিজ্ঞ) ২৬২, ৩৫৬ 


৬নরঞজন মুখোপাধ্যায় (সচিত্র) 8৫৩, ৫২৬ 
উমন্ধনাথ দিংহ__পাট বা ধু ৮ ৩৯১ 
অধ্যাপক জমহীতোয হূমার রায়চৌধুরী এষ .এ__ 

রবীন্ত্রনাথের কাব্যে প্রন্কৃতিয় প্রঙাব ২৫, ১৬৮ 
শ্ীঘনিফ ভট্ট চারধ্য বি-এ-_ 


অপূর্ণ ( উপন্যাস) ১৮, ১২৬) ২১৭, 

রঃ ৩%-১ ৪৪৩) ৪৯১ 
জীমতী মেহিনী সেনগ্থপ্ত'_ 

"প্রতাপ নিংহ”-এর গাঁন ( হ্বরলিপি ) "৮৩ ১৫৩ 


রায় বাহার গ্ীবতীন্ত্রমোহন সিংহ বি-এ-_ 
এরতিবাদের উত্তর * 8৩ 
কর্দদ বাঙ্গালীকিন! ৫5৩ 
অধ্যাপক ভীবাগীন্রনাধ লমাঙ্গার বিএ ১ * 


তিষ্যরক্ষিতার কথ! ( সচিত্র) , ৩২৬ 
শ্ীযোগেশচন্্ ভট্টাচার্য _ 

সতীত্ব--আদল ও ষেকি ১৫৯ 
অধ্যাপক ভ্রীর্াশচন্্ মজুমদার পি-এইচ-ভি, 

রাম্ঠ দ গ্রেম্ঠদ স্কলার. 

পাহাড়পুর নু ৩৮৫ 
শ্রীয়াখালরাজ রায় এম-এ-_ 

সিদ্ধম্‌ ও স্থন্তক ( সচিঞ্জ) ১৪৭ 
গরান্বকুমুদ কু্খ মি _ টু 

পিতৃতীন (গল্প) ৪৭৬ 
প্রীরাড্জ নাল আার্যয বি- খ- 

বি্ভাপতিয় কাবা ৫১৮ 
শ্রীমতী রাধারাণী দত্ব-__ রঃ 

ব্দি॥ স্ত্বতি (কবিত1) ৩৫৫ 
প্রীশচীন্ত্রনাথ রায় চৌধুরী-_ 

অকাঁপ বর্ষ! (কবিতা) ২৬৯ 


ভীপটীজ্্রল;প রায় 'এম-এ- 
নিদ্রা হুর! (গল্প) ৬৪ 
শ্ীণরচ্চঞ্জ জাচার্ধ.-_ 
মুক্তনাথ ( সচিত্র ) ১১) ১১০, 
২৯৫, ২৯৮) ৪২৮১ ৫৪৯ 
ভশিবরগ্তন মিআ্জ বি-এ-_ 


* সাহিত্য নাধনার আদর্শ 


২২৪, ৩৩৮) 


, ভীঞগাপ্রগা ধোষ বি.এ" 


তারায় বেন ( কবি1) ১১] 
অন্ধের কাহিনী এ ৩৪৯ 
জীজীখচঞ গোহ্ব।শী বি-এ-- 
মুকবধির বন্ধু ৬বামিলীনাথ বনোপাধায় 
(নচিত্) ২৫৮ 
ভীদভীজমোহন চটে পাধ্যার-. 
অতাগী( কাঁবত1) ১৩৪ 
মুক্তিপগিল এ ৪০২ 
/ীলতীশওজ ঘটক এম এ, বি-এলস- 
« প্আবার তোর! যানুষ হ* ৩১ 
ঝাল (কবিতা) ৪৩৬ 
মম্পাদকীর 
গ্রন্থ'দমালোচন! ৯৪, ২৮৭, ৫৬৭ 


ক লা লমাচায 
জৎরী ব।ুকীগা ধির_ 
এ. একট দিন (ভ্রমণ) 
নারীর নঙ্গান 
জীদতী সর়মীবাল। বহৃ_ 
গোণীভাব (গল্প) 
জীদতী হুর্ধযমুখী দেবী__ 
পথহার1 (গল্প) 
জীহরিংয় শেঠ -_ 
একজন গঅতিবড় ধনীর ধথা (মচিজজ) 
অধাপক ভীহেমচজ্জ দাশ এম-এ_- 
প্রাথমিক শিক্ষ! 
স্বীশিক্ষা 


ত্রিবর্ণ চিত্র 


ইন্দী যুবতী 


১৯২ পৃষ্ঠার সন্মুথে 


" জয়পুর রম্ণী বাত! পিষে তেছে-_ 
ভী'বতৃতি ভূষণ রার-_ মুখপত্র 


রায় বাহাছুর শীজলধর সেন--. 


প্ীধশীন্্কুমার দেন ৯৬ গৃ্ার সমুখে 
বেণুখক-_ 

গযোগেস্্রনাধ চক্তবর্তঁ ২৮৮ ৪ ০ 
সোফায়! ও মিঃ বর্শেল ৩৮৮ * * 
কালদর (মুদলমান পত্রাজফ) -.: [ও 

৬হরিচয়ণ মনুমধধায 8৮৭ * ৯ 


খন্স্য ও সঙ্গী, 





রী 
চা 


তহ্ষণ রায় 


বির 


--জ্। 


চিত্রকর 


্‌ 
টি 


ফাল্গুন, 


১০০৭ বর্ষ 
১ খণ্ড 


| 


১ খণ্ড 
১৩২০১ 


| 


১ম সহখ্যা 


জগৎ-বপ 


যাহাকে আমরা বুদ্ধি, মন চিত্ত অহ এভৃতি নাম 
দিয়া খুকি, অৃহাই আমদের, দেশের দর্শনবাদের মতে 
জাত! বা ব্হ্ী বলিয়া সাব্যস্ত হু নাই। এবং যা 
জ্ঞাত! ও বিষয্ী বলিয়া! সাবান্ত হইয়াছিল, তাহা এই মন, 
বুদ্ধি প্রভৃতির অতিরিক্ত এক “চিৎ” বা আত্মপুরুষ ৷ 
সেই চিদাত্মক আত্মপুরুষের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে ভরের এই 
বাহু বিশ্বরূপ নহে, তাহার সাক্ষাৎ জের হইতেছে বুদ্ধি 
এবং বুদ্ধির “ভাব সকল। অতএব” জাতৃ-পুরুষের পক্ষে 
এই বাহ জগৎ-রূপ হইতেছে পরোক্ষরূপ মাব্র,_-তাহা 
*বুদ্ধি-সচিবের* মন্ত্রণা ও বর্ণনা! মাত্র । এ সকল বিষয় 
আমরা পূর্বেই আলোচন! করিয়াছি। 

জঞাতা'ও জয় সম্বন্ধে ইহাই যদি সত্য তথ্য হয়, 
তবে সহজেই: প্রশ্ন উপস্থিত হয়, এই যে বিশ্বব্যাপী 
রূপ রসের বৃহৎ.ঞ9 বিচিত্র মেধা, যাহাকে প্রতিক্ষণ 
প্রত্যক্ষ সত্য বলিয়া! মানিয়া লইয়া আমর! এই জগৎ" 
ব্যবহারে প্রবৃত্ত হইতেছি,_তাহা৷ বাস্তবিক পক্ষে সৎ ন৷ 
অসৎ? অর্থাৎ এই যে বিশ্বরূপ, ইহা গুধু আমাদের 


মনেরই রূপ ও করন! মাত্র, না! সেই মাঁনস-রূপ ও 
কল্পনার অতিরিজ তাহাদের , কোনও সত্য অস্তিস্বও 
আছে! 

সাধারণ প্রাকৃত জনের পক্ষে, ইহ! যতই অশ্চিত 
প্রশ্ন ও অবৈধ কৌতুহল বলিয়। বিবচিত হউক, কিন্তু 
কোনও দেশের, কিং! কোনও কালের দর্শনিক তত্বানু- 
সন্ধ'নেই এ সন্দেহ উপেক্ষিত হয় নাই। কারণ, সকল 
দেশের দর্শন বিস্তাই স্পষ্ট বা অস্পষ্ট ভাবে উপলব্ধি 
করিয়াছে যে, জগতের সঙ্গে আমাদের যে পরিচয়, তাহা 
আমাদের মনের মধ্য দিয়া, মনেরই নিজের ভাষায় 
এক পরোক্ষ পরিচয় মাত্র। স্বর্পতঃ তাহা বুদ্ধিদূত 
প্রমুখাৎ এক পরিজ্ঞাত সমাচার মাত্র। এবং ইহাও 
সকলেরই জানা আছে যে, সেই বুদ্ধিদূত কোনই 
অন্রান্ত দূত নহে। সে, কখন কখনও শুক্তিকে মুক্তা 
বলিয়।, মরীচিকাকে জল বলিয়া এবং দুরস্থ বৃহৎ বিষয়কে 
ক্ষুদ্র বলিয়া, মিথ্যা সংবাদ দ্বারা আমাদিগকে প্রতারিত 
করিয়া থাকে । উক্তঞ্চ-_ 


২ মানসী ও মর্ম্মবাণী 


প্রাদেশমাত্রঃ পরিদৃশ্ততেহকঃ 
শান্ত্রেণ সন্দর্শিতো লক্ষযোজনঃ ৷ 
মানাস্তরেণ কচিদেতি বাধাং 
প্রত্যক্ষমপাত্র হি ন ব্যবস্থা ॥ * 


অর্থাৎ, হুর্্যকে প্রাদেশ-মাত্র (এক বিধৎ ) পরিমিত 
বলিয়া দেখায়। কিত্ত শাস্ত্রের দ্বারা জান! যায় স্ুর্ধ্য 
ধক্ষ যোজন পরিমিত। অতএব দেখিতে পাওয়! যায় 
ষে প্রত্যক্ষ £প্রমাণও প্রমাণাস্তরের দ্বারা বাধিত হয়। 
তাহাতে প্রত্যক্ষ প্রমাণের দ্বারাও সত্য নির্ধারণের ব্যবস্থা 
বিছিত নহে। 

এই সকল কারণেই কদাচিৎ, দর্শন-জগতে সন্দেহ 
উপস্থিত হইয়াছিল, প্রত্যক্ষাদি প্রমাণে সিদ্ধ এই বাহা 
জগৎ-রূপ, সং না অসং? এবং সেই সদসতের তথ্য 
নির্ধারণ কর! হইয়াছিল সমস্ত দেশ কালের দর্শন বিদ্যার 
এক চিরস্তন সমন্তা। এই ভারতবর্ষীয় দর্শন বিস্তাও 
এ সমন্তাকে পরিহার করিয়া চলিতে পারে নাই। এবং 
শুধুই পরিহার নহে,_আমরা দেখিতে পাই এই সমন্তারই 
উততঙ্গ ও অর্িচগপ পাধাণে প্রতিহত হইয়া, আমদের 
দেশের দর্শন বিদ্যার ভাব-মন্দীকিনী ত্রিপথগামিনী 
হঃয়াছিল। তাহাতে, যোগ ও সাংখ্য বিদ্ার আছ্ঘধারা 
পূর্বগামিনী হইয়া প্জগৎ-সত্যং* এই সিদ্ধান্তের সাগর- 
সগম প্রাপ্ত হইয়াছিল | বৈনাশিক ও বৌদ্ধ বাদ ইহার 
বিপরীত মার্গ অবলম্বনে, প্জগৎ শৃন্তং* এই সিদ্ধান্তকে 
লাভ করিয়াছিল। এবং শঙ্কর-দর্শন এক মধ্য-ধার! 
অবলম্বনে “জগৎ মিথ্যা” এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়া- 
ছিল,__শঙ্করাচার্ধ্য সেই *মিথ্যাকে”, সত্য এবং 
শূন্য হইতে ব্যতিবি ক্ত, “অনির্বচনীয় মায়!” নাম অভিহিত 
করিয়াছিলেন । 

প্রাচ্য দর্শন-বিদ্ভার এই ত্রি-ধারার্ কোনই ধারা" 
বাহিক সমালোচন! আমাদের উদ্দেন্ত নহে। আলোচ্য 
মোক্ষ-বাদের উপসংহারে এইটুকু মাত্র আমাদের জানা 
প্রয়োজন যে, ধাহারা এই জগৎ্রূপকে সত্য বলিয়া 


* সর্ববেদান্তসার। 


[ ০এশ বর্ষ--১ম খণ্ড --১ম সংখ্য। 


মানিয়াছিলেন, তাহারাই কি অন্ত আবার এক জগদতীত 
মোক্ষকেই জীবের পরম শ্রেয় বলিয়৷ নির্ধারণ করিয়া" 
ছিলেন? সেই উদ্দেসশ্তে, অগ্রে আমাদিগকে এই প্রবন্ধে 
দেখিতে হইবে, জগৎ-সত্য-বাদী কোন্‌ যুক্তিবলে জগৎকে 
মায়া ও শুন্তের মধ্যে বিলীন হইতে নিবারণ 
করিয়াছিলেন। সেই যুক্তির প্রথম পূর্ববপক্ষ 
হইতেছে-_ 
১। বিজান-বাদ। 

ধাহারা নাকি বলিতেন যে বাহা জগৎ শুষ্ঠময়, 
তাহাদের নাম ছিল বিজ্ঞান-বাদী। 
সাহেবের জন্মগ্রহণের অনেক পূর্বে, ভারতবর্ষায় বিজ্ঞান- 
বদ্দী বলিয়াছিলেন যে বহির্জগৎ বলিয়৷ কিছুই নাই, 
এবং যাহাকে আমর! বহির্জগৎ বলিয়া ভ্রম করি, তাহা 
আমাদের মনেরই “বিজ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞান মাত্র। 
প্রচীন পু'থি-পত্র দৃষ্টে বুঝিতে পারা যায় যে পুরাতন 
কালের বিজ্ঞান-বাদী (1108119) জগতের সত্য 
অস্তিত্বের বিরুদ্ধে দুইট প্রধান যুক্তির অবতারণ! করিয়া" 
ছিলেন। তাহার প্রথমটি হইতেছে এই £-_ 

আমরা যাহাকে “অর্থ” ব| বাহা বিষয় বলিয়া! থাকি, 
সেই প্অর্থের” বিজ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞান ব্যতিরেকে 
কোনই উপলব্ধি সম্ভব নহে | অর্থ বিশেষ বিশেষ 
জ্ঞানের ঘ্বারাই আমরা বিশেষ বিশেষ অর্থ ঘট পটাদিক 
বিদিত হই। অর্থ সম্বন্ধে আমাঁদের এই যে জ্ঞান তাহা 
অবশ্যই বিজ্ঞানাত্বক (1191) জ্ঞান। কিন্তু যাহাকে 
আমরা অর্থ বলিয়! বিদিত হই, তাহা! আমাদের প্রতীতি 
অনুসারে, বিজ্ঞানাত্বক সত্ব নহে, তাহা অর্থাত্বক 
(০0 10621) সত্তা । বিজ্ঞানবাদী বলেন আমাদের 
এই অর্থাত্মক প্রতীতি সত্য হইতে পারে না, কারণ 
প্ষৎ বেগ্ভতে যেন বেদনেন, তৎ ততো! ন ভিগ্যতে, যথা, 
জ্ঞানস্ত আত্মা-_"অর্থাৎ্ যাহাকে যে জ্ঞানের ( বেদনের ) 
দ্বার! বিদিত হওয়া যায়, তাহা ( অর্থাৎ সেই বেছ্য বিষয় ) 
সেই জ্ঞান হইতে ভিন্ন জাতীয় হইতে পারে না। ইহার 
উদাহরণ যথা, আমর] জ্ঞানের দ্বারাই জ্ঞানময় আত্মাকে 


13011012% 


ফান্তুন, ১৩২৯ 1 





বিদিত হই। অতএব বিজ্ঞান-বাদের মতে, সের কখনই 


জ্ঞান হইতে ভিন্ন জাতীয় বিষয় হইতে পারে না। তত্রাচ 
জেয অর্থকে আমরা যে জ্ঞান হইতে ভিন্ন জাতীস্ব সত্তা 
বলিয়া মনে করিয়া থাকি, মে মনে করা হইতেছে 
আমাদের ত্রান্ত-বিজ্ঞান। 

বিজ্ঞানবাদীর দ্বিতীয় যুক্ত এই__ 

যখনই আমাদের কোন বিজ্ঞান হইয়া থাকে, তখনই 
সেই সঙ্গে আমাদের পঅর্থের”ও উপলব্ধি হইয়া থাকে। 
কিন্তু সকল সময়েই যে সেই তথাকথিত বাহ অর্থ বিদ্য- 
মান আছে, এ কথা কেহুই বলিতে পারেন না। যেমন 
শ্বপ্পাদি কালেও আমাদের বাহ অর্থ জ্ঞান হয়, কিন্তু এ 
কথা কেহই বলিতে পারেন না যে স্বপ্রদৃষ্ট হাতী ঘোড়াও 
বথার্থপক্ষে বিগ্ধমান আছে। অতএব বিজ্ঞানবাদ পিদ্ধান্ত 
করিয়াছেন-- 


সহোপলগ-নিয়মাৎ অভেদে| নীলতদ্ধিয়োঃ। 
ভেস্ত ত্রান্তি-বিজ্ঞানং দৃগ্েতেন্দবিবাদ্ধয়ে | (১)* 


অর্থাৎ (বাহ বস্ত থাকুক আর নাই থাকুক) 
বাহ্‌ অর্থের সহ উপলব্ধিই আমাদের প্রত্যেক বিভ্ঞানাত্বক 
উপলব্ধির নিম । তাহাতে বাহা নীলরূপ যে অর্থ, তাহ! 
নীলবুদ্ধি হইতে ভিন্ন, ইহ্‌' বলা যায় না। কারণ, তথ! 
কথিত নীল অর্থ হইতেছে নীল বিজ্ঞানেরই অঙ্গীভূত 
অংশ। তথাপি বহিঃস্থ নীল অর্থকে আমর! যে নীল 
বিজ্ঞান হইতে ভিন্ন বলিয়। উপলব্ধি করি, সে উপলদ্ধি 
হইতেছে এক চন্ত্রকে ছুই চন্ত্র রূপেকউপলন্ধি করার স্তায় 
্রাস্ত উপলন্ধি। 

এই ছইটি যুক্তির মর্শান্ুারে বিজ্ঞানবাদ বলিতে 
বলিতে চাহিয়াছেন, বাহ্‌ অর্থ বলিয্না কিছুই নাই এবং 
বাহ জগৎ হইতেছে শূন্তময়। যাহাকে আমরা বহির্জগৎ 
বলিয় অন্কুভব করি, তাহা আমাদের “বিজ্ঞানেরই 
পরিকল্পনা” মাত্র। 





(১) ্যাগনুত্রের (81১৪) ব্যানভাঘ্য ব্যাখ্যায় বাচম্পতি 
মিশ্রধৃত বিজ্ঞানধাদের পূর্ববগক্ষ | শব্বর ও লায়ন উভয়েই এই 
মুক্তির উল্লেখ করিয়াছেন। 


' বিজ্ঞানবাদের উতর টি 


বিজ্ঞানবাদের এই যুক্তি-তন্্কে সাংখ্য ও বেদান্ত 


ছুই বিপরীত দিক্‌ হইতে তির্ধ্যক্‌ ভাবে পক্রমণ করিয়া- 


ছেন। কারণ জগৎ শৃন্তবাদ হইতেছে--মায়াবাদ ও 
জগৎ সত্যবাদ উভয় বাদেরই বিরোধী । বেদান্ত দর্শন 
বলিাছেন--“ন বৈধন্ম্যাচ্চ স্বপ্রাদিবংত (২২১৯ )1 
অর্থাৎ বিজ্ঞানবাদী ্বপ্রাদিকালের দৃষ্টান্ত, দেখাইয়া 
বলিয়াছিলেন, বাহ্‌ অর্থ আছে বলিয়াই বাহা অর্থের 
উপলব্ধি হয় ন! - অথুসহ উপলব্ধিই প্রত্যেক বিজ্ঞানাত্বক 
উপলব্ধির নিয়ম বলিয়া বাহ অর্থের উপলব্ধি 'হইয়া 
থাকে। উত্তরে বেদান্তদর্শন বলিতেছেন, বিজ্ঞানবাদীর 
এই স্বপ্রাদি কালের দৃষ্টাস্ত ব্যর্থ দৃষ্টান্ত ! কারণ, স্বপ্রজ্ঞান 
ও জাগরিত জ্ঞানের ধর্ম এক নহে। স্বপ্ন জ্ঞান হইতেছে 
জাঠ্ারিত জ্ঞানের দ্বারা বাধিত জ্ঞান। কিন্তু জাগরিত 
জ্ঞানের কোন বাধক জ্ঞান নাই। দ্বিতীয়5ঃ জাগ্রত 
অবস্থায় আমাদের যে অর্থ জ্ঞান হয়, তাহার স্ৃতিই স্বপ্ন 
জ্ঞানের কারণ। সেই জন্ঠ বাহ অর্থ ব্যতিরেকেও স্বপ্- 
কালে বাহ্‌ অর্থের আন হইয়া থাকে এবং তাহা হইতে 
ইহা! প্রমাণিত হয় না যে অর্থ সহ উপলব্ধিই সকল উপ- 
লব্ধির নিয়ম। 

এতৎ প্রসঙ্গে, বিজ্তানবাদের * উদ্দেশে, যোগভায্যে 
(81২৪ )বাস বলিয়াছেন “বাহ্বিষয়ক জ্ঞান আমাদের 
কোনই বাসনা বশে উৎপন্ন হয় না। ইচ্ছা কপ্সিলেই 
কেহ ঘট দেখিতে পায় না। কিন্তু ইন্জিত্স সন্িকর্ষে 
্রত্যুপস্থিত বিষয় সকল নিজের মাহাত্ম্যবলে, এবং বিষ্ঞা- 
নের মাহাত্ম্য বলে নহে, বাহ্‌ জ্ঞান উৎপন্ন করিয়া! থাকে । 
অতএব বাহ্‌ সত্তা নাই, ইছা প্রমাণিত হয় না।” 

ইহার পৰে, বিজ্ঞানবাদের অবশিষ্ট তর্ক এই থাঁকে, 
জ্ঞের সত্ব! জ্ঞান হইতে ভিন্ন জাতীয় হইতে পারে ফি না? 
অর্থাৎ 76:1.61০) সাহেবের ভাষায় বিজ্ঞানধাদীর অবশিষ্ট 
তর্ক এই চড়ার -]ব 0০ 020 02৮ ভা010 25 
1796051101৩ ১৫ 11106 0180 71010 05501091016 ?% 











ক টি ৮ 86 


৪ মানসী ও মন্মবাণী 


(যাহা অচেতন তাহ! কিরূপে অচেতনাকারেও প্রতি- 
তাসমান হইতে পারে ?) 

এই প্রশ্নের উত্তরে সাংখ্য বলিয়াছেন _“ন বিজ্ঞান 
মান্রং বাহাপ্রতীতেঃ* (১৪২) % অর্থাৎ পদার্থ সক 
যদি বিজ্ঞানমাত্র হয় তবে তাহাদের পক্ষে বাহৃরূপে 
প্রতীত হওয়া সম্ভব নহে। কেন সম্ভব নহে তাহ! 
বাচম্পতি মিশ্র যোগ ব্যাখ্যায় (৪81 ১৪) বিশদ ভাবে 
দেখাইয়াছেন। বাহ্‌ প্রতীঠি বলিতে বিজ্ঞান হইতে 
বিচ্ছিন্ন গ্রদেশে সত্তার অবস্থিতি বুঝাইয়৷ থাকে । এই 
বহ'প্রতীতি ফদি বিজ্ঞানেরই ধর্ম হয়, তবে সেই ধর্মের 
বিজ্ঞানাত্বক উপলব্ধি কখনই সঙ্গত হইতে পারে ন। 
কারণ একই বিজ্ঞান ঝহঃপ্রদেশস্থিত ও অন্তঃপ্রদেশ- 
স্থিত বিরুদ্ধ প্রতীতির দ্বারা! কখনই সঙ্গত বিজ্ঞান হইতে 
পারে না।”--এই বুক্তর ম্দ্ব পাঠক হৃদয়ঙ্গম করিলে 
দেখিতে পাইবেন, 76161৩% সাহেব যেমন বলিয়াছেন, 
অচেতন সত্তা কখনই চেশুনাকারে প্রতিভাসমান হইতে 
পারে না, তেমনি পাল্টা আমরাও জিজ্ঞাসা করিতে 
পারি, বিজ্ঞানবাদের মতে চেতনসত্তা মন এই যে 
অচেতন বহিঃসত্বারূপেও প্রতীতিযোগ্য হইয়াছে, তাহাই 
ব। মনের কোন্‌ ধর্মানুসারে সম্ভব হইয়াছে? 

কিন্তু বিস্তানবাদী প্রাচীন দার্শনিক, ইহা হইতেও 
গভীরতর গ্রদেশে অবগাহন করিয়া পদার্থ সত্তার মূলো- 
চ্ছেদ করিতে চাহিয়াছিলেন। তিনি বলিয়াছেন, পদার্থ 
বাদীর শ্বরুত স্বীকার :অনুসারেই পদার্থ সত্। আমাদের 
মনের কল্পনা! মাত্র হইতে বাধ্য, কারণ পদার্থবাদীর মতে 
এই গবাদি ও ঘটাদি 'অর্থই চরম (81610106) অর্থ 
নহে। তাহার মতে এই গবাদি ও ঘটাদি পদার্থের 
*ঝস্ত্য ও অবিভাঞ্জয” অবয়ব, পরমাণু (কিম্বা দ্বাণুক ) 
মকলই হইতেছে পরম অর্থ । অর্থাৎ পদার্থবাদীর মতে 
ঘটরূপ জ্বস্বী পদার্থ হইতেছে অণু অবয়বের সমষ্টি 
মাত্র। এবং পদার্থবাদী বলেন যে সেই সকল অপু 


সপ্পাত তি পি 


7.৯. বেদান্ত *লাভাবঃ উপলঙ্কে:।” ইহার ভাবে) শষ 
বস্কৃজাবে হজ্ঞাশবাদছ আলোচনা কারয়াছেন। তাহা অস্ত 


পীষ্টতধ্য । 








! ১৫শ বর্ধ--১ম খণ্ড--১ম সংখ্য 


অবয়বের *গুণ”ও পৃথক। অতএব তাহার মতে, 
অবয়বী অর্থকে সত্যরূগে প্রভীত হইতে হইলে তাহাকে 
অণুপুঞ্জ এবং সমবেত অণুগণক্পপেই প্রতীত হওয়া উচিত, 
এটি ঘট, এটি গরু এইক্সপে প্রীত হওয়া উচিত নহে। 
এবং এই গরু কিংবা! ঘটের প্রতীতি যদি কোন সত্য 
অর্থের গ্রতীতি হয়, তবে সে অর্থ আমাদের মনের কল্পনা 
ছাড়া অন্ত কি হইতে পারে ? 

বিজ্ঞানবাদের এই সুদুর অবগাহী যুক্ত, বিশেষ 
ভাবে স্পর্শ করিয়াছিল যোগপদ্থিগণকে । কারণ, 
যোগমতে যোগাঙ্গ অনুষ্ঠানের সাক্ষাৎ ফল হইতেছে-_যথা- 
অর্থ বা যথা-বন্ত জ্ঞান। বস্তবিষয়ক এই পরিশুদ্ধ 
জ্ঞানের যোগশাস্ত্রে নাম হইয়াছিল “নির্বিতর্ক সমাপত্তি।» 
এখন এই নির্বিতর্ক সমাপত্তি ও যথাবস্তজ্ঞান যদি পরমাণু 
জ্ঞান মাত্রে পর্যবসিত হয়, তবে যোগীর পক্ষে এ ঘট- 
পটাদিময় জগৎ একেবারেই অসৎ হইয়া পড়ে। কিন্তু 
শ্বামরা জানি ষে যোগীর জগতেও এ সব তুচ্ছ জিনিসের 
স্থান আছে। 

অতএব কোন এক প্রাচীনতম যোগাচার্ধ্য বাহ 
পদার্থের সত্য স্বরূপ অবধার্ণ-কল্পে সুত্র রচনা করিয়া- 
ছিলেন “এক বুদ্ধ[পক্রমঃ হি অর্থাত, অন্ুগ্রচয় বিশেষাত্মা 
গবাদিব্ধ ঘটাদির্ব লোক * এই হৃত্রের সংক্ষিপ্ত 
মন্ম এই। যথাবস্ত জ্ঞান যাহার! লাভ করেন, তীহাব৷ 
দেখতে পান যে এই গবাদি ও ঘটাদি লোক, অণু, 
সকলের সংস্থান বিশেষ বটে, সেই জন্ত তাহারা 
অপুপুঞ্জ বিশেষাতআবক। [কস্ত সেই সঙ্গে তাহারা ইহাও 
দেখিতে পান ষে সেই সকল অণুপুঞ্কে ব্যাপিয়া তাহাদের 
এক সাধারণ ধর্ম আছে যাহা সর্বদাই এক বুদ্ধি ঝ 
অবয়বী বুদ্ধিকেও উৎপন্ন করিতে উপক্রমশীল হই়াছে। 
সেই সাধারণ ধর্মই হইতেছে বস্তভৃত অবয়বী ঘটাদি 
পদার্থ, এই জন্ত পদার্থজ্ঞান অবস্তক "জ্ঞান নহে, তাহা 
আ'ত্মকজ্ঞান। 

এহ জন্ত পদীর্ঘজ্ঞান মনের কল্পনামাত্র নহে। 


পাতি শপ 


+* ১185 ব্]াসস্তাযো ধৃত। 


ফান্তুন, ১৩২৯] 





এইরূপে জগৎ সত্যবাদ বিজ্ঞানবাধকে নর করি 
তাহার দ্বিতীর প্র:তপক্ষের সংবাদ লইয়াছেন। তাহা-_ 


৩। 


মায়াবাদ। 


শঙ্কর-বাদ বাহা অর্থকে বিজ্ঞানময় এবং বাহ্‌ জগৎকে 
শৃম্তময় অবশ্তই বলেন নাই। বরং আমরা দেখিতে পাই 
বিরোধী বিজ্ঞানবাদের অভিযানে শঙ্কর কদাচিৎ যোগ ও 
ও সাংখোর সহিত এক নৌকাতেই রুণযাত্রা ক!,য়া- 
ছিলেন। যোগ ও সাংখোখ সঙ্গে তাহার বিরোধ 
অন্যত্র । 

সে বিরোধের হ্ত্রপাত হইয়া ছণ বাহ সত্তা ঘট- 
পটাদির সম্বন্ধে ভেবুদ্ধি লইয়া। এ কথ! অবশ্তই 
সকলে বুঝিতে পারেন যে, ঘটপটাদিকে একাস্তপক্ষে 
সত্য হইতে হইলে তাহাদিগকে অবশ্যই বিভিন্ন পদার্থ 
হইতে হয়। কিন্ত মায়াবাদ বলিয়াছেন, কোন 'প্রকার 
তেবুদ্ধিই সত্য হইতে পারে না, কারণ শ্রুতি বলিয়াছেন 
প্তদনন্তত্বম” কোন পদার্থ ই ত্রক্ধ হইতে ভিন্ন নহে। 

ঘটপটাদি জ্ঞানের মৃলীভূত প্রভেদ-জ্ঞানকে মিথ্যা 
জ্ঞান বলাতে মায়াবাদ যে শৃন্ভবাদের “সন্দিগ্ধ নৈকট্যেশ 
সমূপস্থিত হইয়াছিল, ইহা! স্বীকার করিতেই হইবে। 
এবং বোধ করি সেই জন্তই সেকালে এক গুজব উঠিয়া- 
ছিল__“্মারাবাদ অসৎ শান্তর, ইহা প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধমত।” 
কিন্ত এ গুজব, গুজব ছাড়া আৰ কিছুই নহে। শঙ্করের 
লোকোত্বর প্রতিতা, এই প্রত্যক্ষ জগৎরূপের এক 
অস্থায়ী সত্য মর্ধযাদাকে, ূন্তবাদের বুভূক্ষিত কবল 
হইতে রক্ষা করিতে সমর্থ হইয়াছিল। 

তিনি বলিফ়্াছিলেন, এই “নামনূপে ব্যাকৃত” জগৎ 
সম্বন্ধে আমাদের যে ভেদ জ্ঞান, তাহা! এই ব্যবহারিক 
মান়াজগতে কোনই অগ্রান্কৃত ভেদজ্ঞান নহে। স্বপ্ন 
জগতের বিষয় সকলের, স্বপ্নকাল ব্যাপিয়া, যেমন এক 
সাময়িক সত্যতা আছে, তেমনি এই বাবহার জগতের 
বিভিন্ন ঘটপটাদি সত্তারও মায়াকাল ব্যাপিক্া এক 
সাময়িক সম্ভতা আছে। কিন্তু জীব যখন এই ব্যবহার 
জগতের মায়া নিদ্র। অবসান, ব্রক্ধ জাগরণে জাগরিত 


হয়, খন তাহার পক্ষে কোনই ঘটপটাদি তেদ থাকে 
না-তাহার পক্ষে সমন্তই "সর্বং খন্থিদং ব্রহ্ম” হইয়া 
বায়। 

*. অতএব, শঙ্করাঁচার্যের মতে মায়া? হইতেছে এই 


জগৎ-ব্যবহারের মুলতন্ব। তাহাই এই পরিদৃশ্তমান 
জগৎরূপের প্রস্থতি ও প্রকৃতি। এই মায়ার স্বরূপ 
সম্বন্ধে শঙ্কর শারীরুক ভাষ্যে (২২২৪) বলিয়াছেন__ 
"এই নামরপে ব্যা্কত জগৎ হইতেছে, সুর্বজ্র ঈশ্বরের 
আত্মভৃত অধিষ্তাখক্তির দ্বারা কম্িত। সেই অবিদ্ধা 
ঈশ্বরের আত্মভূত শক্তি বলিয়া তাহা তত্ব € অর্থাৎ সৎ 
পদার্থ)। কিন্ত ঈখরের শুদ্ধ বুদ্ধ ব্রক্ষ-স্বভাব হইতে 
অবিষ্তা অন্ত বলিয়া অবিগ্তা অতঞ্চ (বা অসৎ পদার্থও ) 
বটে। এইরূপে তত্ব ও অতন্ব বলিয়া, জগৎ প্রপঞ্চের 
বীজভৃত সর্বজ্ঞ ঈশ্বরের মায়া-শক্তি হইতেছে অনির্ধচনীয় 
স্বরুপ ।” 

সাং ইহার সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়! বলিয়াছেন, "ন 
তাদৃক্পদার্থা প্রতীতেঃ* (১২৪ )-_মায়া যুগপৎ সৎ ও 
অসৎ খিরুদ্ধরূপ পদার্থ হইতে পারে না, কারণ তারৃশ 
বিরুদ্ধরূপ পদার্ধের কোনই প্রত্বীতি সম্ভব নহে। এবং 
সেই জন্ত তার সিদ্ধান্ত হইয়াছিল__“্জগৎ-সত্যত্বম্‌ 
অছুষ্ট কারণ জন্তত্বাৎ, বাধকাভাবাৎ* (৬৫২ )1-- 
জগতের সত্যত্বই সিদ্ধ হয়, কারধ দ্গগৎ কোনই ছুষ্ট- 
কারণ হইতে উৎপন্ন হয় নাই, যাহার জন্য পিত্বরোগীর 
হরিদ্রা-দর্শনের স্ায় জগতের সমস্তই মিথ্যা-দর্শন হইতে 
বাধ, হইয়াছে। এবং এই প্রপঞ্চ জগৎ-জ্ঞানের 
কোনই বাধক জ্ঞান নাই। 


8। চিত্তের সর্ববার্থতা । 


এই রূপে যোগ ও সাংখ্য বিস্তা, জগৎ সত্তাকে ব্রহ্ধ- 
বিদৃহন ও বিজ্ঞান-নিমজ্জন হইতে রক্ষা করিয়া, আমাদের 
প্রতীতির ভিত্তির উপরই তাহার সত্যবূপকে" প্রতিষ্ঠিত 
করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহাতে তাহাকে প্রথমে 
অবধারণ করিতে হইয়াছিল কোন্‌ কোন্‌ বিষয়কে অর্থ- 
রূপে বিদিত হওয়া আমাদের সম্ভন হইয়াছে। 


মানসী ও মণ্মবানী 


অচেতন বাহ অর্থকে, অর্থাকারে অবশ্যই আমরা 
বিদিত হইয়া থাকি। এবং বাহ্‌ অর্থ ব্যতিরেকে, ক্রোধ 
লোভ ও রাগঘ্ধেষাদি মানসিক অর্থ সকলও আমাদের 
জরে! এই সকল মনোভাবের আশ্রয় ও অবলম্বনম্থরূপ 
যে মন--এবং বুদ্ধি, চিত্ত, অহং গ্রভৃঠি যাহার নামান্তর 
--তাহাও আমাদের এক বিজ্ঞেয় বিষয়। ইহ! ছাড়াও 
অন্ত এক অর্থ আছে, যাহা আমাদের মন ও মনোতাবের 
সহিত মিশিঃ। চৈতন্ত বা জ্ঞানরূপে উপলব্ধ হইয়] 
থাকে। সেই চৈভন্ত জ্ঞান-স্বরূপ হইলেও, তাহা আমা- 
দের প্রেয় বিষম়। যদিও আমরা ব্যবহার ঃ চিত্তকেই 
টৈতন্ত বলিয়া গ্রহণ করিয়া থাকি, তথাপি অন্দষ্টি ও 
বিশ্লেষণ দ্বার! চিত্ত হইতে চৈতন্তের পৃথক উপলব্ধি কোঁনই 
অসাধ) উপলব্ধি নহে। 

ক্যামরা দেখিয়াছি চৈতন্ত উপবুঞ্জত চিত্তই সাক্ষাৎ 
সন্ধে আমাদের জ্ঞেপ। এবং বাহা অর্থ সকল মনের 
মধ্য দিয়া মনসাকারে আমাদের জ্ঞেয় হইয়াছে। 
ইহা হইতেছে আমাদের বিধি বিহিত জ্ঞান্বিধি। এবং 
এই জ্ঞান-বিধি কিক্ধপে সম্ভব হইপ়্াছে, ইহা বুঝাইবার 
জন্য শাস্ত্র বিবিধ দৃষ্টান্ত 'ও উপমার আশ্রয় লইয়াছেন। 
তাহার ছু'একটরু এখানে উল্লেথ করা প্রয়োজ" | 

একটি উপমা হইতেছে এই। আমরা দেখিতে 
পাই একত্র অবস্থৃত অযস্কাস্ত মণি (1.9০5৮০2৩) 
অন্তত্র অবস্থিত লৌহের নৈকট্য সম্বন্ধ প্রাপ্ত হইলে, 
লৌহকেও চুষ্বক-ধর্মে অভিরঞ্রিত বরে। সেইরূপ 
“অয়ফাস্তমণি-কল্প বিষয় সকল চিত্তের সহিত 
অভিসস্বন্ধ প্রাপ্ত হইয়া, অয়লোধন্্মক চিত্বকে বিষয়-রাগে 
অভিরঞ্জিত করিতেছে । বিষয় সকল যখন এইরূপে 
চিত্তের সহিত অভিসম্বন্ধ প্রাপ্ত হয় না, তখন চিত্তও 
বিষয় রাগে রঞ্জিত হয় না, এবং ব্ষিম্ন সকল 
বিদ্যমান থাকিলেও সেই কারণে বিষয় জ্ঞান হয় না।” 

আর*একটি উপমা! এই-_স্ষটিক যেমন শুদ্ধ স্বচ্ছ 
শ্বতাব, এই চিত্ত সত্বও সেইক্মপ শুদ্ধ স্বচ্ছ স্বভাব। সেই 
জঙ্ স্কটিক ও মণিকল্প এই চিত্ত-সত্ব, চেতন ও অচেতন 
অর্থের দ্বারা উপরঞ্জিত হুইয়। চেতন ও অচেতন অর্থা- 


| ১৫শ ব্ধ-_-.ম খণড--১ম সংখ্যা! 


কারে প্রতিভাসম'ন হইতেছে। অর্থাৎ স্কটক যেমন 
স্বভাবতঃ রক্তবর্ণ নহে, জবারাগে অভিরপ্রিত হইয়া 
রক্তবর্ণ বলিয়! প্রতীয়মান হয়, তেমনি মন ও চৈতন্য 
কিংবা! বাহা বিষয়ও নহে, বাহা বিষয় ও চৈগ্ন্ত দ্বারা অভি- 
রঞ্জিত হইয়। মন চেতন ও অচেন্ন রূপে প্রতিভাসমান 
হইয়া থাকে। 

চিত্তের চৈতন্ত অভিরঞ্িত ভাবকে শাস্ত্র চিৎ ছাঁয়। 
পাত দ্বারা ব্যাখা করিয়াছিলেন, ইহা! পূর্বেই আমর! 
দেখিয়াছি । ইহার উদাহরণ হইতেছে এইরূপ- স্বরূপতঃ 
অন্জ্ল লৌহ যেমন অগ্নি দ্বারা উত্তপ্ত হইলে অগ্নিবৎ 
উজ্জ্বল হয়, তেমনি স্বরূপতঃ অচেতন চিত্ত, চিৎ সানিধ্যে 
চিদুজ্জল হইয়াছে। 

অতএব যোগনদর্শন বলিয়াছেন পদ্র্ু দৃষ্টোপরক্তং 
চিত্তং সর্বার্থম্” : 8২৩)।- দ্রষ্টা বা চেতন এবং দৃশ্ত বা 
অচেতন অর্থ সকলের দ্বারা উপরক্ত হইয়া চিত্ত সমস্ত 
অর্থাকারে প্রতিভাসমান হইতেছে । কিন্ত প্রতিভাসমান 
হইলেও চিত্তই চেতন ও অচেতেন অর্থ নহে। চিন্তাকারে 
প্রতীয়মান অর্থ সকল চিত্ত হইতে যে পৃথক্‌ ও অন্ত 
ইহাই পূর্বেবাক্ত উপম! সকলের মর কথা। 

উপমা! ও দৃষ্টান্ত যে প্রমাণ নহে, ইহা আমরা যতট! 
জানি, প্রচীনগণও অবশ্ত ততটাই জানিতেন। সেই 
জন্য পূর্বোক্ত উপমা দ্বারা এইটুকুমাত্র সিদ্ধ হইয়াছে, 
যে, চেঙন ও অচেতন অর্থ সকল, চিত্ত হইতে ভন 
হইলেও, কিরূপে তাহাদের চিন্তাকার প্রাপ্ত 
হওয়াও সম্ভব হইতে পারে? কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে 
অর্থ সকল হইতে চিত্ত সত্তা যে ভিন্ন ইহার *প্রমাণ” 
অন্তর । 

সেই প্রমাথ হইতেছে এই। আমরা! দেখিতে 
পাই চেতন ও চেতন অর্গাকার চিত্ত ওজ্ঞেয় ও বিষয় । 
যাহা জয় ও বিষ॥ তাহাই জ্ঞাত ও বিষয়ী হইতে 
পারে না। অতএব যাহাকে জ্ঞান বলিয়া জানতেছি 
তাহা নিজেই নিজের জ্ঞাতা হইতে পারে না। পাঠক 
বিদ্দিত আছেন, মহাত্ম! 7০73 অবিক্ল এই যুক্তি 


অবলম্বনে এক 11:01090000605] আআকে 


ফাল্গুন, ১৩২৯] 


জগৎ-রূপ 








মানিতে বাধা হইয়াছিলেন। এবং এই যুক্তির ফলে, 
আমাদের দেশের দর্শন, চেতনাকারে প্রতীয়মান চিত্ত-ক 
স্বরূপতঃ অচেতন বলিয়া নির্ধারণ করিয়াছিল। 

ব্যাসদেব এই চিত্ত ও চৈতন্ত তত্বের উপসংহারে 
যাহা বলিগ্লাছেন তাহা! আমর! পাঠকের উদ্দেশে সাগ্রহে 
নিবেদন করিতেছি-_ ৰঁ 

“চেতন ও অচেতন অর্থ সকলের সহিত চিত্ত সমান- 
রূপত। বা সা-রূপা প্রাপ্ত হইতেছে। অর্থ সকলের 
সহিত চিত্তের এই সারূপ্যে জ্ান্ত ₹ইয়। কেহ বলিতেছেন 
চিত্বই ঢেতন। কেহ খলিতেছেন চিত্তই এই গবাদি 
ও ঘটাদি লোক, এবং চিত্ত হইতে অন্ত কোনই গবাদি 
ও ঘটাদি লোক নাই। ইহারা অন্ুকম্পনীয়। কারণ, 
তাহারা ত্রাস্ত এবং তাহাদের ভ্রাস্তিবীজ হইতেছে এই 
যে, বিষয়ী ও বিষয়াকারে নির্ভাসমান চিত্ত হইতেছে 
নিজেই বিষয়ী ও ব্ষিয়। কিন্তু যোগিগণ সমাধিবলে যে 
পরিশুদ্ধ ও প্রকৃষ্ট জ্ঞান (প্রজ্ঞা) প্রাপ্ত হয়েন, তাহান্তে 
দেখিতে পান, যে, তাহাদের পরিশুদ্ধ জ্ঞানে, যাহা অর্থা- 
কারে উপলব্ধ হইতেছে তাহা প্রতিবিদ্বীভূত বিষয়াকার 
চিত্তমাত্র ।” 


জগংরূপের সত্য মিথ্য। | 


এইক্নপে আমরা দেখিতে পাই, বহির্জগৎ ও অস্ত- 
জগৎ লইয়া আমাদের যে জগৎ্ব্যবহার, তাহ! কোনই 
সনাতন প্রতারণাবিধির উপর প্রন্থিিত হয় নাই এবং 
আমুলতঃ তাহা মিথ্যা ব্যবহারও নহে। এই জগৎ- 
প্রতিশর যাহা কাঠামে! ও অস্থিপঞ্জর তাহা অনিবাধ্য 
সত্য। এবং এই জগৎ-রূপের যাহা! সত্য তাহা যে এক 
অজ্জেয়, অক্ঞাত ও অনবধার্ধ্য তত্ব ইহাও আমাদের উপ- 
যাচিত সন্দেহ নহে। 

কিন্তু তা» বলিয়া এ জগতে মিথ্যা প্রতীতিরও 
অসপ্ভাব হয় নাই। বহির্জগৎ ও অন্তজ্জগৎ সঙ্বন্ধে সত্য 
অবধারণ! সিদ্ধ বলিয়া! অসত্য অবধারণাও অসিদ্ধ নছে। 
বাহ্‌ তনজ্ঞানী যেমন জানেন যে সুর্যের প্রাদেশ 
পরিমাণ এক মিথ্যা পরিমাণ, অন্ততপ্তত্থজ্ঞানীও তেমনি 





দেখিতে পান যে আমাদের অস্মরের বাগথোনুবিদ্ধ 
বাসনা ও কামনা অযথাভাবে হেয় ও উপাদেয় 
অধধারণ করিয়া থাকে। শুধু তাহাই নহে। 
*আমাদের ব্যবহারিক বন্তজ্ঞানও বিশুদ্ধ অর্থাকার 
জ্ঞাননহে। তাহা শব্ধ জ্ঞান অর্থ জ্ঞানের সহিত 
(মিশিয়া গিয়া এক ব্যামিশ্র বিষয় জ্ঞান হইয়াছে। 
তাহা শ্রুত ও অন্থুমিত জ্ঞানের সহিত মিশির! :গি্কজা এক 
“সংকীর্ণ ও বিকল্প" জ্ঞান হইয়াছে । এঁবং প্েই ”শব 
অর্থ জ্ঞান-বিকল্প সংকীর্ণ" জ্ঞান নিশ্চয়ই যথা-বস্ত ও 
যথা-অর্থজ্ঞান নহে ।* এই জন্য যোগিগণ যখন যখাবন্ধ 
জ্ঞ।নের সাধনা অবলম্বন করেন, তখন তাহাদের স্মৃতির 
বৃত্তি ক্ষীণ হইয়া, বিভক্ত অর্থ নকল আর অবিভক্তভাবে 
প্রতীয়মান হয় না। এবং তখন তাহার! সত্য অর্থকে 
মনের কল্পনা ও স্থৃতির রচনা হইতে বিতক্ত করিয়া, 
বর্থার্থ ও বিভক্ত সত্য অর্থরূপেই দেখিতে পান। এই 
পরিশুদ্ধ অর্থজ্ঞানই যোগশান্ত্রে নির্কতর্ক ও নির্বিচার 
সমাপত্তি নামে অভিহিত হইয়াছে । 

জগতরূপের অবধারণায় এইরূপে সত্য মিথ্যার 
সমাবেশ হইয়াছে বলিয়৷ দর্শন বিদ্তা কখনই হতাশ্থাস 
হয়েন নাই। কারণ বুদ্ধির জর্টল তন্ত্রে প্রতারণা ও 
অযথা সংযোজনা সম্ভব হইয়াছে বলি, তত্বজ্ঞান ও সভ্য 
বিচরণাও অসম্ভব হয় নাই। এই ভ্রান্ত তন্ত্রের মধ্যেই 
ভ্রান্ত সত্যের অমোঘ প.রমাণদওও গোপনে সুবিথ্তি 
ও সুরক্ষিত হইছে । এবং তাহা যদ্দি না হইত, তবে 
বহিরস্তর বিষয়ক সর্ধবিধ জ্ঞান-বিধি ও তন্ববিচার অন্ধের 
মূগয়াবৎ এক অসাধ্য ও অসম্ভব ব্যাপার হইয়া! পড়িত। 
আমাদের বিধাতা পুরুষ, যখন আমাদিগকে এক ত্্রাস্ত 
বুদ্ধির বশবর্তী করিয়া! এ জগতে পাঠাইয়াছিলেন, তখন 
তিনি সেই ভ্রাস্তর নিগৃঢ় অভ্যন্তরে একমাত্র অত্রাস্ত 
আলোকের অনির্বাণ শিখাও জালাইয়া দিয়াছিলেন। 
সে আলোক ন। থাকিলে এই জীবলোক, অন্ধকারের 
অপার পারাবারে গতিহারা হইয়া নিবিয়া যাইত 
এবং সেই জন্যই, আমাদের পক্ষে এই অন্াদকাল 
প্রবর্তিত সৃষ্টি ও জগৎ হইতেছে, অন্ধকার ও আলো- 


৮ মানসী ও ম্মববাণী 


কের,” সত্য ও মিথ্যার এক অনাদি সংগ্রাম। . এখানে, 
জীব চরম সত্যের অভিসন্ধানেই যুধ্যমান জীব হইয়াছে। 
তাহাতে পদে পর্দে তাহার পদস্থলন ও পরাজয়ও সম্ভব 
হইয়াছে বটে । কিন্তু তথাপি দে তাহার সমস্ত ক্রি 
বিচ্যুতি ও জয় পরাজয়ের মধো এক ন্তর্ভেণী প্রবণতায় 
মিথ্যার হুন্তর্যা কাগারকে পিছনে রাখিতেই চাহিতেছে 
তাহার সত্যান্থসন্ধানের সুদীর্ঘ পথ, বহুজীবন ও বনু 
জন্মের মধ্য দিয়! আকিয়া বাঁকিয়া, একই নির্দিষ্ট দিকে 
চলিয়াছে। তাহাতে একদিন মনস্তকালের কোন্‌ এক 
অনাগত শুতক্ষণে, তাহার এ অনার্দি পথযাত্রা অস্তলাভ 
করিয়া পরিসমাণ্ড হইবে। কিন্তু তাহার পূর্বের 


-রাঙ্গলা নাট্য-সাহিত্য ও সমলোচনা 


বাঙ্গলা নাট্যর্সাহিত্য যে বাঞ্গলা সাহিত্যে আজিও 
যথেই সমাদর লাভ করে নাই, তাহার কারণ আমর! 
কি রাষ্ট্রতত্ত্ে,কি সমাজে, কি সাহিত্যে সর্বত্রই রক্ষণ- 
পশ্থী। আমরা বাঙ্গালীরা পাশ্চাত্য সভ্যচার বিলাতী 
মদ পুরাতন বোতলে ঢালাই করিয়াছি, কিন্তু মাতলামী 
করিয়াছি বাহিরে, অন্তরের অন্রমহলে সনাতন চাল 
চপনের কিছুমাত্র বাতিক্রম হইতে দিই নাই। রাজনীতি 
ক্ষেত্রে জাতীপ় একতার মহিমা কীর্তন করিয়াছি; 
কিন্ত সমাজে তাহা অস্বীকার করিয়াছি ; সমাজে বিধবা! 
বিবাহ প্রচলন স্ত্রশিক্ষ1 ইত্যাদির পক্ষে বন্তু তা দিগ্নাছি, 
কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে গৃহে তাহার প্রবেশাধিকার দিই 
নাই; মুসলমান-আমলে চাপকান পরিয়া ও ইংরাঁজ আমলে 
হাট কোট পরিয়! চাকরি করিয়া আসিয়াছি, গৃহে 
ফিরিয়। পুর্ববৎ স্নান করিয়া শুচি হইয়াছি। নৃতনত্বের 
বার্তী চিরকাল আমাদের কাঁণের ভিতর দিয়া প্র“ব্শ 
করিয়াছে কিন্ত মরুমে পশিতে পারে নাই। 

বাঙ্গলাসাহিত্যের ইতিহাস আলোচনা করিতে 


| ১৫শ বর্ষ--"১ম খ€্চ--১ম সংখ্যা 


তাহার সমস্ত উত্থান পতনের মধ্যে, একই অনাহত প্রার্থনা 
তাহার কাতর কঠে ধ্বনিত হইতে থাকিবে--“অসতো! 
মং সাগময়*_ অসৎ হইতে আমাকে সত্যে লইয়া যাও। 
কারণ সেই *“সৎ*ই হইতেছে তাহার চরম গন্তব্য ও 
পরমা গতি। সেইখানেই তাহার জীবন পন্থার পি- 
সমাপ্তি, সেইথানেই তাহার সংসার সংগ্রামের চরম 
রণজয়। এবং যেদিন সে সেই চরম জয়ে জয়ী হইবে, 
সে দিন তাহার বুদ্ধির অখিল ভ্রান্ত প্রমাদও ঘুচিয়া 
যাইবে। সেদিন হইতে সে বহিজ্জগৎ ও অন্তজ্জগতের 
অনাবিল ও অবিত্থ সত্যরূপকেই দেখিতে পাইবে। 


শ্রীনগেন্দ্রনাথ হালদার । 


আমাদের এই বাঙ্গালীত্বের পরিচয় পাই। বাঙ্গলা সাহিত্যের 
অভ্যুদরয়কে অমরা সনাতন ও নব্যপন্থী উভয়েই, 'প্রথমতঃ 
আমল দিই নাই। সংস্কৃত পণ্ডিতগণ তাহাকে ভাষায় শূদ্র 
ও অশ্পৃন্ঠ জ্ঞানে সংস্কতের সহিত এক পংক্তিতে বসিতে 
দেন নাই । ইংরাজী শিক্ষতগণ বাঙগল] জান৷ অপেক্ষ। 
না জানাই অধিকতর প্রশংসার বিষয় বলিয়! জ্ঞান 
কৰ্রিয়াছিলেন এবং অন্দরের কথাবার্তার অন্তরালে ও 
দলীল দক্তাবেজের নিচের তলায় তীহাদের ভাষা জননীকে 
দাসীবৃত্তি করিবার অধিকার দিগ্সাছিলেন মাত্র। ভদ্র 
ভাব! পরিবারে একাপনে বসিয়। ভাব বিনিময়ের সামর্থ্য যে 
তাঁহার থাকিতে পারে সে কথা তাহার সন্তানগণ বিশ্বাস 
করিতেন না। এমন সময় রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র, 
বঙ্কিমচন্দ্র ও মধুসদন প্রমুখ মনীষিগণ বাঙ্গল/ভাষায় যখন 
ভাবের বস্তা লইগা নানিয়া আমিলেন এবং বাঙ্গলা 
ভাষাকে অন্তান্ত ভাষার সহি এগাসনে বিবার যোগ্য 
বলিয়া ঘোষণা করিয়া দিলেন, বাঙ্গালীর বাঙ্গালীত্ব 
তাহাদের সেই বাণী সর্বাস্তঃকরণে গ্রহণ করিবার পথে 


ফাল্গুন, ১৩২৯] 


যেসকল বাধাবিপত্তির স্থষ্টি করিয়াছিল, রবীন্দ্রনাথের 
বিশ্ববিরয্নিনী প্রতিভার দিনে, সেদিনকার মধুসথদনের সেই 
কাতরোক্তি প্যারে রে যা অবোধ তুই যারে ফিরে ঘরে, 
বঙ্গভাষা খনি তোর পূর্ণ মণি জালে” আমর! ভুলিয়া 
গিয়াছি। আজ স্তর আশুতোষ বাঙ্গলা ভাষাকে যে 
অনুগ্রহ করিয়! বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার দিয়াছেন 
তাহা বলিতে পারি না, কিন্ত একদিন ছিল যখন মিস- 
নারীরা অনুগ্রহ করিয়া বাঙ্গলা বলিতেন ও লিখিতেন 
এবং বাঙ্গালী তাহা! দেখিয়া! হাসিত ও ঠাট্টা করিত! 
বাঙ্গলা সাহিত্যে যে আজ রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রাণিতত্ব 
ঘটিত রচনার অভাব দেখা যাইতেছে, তাহার কারণও 
বাঙ্গালীর এই বাঙ্গালীত্ব-_অর্থাৎ তাহার মনোবৃত্বিকে 
নতুন পথে চালাইবার পক্ষে অপ্রবৃত্তি। উপন্তাম ও 
কবিত! ব্যতীত যে যে বিভাগে সে প্রতিভা লাভ করি- 
যাছে তাহা ব্যতাঁত বাংল! সাহিত্যে নৃতনত্বের অবতরণ 
আমরা সাগ্রহে গ্রহণ করিতে অনিচ্ছুক । পাশ্চাত্য-* 
সাহিত্যে নাট্য সাহিতোর স্থান কত উচ্চে তাহা.জানিয়াও 
আমর! গিরিশচন্ত্রকে সমাদরে গ্রহণ করি নাই, দ্বিজেন্্র- 
লালকে ভুলিতে পারিয়াছি। নাটক ও নাট্যকলা যে 
সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ তাহা! আমরা স্বীকার 
করিতে চাহি না, এমন কি অনেকে মনে করেন তাহাতে 
সাহিত্যের শুচিতা নষ্ট হয়। তাই বাঙ্গলা সাহিত্যে 
এ সম্বন্ধে রীতিমত সমালোচনারও অবকাশ নাই। কিন্তু 
নাট্য সাহিতা ও নাট্যকলা সম্বন্ধে আমাদের এবন্িধ 
উদ্দাসিন্ত ও উপেক্ষা সন্বেও দেখিতে পাওয়া যাইতেছে, 
শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে কেহ কেহ রঙ্গমঞ্চে অভিনয় 
করিতেও ইতস্ততঃ করিতেছেন না, এবং রঙ্গমঞ্চের 
কতৃপক্ষগণ ফরমায়েসী নাটক লিখাইয়া যথেষ্ট অর্থ 
উপার্জন কর্িতেছেন। ফলে নাটক লেখা ও অভিনয় 
করা অনেক অপেক্ষাকৃত ভদ্র উপার্জন প্রণালী অপেক্ষা 
লাভবান হইয়া উঠিল। অতএব সাহিত্যে শুচিতা নষ্ট 
হইবার আশঙ্কায় সাহিত্যের অভিভাবকগণ এখনও যদি 
রীতিমত সমালোচনার দ্বারা এই শ্রেণীর সাহিত্য ও কলা 
বিধ্থার গতি স্ুনিয়স্ত্রিত এবং এ সম্বন্ধে লেখকগণের কুচি 
২ 


বাঙ্গল! নাট্য সাহিত্য ও সমালোচনা 


৪০ 


সুমার্জিত করিবার চেষ্টা মাত্র না করিয়া নিশ্চে্ট থাক্লেন, 
তবে বাঙ্গল! সাহিত্যের ভাণ্ডার নাট্য সাহিতারূপ এক 
শ্বর্ধ্য হইতে তে| চিরকাল বঞ্চিত থাঁকিবেই, অধিকন্ধ 
সা্ছিত্যে স্বে্চাচারিতা! গ্রশ্রয় পাইবে এবং প্রক্কুত আদর্শের 
দিকে লক্ষ্য না থাকায় যে ক্রমে আগাছা! কুগাছার স্য্টি 
হইবে তাহাতে সাহিত্যের শ্রী ও শুচিতা রক্ষা করা 
আর সস্তব হইবে না। আমাদের বিবেচনায় নাট্য 
সাহিত্য ও নাট্য কলা! সম্বন্ধে এইবার রীতিমত সমাহলাচন- 
সাহিত্যের প্রয়োজন হইয়াছে । 

এক পক্ষে সমালোর্চনা ব্যতীত যেমন রচনার প্রকৃত 
বুস গ্রহণ করা অসম্ভব, অপর পক্ষে সমালোচনা রচনার 
জনক ও নিয়ামক । রচনার প্রকৃত সৌন্দর্য্য নির্দেশ 
করিয়া একপক্ষে সমালোচক যেমন প্রতিভাবান লেখ- 
ককে সাধারণ পাঠকের সহিত পরিচিত করিয়া দেন, 
অপরপক্ষে তেমনই প্রতিভাহীন অকিঞ্ধিংকর রচনার 
কদর্য্যতা সর্ব্মক্ষে প্রকাশ করিয়! দিয়া সাহিত্যের 
আসর হইতে তাহা বহিষ্কৃত করিয়া দেন। সমালোচক 
এক সঙ্গে লেখকের স্তাবক ও নিয়ামক উভয়ই । আবার 
বখনই সা্চিত্যে গ্লানির উদয় হয়, তখনই সমালোচনার 
আবির্ভাব । রচন ষুগের পরই সমালোচন যুগের আগ- 
মন, যাহা রচিত হইয়াছে তাহার যণ্চাযোগ্য মূল্য নির- 
পণ করতঃ নির্দিষ্ট শ্রেণীতে বিভক্ত করিবার ভগ্ত এবং 
পরবর্তী লেখকের সম্মুখে আদর্শের চিত্র জাজ্জল্যমান 
করিবার জন্য । সুতরাং সমালোঁচন যুগের পরই আবার 
রচন যুগের আগমন শ্বাতাবিক। বাঙ্গল৷ নাট্য সাহিত্যে 
আমাদের হুূর্ভাগ্যক্রমে যদি গিরিশচন্দ্র ও দ্বিজেজজলালের 
সহিত রচন যুগ অস্তহিত হইয়া থাকে, তবে যেন তাহ! 
সমালোচন যুগের সুচনা! করে। প্রকৃত সমালোচনার 
সাহায্যে যদি আমরা এই অবসরে গিরিশচন্দ্র ও দ্বিজেন্দ্র- 
লালের প্রতিভার প্রক্কৃত মূল্য উপলব্ধি করিতে পারি 
এবং বর্তমান লেখকগণের রচনার মধ্যে তাহাদের ভূল 
ক্রটা দেখাইয়! দিয়! তাহাদের সম্মুখে নাট্য কলার উন্নত, 
আদর্শ খাড়া করিয়া! ধরিতে পারি, তবে ভবিষ্যুতে বাঙ্গলা 
নাট্য সাহিত্য যে উৎকর্ষতার অভিমুখে ধাবিত হইবে সে 


বিষয়ে সন্দেহ নাই। আশা করা "যায় এই সমালোচন 
সুগের রীতিমত সাময়িক স্ধ্যবহারের দ্বার আমরা 
উৎকৃষ্ট রচন যুগকে আহ্বান করিয়া আনিতে পারিব। 

অপরাপর সাহিত্য সমালোচন! হইতে নাট্য সাহিত্য 
সমালোচনার একটু বিশেষত্ব .আছে। নাট্যকলা! সম্বন্ধে 
সমালোচনা করিতে হইলেই অভিনয় ও রূজমঞ্চের আলো- 
চনা! অপরিহার্য । এমনকি 09০৮: /111৩এর 
মতে অভিনেত'ও নাটকের একজন প্রধান সমালোচক-- 
৮006 2060 15 2 0৫00 01 00 0120272.,,,,,, 
15 ০0. 10015100911 45 &ে 26100 
০৫ ৮59 1066100160500205 


নাট্য সাহিত্য সেই শ্রেণীর সাহিত্য যাহা 
'গভিনয়-কলার সাহচর্য্য ব্াতীত আপনাকে সম্যক্‌- 
রূপে" পরিস্ফুট করিতে পারে না। অপর পক্ষে 


অভিনয় কলাও সেই শ্রেণীর কলাবিগ্ভ যাহার প্রত্তিভা. 
স্ফুরণ নাটকের উৎকর্ষতার অপেক্ষা রাখে । নাট্যকারের 
প্রতিভা অডিনেতার প্রতিভার সহিত সম্মিলিত ন1 হইলে 
কেহই স্কুর্ভি পায় না। অভিন্তো। যেমন একদিকে 
নাটকের সমাঙ্গোচক, অপরদিকে নাট্যকারও তেমনই 
অভিনে্তোর অভিনয় প্রতিভার নির্দেশক ও নিয়ামক । 
সমশ্রেণীর প্রতিভার এইরূপ সংযোগস্থলে নাটকও 
সুপাঠ্য হয়, অভিনয়ও দর্শনযোগ্য হইয়। থাকে । অন্তথায় 
একের উৎকর্ষতা অনেক সময়ে অপরেক্স অপকর্দতারই 
কারণ হইয়া থাকে। গিরিশচন্দ্রের অভিনয়-প্রতিভা 
তাহার সাহিত্য-প্রতিভাকে ছাড়াইয়৷ উঠিয্বাছিল 
বলিয়া রঙ্গমঞ্চ ব্যতীত ত্বাহার রচিত নাটকের প্রকৃত 
সৌন্দধ্য সম্পূর্ণ হাদয়ঙ্গম করা যায় না। আবার 


১৭ মানসী ও মন্মবাণী 


| ১৫শ বধ--১ম খগু--১ম সংখ্যা 


নাট্য-সাহিত্যে দ্বিজেন্ত্রলালের প্রতিভ| সমসাময়িক 
অভিনেতার অভিনয় প্রতিভার সহিত পূর্বোক্- 
প্রকারে যোগযুক্ত হইয়াছিল বলিয়াই সীহার রচিত 
নাটক রঙ্গমঞ্চের বাহিরেও খ্যাতিলাভ করিয়াছে, এবং 
ষে প্রতিভাবান অভিনেতা অভিনয় চাতুর্ষে সেই সকল 
নাটকের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন, ত্তাহার অভিনয় 
চাতুর্ধ্যও উৎকর্ষতার চরমত্বে পৌছিয়াছিল। আজ 
সমযোগ্য নাট্য প্রতিভার অভাবে অভিনেতার প্রতিভা 
ও মৌলিকত। সতেও দ্বিজেন্্লাল-অস্কিত চরিত্র অভিনয়ের 
চর্কিত চর্বণ হইতেছে মাত্র। ইহা! অভিনয় প্রতিভার 
অপকর্ষতা ভিন্ন আরকি বলিব? ভাস্কর পণ্ডিতে* 
(বঙ্গে বর্গী.) আমরা কি দ্বিজেন্দ্রলালের প্চাণক্যেশ্র 
আভাস পাই না? এত কথা বলিবাবু কারণ এই যে, 
নাট্য সাহিত্য সমালোচনা করিতে যাইলেই র মঞ্চ ও 
অভিনয় সম্বন্ধেও আলোচনা প্রাসঙ্গিক এবং অপরিরহার্য্য। 
, ইতঃপূর্কে মাসিক পত্রে দ্বিজেন্্রলালের দুই একথানি 
পুস্তক লইয়া যে সমালোচন! বাহির হইয়াছে, তাহাতে 
এ প্রণালী অবলম্থিত হর নাই। কোনও একটি নাট- 
কের চরিত্র আলোচনা দ্বারা নাটকের সৌন্দর্য্য ব্যাখ্যা 
করা বিজ্ঞানসম্মত নহে। আমরা পরবর্তী প্রবন্ধে 
রঙ্গমঞ্চ ও অপরাপর পারিপার্থিক অবস্থার সহিত সম্বন্ধ 
রাখিয়া, গিরিশচন্দ্র ও দ্বিজেন্দ্রলাল নাট্য সাহিত্যে যে 
নৈপুণ্যের অবভারণ। করিয়াছেন তাহার. আলোচনা 
করিব এবং পরে বর্তমান নাট্য সাহিত্যের আলোচন! 
করতঃ সাধ্যমত আধুনিক নাটক লেখকের সম্মুখে আদর্শ 
নাট্য সাহিত্যের আদর্শ স্থাপন করিবার চেষ্টা করিব। 


শ্রীতুলকৃষ্ণ চৌধুরী । 


অশ্রুনদী 


হে প্রিয়! স্নানের তরে 


যাও তুমি নদীতীরে ; 


তবে কেন, আপগনাক হায়, 


এই দুটা আখি তটে, 


লাজ দেয় গঙ্গ যমুনায়? 
শ্রীবিজয়লাল চট্টোপাধ্যার । 


যেথা মম অশ্রনদী 
(শজামী* হইতে) 


ফান্তুন, ১৩২৯ ] 


মুনা র্‌ ১ মং 


মুজিনাথ 
পূর্ববানুবৃত্তি ) 


৮ই মার্চ ১৯২২--অতি প্রত্যুষে ( ৪টার সময়) 
শয্যা ত্যাগ করিয়া প্রাতঃকৃত্য সমাপন করিলাম। 
র্ষচারী, গাইড, ভারিয়া সকুলেই যাত্রার জন্ত প্রস্তত 
হইল। 

আবশ্তক দ্রব্যাদি পূর্ব রাণ্রেই গুছাইয়া ভারিয়ার 
*ডোকোন্তে রাখা হইয়াছিল । অবশিষ্ট বিছানাটা বান্ধিয়া 
এখন তাহার মধ্ো রাখা গেল। ডোকো! জিন্যিটা বংশ 
ওবেত্র নির্িত ঝুলি বিশেষ। ইহার মধ্যে দ্রব্যাদি 
রাখিয়া চামড়ার দোয়াল কি শণের বেণী দড়ি, দ্বারা 
ইহাকে কপালে সংযুক্ত করে এবং পৃষ্ঠে বহন করে। 


চাও জলখাবার প্রস্তুত হইয়াছিল। ভোজন ও” 


পানান্তে যাত্রার উদ্ভোগ করিলাম। 

সুধীর বাবু তাহার নাম ও ঠিকানা! লেখা কয়েকথান! 
খামে নেপালী ডাক টিকেট আঁটিয়৷ এবং কিছু চিঠির 
কাগজ পুর্কেই আমার ব্যাগে রাখিয়া দিয়াছিলেন। 
যাত্রাকালে বলিয়া দিলেন যে হাতের কাছে পোষ্টাফিস 
পাইলেই যেন ত্াগাকে চিঠি লিখি। নেপালী ভাষাতে 
গাইড. ও ভারিয়াকে কিছু উপদেশ দিলেন। উপদেশের 
শব্ধার্থ বুঝিতে না পারিলেও ভাঁবার্থ খুঝিতে পারিলাম, 
ধে, পথে যাহাতে আমার কোন কষ্ট না হয় তৎশ্রতি 
হারা যেন যথেষ্ট দৃষ্টি রাখে। 

অধ্যাপক বন্ধত্রয়, পাচক হরিহর এবং ভূত্য রামশরণ 
ও প্বাচ্চার* নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া, ব্রহ্মচারী, 
গাইড বীরবল গুরুক্গ, ভারিয়া জিৎবাহান্থবর লাম! ও 
আমি ভগবানের নাম ম্মরণ করিয়া ৫--৩০ মিনিটের সময় 
মুক্তিনাথ উদ্দেশে যাত্রা করিলাম । 

কাঠমণু স্হুরে ধোল দিন ছিলাম, কোনদিন এত 
সকালে শযা৷ ত্যাগ করি নাই--রাস্তায় বাহির হওয়া 
দূরের কথা। নেপালী শীতের প্রকোপ অস্ত বেশ 


4 

অনুভব করিলাম। গত রাত্রে তুষারপাত হইয়াছিল, 
রাজপথে যেন লবণ ছড়াইয়া রাঁখ! হইয়াছে যেখানে 
অল্প তুষারপাত হয় সেখানে ঘাসের উপর উহা দেখায় 
বেশ। আমি ব্যতীত ঝুপর তিনজনই নগ্রপদ। ভারিস 
ও গাইডের তুষারের উপর দিয়া নগ্পপদে চলিবার অভ্যান 
আছে, কিন্ত ব্রহ্মচারীজীর খুব কষ্ট হইতে লাগিল। 

হুর্য্যোদয়ের অল্প পরেই আমরা বালাজী নামক স্থানে 
আসিয়া পৌছিলাম। আমাদের সঙ্গে একজন পুশ 
প্রহর পাঠাইবার যে আদেশ আছে সেই আনেশপত্র 
বালাজীর পুলিশ কর্মচারীকে দেখান হইল। আমাদের 
সঙ্গে যাইবার উপযুক্ত কেহ তখন থানাতে উপস্থিত না 
থাকাতে, ভারপ্রাপ্ত কন্মচারীকে লোক পাঠাইবার 
উপদেশ দিয়া আমরা বালাজী ত্চাগ করিলাম । 

কাঠমণ্ড হইতে বালাজী পর্য্যন্ত প্রশস্ত রাজপথ । 
বালাজীর পর হইতেই আবার পাহাড়ীয়া পথ। উচ্চ 
পর্বতের উপর দিয়! যে শোভন ও প্রশস্ত রাজপথ নির্শিত 
হইতে পারে গোৌহাটা খারিয়াঘাট রাস্তা তারার প্রমাণ। 
নেপাল রাদ্যে কাঠমণ্ সহর ব্যতীত অন্ত কোথাও ভাল 
রাস্তা নাই। নেপালীর! নাকি ভাল শান্তার বিরুদ্ধ- 
বাদী। কথিত মাছে ষে ১৮৫১ খৃঃ ব্রিটিশ রেসিডেন্ট 
মিঃ এস্ক্রাইন তাৎকালিক প্রধান মন্ত্রী বিখ্যাত জঙ্গ বাহা- 
ছুরকে সমতল ভারত হইতে কাঠমও পর্য্স্ত একটি 
ভাল রান্ত। নির্মাণ করিতে অম্থরোধ করিয়াছিলেন। 
তহ্‌ত্বরে মন্ত্রীপ্রবর বলিয়াছিলেন যে, তাহার দেঁশবাসী- 
দের উত্তম রাস্তার বিরুদ্ধে একটি অযৌক্তিক*সংস্কার 
আছে। তাহাদের বিশ্বাস, বতদিন পথ ঘাটের অবস্থা 
এইরূপ (অনুন্নত ) থাকিবে, ততদিন কোন বিপক্ষ সৈন্ত * 
নেপাল উপত্যকা আক্রমণ করিতে পারিবে না মন্ত্রী 
বাহাছ্র,নিজে অবশ্ত এ যুক্তির সারবত্ত শ্বীকার করেন 


৯২ 


পন 


মানসী ও মন্ম্মবাণী 


[ ১৫শ বধ--১ম খণ্ডু--১ম সংখ্যা 





নাই। তিনি ইংলগ্ডে গিয়াছিলেন এবং দেখানে ইংরেজের 
রেলপথ ও তলবর্্স ( 52:61) প্রভৃতি দেখিয়া তাহা- 
দের ক্ষমতা ও নৈপুণ্য সম্বন্ধে তাহার কোনই সন্দেহ ছিল 
না। তিনি বিশ্বীস করিতেন যে ইংরেজ অতুঠুচ্চ 
পর্ধতের উপর দিয়! রাস্তা! নির্মাণ করিতে ন| পারিলেও, 
ইচ্ছা করিলে তলবর্ নির্শণ করিতে সমর্থ এবং 
তখন কোনও পর্বতই তাহাদের গতিরোধ করিতে পারিবে 
না। " 

সত্তর বৎসর পুর্ব্বে পথ ঘাটের অবস্থা কি ছিল 
জানি না,কিন্ত বর্তমানেও নেপার্লে কোঠমওু সহর ব্যতীত) 
রাস্তার যে অবস্থা, ব্রিটিশ ভারতের রাস্তার তুলনায় 
তাহা যে নিতান্ত হীন তদ্িষয়ে কোন সন্দেহ নাই । 

_বালার্ীর পর একটি অগভীর অপ্রশস্ত নদীর 
কূলে কুলে অনেক দূর গা একট গর্বতের পাদদেশে 
উপস্থিত হইলাম । শেষাগিরি কি চন্্রাগিরির স্তীয় এ 
পর্বতটা উল্লজ্ঘন করিতে হয় নাই, পর্বতের পাদদেশ 
হইতে ।শরোদেশ পর্য্যন্ত পর্বতটীর সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য অতিক্রম 
করিতে হইয়াছিল। 

পর্বতে উঠিতে আরম্ভ করিলাম এবং ১০৩০ মিঃ 
সময় পীচম্যুনে নামক একটা বস্তিতে উপস্থিত হইলাম । 
পথের বামদিকে, অনেক নীচে একটি পার্বত্য নদী। 
পথ হইতে নদী পর্যন্ত জারগ! বেশ ঢালু । এক গড 
পরিষ্কার জায়গায় আমরা আশ্রয় গ্রহণ করিলাম। যদিও 
আজ ফাল্গুনের মাসের ২৪শে, তবু হুর্য্কিরণ এতই 
নিন্তেজ যে কোনও ছায়ার আবস্তক হইল না। 

নদীতে ক্নান সমাপন করিয়া বাসা হইতে আনীত 
থাস্ই চারিজনে গ্রহণ করিলাম । এখানে পাকের ব্যবস্থা 
করিতে গেলে রাত্রে স্থবিধামত আশ্রয় স্থানে যাইয়! 
পৌঁছিতে পারিব না, এই আশঙ্কায় জলযোগাস্তে 
রওয়ালা হওয়াই স্থির করিলাম। বাঁলাজী হইতে আদিষ্ট 
ন শ্টিবজি সয়া পৌছিল। 
"বু ১৮৮০ যাত্রা তাস্লাম। 

এ পব্বণে প্রপ্তঃরেণুপ্র সাহত অভ্র খণ্ডও দৃষ্ট 
সইঙ্গ। আম কয়েকথণ্ড সংগ্রহ করিয়া পকেটে পুরি- 


আমরা পাঁচজন ৩খন 


লাখ | অপরাহু ৫টার সময় আমাদের পর্ধত অতিক্রম শেষ 


হইল। পর্বত শেষ হইলে পর একটী অপ্রশস্ত অগভীর 
নদী। নদীগর্ভে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত প্রস্তরথণ্ডের 
উপর দিয়! জুতা পাঁয়ে রাখিয়াই নদী পার হওয়া যায়। 
নদী পার হইয়া আমরা এক উপত্যকায় প্রবেশ করি- 
লাম।' 

কনেষ্টবল, ব্রহ্মচারী ও আমি একসঙ্গে ছিলাম, 
গাইড ও ভারিয়া তখনও আসিয়! পৌছায় নাই । নদীতীরে 
এক স্থানে আক্‌ মাড়াই হইতেছিল। আমি কিছু ইক্ষু- 
রস ক্রয় করিবার প্রস্তাব করিলে কৃষক বলিল, আমি 
আকৃ কিনিতে পারি, কিন্ত রস পাইব না। কৃষকের কথ! 
ভাল বুঝিতে ন1 পারায় কনেষ্টবলকে জিজ্ঞাস। করিলাম ! 
সে বলিল ইহারা আকই বিক্রপ্ন করে, রস কখনও বিক্রয় 
করে না। এ ব্যক্তি আকের রস আমাকে প্প্রেম্সে 
দিবে, কিন্ত বিক্রয় করিবে না। 

ক্কষক তাহার একটা পিত্তলপাত্র পরিষ্কৃত করিয়। 
তাহার মুখ আমার রুমাল দ্বারা আবৃত করিল। সেই 
পাত্রে রস ধরিয়া আমকে দিল। সলম্ত দিন পর্যটনের 
পরে আকের রসটা বেশ লাগিল। 

এখান হইতে মুক্তিনাথ এবং তথা হইতে প্রত্যাবর্ত- 
নের পথে অনেক স্থলে অনেক জিনিষ, বিশেষতঃ দুগ্ধ 
আমাদিগকে “প্রেমসে* সংগ্রহ করিতে হইয়াছিল। প্রায় 
প্রত্যেক গৃহস্থেরই গরু মহিষ আছে, কিন্তু সকলে 
“গোরস” বিক্রয় কেরে না। ছুগ্ধ বিক্রয় যাহার ঠব্যবসাস্র 
নহে, তাহার নিকট দুগ্ধ প্রার্থনা করিলে তাহার যদি ইচ্ছা 
হয় সে দান করিবে, নতুবা! প্রার্থনা £অগ্রাহা করিবে. 
বিক্রয় কৰিবে না । তবে প্রায়ঃশই অগ্রাহ্য করে না। 

ইক্ষুরস পানাস্তে জলমধ্যস্থ একথণ্ড প্রস্তরের উপর 
বিয়া স্থ্যাস্ত দর্শন করিলাম। কিছু পরে গাইড ও 
ভারিয়া আসিয়া পৌছিল। কনেষ্টবল ও ব্রহ্মচারীজী 
আশ্রয় অনুসন্ধানে নিকটবর্তী বাজারে পূর্বেই 
গিয়াছিপেন এবং এক নেওয়ারের দোকান ঠিক 
করিয়াছিলেন । আমরা তিনজন' পরে আসিয় 
সেখানে আশ্রয় গ্রহণ কারলাম। 


ফীস্ুন, ১৩২৯ ] 





বাজারটার নাম ঢারেফেদী। বীচাগড়িতে প্রথম 
দোকানে রাত্রিবাসের পর অস্ত দ্বিতীয়বার দোকানে 
রাত্রিবাস।  বাসনপত্র আমাদের সঙ্গেই ছিল, 
দোকান হইতে আবশ্তক দ্রব্যাদি ক্রয় করিলাম। 
পৃর্ধবেই বলিয়াছি ব্রহ্ষচারীতী ন্বপাকভোজী। তিনি 
আমাদের ছুই জনের পাক সমাধ! করিলেন।* গাইড্ড 
কনেষ্টবল ও ভারিয়া পৃথক পাক করিয়৷ আহার করিল। 
গাইড ও কনেষ্টবলের জন্ত ক্রীত জিনিষাদির মূল্য 
আমারই দেয়। * 

আহারাস্তে রাত্রেই জিনিষপত্রগুলি পরিফার করিয়া 
ভারিয়া তাহার ডোকোতে রাখিয়া দিল। পথে জল 
আনা, বাসন ধোয়া এবং এইজাতীয় অন্তান্ত বর্শর্জিৎ 
বাহাছুরই সম্পন্ন করিত, তজ্জন্য তাহার প্রাপ্তি জলখাবার 
দেনিক অর্ধ আনা এবং পর্যটন শেষে 5 

আমার “বিবেচনাঃ | 

আমাদের চারিজনের আহারের ব্যয় ছুই মোঠুর 
অর্থাৎ বার আনা পড়িয়াছিল। 

ক্যোতঙ্গ! রাত্রি, আকাশ বেশ পরিষ্ধীর। যে সমস্ত 
ভারিয়ারা আমাদের সঙ্গে অথব! কিঞ্চিৎ পূর্বে কি পরে 
আসিয়াছিল, তাহার! আহারাস্তে ত্রিশুলী অভিমুখে যাত্রা! 
করিল। ভারিয়ার! রাত্রে পাহাড়ের উপরের পথ দিয়া 
চলে পা, কিন্তু অপেক্ষাকৃত সমতল ভূমির পথে জ্যোৎস্না 
বাঞ্জে গমনাগমন করিয়। থাকে । 

আমাদের রাত্রে পর্যটনের অুস্থবিধ! ভোগ করিবার 
কোনই প্রয়োজন না থাকাতে নেওয়ারের দৌকানে 
ভগবানের নাম গ্রহণ করিয়া শব্যার আশ্রয় অবলম্বন 
করিলাম। 

আমরা এখন যে উপত্যকায় আসিয়াছি তাহার নাম 
নয়াকোট । সন্ধ্যার যে নদীটা উত্তীর্ণ হইয়াছিলাম 
তাহার নাম ুর্য্যমতী। সৃর্ধ্যমত্তী নয়াকোটের পূর্ববসীম!। 
নয়াকোটের পশ্চিম সীম ভ্রিশূলী গঙ্গা। উভয় নদীই 
গৌসাইথান তুষারশৃঙ্গ হইতে নির্গত হইয়া নয়াফোট 
উপত্যকারণ্পূর্ব ও পশ্চিম দিক দিয়া উপতাকার দক্ষিণ 
প্রাস্তে দেবীঘাট নামক স্থানের দিয়ে মিলিত! হইয়াছে। 


মুক্তিনাথ 





' একটা 


* ১৩ 
নয়াকোট উপত্যকা! সমুদ্রবক্ষ হইতে মাত্র হুইূহাজার 
চারিশত পঞ্চাশ ফিট 'উচ্চ। উত্তরে গৌসাইথান হইতে 
আরম্ভ করিয়। ক্রমনিয়ভাবে একটি খগ্ডপর্বত এই 
গউপত্যকাটিকে ছুইভাগে বিভক্ত করিয়াছে। এই পর্ব" 
তের উপর নয়াকোট সহর। ইংরেজের সহিত নেপাল 
রাজের যুদ্ধের পূর্ব পর্যযস্ত নয়াকোট গোর! রাজাদের 
শীতাঁবাস ছিল। বর্তমানে এখানে একটি সৈস্তাবাস 
আছে। 

নয়াকোট উপত্যকার জমীতে মাটির অংশই বেশী, 
এই কারণে এখানে খথেষ্ট ধান্ত জন্মে । এখানে উৎকৃষ্ট 
কমলা ও আনারস এবং আম, কাঠাল, পেয়ারা ও 
আতাফল উৎপন্ন হয়। 

৯ই মার্চ--৬-০* মিনিট সময় পথ চলিতে *আরস্ত 
করিলাম। অপেক্ষাক্কৃত সমতল ভূমির উপর দিক 
পথ। কিছু দূরে একটা বস্তি এবং তাহার পর 
ক্ষীণ জলম্োত। বস্তিগুলি সাধারণতঃ 
অপেক্ষাকৃত উচ্চ ভূমির উপর। এই ক্ষীণ পার্বত্য 
নদীটা বস্তির অনেক নিয়ে। 

নদী পার হুইক্! এক বিস্তীর্ণ মাঠে প্রবেশ করিলাম । 
আমাদের গন্তব্য স্থান এখান হইতে সো! পশ্চিমে, কিন্ত 
আমাদের পথ অবরোধ করিয়! নয়াকোট পর্বত দণ্ডায়মান। 
নয়াকোট পর্বত উপত্যক! হুইতে মাত্র সহম্রফিট উচ্চ। 
নয়াকোট উপত্যকায় যেমন বঙ্গদেশের ধান আনারস আম 
কাঠাল আছে, তন্দ্রপ বঙ্গদেশের ম্যালেরিয়াও আছে। 
মার্চ এপ্রিল হইতে নভেম্বর পর্য্যস্ত এখানে ম্যালে- 
রিয়ার প্রকোপ। 

নয়াকোট পর্বত হাতের ডান্দিকে রাখিয়! আমরা 
দক্ষিণ পশ্চিম দিকে চলিলাম। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার 
পর এক দল ভুটীয়! সওদাগরের সহিত সাক্ষাৎ হইল। 
ছাগল ও মেষের পৃঠে ছোট ছোট শণের ছালায় চাউল 
বোঝাই করিয়া স্ত্ীপুত্র পরিজন সহ ইহারা দেশে ফিরি- 
তেছে। দশ বৎসরের বালকের পৃষ্ঠেও একটা বোঝা। 





কি স্ত্রী, কি পুরুষ সকলেই পৃষ্ঠে বোঝা লইয়া নু্দেহে : 


চণ্তেছে। 





| ১ 88 ও যি [ ১৫শ বর্ব_-১ম ধ&--১ম সংখ্য? 
স্বীলোকেরা হাতে তা পাকাইতেছে, পায়ে পথ থাকে। পূর্বে এই নদী-২ -সঙ্গমস্থলে ল একটা (কানে 
চলিতেছে। পুরুষদের কাহারও কাহারও হাতে প্রার্থনা নির্দীণের চেষ্টা অনেকবার করা হইয়াছিল, কিন্ত 


চক্ত-_-পথ চলিতেছে আর চক্র ঘুরাইতেছে । একজনের 


হাতে বিলাতী বাগ্যন্ত্র ব্যাঞ্জো*র স্তায় একটা যন্ত্র দেখি: 


লাম। আলাপে জানিলাম ইহার! কেরাং গিরিশঙ্কটের 
পথে তিববতে যাইব$ নেপাল হইতে চাউল বরই 
যাইতেছে। 

ভূটায়া সার্ধবাহদের গতি অতি মন্থর। উহাঁদিগকে 
পশ্চাতে রাখিয়া! আমরা অগ্রসর হইতে লাগিলাম। নয়- 
কোট পর্বত ক্রমে অপ্রশম্ত ও “নিন হইয়া! দক্ষিণদিকে 
গিয়াছে। আমর! সমতল ত্যাগ করিয়া সোজ। পশ্চিম 
মুখে পর্বতে উঠিতে আবুস্ত করিলাম। পর্বতের উপর 
একটা বস্তি এবং তাহার পর হইতেই উত্রাই আরম্ত। 
কিছুদূর নামিবার পর এক তীষণ গর্জন কর্ণে প্রবেশ 
করিল। আরও অগ্রসর হইয়৷ দেখিতে .পাইলাম ত্রিশুলী 
গঙ্গা ভীমনাদে উদ্দাম গতিতে দক্ষিণ দিকে ছুটিয়াছে। 
নদীগর্ভে অতি প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড শিলাথণড--যেন এক 
একটা পাহাড়। | 

জলরাশি প্রচণ্ডবেগে এই সমস্ত শিলাথণ্ডের উপর 
পতিত হুইয়! ভীষণ শব উৎপন্ন করিতেছে । এ নদীতে 
কবির প্নদীগানে কলতান* নাই, এখানে ভৈরবের 
মহাসঙগীত »। 

বাল্যে পাঠ করিয়াছিলাম "বর্ণ? শুকরে। রসম্পর্শে! জলে 
মধুরশীতলঃ* | তার পর পড়িলাম জল “23৩1৩9৪, 
001941199, 10900:049*| ত্রিশৃলীর জল বর্ণগুণে 
যেন উভর় শান্ত্রকেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করিতেছে । নদীর 
জল সবুজাভ নীল। 

নদীতীর দিয়া ক্রমে উত্তর দিকে অগ্রসর হইতে লাখি- 
লাম এবং ৯-৩* মিঃ সময় ত্রিশূলীর সেতুর নিকট আসিয়া 
পৌছিলাম,। 

ত্রিশলীর উপর এখন একটী দৌলায়মান লৌহসেু 
ছির্মিত হইয়াছে। এখান হইতে চারিমাইল দক্ষিণে 
দেবীঘাটের নিয়ে ত্রিশূলী ও নুর্ধ্যমতীর সঙ্গম। 
চৈত্রমাসে ' সেখানে দেবী ভৈরবীর মেলা হইয়া 


সে চেষ্ট! ব্যর্থ হওয়ায় এখানে প্রথমে একটা কাঠের ও 
পরে এই লৌহসেতু নির্শিত হইয়াছে। 

জিশুলীর পূর্বব তীর দিয়া উত্তর দিকে কেরাং গিরি- 
শঙ্কটে ও গৌসাইকুণ্ডের যাইবার পথ। এই পথ নয়া" 
কোটের উত্তরে ডাম্চা নামক স্থানে দ্বিধা বিভক্ত হইয়! 
এক পথ কেরাং পাসের দিকে ও অপরটা গৌঁপাইকুণ্ডে 
গিয়াছে। 

শীতকালের সঞ্চিত তুষাররাশি দ্রবীভূত হুইয়৷ অপ- 
সারিত হইলে পর যখন পার্ত্য পথ উন্মুক্ত হয়, তখন, 
জুলাই হইতে সেপ্টেম্বর মাস পরাস্ত অনেক যাত্রী গৌসাই 
কুণ্ডে স্নান ও কুগুস্থ শিবলিঙ্গের অর্চনা করিবার জন্ত 
তথায় যাইয়া গাকে। 

ডাম্চা ও গৌসাইকুণ্ডের মধ্যে এ ?টা গোলাকার খণ্ড 
পর্বত আছে। পর্ববতটী স্বভাবের উগ্ভান। শীতা- 
বসানে নানাঁজাতীয় পার্ধত্য পুষ্প বিকশিত হয়া পর্র্বত- 
টাকে সুশোভিত করে 

ত্রিশূলীর পুর্র্ব তীরে ছুই একখানা! দোকান, বাজার 
পশ্চিম পারে। বাঁজারটা মন্দ নয়। পার্বত্য পথের 
উভয় পার্থ পূর্ব হইতে পশ্চিমে বিত্তন্ত ক্রমশঃ উচ্চ 
দোকানগুলি বেশ দেখায়। পুল পাঁর হইয়াই বাম 
দিকে একটী পুলিশের আড্ডা । একজন হাবিলদার 
শ্রেণীর কর্ধচারী এই আড্ডার ভারপ্রাপ্ত। থানার 
দক্ষিণ দিকে পোষ্ট আফিস। 

্র্ষচারী ও আমি আসিম্না পৌছিয়াছি। অপর তিন 
জন আমার্দের অনেক পশ্চাতে । আমরা পুল পার হইয়! 
থানার নিকট আশ্লে পর পুলিশ কর্মচারী আমাদের 
পরিচয় জিজ্ঞাসা করিল। দরবার হইতে প্রাপ্ত অনুমতি 
ও আদেশপত্র ছুইখানি আমি কর্ধচ।রীরু হস্তে দিলাম। 

বেঙ্গল পুলিশের নিয়শ্রেণীর ( 50130:08170) কর্ম 
চারীদের ব্যবহারের জন্ত প্রথম যখন আগারভেষ্ট (৫0001- 
₹০$৮) ও হোল্ডল্‌ (17911৭11) প্রচলিত হর, তখন 


আদর আফিস.হইতে প্রত্যেক থানার “দারোগ। বাবুর নামে 


ফাল্গুন, ১৩২৯ ] 


পরোয়ানা! দেওয়া হইয়াছিল যে তাহার থানায় উক্ত 
উভয় জাতীয় জিনিষের কতগুলি প্রয়োজন। গন্ধ 
প্রচলিত যে এক দারোগাবাবু উত্তর দিয়াছিলেন__ 
“অধীন সবইং ইংরেজী জানে না। থানার রাইটার বাবু 
ছুটিতে বাড়ী গিয়াছেন। স্থানীয় পোষ্ট মাষ্টার বাবুকে 
পরোয়ানা দেখানে তিনি অভিধান দেখিয়া বলি- 
লেন যে আগারতেষ্ট নীচে গায়ে দিবার কিছু, কিন্তু 
হোল্ডল্‌ অর্থ কি তাহা তিনিও বলিতে পারিলেন 
না।” ৬ 

ভ্রিশূলীর এই প্মধীন* হাবিলদার লেখ।পড়া জানে 
না, সে কাগজ ঢুইথানি লইয়! "স্থানীয় পোষ্টমাষ্টার বাবু*্র 
নিকট গেল, ব্রহ্ষচারীজী ও আমি থানার বারান্দায় 
অপেক্ষা করিতে লাগিলাম। 

কিছুক্ষণ পরে হাবিলদার ও পোষ্টমাষ্টার বাবু আসিয়! 
উপস্থিত হইলেন। পোষ্টমাষ্টার বাবু অভ্র্থন! করিয়া 
তীহার আফিসে আঘাদিগকে লইয়৷ গেলেন। আফিসের, 
নিয়তলে এক কম্বল বিস্তৃত হইল এবং আমরা. উপবেশন 
করিলাম। হাবিলদার তাহার অধীনস্থ কর্মচারী দ্বার! 
ঘরের এক অংশ পরিস্কৃত করাইয়া পাকের স্থান নির্দেশ 
করিল। 

গাইড কনেষ্টবল ও ভারিয়৷ আসিয়া পৌছিল। 
হাবিলদারও আমাদের পরিচর্য্যার জগ্ত এক ব্যক্তিকে 
নিযুক্ত করিল। আঁবশ্তক দ্রব্যাদি সংগৃহীত হইলে 
ব্রহ্মচারী হ্বানাস্তে রদ্ধনে নিযুক্ত হইলেন। 

আমি যদ্দিও বছুদিন অবগাহনে অনভ্ন্ত, তথাপি 
ত্রিশূলীর জল দেখিয়া! অবগাহনের ইচ্ছ! সংবরণ করিতে 
পারিলাম না। অবগাহনও যথেষ্ট বিপদসন্থুল। নদী 
অত্যন্ত গভীর ও খরশ্রোতা, নদীগর্ভে অতি প্রকাণ্ড 
্রস্তরখণ্ড সকল ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত । যদি কোনও মতে 
আোতোবেগে একবার পদস্থলন হয়, তবে প্রস্তরথণ্ডের 
উপর পতন ও মৃত্যু অনিবার্ধ্য। 

একখও বৃহ প্রন্তরের অন্তরালে অবগাহন সম্পন্ন 
করিলাম। জল কি বিষম ঠাণ্ডা! বড় জোর ৩।৪ মিনিট 
জলে ছিলাম. সমস্ত শরীর যেন আডুষ্ট হক গেল - 


মুক্তিনাথ 


৯১৫ 


দান ভোজনাস্তে কিছুক্ষণ বশ্রাম করা পরোল। 
স্থধীরবাবুকে একথান! চিঠি লিখিলাম। আমি ও ব্হ্ধ- 
চারীঞজী যেন ছুইটি অসৃটপূর্ব ভীব। আমাদিগকে 
প্লেখিবার জন্ত বাজারের অনেক লোক সমবেত হইয়া, 
ছিল। কেহ কেহ কিছু আলাপ করিল-_কিস্ত অধিকাংশই 
নির্বাক ড্রঙ্টা। 

কালাজী হইতে আগত কনষ্টব্লকে এখান হইতে 
বিদায় দিলাম এবং নয়াকোট হইতে আগ দ্বিতীয় 
কনেষ্টবল আমাদের সঙ্গী হইল। 

১-৩০ মিঃ সময় ব্রিশূলী ত্যাগ করিলাম । হাবিলদার 
ও পোষ্টমাষ্টার বাধু অনেকদূর পর্যাস্ত আমাদের সঙ্গে 
আসিলেন। উচ্চ পর্বতের উপর মহারাজের আস্ত 
কানন। সকল গাছগুলিতেই এখন মুকুল দেখিলাম । 

সায়হ্ছে ৫--৩* মিনিটের সময় সামরী নামক এক 
বস্তিত্ত উপস্থিত হইলাম। 

একটি প্রায় বৃত্তাকার অধিত্যকার উপর সামরী 
অবস্থিত। স্থানটা বড়ই সুন্দর। এখান হইতে চত্ু- 
দিকেই দৃষ্টি চলে। নিয়ের সমতল ও দূরের শৈলমানা! 
বড়ই শোভন দৃহা। " 

্রিশূলী ত্যাগ করিয়া এই অধিত্যকায় পৌঁছিতে অনেক 
প্চড়াই উতব্রাই” করিতে হইয়াছিল।, পর্বতের পাদদেশ 
হইতে অধিত্যক!] পর্য্স্ত সমস্ত পথের উভয় পার্থ অতি 
উচ্চ বৃক্ষ এবং তাহার পর উচ্চতর পর্বতশ্রেণী আমাদের 
দৃষ্টি রুদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিল। মনে হইতেছিল যেন শ্বাস 
্রশ্বাসের জন্ত যথেষ্ট মুক্ত বাধ পাইতেছি ন! এবং 
গ্রীষ্নাতিশষ্য বোধ করিতেছিলাম | অধিত্যকায় পৌছিয়! 
অবধি বিশুদ্ধ এবং শ্গিগ্ধ বায়ু সেবন করিয়া বড়ই 
ফুর্তি পাইলাম। 

অধিত্যকায় একটা ধর্মশশালা এবং ধর্শশালার কিছু 
দুরে পথের উভয় পার্থে শ্রেণীবন্ধতাবে ণোঁকালয়। 
ধর্মশালাটী দ্বিতল এবং প্রাঙ্গণে আর একখানি লম্বা ঘর 
আছে। নিকটেই জলাধার। দুরস্থ ঝরণা হুইতে, 
বাশের চোগ লাগাইয়া এখানে জল আনা হয়। 

ধর্শশালার প্রাঙ্গণস্থিত ঘরে প্রায় বিশ জন মুক্তিনাথ 


১৬' 
থু 


প্পাসপিস্পিস্পিসপিসসি 


যাত্রী নামানন্দী সাধু আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছেন । ধর্শশালার 
নিষ্ধতলে অনেক নেপালগামী ভুটীয়৷ ও নেপালী ভারিয়া 
আশ্রয় লইয়াছে। আমরা দ্বিতলের একটী প্রকোষ্ঠ 
অধিকার করিলাম এবং নিকটবর্তী এক দোকানে 
পাকের আয়োজন করিলাম । 

পরিষ্কার জ্যোৎস্গা রাত্রি। বালক বালিকার! একে 
অন্তকে পৃষ্ঠে বহন করিয়! পথে খেলা করিতে আরস্ত 
করিল। , রাধানন্দী সাধুগণ শঙ্খ ঘন্টা ধ্বনি করিয়া 
তীহাদের সঙ্গীয় বিগ্রহের আরতি করিতে লাগিলেন। 
সমস্ত স্থানটাতে যেন একটি আনন্দ'ধারা বহিতে লাগিল। 

১০ই মার্চ। গত রাত্রে অত্যন্ত শীত পড়িয়াছিল। 
অস্ত একাদণী, আমরা! খুব বেশী দূর যাইব না, এই ছুই 
কারণে একটু বেলা হইলেই শব্যা ত্যাগ করিলাম। 
৭--৩* মিনিটের সময় সামরী ত্যাগ করিয়া ২__৩০ মিঃ 
সময় পর্বতের অপর প্রান্তে চৌরঙ্গী ফেদী নামক স্থানে 
আমরা উপস্থিত হইলাম। ত্রিশূলী হইতে আরম্ভ করিয়া 
চৌরঙ্গী ফেদী পর্ধ্যস্ত পথ অবিচ্ছিন্ন উচ্চ পর্বতের উপর 
দিয় কোথাও সমতল ভূমিতে অবতরণ করিতে হয় নাই। 
পর্বতের ছুই পার বছ নিয্নে সমতল ভূমি। স্থানে স্থানে 
এক একটি পর্বত এতই অপ্রশস্ত, যেন মনে হয় ক্ষেত্র 
মধ্যস্থ খুব উচু রেলপথের উপর দিয়া! হাাটিতেছি। নিকট- 
বর্তী "পাহাড়ে লোকালয় ও কোনও কোনও বস্তিতে 
“দেউল” ( বৌদ্ধমন্দির ) দৃষ্ট হইল । পথে একজন নেপালী 
ডাক্তারের সহিত সাক্ষাৎ হইয়াছিল। নিকটবর্গ কোনও 
গ্রীমে টাইফয়েড জরের আবির্ভাব হওয়াতে চিকিৎসার্থ 
তিনি নেপাল দরবার হইতে প্রেরিত হইয়াছেন। কিছু 
দুর এক সঙ্গে গমনাস্তর তিনি নিম্নে এক বস্তির দিকে 
চলিয়া গেলেন। 

চৌরঙ্গী ফেদীতে নামিয়া আমর! এক পার্বত্য নদীর 
তীরে আশ্রষ্প লইলাম। আমাদের পৃর্ব্বে ছুইজন সন্ন্যাসী 
ও পাঁচজন ভৈরবী সেখানে আসিয়াছিলেন। তাহাদের 
সুহিতি আলাপে জানিলাম তাঁহারাও মুক্তিনাথযাত্রী। 
মুক্তিনাথের পর ইহারা মানস সরোবর "ও কৈলাস 
যাইবেন এবং সেখান হইতে আশ্রমে গাড়োয়াল জেলায় 


মানসী ও মর্দ্মবাধ 





[ ১৫শ বর্-_১ম ২গ--১ম সংখ্যা 


প্পা্িস্িসিসপািসিসিস্পিিসিস্পিসপপিস্পিস্পিসপিস্পি 


ফিরিবেন। এই সমস্ত ভ্রমণে তাহাদের প্রায় ৯ মাস 
লাগিবে। একজন সন্ন্যাসী বলিলেন যে ইহার পূর্বে 
তিনি আরও ছুইবার মানসসরোবরে গিয়াছিলেন। মানস 
সরোবরে যাইবার পথ তিনি আমাকে বলিলেন; আমি 
নোটবুকে টুকিয়া লইলাম:। 

কিযৎক্ষণ বিশ্রামের পর ভৈরবী ও সঙ্গ্যাসীর দল 
চলিয়া গেল। ব্রহ্ষচারীজী এবং আমি শ্নানান্তে নিকট- 
বর্তী "পশলে" (দোকান ) আহার্যয অনুসন্ধানে গেলাম। 

পর্বতের পাদদেশে এক গৃহস্থের বাড়ী এবং তাহার 
অল্প দুরে ছুই তিনখানা অতি সামান্ত দৌকান। দোকানে 
চিড়া দধি ও গুড় ভিন্ন অন্ত কিছুই নাই। আমন কিঞ্চিৎ 
দধি পান করিয়া গাইড ও ভারিয়ার আগমন প্রতীক্ষা 
কব্রিতে লাগিলাম। 

বেলা ৫_-৩০ মিনিটের সময় গাইড ভারিয়া ও 
কনেষ্টবল আসিয়া পৌছিল। তখন আমর! পর্বতের 
পদদেশস্থ গৃহস্থের বাড়ীতে আশ্রয় লইলাম। আমর! ও 
্রঙ্মচারীজীরু ব্রাত্রিবাস জন্ গৃহস্থ তাহার একবান| 
ঘর ছাড়িয়া দিল এবং অপর তিনজনকে তাহার ঘরের 
বারান্দায় স্থান দিল। 

রাত্রে ব্রহ্গচারীজী ও আমি “পিনালু* অর্থাৎ কচুর 
গাঠী সিদ্ধ করিয়া থাইলাম এবং গৃহস্থের পপ্রেম্সে' প্রদত্ত 
কিছু ছুগ্ধ পান করিলাম। সঙ্গী তিন জনের খাস্ত গৃহস্থের 
বাড়ী হইতে ক্রয় .করিয়া! দিলাম, উহাবা পাক করিয়া 
থাইল। ্ 

অগ্য হইতে যে গাইড ও ভারিয়া, আমি ও ব্রহ্ষচারীজী 
অপেক্ষা প্রায় ছুই ঘণ্ট। পশ্চাতে থাকিতে আরম্ভ করিল, 
এই ভাবেই তাহার! পর্যটনের শেষ পর্য্যন্ত ছিল) আর 
কোনও দিন তাহারা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলিতে পারে 
নাই। ইহার প্রধান কারণ, ভারিয়ার। প্রায় পনের মিনিট 
অস্তর ছুই এক মিনিট বিশ্রীম করে। ইহা তাহাদের 
জাতীয় অভ্যাস। বিশ্রামের জন্য পথের পার্থ অতি সুন্দর 
বন্দোবস্ত আছে; পথের পার্শে প্রস্তরখণ্ড স্তরে স্তরে 
সঙ্দিত করিয়া প্রায় একজন মানুষের সমান উচু করিয়া 
রাখা হুইয়াছে। মধ্যভাগে একটা স্তর একটু বাহির করা; 


ফান্ধন, ১৩২৯ ] 





সপ ০৯ পানসিপাসপাও 


এই স্তরের উপর পিঠের বোঝাটী একটু হেলান 
অবস্থায় রাখিয়া কেহ কেহ গাড়াইয়াই বিশ্রাম করে। 
যাহার অধিকক্ষণ বিশ্রামের প্রয়োজন সে বোঝাটা 
নামাইয়। রাখিয়। বিশ্রাম করে । বোঝা রাখিবার এইরূপ 
উন্ধস্থান থাকাতে বোঝা! নামাইতে কি উঠাইতে ভরিয়া 
দিগকে মাটাতে বসিতে হয় না কিংবা! অপরের সাহাধ্য 
গ্রহণ করিতে হয় না । ভারিয়ার! পথ চলিবার সময় মধুর 
স্বরে শিষ দিয়া চলে, বিশেষতঃ বুওয়ানার সময় ! 

কনেষ্টবল ও গাইড ভারিয়ার সঙ্গেই চলিত সুতরাং 
তাারা ও ব্রহ্মচারীজীও আমার পশ্চাতে থাকিত। 
্রদ্দচারীজী ও আমি এক ঘণ্টা অন্তর পাঁচ মিনিট বিশ্রাম 
করিতাম। 

১১ই মার্চ-ভোর ৬--৪৫ মিনিটে চৌরঙ্গী ফেদী 
ত্যাগ করিয়া! আকু বাজারে পৌছিলাম। বাজারটা 
বড় অপরিষ্কার । বাজারের নিম্নে একটি নদী আছে। 
নদীটী অপ্রশস্ত কিন্ত গভীর ও অত্যন্ত বেগবতী। 

নদীর উৎপত্তিস্থল গোৌঁসাইথান তুষারশুঙ্গ এবং নাম 
বেগবতী। নামটা পরিচিত হইলেও ন্দীটা বাণভট্রের 
"গ্রীমান্‌ শুদ্রকো। রাজা”র রাজধানী বিদিশা নগরীর পাদ- 
মূলে প্রবাহিত পরিচিতা! বেত্রবতী নহে। এই বেভ্রবরতী 
কিছুদুর অগ্রে প্রবাহিতা হইয্াই ত্রিশূলীর সহিত মিলিতা 
হইয়াছে-_ মালবদেশ পর্য্যন্ত যাইতে পারে নাই। 

নদীগর্ভ হইতে তীরভূমি অনেক উচ্চে। নদীতে 
অবতরণ কষ্টসাধ্য হইবে বিবেচনায়* এখানে মধ্যাহ্ন 
ভোজনের আয়োজন না করিয়া বেত্রবতীর উপরিস্থ লৌহ 
সেতু পার হইয়া অগ্রসর হইতে লাগিলাম | 

৮--১০ মিনিটের সময় আসে পশল নামক এক 
বাঁজারে পৌছিলাম। এপ্থানটাও নদীতীরে, তবে নদী 
অপেক্ষাকৃত সমতলে প্রবাহিত বলিয়া বেগ অত্যন্ত সংযত। 
নদীকৃূলে একস্থানে পাকের স্থান নির্দেশ কার্লাম। 
অবগাহন, পাক, ভোজন ও বিশ্রাম অস্তে বেলা ১১--৫০ 
মিনিটের সময় আবার পথ চলিতে আরম্ভ করিলাম। 


অনেক দূর পর্য্যন্ত নদীর কুলে কুলে যাইয়া পর্বতে উঠিতে 
আরম্ত করিলাম। 
তু 


মুক্তিনাথ 


স্পা্পািসপিপিস্পিস্পাশাস্পিশিিস্পিট শত পস্পাস্পসপস্পিসিস্পিসপাসিস্পিস্পানিসিশিশাপাসপিসপিস্পিাস্পিিসপািসপিপাস্পিস্পিনিসিপসপাশিল পাশিস্পাশ পাশা পিত্ত শঠিল পসপিস্পাসিপাসিপাসি পািও 


১৭ 


অপরাহ্‌ ৩ ঘটিকার সময় পর্বতের উপর তৃণাচ্ছাদিত 
অতি বিস্তীর্ণ এক সমতল প্রান্তর আমাদের সম্ুথে 
পড়িল। প্রান্তরে তরু গুস্থাদির বাছুন নাই, পশ্চিম 
প্রান্তে মাত্র একটা প্রকাণ্ড বটবৃক্ষ। স্থানটা বড়ই 
সুন্দর । বট বৃক্ষের পরেই খাড়া উত্রাই। পথিকের! 
প্রায় *সকলেই এই বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম করে। 
আমাদের পূর্বেও অনেকে বিশাম করিতেছিল, আমরাও 
উপবেশন করিলাম । পু 

একজন অন্ধ মন্দিরা,বাঁজাইয়া ভজন গাহিয়! ভিক্ষ1 
প্রার্থনা করিতেছিল, তাহার নিকটে একটি নয় দশ 
বসরের বালক দণ্ডায়মান । একজন স্ত্রীলোক অন্ধাকে 
কিছু দান করিল। শ্ত্রীলোকটাকে ভিক্ষা দিতে দেখিয়! 
বালক দৌড়িয়৷ আসিয়া আমাদের নিকট উপবিষ্ট তাঙ্ার 
অভিভাবকের গলা জড়াইয়! ধরিল এবং তাহার কাঁণের 
কাছে মুখ দিয়া কি যেন বলিল। লোকটি তখন 


* হাসিয়। বালকে হাতে কিছু পয়সা দিল বালক আবার 


দ্রুত গতিতে গিয়া ভিক্ষুককে দান করিয়া হাসিতে 
হাসিতে প্রত্যাবর্তন করিল। 

বিশ্রাম অস্তে আমরা নামিতে আরম করিলাম। 
উৎরাই শেষ করিয়া! বুড়ী গণ্ডকীর তীরে পৌছিলাম। 
৩-৩০ মিনিটের সমন বুড়ী গণ্ডকী উত্তীর্ণ হইয়া আরু 
ঘাট নামক স্থানে আসিলাম। বুড়ী গণ্ডকীও ত্রিশূলী 
ও বেত্রবতীর স্ায় খরম্োতা। নদীতে একটি লৌহ 
সেতু আছে। 

আরুঘাট একটি সমৃদ্ধ সহর এবং পার্বত্য সহরের 
হিসাবে যথেষ্ট পরিফার। হদয়কৃষ্চ নামক এক নেওয়ারের 
দোকানে আমর! আশ্রয় লইলাম। হৃদয়কুণ্ণ নেপাল 
কলেজের অধ্যক্ষ বটকুষ্ণ বাবুর অনুগত লোক । বটকুষ্ণ 
বাবু হৃদয়কৃষ্ণের নামে আমার নিকট একখান] চিঠি দিয়া- 


ছিলেন। হ্ৃাদয়কৃষ্খ অতি সাদরে আমার্দিগকে 
স্থান দান করিল। আমরা অগ্য রাত্রে হৃদককৃষ্ণের 
অতিথি। 
ক্রমশঃ 
শ্রীশরচ্চন্ত্র আচীধ্য। 


মানসী ও মর্ম্মবাণী ' 


[ ১৫শ বর্ষ--১ম খণ্ড--১ম সংখ্যা 


অপূর্ণ 


( উপন্যাস ) 


চতুর্দশ পরিচ্ছেদ | 


9 ত্যাগ। 
সেইদিন অপরাছে অশোক,, যোগনারা ও অনুর 
ভ্রাতাকে লইয়! আপনাদের বাড়ীর নিকটে একখান! 
ভাড়াটে বাড়ীতে লইয়া গেল। অশোকের পিতা মাতা 
বলিয়াছিলেন এবং অশোঁকেরও ইচ্ছা ছিল যে যোগমায়াও 
আপাততঃ কিছুদিন তাহাদের ওখানেই থাকেন, তার 
পর রীতিমত মকন্দমা করিয়া কি ফল হয় দেখিয়া অন্ত 
বাবস্থা। কিস্তু যৌগঙ্গীয়ার মাতৃগর্কে এমন একটা 
আঘাত লাগিয়াছিল যে তিনি সম্মত হইতে পারিলেন না। 
কুঝ্সিণী অবস্থা বুঝিয়া! আর সেই দিনটা থাকিয়া যাইতে 
যোঁগমায়াকে বলিতে পাহস করিল না। কিন্তু এই 
অক্ষমতার ক্ষোভ ও ছুঃখে তাহার হৃদয় ষেন বিদীর্ণ 
হইয়া যাইতে লাগিল। বাহাকে সমস্ত প্রাণ দিয়। শ্রদ্ধা 
করে সেই তাহার পরমাত্মীয়কেও তাহার নিজের 
বাড়ীতে একটা দিন রাখিবার ক্ষমতা বা অধিকার 
নাই, এটুকু আজ দ্বিপ্রহরে যখন নূতন করিয়া এতথখানি 
সুম্প&ট হইয়। উঠিল, তখন তাহার মনে হইল তাহারও 
যেন এ সংসারে আর সত্যকার স্থান নাই। 
যোগমায়া চলিয়। যাইবার সময়ে কুক্সিণী তাহার 
পায়ে মাথা রাখি যখন প্রণাম করিয়া বলিল-_“দিদি, 
আমার মত পোড়াকপাল কারুরও যেন নাহয়। যাই 
হোক না কেন,আমায় তুমি যেন মন থেকে ঠোলো! না। 
এইটুকু আমায় দয়! করে! তুমি।” 
অশ্রজলে রুকুণীর কথা হারাইয়া গেল। কুঝি'ণীর 
« চোখের জলে যোগমায়ার পায়ের উপরটা। ভিঞ্জিয়া গিয়া- 
ছিল। ঠিনি শ্বন্নেহে কুক্িণীকে উঠাইরা তাহাকে 
আলিঙন করিয়া কহিলেন-_-”ছোট বৌ, তুই যে, আমায় 
কত ভালবাসিস তা কি জানি না আমি? তোর মন যে 


আমার কাছে দর্পণের চেয়েও পরিফার। আমি সর্বদ] 
মন খুলে তোকে আশীর্বাদ করে যাচ্ছি, তুই সাবিত্রী 
সমান হ। তুই কিছু ভাঁবিসনে ভাই, আমি যে আজ 
এমনি করে চলে যাচ্ছি এতে তোর কোন অকল্যাণ 
হবে না।” বপিতে বলিতে তিনি সঙ্গজল নেত্রে বাড়ীর 
বাহির হইলেন। 

অশোক যোগমায়াকে সংবাদ দিবার আগে অনেক 
কাণ্ড করিয়াছিল। মায়ের পত্রে বাড়ী বন্ধ করা সংবাদ 
প্রাপ্তিমাত্র সে প্রিদ্দিপাল সাহেবকে অনেক বলিয়া 
কহিয়! ছুটি লইয়! বাড়ী ফিরিয়াছিল। বাড়ী আসিয়৷ 
খবক্ষে দেখিল যে শরতের বাড়ীর দুয়ার শরতের মায়ের 
নিকট রুদ্ধ'কর! হইয়াছে । তখন ক্রোধে ও ঘৃণায় দে এক- 
বারে ভ্ঞানহার। হইল। সে একেবারে পিতার সহিত 
পরামর্শ করিয়া! তৎক্ষণাৎ বাসায় খবর দ্রিরা আসিল এবং 
যোগমারাকে আনিবার ভন্ত টেলিগ্রাম করিল। 

ম৷ আসিয়া! ছেলের বাড়ীতে প্রবেশ করিতে পারিবেন 
না, আর সে এমন ছেলে যে মা বলিতে আত্মহারা 
হইত। ইহা মনে করিয়া অশোক সমস্ত দিন পরামর্শ 
প্রতিকারের জন্ঘ ছুটাছুটি করিয়া! বেড়াইয়াছিল। ছুই 
চারিজন উকিল তাহাকে ভরসা দিয়াছিল যে শর্তের 
মা! ফিরিয়া আপিক্া। তাহার অনুপস্থিতিতে চাবি 
ভাঙ্গিবার অভিযোগ করিলেই হেরম্ব বাঁবু কাবু হইয়! 
পড়িবেন। আন যখন যোগমায়া৷ দেশে আসিয়া! পৌছি- 
লেম তাহার পূর্বেই সে উঠিয়৷ ডেপুটীবাবুকে এই 
সংবাদ দিবার জন্ত ছুটিয়াছিল। 

যোগমায়াকে নূতন বাসায় আনিয়! তাহার 'নত্য 
প্রয়োজনীয় উ্রব্যাদির বাবস্থা করিয়। দিয়া অশোক 
ত্বাহাকে সমস্ত কথা প্রকাশ করিয়া বলিল। হেরম্ব 
বাবুর নামে নালিশ করিতে হইবে | তাহাকে আদীলতে 
শুধু এই বথা বলিতে হইবে যে তিনি সমস্ত চাবি 





বন্ধ করিয়া গিয়াছিলেন এবং আসিয়া দেখিতেছেন সে 
সব তাল! নাই তাহার স্থলে নূতন তালা। নাপিশ 
করিতে হইবে তিন জনের নামে - হেরম্ব বাবু, বিষণ সিং 
দারোয়ান ও হেরম্ববাবুর সন্বন্ধী কেবলরাম। 

সেইদিন যোগমায়৷ বাহিরে স্থির থাকিলেও তাহার 
অস্তরটা একেবারে পুড়িয়া ছাই হুইয়! যাইতেছিল। 
শরতের ম্লান মুখখানি যেন এই অতি ক্ষুদ্র নূতন বাড়ীটার 
সর্বত্র ঘুরিয়া বেড়াইচেছিল। শরতের ক্ষুব্ধ আত্মা 
যেন তাহার কাণে কাণে বলিয়। ফিরিতেছিল--“কেন মা 
তখন সে কথা শুনিলে না?” যোগমায়ার অন্তরে এখন 
ঝটিকা বহিতেছিল। তিনি অশোকের কথাগুলি 
শুনিয়া নিস্তব্ধ হইয়া ছিলেন । 

অশোক বলিস গেল, "সাক্ষীর অভাব হবে না খুড়ি 
মা। যা্া সব জানে, এমন ছুই একজন বেঁকে 
দাড়িরেছে সত্য, তবু সব সত্য কথা ব্ল্বে।” 

একট! নিশ্বাস ফেলিয়া যোগমায়া বলিলেন-_“আচ্ছা 
বাবা আমি যদি বলি ওসব হাঙ্গামে আর কাষ নেই, 
তুই কি বড় দুঃখিত হোস্‌?” 

অশোক ব্যস্ত হইয়া বলিল-_"না না খুড়িম/ তা কেন 
তুমি বল্তে যাবে? এতে তোমার ত লজ্জা নেই। যে 
ছোটলোকের মত লোভীর মত ব্যাতার করেছে তারই 
লজ্জা 1” 

যোগমায়া বলিলেন, "দেখ অশোক, আমি ভেবে 
দেখলাম এ বিবাদের মধ্যে আমি আর যাব না। এই 
ছুথানা ঘরেই যে কণ্টাদিন বীচর্ক খুব কেটে যাবে। 
মেয়েটার জন্ত ভাবনা । তা তুই রয়েছিস। মনে ছুঃখ 
করিসনে বাবা !” 

অশোক অত্যন্ত বিশ্ময়ে যোগমায়ার পানে চাহিয়া 
বলিল, প্বল কি খুড়িম! তুমি? সব ছেড়ে দেবে?” 

যোগমায়া বলিলেন, "আটকে রাখখার উপায়ও ত 
নেই বাণ। তালা ভাঙ্গার মামলায় না হয় ওরা সাজ! 
পেলে, আমিও আপাততঃ জিনিসপত্র ও বাড়ী পেলাম। 
তার পর জানিস্‌ তো বাবা, এসব কিছুতেই ত আমার 
আইন মত কোন অধিকার নেই। বাড়ী থেকে 


অপূর্ণ 


সস 
পি পি পপ ই 


৪ 





আমি উঠে যাই এই যখন গুদের ইচ্ছা, তখন কেন*আমি 
আর বাঁধা দেব? আমি যদি থাকৃষার সত্ব চাই, তধন ত 
মামল। কত্তে হাব বৌমার সঙ্গে-- আমার শরতের বৌয়ের 
পদে!” 

এইখানটায় যোগমায়ার গলাট। ধরিয়া! আসিল। 

একটু থামিরা তিনি আবার বলিলেন, প্তাঁতে আর 
কাযণনেই বাবা! যা নালিশ লিখিয়ে এসেছ উঠিয়ে 
নিয়ে এস। যাদের অধিকার তারাই, নিক্‌ বাবা! 
আমারযা কিছু ছিল সব ত শরতের - কাষেই সবই 
বৌমার । সে বড় মুভাগী। এ নিগ্নে যদি একটু ভুলে 
থাকে, থাক্‌” 

অত্যন্ত আহত হইয়া অশোক বলিল, "আব তুমি 
মা হয়ে কি ডেসে যাবে খুড়িমা ?” রি 

যেগমায়া একটু ম্লান হাসি হাসিয়া বরিলেন, 
পআীমায় যে ভগবান ভাসিরেছেন বাবা! মানুষে তার কি 
করবে ? আমিও তো৷ অনেক পেয়েছি। শরতের কাছে 
আমি যা! পেয়েছি সে যে আমার মনের মধ্যে জমা ছয়ে 
আছে। বাড়ী ঘর তার তুলনায় তো কিছুই নয় 
বাবা !” 

অশোক 'একবার শেষ চেষ্টা করিয়া বলিল-_“কিস্ত 
খুটিমা, এমন করে শেষটা অত্যাচারীর কাছে হেয়ে 
যেতে হবে? তোমার বাড়ীঘর 'খুঁড়মা, ওরা স্থযোগ 
পেয়ে এমনি করে ফাঁকি দিয়ে নিয়ে নেবে, আমরা তার 
কোন প্রতিকার করবে! না 1” 

বলিতে বলিতে অশৌক কীদিয়! ফেলিল। 

“কেন অশোক ছুংখ করছিন্‌ বাবা? তুই কি আমা- 
দের ভার নিতে পারবিনে? তোর কাছে কিছু নিতে 
ত আমার লজ্জ। নেই বাবা! মনে কর্‌ ওদের জিনিস 
ওদের কাছে দিয়ে আমি তোর কাছে এসে আব্রয় 
নিলাম। শ্বাশুড়ী বৌয়ে মাম্ল সেটাকি ভাল? তার 
চেয়ে অর এক ছেলের কাছে আশ্রয় নেওয়া* কি 'ভাল 
নয়?” বলিয়া যোগমায়া এমন পুত্রস্নেহের দাবীতে 
অশোকের পানে চাহিলেন যে, অশোক মনের ক্ষো্ভ 
অনেকটা তুলিয়া! বলিল, *তা৷ হলে খুড়িমা আজ থেকে 


২০ | মানসী ও মন্মবানী 


বশ 


তোমাদের ভার আমার। কিন্তু তুমি বে কিছু বলনা 
খুড়িমা 1” 

যোগমাক়! স্নিগ্ধ কণ্ঠে বলিলেন, “আচ্ছ। বাবা আজ 
থেকে বলব” 


পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ 


মামলার তদ্বির। 


যৌগমায়া৷ পুরী হইতে ফিরিয়াছেন এই সংবাদ 
রাষ্ট্র হ্ববামাত্র হেরম্ব বাবুর দল «কোমর বাঁধিয়া লাগিয়। 
গেল । যোগমায়া আমসিবার পরদিনই অপরাহে 
হেরুম্ব বাবুর বৈঠকখানায় তাহার হিতৈষিগণের একটা 
সভা" বসিল। 

“এক বন্ধু বলিলেন, *গহে এ খবরটা পাক! যে 
ডেপুটি একবার গোপনে তদন্ত করবেন। তা, হলে 
আমাদের তুদ্বিরট। একটু ভাল করে করতে হবে » 

একজন পাকা উকিলের মুস্থরী সেখানে ছিল। সে 
এই সুযোগে একটু আত্মীয়তা! দেখাইয়া বলিল, “তার 
জন্ট কিছু তাববেন ন! গ্রাম বাবু, সে সব শিখিয়ে পড়িয়ে 
আমি ঠিক করে নেব। মামল! এমন সাজিয়ে দেব যে 
বাড়ী অনেকদিন থেকে আপনাদের দখলী সম্পাত্ত 
তা প্রমাণ হয়ে যাবে।” 

হেরম্ব বাবু তাহার পানে চাহিয়া বলিলেন, প্য! 
করবার তা হলে এখনি করে ফেল বীঁড়য্ে। শেষটা 
আবার বলে বস না! যেন ছুদিন আগে যদি বলতেন 
তাহলে কি এমন মামল! ফসকায়। তোমাদের আবার 
সে গুটি বিলক্ষণ আছে।” 

লোকটি সত্যকারই পাকা মুছরী বলিয়া এই 
খেচাতে কিছুমাত্র না দমিয়া অস্ততঃ বাহিরে সে ভাব 
কিছুনান্ত প্রকাশ না করিয়। কহিল, “আপনি নিশ্চিন্ত 
থাকুন, ছোট বাবু, 'মাপনার যাদ জিৎ না £র আম 
মুহ্ুগা'গ!র ছেড়ে দেব। এ ৩৬ আপনার ন্তায্য আধক:র। 
*কত বলে রামের দি'নষ শ্তামকে দখল দিয়ে দিলাম । 
এই সেদিনও ত হরিশ রায়কে এক কথায় তার মামীর 


৩ ক 
চু রি ১০০ 


| ১৫শ বর্---১ম খণ্_-১ম সংখ্যা 





সি জাপা 


বাড়ীতে বসিয়ে দিলাম। মাগী এখন কাশীতে গিয়ে 
কোন ছত্তরে বুঝি রাধে আর খায়। মাগী কি কম 
জাহাবাজ, বাপরে বাপ! যাবার আগে আমার 
বাড়ী পর্য্স্ত ধাওয়া করে বল্লে কি না আমায় যেমন 
তুমি পাকেচক্রে আমার স্বামীর ভিটে থেকে তাড়ালে, 
তোমাল পরিবারকেও একদিন যেন ছেলে মেয়ের হাত 
ধরে এমনি করে বেরুতে হয়। মাগীকে এক ধারক দিয়ে 
বাড়ী পার করে দূরজ! বন্দ করি) তবে থামে ।” 

ঘরের শেষ প্রান্তে «একজন নূতন লোক কোন 
ফাকে আসিয়া বসিয়াছিলেন। তিনি মৃদুম্বরে বলিলেন, 
“মাগীর বড় অপরাধ বীড়ুব্যে মশায়! তাকে আপনি 
ভিটে ছাড়া কল্লেন, সে কি এসে আপনার স্তবস্ততি 
করুবে বল্‌তে চান ?” 

বাড়য্যে লোকটি তীহার দিকে চাহিয়া বণিল, 
একি 'বড় বাবু যে! কবে এলেন? দেশের দিকে যে 
ফিরেও চান না। কেবল তীর্থ ধর্ম নিয়েই দিন 


কাটাচ্ছেন?” 


বলিয়৷ জিজ্ঞাম্থভাবে তাহার পানে তাকাইল। 
হরিশ রায় ও তাহার ভগিনীর কথা বে কখনও উঠিমাছিল 
এমন ভাবও তাহার মুখে প্রকাশ পাইল ন|। 

পূর্বোক্ত লোকটি কহিলেন, “কাল সবে এসেছি, 
এসেই তোমাদের সব সাধু কীর্তিকলাপের কথ শুনছি ।” 

তার পর হেরস্ব বাবুর পানে চাহিয়া কহিলেন,“যেরকম 
সব করে তুলছ মণি, এতে আর তোমাদের এদিকে 
ফিরবার ইচ্ছে নেইশ৷ এইবার শেষ |» 

যিনি বলিলেন ইনি হেরম্থ বাবুর জ্যেষ্ঠ ভাই। নাম 
তৈরবচন্ত্র। ইনি এককালে খুবই সৌখীন ও বাবু 
ছিলেন। তখন অবস্থাও খুব ভাল ছিল। হঠাৎ স্ত্রী- 
বিয়োগ হইলে একেবারে বিপরীত পথে চলিতে আরস্ত 
করিয়া সন্ন্যাদীগোছ হইয়া পড়িয়াছেন। হেরম্ব বাবুকে 
নিজের বিষয়ের অংশের যাগ কিছু আয় সমস্তই ছাড়িয়া 
দিয়া বৎসরের অধিকাংশ সময় বৃন্দাবনে কাটাইয় থাকেন। 
বৎসরে কেবল একবার দেশে ফিরেন) ২১ দিন 
থাকিয়া আবার চলিয়! যান। 


ফান্তন, ১৩২৯] 


অপূর্ণ * ২১ 





দাদার কথা গুনিয়! হেবুম্ব বাবু বলিলেন, "আসতে 
না আসতে আপনি কি এমন শুন্লেন যার জণ্তে অমন 
বলছেন ?” 

তাহার দাদ! বলিলে”, “শরৎ বাবাজীর মাকে তুলে 
দিয়ে তুমি যে ভাঁড়াটে বসাবার সংকল্প করেছ, বা 
নিজেই মেয়ের হস্সে দখল করবে ভেবেছ, লেটিকে ত 
আমি কিছুতেই ভাল বলতে পারিনে মণি।” 

হেরম্ব বাবু যুক্তি মনের মধ্যে যেন বেশ করিয়া 
একটু শানাইয়! লইপ্া বলিলেন__"আপনিও যে একবারে 
পরোপকারী লোকদের মত কথ! বল্ছেন। তেবে 
দেখুন ওটা আমার বিধবা মেয়ের সম্পত্তি, কারও উপর 
দয়া করে ওটা ছেড়ে দেবার অধিকার আমার নেই। 
আর এখন বেঁচে থাকতে ওর বাড়ীর ব্যবস্থাটা করে না 
গেলে অ মার অবর্তধানে কি ওরা একে বাড়ীর ত্রিশী- 
মানায় ঘে'সতে দেবে ভেবেছেন? কখনো! নক্। তার 
উপর সম্পত্তির অবস্থাও জানেন; তার জন্তে আলাদ! করে 
কোন ব্যবস্থা করে যাব সে ক্ষমতাও নেই। ছেলেট! 
এখনি যে রকম হয়ে উঠছে, ও যে বড় হয়ে কাউকে 
ছুমুঠো ভাত দেবে তার তরুসাও খুব কম। এ অবস্থায় 
আমাকে কি করতে বলেন ?” 

ভৈরব বাবু বলিলেন, “শরতের মাকে জীবনসত্ত 
ছুধানা ঘর দিয়ে বাকী গুলো দখল করলেই পারতে। 
ঘরের ত অভাব ছিল না” 

হেরম্ব। তা হলে ত সে হুখানা ঘর থেকে আমার 
মেয়েকে বঞ্চিত করতে হত । * যখন সব শুনেছেন 
তখন ওদের কথাও ত শুনেছেন! আইনতঃ গুর তো৷ 
কোন অধিকার নেই। এ অবস্থায় আমার অধম করা 
কোন খানটায় হল? হিন্দু আইন হিসেবেই শুর 
এতে কোন অধিকার নেই।” 

ভৈরব। আইন পালন করাটাই সব সময়ে ধর্ম 
পালন কর! নয় মণি। তোমার বাড়ী থেকে যদ্দি কোনও 
লোক ক্ষিদের আলায় ছুমুটে চাল চুরী করে, আর তার 
অন্তে যদি তুমি তাকে পুলিশে দাও, তাহলে তোমার 
আইনমতে কায করা৷ হবে, কিন্তু ধশ্ম মতে নয়1” 


উপরের কথাগুলি এমনি জোরের সহিত, ভৈরব 
বাবু বলিলেন যে কন্তার প্রতি কর্তব্য ত্বাহার মনে 
অত্যধিক জ্বাগরূক থাকিলেও হেরম্ব বাবু বলিলেন, “আমি 
*কি শরতের মাকে একেবারে বাড়ী থেকে চিরকালের 
মত তাড়িয়ে দিতে বলছি? বাড়ীটা একবার আগে 
দখল নিই, তার পর তাঁকে ডেকে এ'ন নীচের একটা 
ঘরুছেড়ে দেব। বিধবা-তার একটা! ঘরই যথেষ্ট। 
আমার কাছে একবার আসতে তার অপুমান হল। 
তিনি গেলেন আমার নামে নালিস করতে! আমিও 
অল্পে ছাড়ছি না।” * 
তার পর সেই পরিপক উকিলের মুহুরির পানে 
টাহিয়া বলিলেন, “কৈ বাড়ুযো, বিষণ সিং টিংদের 
একবার ডেকে জিজ্ঞাসা করে দেখ দিকি। “আবার 
তারা যা তানা বলে বসে।” ॥ 
* ভৈরব বাবু নিস্তব্ হইয়া রহিলেন। মুস্থরি মহাশয়ের 
আদেশে স্বরূপ ও কেবলরাম সেখানে আসিয়! 
উপস্থিত হইল। 
স্বরূপের প্রতি মুস্রীর প্রশ্ন হইল-_-তুমি কদিন 


হল এখানে ফিরেছ ?” / 
স্বরূপ। সবে পরশু ফিরেছি। 
মুহুরী । এর আগে কোথায় ছিলে? 


বাবুর এক চিঠি নিয়ে ঘোড়ামারায়। 


স্বরূপ। 

মুহুরী। সেখানে কতদিন ছিলে? 
* স্বরূপ। দশবার দিন। 

মুহুরী । ৩রা চৈত্র বুধবার কোথায় ছিলে মনে 
আছে? 

স্ব। সেই ধোড়ামারাতেই। 

মুস্থরী। কি করে তোমার মনে থাকল যে ৩র! 
চৈত্র তুমি সেখানে ? 


বি। আজ্ঞে আজ ১৭ই চৈত্র বুধধার। আমি 
এসেছি পণ্ত ৮ই | সেখানে ছিলাম ১১২ দিন) কাযেই 
সেখানেই ছিলাম। 

তার পর বিষণ সিংকে জিজ্ঞাসা করায় সে ব্লিহী, 
তাহার বারের বা তারিখের ঠিক মনে নাই! তবে 


২২৭ 


পাম্পমপিসিসপিশক্ঠাসসিপা 





সপ্তাহ ছুই হুইতে তাহার মরিবার সময় ছিল না-_ 
জীমাই বাবুর বাড়ী যাওয়া ত দুরের কথা। সকালে 
উঠিয়। বাবুর আদেশে সে এ গ্রমম ও গ্রাম করিয়া বেড়া- 
ইয়্ছে। সন্ধায় বাড়ী ফিরিয়া রর! ঘাক্সা করিরা খাইয়া 
তৎক্ষণাৎ শয়ন করিয়াছে । 

তার পর আসিল কেবলরামের পালা । সে বেচার! 
তাহার সেই সেদিনকার অসৎকর্মের সঙ্গীদের 'কথা- 
বার্তায় পাস্তিততগ্রায় হইয়াছিল। তাহার সেই নিরীহ 
চোখ ছুটা যেন বড় করিয়া চাহিয়া তাহাদের বলিতে 
চাহিতেছিল, “আ1! বল কি গিষণ, বল কি স্বরূপ? 
সে রাত্রের কথা কিছুই জান না?” 

কেবলরাম যে বাবুর সম্বন্ধী তা মুহুরী জনিত 
বলিয়া সে কেবলরামকে একটু আদর করিয়া জিজ্ঞাসা 
করিধ, "তুমি এবার তোমার কথা বলত ভাই ।” 

কেবলরাম তাহার গরুর মত শাস্ত চোখ দুটা মেলিয়া 
মুরির পানে একবার চাহিল। ভাবটা_কি কথা 
বঝলিবে? 

মুহুরী জিজ্ঞাসা করিল, *দিন ৬৭ আগে তুমি 
একদিন তোমার ভাগবীর শ্বশুরবাড়ী গিয়েছিলে ?৮ 

ফেবলরাম মৃহুস্বরে ঘাড় নাড়িয়া বলিল, "হাঁ গিয়ে 
ছিলাম।” 

হেরম্ব বাবু তাহার পানে কটমট করিয়া চাহিলেন। 

মুহুরী বলিল, "বাঃ দিন আষ্টেক থেকে তোমার খুব 
পেটের অন্ুথ হয়েছিল তখন বল্পে, 'আর এখনই তলে 
গেলে!” 

কেবলরাম একটু ভরে ভয়ে বলিল, ”আপনি 
বল্লেন তা মনে আছে। তবে আমার ত পেটের অন্ুখ 
হয় না।” 

গ্বাঃ শ্রীবিলাস কবরেজের ডালিম পাচার রস 
দিয়ে ৪যুধ থেলে ক'দিন সে বুঝি শুধু শুধু?” 

বেচার! অবাক হইয়া রহিল। কবে বা তাথার 

, পেটের অন্গথ হইল, এবং কবে বাকি করিয়া 

তাহা সারিল ইহা ভাবিয়! সে কিছুই কূল কিনার! 
পাইল ন!। 


মানসী ও মর্ম্মবাণী 


ই ২ ০ 


[ ১৫শ বধ--১ম খ৪ু--১ম সংখ্য। 





ক 


মুহুরী আর অন্ত রকমে . চেষ্টা করিবার অভিগ্রায়ে 
জিজ্ঞাসা! করিল, “আচ্ছা, আজ কি বার বল ত?* 

কেবলরাম এতক্ষণ পরে একটা জবাব দিবার মত 
প্রশ্ন পাইয়া সৌৎসাহে বলিল, “বলব ? আজ বুধবার |” 

মুস্থরী। আচ্ছা আঞ্জ বুধবার, এর আগের বুধ" 
বারের রাত্রে তৃমি কোথাও গিয়েছিলে? 

কেবলরাম এটু ভাবিয়া বলিল, “হাঁ! গিয়েছিলাম 
বৈকি। জামাই বাবুর বাঁড়ী। ছোট দাদাই ত 
আমাকে - ”* ৫ 

কিন্ত কেবলরামের আর অগ্রনর হওয়া! হইল না। 
হেরুম্ব বাবু অত্যন্ত উগ্রস্বরে স্বপ্ন কথায় বলিলেন, 
“গাধা! 

কেবলবাম তাহার জামাই বাবুর বাড়ী যাওয়ার 
সহিত এ ভারবাহী পণ্তর কি ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ তাহা স্থির 
করিতে না পারিয়! বিস্ময় ও ভীতিবিহ্বল মুখে তাহার 
অন্নহারক ও আশ্ররদাতা ভখিনীপতির পানে চাহিয়া 
বুহিল। 

হেরস্ব বাবুর £চ্ছ! হইঠেছিল কেবলরামের কর্ণ 
ছুটি ধরিয়া কি তাহাকে বলিতে হইবে তাহা ঠিক 
সাধারণ রকধে নির্ধারিত করিয়া দেন। কিন্তু তাহার 
জোষ্ঠের সন্নিধিতে সেই হিতকা রক কার্য্যটা করিয়া উঠিতে 
পারিনেথ না। তবু তাহার দিকে অধিদৃষ্টি বর্ষণ 
করিয়া কহিলেন -প্বেশী জেঠীমো করিসনে কেবলা। 
তুই কোনওদিন কোনওকালে কোনও ব্রাত্তিরে শরৎদের 
বাড়ী যা্নি। আমি তোকে কোথায়ও কখনও পাঠাইনি।” 

তথাপি সেই নির্বোধ শিশুর মত সরল যুবক বলিল, 
“সেই যে জাঁপনি আমাকে যেতে বল্লেন ছোট দাদ! !» 
বলিয়া! দেই দাদার ক্রুদ্ধ ও ভীষণ মুখভাবের পানে 
চাহিয়া! উচ্ছসিত কণ্ঠে কাদিয়! ফেলিল। 

তখন কেহ তাহাকে বণিল বোকারাম, কেহ 
বলিল অকালকুম্মাণ্ড, কেহবা বলিল, বাবুর ঘরে এমন 
গাধাও জন্মায়! এমন কি যে মুহুরীটি একটু আগে 
তাহাকে বাবুর শ্তালক ব'য়া একটু, সৌগরন্ত প্রকাশ 
করিয়াছিল, সেও বলিয়া ফেলিল, *এ সাদ! কথাটিও 


ফান্তুনঃ ১৩২৯ ] 


বুঝতে পার না-_-ভগবান্‌ বুঝি ঘটে বুদ্ধি জিনিষটা 
একেবারেই তোমায় দিতে ভুলে গিয়েছেন !” 

সকলে যখন কেবলবামের উপর এই বিদ্রুপ ও 
অপমান বর্ষণ করিতে ব্যন্ত, এমন সময় ভৈরব বাবু 
উঠিয়া! কফেবলরামের কাছে গিয়া তাকে কাছে,আনিয়া 
মন্গেহে বলিলেন, “কেবল, তুমি ছুঃখ কোর ন! ভাই। 
তগবান্‌ বুদ্ধি তোমায় একটু কম দিয়েছেন বটে, কিন্ত 
বুদ্ধির চেয়ে বেশী ভাল, সূত্যের মর্ধ্যাদাটা এখানকার 
অনেকের চেয়ে বেশী দরিয়ছেন। তুমি আমার সঙ্গে 
যাবে ভাই? কত দেশে বেড়াব তোমাকে নিয়ে 1” 

কেবলরাম তাড়াতাড়ি অশ্রু মুছিয়া বলিল--"হাঁ? 
বড়দা বাব। কবে আপনি যাঁকেন ?” 

ভৈরব বলিলেন, «আচ্ছা, আমি যেদিন যাৰ 
তোমাকে নিয়ে যাব ।” 

পরে হেবরম্ব বাবুর পানে চাহিয়া বলিলেন, “মণি, 
তোমার এই বোকা সন্বপ্ধীকে আমাকে দেও। এর 
কাছে তোমার ত আর কোন প্রত্যাশ নেই।* 

কথার ভিতর যে খোচাটুকু ছিল তাহা যথাস্থানে 
পৌছিল। কিন্তু যে দাদার বিষয়ে অংশের আয় হইতে 
যাবতীয় খরচ নির্বাহ হইতেছে তাহার উপর ক্রোধ বা 
আক্রোশ প্রকাশ না করিয়া কহিলেন_-“তা নিয়ে যাবেন 
-"আমিও বাচি।৮ 

এই কথ! শুনিয়া কেব্লরাম সমস্ত মন দিয়! থেন 
মুক্তিলাভ করিল। সে ভৈরুব বাবুর দিকে আর একটু 
সরিয়। বসিল। 


ষোড়শ পরিচ্ছেদ 
“চোরা ন। শোনে ধর্মের কাহিনী |» 


যে ঘরে হেরম্ব বাবুর বসিয়৷ এই সব আলোচনা 
করিতেছিলেন তাহার পাশেই একটা ঘরে ভৈরব 
বাবুর জন্য একখানি চৌকির উপর কম্বল বিছান 
ছিল। যখন তিনি আসেন এ ঘরটাই অধিকার করেন। 
বাড়ীর মধ্যে বড় একটা যানই না। 


৩৫ 


অপু 


কেবলরামকে ছাড়িয়া দিতে ভ্রাতার কোন আপত্তি 
নাই গুনিয়। তিনি তাহার ঘরটতে আসিয়। বসিধেন। 
সুঙ্গে কেবলরামও আসিয়া তাহার পায়ের কাছে বসিল। 

হেরম্ব বাবুর ঘরে তখন পুরাদমে জবানবন্দী ও 
জেরার ব্রিহাস্সাল চলিতে লাগিল। কিন্তু কেবলরামকে 
লইয়া, কি করা যাইবে সেই সম্বন্ধে মন্ত একটা 
খটকা রুহিয়া গেল। 

এই সব ব্যাপার লইয়া! যখন সকলেই ব্যস্ত এমন 
সমন্ধ একটি লোক আয়া হেরস্ব বাবুর হাতে একখানি 
পত্র দিল। পত্রধানি পড়িয়াই হেরস্ব বাবু উৎফুল্ল হইয়া 
উঠিলেন। সকলে শুনাইয়া তিন বললেন, “ওহে, হরেন 
বাবু লিখছেন-- একটা স্ুসবদ। মোকদদমাক পন 
আর ভাবতে হবে না। বেয়ান কেস উঠিয়ে নিয়েছেন-_. 
তিনি মামলা! চালাবেন না।" 

হ্বামবাবু নামক বন্ধু বলিলেন, “মাগী বোধ হয় শেষটা! 
ভয় পেয়ে গেল।* কথাটা হেরম্ববাবুর মনঃপৃত হইল। 

তার পর শেষে “বেশ হুল, খাস! হল,” ইত্যাদি 
অভিনন্দনে হেরম্ব বাবুকে আপ্যাপ্নিত করিয়া একে একে 
সকলে উঠিয়! পড়িলেন। সবাই চলিয়া গেলে ভৈরব 
বাবু ডাকিলেন, “মণি, শুনে যাও * 

হেরস্ব বাবু ভ্রাতভার নিকটে আঁদিলেন। 
রাম তখন বাড়ীর ভিতর গিয়াছিল। 

ভৈরব বাবু জিজ্ঞাসা করিলেন, “এখন কি করবে 
ভাবছ মণি?” 

হেরম্ব বাবু বলিলেন, প্যদি শরতের মা এসে বলেন, 
আমাকে থাকার জায়গ! দিন, তবে দেব, নইলে দেব না|” 

ভৈরব থাবু একটু গম্ভীর হইয়া বলিলেন, "দেখ 
মণি, যদি আমার কথা শোন, তুমি নিজে গিয়ে তাঁকে 
অনুরোধ করে এ বাড়ীতে বসাও। সুনুকেও সেখানে 
পাঠিয়ে দেও। তাহলে তোমার মুখও থাকবে, ধর্শের 
কাছেও অপরাধী হতে হবে না।” 

হেবরস্ব। আমি ত আপনাঁকে আগেই বলেছি মেয়ের 
ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আমি তা করতে পারিনে। আর 
উনি,ভেবে চিত্তে সুবিধে না দেখে বেস তুলে 


কেবল- 


মানসী ও মন্দ্বাণী 


নিলেন 'বলে আমাকে বাড়ী ছেড়ে দিতে হবে? 


ভৈরব। মণি, কখনো ভেবন। যে তিনি ভয়ে বা 
আশঙ্কায় মকদ্দম! তুলে নিচ্চেন। তিনি মোকদামা 
চালালে তোমাকে বিপদে পড়তে হত। তোমার নিজের 


বাড়ীতে ধদ্দি কেউ বাঁ করে, তারও অবর্তমানে তুমি 
তাকে বাড়ী চড়াও করে জিনিষ আনতে পার না। কত্ত 
তিনি ছেড়ে দিয়েছেন এই জন্তে যে তার মাতৃগর্কে আঘাত 
লেগেছে। 'যার মনে একটু বেশী আত্মমর্ধাদা জ্ঞান 
আছে তার পক্ষ লোকের কাছে বলা বড় শক্ত যে 
আমি মা, আমার বাড়ী থেকে তাড়াতে পার ন1। 

হেরম্ব। তাহলে কি আপনি বলতে চান যে তিনি 
মাম্লা তুলে নিলেন বলেই আমাকে তার থোসামদ 
করতে হবে? 

ভৈরব। তুমি যদি তাকে বাড়ীতে ফিরে আস্তে 
না বল, তা হলে তোমার একটা মহা অনিষ্ট হবে এ 
আমি তোমাকে বলছি। 

হেরম্ব। এ কথা আপনার বলবার কি হেতু? 

ভৈরব। তোমাকে “একটা কথা বলি শোন। 
আমি অনেক সাধু সন্ন্যাপীর কাছে শুনেছি, আবু নিজেও 
প্রত্যক্ষ করেছি যে, একজন যদি আর একজনের উপর 
বিন! দোষে অত্যাচার 'করে, আর সেই নির্দোষ লোক 
যদি কোন অভিসম্পাত না দিয়ে কোন দূর্বধক্য ন1 
বলে শুধু তগবান্কে সে কথা জানায়, তাহলে যে 
অত্যাচার করে তার সর্ধনী4 অনিবার্ধ্য। নিজে হাতে 
দণ্ডের ভার না নিয়ে ভগবানের হাতে দাণ্ডর ভার দিলে 


দণ্ডের পরিমাণ খুব বেশী হয়ে থাকে। 
হ্রম্ব। এখানে বিনাদোযে অত্যাচার হচ্চে? 
তৈরব। অত্যাচার আর কাকে বলে মণি? 


অনৃষ্টদোষে বিধবা হল। তার পর ছেলে মার! 
গেল__তবু' সেখানকার মায়! কাটাতে পারলে না। 
আর তুমি আইনের ওজর দেখিয়ে তার অনুপস্থিতিতে 
সেই বাড়ী অধিকার করে বসলে! আইন যাই কেন 
বলুক না, ভগবান আর মানুষের হৃদয় কিছুতেই মানবে 
না যে মায়ের কোন অধিকারই নেই, বৌগ্নেরই অধিকার। 


[ ১৫শ বর্ষ---১ম খ৪ু-"১ম সংখ্য। 


হ্রম্ব ঠিক মত উত্তর দিতে ন! পারিয়া মনে মনে 
ক্রুদ্ধ হইয়া বলিলেন, “আপনার বিষয়ের আছুট! ক'বছর 


, থেকে নিচ্চি কি না, তাই আপনি অত করে ছূর্ধাক্য 


বল্লেন |” 

ভৈরবু বাবু হঠাৎ স্তদ্ধ হইয়া! গেলেন। তার পর 
বাথিত কণ্ঠে বলিলেন, প্এতদিন পরে তুমি যদি 
এই কথাটাই ঠিক রে থাক যে আমার বিষয়ের 
আয়টা তুমি ভোগ করছ বলেই আমি তোমাকে এমব 
কথা বলচি, তা হলে আমার আর বলবার কিছু নেই। 
বিষয়ের আয় ত তুমি জোর করে বা ফাকি দিয়ে নিচ্ছ 
নাষে, আমার সে জন্ত কোন বুকম অসস্তোষ হবে। 
আমার ইচ্ছে ছিল সে সম্পত্তিটা তোমার নামে না 
দিয়ে স্থুধীরের নামে দেব, সে জন্য এতদিন দানপত্র করে 
দিহান। এবার সব শেষ করে যাব। কিন্তু এখনও 
আমার অনুরোধ শোন মণি । তাঁকে সন্তষ্ট করে ফিরিয়ে 
আন। মেয়েটাকে দুচারবার সেখানে পাঠাও। ক্রমশ 
আপনি আপনি দখল হয়ে ষাবে। নইলে সত্য বলছি 
মণি, তোমার জন্যে নয়, আমার বেশী ভয় হয় সুধীরের 
জন্তে। আমি এরকম ঘটন! ২1৪ট। দেখেছি। 

শেষের কথাকয়টি ভৈরব বাবু মৃত্স্বরে খেন মাপনা 
আপনি কহিলেন। 

“কিছু না হলেও আপনি কেবল প্র বুকম করে 
অমগল ডেকে 'ান্বেন। আপনার বেশী স্নেহ কি না!” 
_ বলিয়া হেরম্ব বাবু ঞতবেগে সেই কক্গ হইতে বাহির 
হইয়। গেলেন। 

তৈরব বাবু আপনা মাপনি কহিলেন__“ভগবান্‌ যাকে 
তুমি ধ্বংসের পথ নিয়ে যাও, স্নেহেরই হউক আর বুদ্ধিরই 
হোক কোন কথাহ তুমি তখন তার কাণে তুলতে 
দাওন11* বলিতে বলিতে সেই সংসারত্যাগী শ্নেহময় 
ভ্রাতার মুিত চক্ষুতে ফোটাকয়েক জল পড়িল। 


ক্রমশঃ 


শ্রীমাণিক ভট্টাচার্য্য । 


ফান্ধন, ১৩২৯] 


রবীন্দ্রনাথের কাবো প্রকৃতির প্রভাব 


সষ্টির প্রথম দিন হইতেই মান্য এই বিশ্ব প্রকৃতির 
নানা! বৈচিত্র্য দেখিয়া আসিয়াছে, তাহার নান! পরি- 
বর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপনার জীবন যাত্রাকে নিয়মিত 
করিয়াছে, তাঁহার প্রভাবে সুখে ছুঃখে হর্ষে বিষাদদে চঞ্চল 
হইয়। উঠিয়াছে, অথচ আবার সুদীর্থ পরিচয়ের ফলে 
এই সমস্ত ব্যাপারেই একাস্ত অভ্যন্ত হইয়া ইহাকে নিতাস্ত 
সহজ ভাবে গ্রহণ করিয়াছে। কিন্তু যাহারা কবি ও 
দার্শনিক, তাঁহারা এই বিরাট বিশ্ব ব্যাপারের অন্তরালে 
যেএক অখণ্ড ও অসীম রহস্য লুকায়িত. আছে, 
প্রাত্যহিক জীবনের অত্যন্ত ঘটনা ও আবেষ্টনীর মধ্যে 
যে অপূর্বব সৌন্দর্য্য বর্তমান আছে, তাহা অন্তরে 
অন্তরে অনুভব করিয়াছেন এবং দর্শন ও কাব্যের মধ্য 
দিয়া আপনাদের সেই প্রকাণ্ড বিস্ময় ও লৌন্র্্য- 
বৌধকে প্রকাশ করিবার চেষ্ট! পাইয়াছেন। 

কিন্তু কাব্য ও দর্শন উভয়েরই উৎপত্তি এই এক 
বিস্ময় ও সৌন্দর্য্য বোধ হইতে হইলেও ইহাদের প্রকৃতি ও 
কায একরূপ নহে। দর্শন যুক্তিকে আশ্রয় করিয়! এই 
রহস্যের মন্্বোপ্তেদ করিতে গিয়াছে, সৌন্দর্যকে বিশ্লেষণ 
করিয়া তাহার কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করিয়াছে; কিন্ত 
কা্্যকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কার কর! কাব্যের কার্ধ্য নহে। 
সে ভাষার তুলিকাঁপাতে প্রকৃতির এই অনির্বচনীয় 
মাধুর্য ও সৌন্দর্ধ্যকে প্রকাশ করিতে চাহিয়াছে, কল্পনার 
সাহায্য লইয়াই এই অনস্ত রহস্তের মীমাংসা করিয়াছে; 
এবং নিখিলের এই বিচিত্রতার মধ্যে মানুষের জন্য 
যে আনন্দরস নিঃসৃত হইতেছে তাহার ব্টনভার 
লইয়াছে। 

পৃথিবীতে যে কয়জন মহাকবি নিপুণতার সহিত 
এই কার্ধা করিয়াছেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁহাদের অন্যতম । 

তাহার কাব্যের যে সর্বপ্রধান বিশেষত্ব পাঠকের 
চক্ষে পড়ে সে হইতেছে প্রকৃতির সহিত তীঁহার নিবিড়তম 
পরিচয়। তীহার কবিতার ছত্রে ছত্রেই দেখিতে পাই 
প্রক্কতির প্রতি গভীরতম অশ্নরাগ এবং বিশ্বব্যাপারের মধ্যে 


৪ 


বুবীন্দ্রনাথের কাব্যে প্রকৃতির প্রভাব 


২৫ 


সাস্পাসপাপাসপদি 


যে অসীম রহস্ত ও সৌনর্ধয, তাহার তীব্রতম অনুভূতি 
দেদীপ্যমান হইয়াছে। 

প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ও রহমত চিরদিনই রবীন্তর- 
নাথের মনকে আকুল করিয়াছে। শৈশবে দুষ্টা সহচরীর 
মত ইহা তাহাকে তাহার শৈশব কর্তব্য হইতে ভূলাইয়া 
লইয়াছে। 

“বারে বারে 

শৈশব কর্তব্য হ'তে তুলায়ে আমারে, 

ফেলে দিয়ে পুঁথিপত্র, কেড়ে নিয়ে খড়ি 

দেখায়ে গোপন পথ দিতে মুক্ত করি 

পাঠশাল! কারা হ'তে ; কোথা গৃহকোণে 

নিয়ে যেতে নির্জনেতে রহস্য ভবনে, 

জনশূন্য গৃহছাদে আকাশের তলে 

কি করিতে খেলা, কি বিচিত্র কথা বলে 

ভূলাতে আমারে !” 

যৌবনে ইহাই আবার প্রেয়ীর রূপ ধরিয়া মোহন- 
সংগীতমুগ্ধ কুরঙ্গসম কোন্‌ কল্ঈলৌকে তাহাকে বন্দী 
করিয়া লইয়া গেছে; এবং প্রাণে অসীম আকাজ্ষা- 
রাশি জাগাইয়া স্বপ্লগঠিত মৃত্তির মত ধরা না দিম! 
নভোনীলিমার মাঝে মুহূর্তে মুহূর্ে বিলীন হইয়াছে। 
আবার জীবনসন্ধ্যার পরপারের খেয়ামাঝির বৃত্তি ধরিয়া 
অস্তায়মান রবির স্বর্ণ আভায় কাঁজ ভাঙ্গান গান 
গাহিয়া ইহা তাহার মনকে উতলা করিয়া! তুলিয়াছে। 

শ্থুরদীসের প্রার্থনার যধ্য দিয়া কবি তাহার 
চিত্রের উপর প্রকৃতির এই অসীম প্রভাবের কথ৷ বাক্ত 
করিয়াছেন। 

এই অপার ভূবন, উদ্গারগগন ও শ্যামল কানন তল 
এই শরৎ আকাশের অসীম বিকাশ শুভ্রতম্ন জ্যোত্মা/ 
ও 'তড়িৎ্চকিত সঘন বরষা পূর্ণ ইন্ত্রধন্ এই "দিগন্ত 
প্রসারিত বিচিত্র শোভাময় শন্তক্ষেত্র এবং “সুনীল গগনে 


* জু মহায়াজ জগদীন্র দাখ রায়ের সতভাপাতখথে 


রাষষে'ছন লাইরেবী হলে পঠিত । 


২৬ 


ঘনতরংনীল অতিদূর শশযক্ষেত্র' সমস্তই নিশিদিন তাহীকে 
অভিভূত করিতেছে । 
“ইহারা আমাকে ভুলায় সতত 
কোথা নিয়ে যায় টেনে, 
মাধুরী-মদিরা পাঁন করি শেষে 
প্রাণ, পথ নাহি চেনে। 
সবে মিলে যেন বাঁজাইতে চায় 
পাঁগলের মত রচি নব গান 
নব নব তান ছাড়ি। 
আপন ললিত রাগিণী শুনিয়া 
. আপনি অবশ মন, 
_ভুবাইতে থাকে কুসুম গন্ধ 
বসন্ত সমীর্ণ ! 
আকাশ আমারে আকুলিয়৷ ধরে 
ফুল মোরে ঘিরে বসে, 
কেমনে না জানি জ্যোত্ম! প্রবাহ 
সর্বশরীরে পশে। 
ভুবন হইতে বাহিরিয়া আসে 
ভূবনমোহিনী মায়া, 
যৌবনভরা! বাঁছপাশে তাঁর, 
বেষ্টন করে কায়!।” 
নিখিল ভূবনের মধ্যে এই ভূবনমোহিনী মায়া, ৮2৫ 
1120 072৮ 0656 8902. 566 07 12150 
রবীন্দ্রনাথের মতে আর তিনজন কবিকেও মুগ্ধ করিয়া- 
ছিল; তাই সমস্ত প্রক্কৃতির মধ্যে তাহারাও এক ্নিগ্ধ শাস্ত 
সৌন্দর্য্য ও আনন্দের আস্বাদন পাইয়াছিলেন। ০:৫9 


1০:08 বলিয়াছিলেন__ 
25 1062৮ 0909 80 ৮1010 1 10610010 


«4 1910100 20 006 915 ! 
মেথরর্শনে রবীন্দ্রনাথের মনে যে ভাবোচ্ছাাস উঠে-- 
হদয় আমার নাচেরে আজিকে নাচেরে 
ময়ূরের মত নাঁচেরে 
হায় আমার নাচেরে 


মানসী ও মর্ধ্মবারী 


[ ১৫শ বর্ষ-্”১ম খ€ু.১ম সংখ্য। 


তাহীরই সহিত ইহা এক পর্য্যায়তুক্ত। রবীন্তরনাথের 
মৃত ৮19:99/০:৮ও যে অঙ্ুতব করিয়াছিলেন_- 
[00615 5 095 ঠ 006 10001005809) 
প0616 19 1106 10 076 00910098109) 
এই বিশ্বপ্রক্কৃতির প্রতি পদার্থই তাহার হৃদয়ে আননের 
জোয়ার দ্সানিয়াছিল। 
1056 0205 2:0800. 1216 17019060 200. 01950 
17617 09821005 0 ০90150 05628806 ; 
9৮ 006 16056100101 179৮ 006 10206) 
[6 962160. 2, 00111101 0195816, 


106 050006 ৮5129 90:62. ০ ৮0610 092 
10 05000 60610169252, 

21001 10956 21010 ৫০ 201 1 020, 
গু 0616 9 015259:6 (066 ! 


7৪০9 প্রকৃতির সৌন্দধ্যে এমন তন্ময় হইয়! যান 
যে দেশ, কাল পাত্রের কথা পরাস্ত বিস্বৃত হইয়! পড়েন। 
আনন্দের আতিশব্যে সমস্ত প্রাণের মধ্যে যেন এক বেদনা 
ও অবশতা অক্ুভব করেন। 
এড 0671৮ 200069১ 2100. 2, 0095 

08101010699 10810 


[এ 96096, 23 (1008517 010001901 
11020 0001010 


প্রর্তির এই সৌন্দর্য্য ও মাধুধ্য যে কত গভীর, তাহ! 
প্রাণে যেকি উন্মাদনা জ।গাইয়! তুলে তাহ! ধীরভাবে 
যাহারা 2:585এর পা 3০০০৫ 00০০৩ 0100 ৪, 
11566 011” পাঠ করিয়াছেন তাহার! বুঝিতে পারেন। 
90611৩5 এই ভূবনমোহিনী মায়াকেই বুঝি ১9171 
০£ 8%৪্৮্য বলিয়াছিলেন। প্ররুতির মধ্যে ইহার 
চকিত স্পর্শ তিনি লাভ করিয়াছিলেন। প্রক্কৃতির 
মধ্যে ইহার অশ্দুট চিত্র ও তিনি লিখিয়াছিলেন। রবীস্ত্র- 
নাথের মত তীহারও 
রৌদ্রমাথানো অলস বেলায় 
তরু মন্ত্রে ছায়ার খেলায় 
কি মূরতি তব নীলাকাশ শায়ী 
নয়নে ওঠেগো আভাসি! ' 
কিন্তু এই সৌন্দর্যের অনুভূতিকে অগ্তরেরমধে তিনি 


ফান্তন, ১৩২৯] 





রবীন্দ্রনাথের কাব্যে প্রকৃতির প্রভাব 


২৯ 


তি 





ধরিয়া রাঁিতে পারেন যাই। তাই সারাজীবন ইহার 
জন্য কীদিয়াই তিনি শেষ করিয়াছেন। কাঁদিয়া 
বলিতেছেন-__ 
90716 9£869৮5, 07০৮ 095৮ ০0175602,69 
৮ ৮0106 ০0 12059 211 0০৭ 099 81200 
* 01002 
01 081020 00092156200 0010) অ 00616 2৮ 
৮0০ £০০৩ ? 
115 095 0790. 0235 22 200 162০ ০৫ 
০0৬0 525 
1015 0110) 25৮ 5916 01521952০20 200 
0690186 ? 
91111৩5 প্রককতিকে ভালবাসিয়াছিলেন। প্রকৃতির 
সৌন্দর্যে এক ইন্দ্রিয়োন্মাদনাঁকারী আননদলাভ করিয়া- 
ছিলেন। তাহার কবিপ্রাণ প্রকৃতির স্পন্দন আপনার 
জীবনে অনুভব করিয়াছিল, প্রকৃতির অসীম *রহপ্তে 
বিস্মিত ও স্তব্ধ হইয়া কবি তাই বলিতেছেন-_ 
1500025 0£ 0015 90560102016 ০0110 1 
[20940 1205 ৪010) 9026, 11055 10560 
21106 5৩, 00. 0163 ০015 ; [17256 ০৮০6৫ 
707 911000%% 200 016 080100693 01 012 
50608, 
60 10 05০৮ ০০০ 89809 02 006 ৫60 
9£ ৮৮5 ৫61) 70255000165. 


আবার বলিতেছেন-_ 


11055 900%4১ ৪:00 211 155001019০1. 00৪ 
1501650৮956 7 
[1০ 1৬০৪, 0100 41005 200. 9601703, 
৮৪5 00106 910905 
10107 05 06000580500 হে 1০৫ 
00051066005 13005 1015০5. 


কিন্তু তাহার কবিতা ধীরভাবে পড়িলে মনে হয় তাহার 
মন্‌ 


৫ আছি] 9050৬ 0£ 50256 8096৫ 
0০৬ 
£109.5 0170880 80561) 2:00 ৮৪, 
19202 


176 5201099 01105 সব 23 
10002096206 106 

89 891001067 100. 000৮ 06505 2023 
80৮6 00 906, 


অর্থাৎ প্রকৃতির সৌনার্য্যাপেক্ষা যে অজ্ঞাত রহপ্ত 
ইহার মধ দিয় ক্ষণে ক্ষণে চঞ্চল দক্ষিণ বাতাসের মত 
আমাঁদের হৃদয় স্পর্শ করে তাহার জন্যই অধিকতর 
ব্যাকুল হইয়াছে। 


40500001169 
01 006 10121092100. 01 006 91169, 
01016191655, 220. 006 2201021002.105, 
420. 009 10205-501060 00810102109 


অর্থাৎ প্রান্তর এবং আকাশের, অরণ্য পর্বত *এবং 
নির্বরিণীর সংগীত ধ্বনি তিনি শুনিয়াছেন, কিন্ত 
তাহার মনকে ইহা তেমন করিয়া আকুল করিতে 
পারে নাই; ইহার মধ যে অনস্ত দিক্প্রাবী সংগীতের 
প্রতিধ্বনি জাগিয়াছে সেই দিব্য সংগীতের জন্যই তিনি 
পাগল হইয়াছেন। $1861165 তাই বলিতেছেন-_ 


[1000৮ 00: 016 10035081010] ও 01510 
এড 062৮ 20 165 ৮0255 5 2 05105 206 


58৩11০5র ন্যায় রবীন্দ্রনাথও চিরদিন ইহার জন্ত 
উতলা হইয়াছেন; বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে ক্রমেই তাহার সমস্ত 
রচনার মধ্যে এই ব্যাকুলতা অধিকতর ফুটিয়! উঠিয়াছে। কিন্ত 
অতীন্দ্রিয় দিব্য সৌন্দর্যের আকাজ্ষায় পািব সৌন্দর্যের 
প্রতি তিনি কোনদিনই বীতশ্রদ্ধ হন নাই। বরং আমার 
মনে হয় 9101105 অপেক্ষাও তিনি বাহাপ্রক্কৃতির মধো 
মজিয়! গিয়াছেন। ৬০:০০:৮৮ বলিয়াছিলেন-_- 

[06 68৮ 200. ০০: ০9210100. 9100৮ 

10 006 010. 36০12 

81009161160 20 05155019] 10116. 
অর্থৎ জগতের ক্ষুদ্র বৃহৎ প্রত্যেক পদার্থই এক 
দিব্যজ্যোতিতে বিমগ্ডিত হইয়া তাহার সম্মুখে আবিভূতি 
হইয়াছে। রবীন্্রনাথও তাহার মত বিশ্বের কোথায়ও ' 
তুচ্ছতার ও কদর্ধ্যতার চিহ্ন দেখিতে পাঁন নাই। সোণার 
ক্ষেতে বসিয়৷ ককের! পাঁকীঁধান কাটে, ছোট তরী পাপ 


২ « _. মানসী ও মন্শরবারী 


মা 


তুলিয়! গান গাহিয়া ধীরে ধীরে ভাসিয়া যায়, দূর মন্দিরের 
কাসর ঘণ্টা সন্ধ্যার স্তব্ধত। ভেদ করিয়! দিগন্তে প্রতিধ্বনি 
জাগায়, ইহাঁর সমস্তের মধ্যেই কবি তাই এক অপূর্ব 
প্রাণোন্মাদক সৌন্দরধ্য উপলব্ধি করেন; তাই তাহার 

অন্তরে সঞ্চার করি আনন্দের বেগ 

বহে যায় ভরানদী ? মধ্যাহ্নের মেঘ রর 

দবপ্রমালা গাখি দেয় দিগন্তের ভালে । 
বন্ুন্ধরাকে সন্বোধন করিয়া কবি তাই বলিতেছেন 

“হে স্ুন্নরী বন্ন্ধরে ! তোমাপানে চেয়ে 

কতবার প্রাণ মোর উঠিয়াছে গেয়ে 

প্রকাও উল্লীস ভরে ; ইচ্ছা করিয়াছে 

' সবলে অকড়ি ধরি এ বক্ষের কাছে 

সমুদ্রমেখলা পরা তব কটিদেশ। 

প্রভাত রৌদ্রের মত অনন্ত অশেষ 

ব্যাপ্ত হয়ে দিকে দিকে, অরণ্যে ভূধরে 

প্রত্যেক কম্পায়মান পল্পবের পরে 

করি নৃত্য সারাবেলা, করিয়া চুন 

প্রত্যেক কুস্থমফলি, করি, আলিঙ্গন 

সঘন কোমল শ্যাম তৃণক্ষেত্রগুলি ) 

প্রত্যেক তরঙ্গপরে সারাদিন ছুলি 

আনন্দ দৌলায় । 
সমস্ত বিশ্বপ্রকৃতির মধ্যে যেখানে যাহা কিছু আছে 
তাহার সকলের সঙ্গেই কবি আপনাকে “বসস্তের 
আনন্দের মত! ব্যাপ্ত করিয় দিতে চাহিয়াছেন; বিশ্বের 
সকল পাত্র হইতেই নব নব স্রোতে আনন্দমদিরাঁধারা 
পাঁন করিবার জন্য কবি আকুল হইয়াছেন। কৰি 
[9969এর মধ্যেও আমর! এই ব্যাকুলতা৷ দেখিতে পাই। 
রবীন্দ্রনাথের মত তিনিও বলিয়াছিলেন__ 
0 0৫ 60 5625 08৮] 0095 061116170 
[59616 10 09935 ) ৪০ ] 2095 00 07 0660৫ 
179 পয ০0 5001 1029 ৮০ 16561? 050:990. 
169] 1] 0595 006 00000650726 1566 
[0 19206 02591060656) 200 00010002115 


পু'992 00617 0016 00010695205 চ2ড৮ 05৪ 
[69002 [1] 2999, 


[ ১৫শ বর্ষ-্"১ম খণ-"১ম সংখা। 


01 87018. ৪00 010 70910 7 91661) 20 00 51993 
7560. 91002 2100153 160, ৪100. 9009510910369, 
200 00009662010 [0152,9116 
002৮ 225 200 966৪ ) 
কিনব প্রকৃতির কেবলমাত্র সৌন্দধ্যে ও মাধুধ্যেই 
রবীন্দ্রনাথের চিত্ত তন্ময় হইয়! যায় নাই, তাহার প্রাচর্যে 
ও গাস্তীর্যেও তাহার মন অভিভূত হইয়াছে। নববর্ধার 
স্নিগ্ধ শ্যামল মূর্তি তাহার কল্পনাকে কিরূপ উধাও করে 
তাহা তাহার পাঠকেরা সকলেই অবগত আছেন। ভাবে, 
সৌনর্য্যে, অলঙ্কারে ও ভাষার সমৃদ্ধিতে তাহার বর্ষার 
কবিতাগুলি কাব্য সাহিত্যে উপমাহীন। কিন্তু 'ঝঞ্চার 
মঞ্জীরতালে উন্মাদিনী কালবৈশাখীর নৃত্যও তাহার 
প্রাণে "মুনিসম উলঙ্গ নি্্ল কঠিন সন্তোষ জাগাইয়! 
দেয়া, গিরিশিরে গগনঘেরা সজল মেঘদলের মধ্যে তিনি 
তাহার ্গিগ্ধ ঘনব্রণ মনোহরণকে দেখিয়া যেমন বলিয়া 


'উঠেন_ 


" জগৎ জুড়ে দাও আমারে দেখা 

জীবন জুড়ে মিলন আজি হোক্‌ 3 
তেমনই আবার নিদীঘের শশ্তশূন্য তৃষ্ণাদীরণ মাঠে 
প্রকৃতির খুলি ধুসরিত পিঙ্গলজটাকৃত রুদ্র ভৈরব যুর্তিতেও 
ভীত নাহ্ইয়া তিনি তাহাকে শাততিমন্ত্র পাঠ করিতে 
অন্থরৌধ করেন। “নদীভরা কুলে কুলে, ক্ষেতে ভরাধান' 
দেখিয়! তাহার হৃদয় যেমন আনন্দে কাণায় কাণায় 
পূর্ণ হয় তেমমই ৎআবার সমুদের গ্গিপ্ত অটহান্ত ও 
অভ্রতেদী হিমালয়ের তপোমুর্তিও তাহার প্রাণের তম 
আঘাত করে। কিন্তু তবুও প্রকৃতির গম্ভীর সুর্তি অপেক্ষা 
তাহার শান্ত নুন্দর রূপেই যেন তাঁহার মন অধিকতর 
মজিয়াছে বলিয়া আমাদের মনে হয়। শেলির গ্রক্কৃতি 
চিত্রের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের এখানেই আমর! প্রভেদ দেখিতে 
পাই। শেলির রচনার মধ্যেও প্রকৃতির বিশীলতা 
ও গাস্তীর্য্ের দিকই অধিকতর ফুটিয়া উঠিয়াছে; 
প্রক্কতির যে সকল বস্ত অপেক্ষাকৃত চঞ্চল ও চিত্তোম্মাদক 
শেলির মন তাহাঁতেই অধিকতর মজিয়াছে। তাহার 
অশীস্ত হৃদয় সমুদ্রের বিশাল তরঙ্গ, পর্বতের অভ্রতেদে 


ফাল্কন, ১৩২৯] 


রবীন্দ্রনাথের কাব্যে প্রকৃতির প্রভাব 


২৯ 


তত পাশ ৯৩0৩৩৩৩৩৩52 তা 


শৃঙ্গ, তুষার ঝঞ্ধা ঝটিকা প্রতৃতির মধ্যেই অধিকতর আনন্দ- 
লাভ করিয়া থাকে । কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মধ্যে প্রকৃতির 
মধুর ও শাত্তমূত্তিই অধিকতর প্রধান্ লাভ করিয়াছে। 

পারিপর্থিক প্রান্তিক অবস্থার বিভিন্নতা উভয় 
কবির মধ্যে এই পার্থক্যের কারণ কিন! বলিতে পারি ন!। 

রবীন্দ্রনাথ প্রক্কৃতির এই অতলম্পর্শ সৌন্দধ্যসাগরে 
এমনই আকণ্ঠ নিমজ্জিত হইয়াছেন যে স্বর্গের অনস্ত 
সুখের অথবা মুক্তির কল্পনাও তাহাকে মুগ্ধ করিতে পারে 
নাই। স্বর্গ হইতেও বিদাক্ চাহিয়! পৃথিবীর ধুলিমাটার 
মধ্যে যে অসীম সৌন্দরধ্য তাহার জন্ত ব্যাকুল হইয়াছেন। 
বর্গে অমৃতধারা প্রবাহিত হউক ; মর্ত্যতৃমি তাহার "সুখে 
হখে অনস্তমিশ্রিত, প্রেমধারা লইয়া অশ্রজলে চিরশ্যমি 
হইয়া বিরাজ করুক ইহাই তাহার পরম বাঞ্ছিত। কবি 
বলিতেছেন__- 

জন্মেছি যে মর্ত্যলোৌকে, দ্বণা করি তারে * 
ছুটিবন৷ স্বর্গ আর মুক্তি খুঁজিবারে। 

কারণ বৈরাগা সাধনে যে মুক্তি, নিখিলের, রূপরস গন্ধ 
স্পর্শকে দ্বণীভরে অথব| মিথ্যা বলিয়া তুচ্ছ করিয়া 
পরলোকের জন্য যে সাধনা, তাহার কবিহ্ৃদয় তাহাতে 
পরিতূ্ধ হইতে পারে না । 

ঘ(০:৭৪০৮% প্রকৃতির মধ্যে নিরাবিল শাস্তি 
পাইয়াছিরেন। মানুষের কৃত্রিম সৌন্দর্য অপেক্ষা প্রকৃতির 
সৌম্য গম্ভীর স্বাভাবিক সৌন্দর্ধ্যই তাহাকে মুগ্ধ করিয়া- 
ছিল। মানুষের সংশ্রবে আসিয়া, যখন তাহার হৃদয়ে 
অশান্তি আসিয়াছে, প্রবৃত্তির উত্তেজনায় মন যখন অস্থির 
হইয়াছে তখন প্রক্কৃতির মধ্যে মনকে সমাহিত করিয়াই 
তিনি আনন ও তৃপ্তি লাভ করিয়াছেন। আবার কখন 
কখন প্রকৃতির সহিত তুলনায় মানুষের ছুঃখপীড়িত 
অবস্থার কথ! মনে করিয়া ব্যধিতও হইয়াছেন । 

310615র অশাস্ত মন প্রক্কৃতির মধ্য হইতেও শাস্তি 
পাঁয় নাই। প্রকৃতি মধ্যে যে প্রীণের প্রাচুর্য ও আনন্দের 
উচ্ছাস তাহা তাঁহার নিজের বেদনা ও অতৃপ্তিকেই 
তীব্রভাবে অন্থুভব করাইয়্াছে। কখনও কৰি 3- 


|2ঘঘকে সন্ধোধন করিয়। বলেতেছেন-__ 








1590 126 17211 006 218017698 
2৮ চা 01210109506 1000, 


কন বা পশ্চিম বাতাসকে ব্যথিতচিত্তে ব্যাকুল ভাবে 
প্নুরোধ করিতেছেন_ 

01 116 106 255 2 ৬2৮০১ 2,160, % 01000 ! 
[2911 9090 006 00010501116 ! 1101660 ! 


আঝটর কখনও কবি নিজের নিরানন্দ ও ছুঃখের সহিত 
প্রকৃতির শাস্তি ও আনন্দের তুলনা কৃরিয়া এমনকি 
ঈর্ধাস্থিত হইয়! উঠিতেছেন। ্ 
400 00 00০ 5960 19116010106 আহ) 
91660 
[০01০,8170 6051৩0. 1061 2১5 500 ৫05 516600175 
199 15010513910) 1 
রবীন্দ্রনাথ ভা০:৭৪ ঘ০:৮এএর মতই প্রকৃতির মধ্যে 
শাস্তিলাত করেন। তাহার দক্ধ্যা 'জ্যোললীরা্রে' 'জীবন 
মধীন্ক প্রভৃতি কবিতাগুলি পাঠ করিলে এই শাস্তি ও 
তৃপ্তির আভাঁস আমরাও কিছু কিছু পাইয়া থাঁকি। 
স্তব্ধ সন্ধ্যায় ছায়াচ্ছন্্র বিশ্বব্যাপিনী নীরবতার মধ্যে 
ধড়াইয়। কবি মুগ্ধ হইয়। বলেন 
ষান্ত হও, ধীরে কহ কথা, ওরে মন্‌, 
নত কর শির ) দিবা হল সমাপন 


বিষাদের মহাশাস্তি 
্লাস্ত ভবনের ভাঁলে করিছে একাস্তে 
সান্বনাপরশ। আজি এই শুভক্ষণে, 
শীস্ত মনে, সন্ধি কর অনস্তের সনে 
সন্ধ্যার আলোকে ! বিদদু দুই অশ্রজলে 
দাও উপহাঁর-__-অসীমের পদতলে 
জীবনের স্থতি ! 
বিদ্বোহের উচ্চক্, বাসনার নিষ্ষল বিলাপ ও অভিযোগ 
দূরে রিয়া অপীমের পদতলে সমস্ত জীবনকে তখন 
বিসর্জন দিবার জন কবি ব্যাকুল হইয়া পড়েন। , 
জ্যোৎঙীরাত্রে প্রন্কতির এই শীস্তসৌম্যমুস্তিই কবির 
মনকে অভিভূত করে। 


১ ৬ হে প্রেয়সী, হে শ্রেযসী, হে বীণাবাদিনী 
আজি মোর চিত্তপন্মে বসি একাকিনী 
ঢালিতেছ স্বর্স্থধা | 
শ্যামল! বিপুলা এ ধরণীপানে”, মুগ্ধনয়নে চাহিয়া চাহির্ঝ 
এক অব্যক্ত আনন্দের যে আবেগে অখিজলে তাহার 
বুক ভাসিয়! যায়; লাভ ক্ষতির হিসাব, পাওয়। না পাওয়ার 
বেদনা মুহূর্তের মধ্যে কোথায় অনৃশা হয়) সন্ধ্যাকিরণের 
সুবর্ণমদির! পান করিয়া “লাবণ্য প্রবাঁহভরে অন্তরের 
শিরা উপশিরা” পূর্ণ হইয়া উঠে। মুহূর্তের মধ্যে তখন 
“ভুলে থাই সব 
কি আশা মেটেনি প্রাণে, কি সঙ্গীতরব 
গিয়েছে দীরব হয়ে, কি আনন সুধা 
' অধরের প্রান্তে এসে, অন্তরের ক্ষুধা 
না মিটায়ে গিয়াছে শুকায়ে ।” 
প্রক্কতির রুদ্রমস্তি দেখিয়! দুর্বল মানুষের নিরাশ্রিয় 
অবস্থার কথাঁও মাঝে মাঝে তাহার মনে হয় সত্য) 
কিন্তু ০:৫৬০:৮৫এর মত মাস্থুষের সামাজিক 
অসম্পুর্ণতা 'ও অত্যাচারের কথা, “1700 1000 0795 
10006 0৫119, তাঁহার মনে আসেনা । কৰি 
্রন্কৃতির মধ্যে যখন নিমজ্জিত হইয়া যান, তখন মুহূর্তের 
মধ্যে তীহার মনে হম্ব যেন 
সমাজ সংসার মিছে সব 
মিছে এ জীবনের কলরব। 
97০]ত্যর মত এত ছুঃখ ও অতৃপ্তির গাঁন রবীন্দ্রনাথ 
গাহেন নাই। প্রকৃতি মুহূর্তে মুহূর্তে তীহার কবিপ্রাণে 
যে সকল সুঙ্মতম, অতীন্দ্রিয় অশরীরী ভাব জাগাঁইয়াছে, 
তাহাকেই তিনি পরিস্ষট করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। 
আপনার ব্যক্কিগত জীবনের অশান্তি ও অতৃপ্তির 
রঙে সমস্ত প্রক্কৃতিকে রঞ্জিত করিয়। তিনি দেখেন নাই। 
প্রকৃতি 91016 মত তাহার মনে বিষাদ জাগায় না। 
জাগাইলেও তাহা ক্ষণিকের জন্য । সাধারণতঃ প্রাকৃতিক 
্রাচূর্যোই তাহার হায় তৃথ্তিতে পরিপূর্ণ হইয়া উঠে। 


মানসী ও মন্্মবানী, 


ঢু ০৩৩৩৩ ৩৩ত৩৩ 


| ১৫শ বর্--,ম খ€-১ম সংখ্যা 


৩৩৩১৩৩১৩৩০৩ সিসি সিসি সপিসপিসপিসপিস্পিসপিসপিসপাসিপাপাি 


অশান্তি ও অতৃপ্তির কথ! প্রাক্কৃতিক দৃশ্যে যখন তাহার 
মনে হয়, তখনও তাহী তাহার ব্যক্তিগত জীবনকে 
অতিক্রম করিয়া বিশ্বমানবের অন্তরের কথাই হইয়া উঠে। 
851০এর মত নিরবচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত জীবনের সুখহ্খের 
চিত্র আমরা রবীন্দ্রনাথের মধ্যে বড় বেশী দেখিতে পাই 
না। বর্ষার নির্জন নিশীয়, অবিশ্রাম ধারাপাত ; বাঁতাঁসের 
হহুশ্বীম ও বিদ্যুতের মুহূমু্থ কটাক্ষপাতের মধ্যে 
মেঘদূত পড়িতে পড়িতে সমস্ত বিশ্বমানবের বিরহহ্যবেই 
তাহার প্রাণ ভরিয়া যায়। * 
ভাবিতেছি অর্ধরাত্রে অনিদ্র নয়ানে, 
কে দিয়াছে হেন শাপ, কেন ব্যবধান? 
কেন উর্ধে চেয়ে কাঁদে রুদ্ধ মনোরথ? 
কেন প্রেম আপনার নাহি পাঁয় পথ? 
ভরা বাদরে সিক্ত শ্যামল সৌন্দর্য্য শূন্য মন্দিরে যখন 
কবির গনে হয় 
এমন দিনে তারে বলা যায় 
এমন ঘনঘোর বরষায় ! 
এমন মেঘস্বরে--বাদল ঝরঝরে 
তপনহীন ঘন তমসায়! 
তখন কবির প্রীণের সে আকাঙ্কার মধ্য দিয়! বিশ্বের 
বিরহীজনের সকলেরই আকাঙ্া ব্যক্ত হইয়া থাকে। 
কোকিলের কুছুম্বরে যুগযুগান্তরের সমস্ত মানুষের সখ- 
ছুঃখ উৎসবের স্থৃতিই তাহার মনে জাগিয়া উঠে। এই 
চিরন্তনত্ব ও সার্কজনীনতাই রবীন্দ্রনাথের প্রকতিবিষয়ক 
কবিতার বিশেষত্ব । আপনার অনুভূতির মধ্য দিয়া তিনি 
সমস্ত মানুষের মনে প্রকৃতি নিশিদিন যে সুখহঃখের 
বঙ্কার তুলিতেছে তাঁহাকে ব্যক্ত করিয়াছেন। তাই 
এই মকল কবিতা পাঠ করিতে করিতে ইহার মধ্যে 
আপনাদের অন্তরের চিত্র দেখিয়া! আমাদের হৃদয় অপূর্ব 
ভাবরসে পরিপূর্ণ হইয়া উঠে। 
( আগামী সংখ্যায় সমাপ্য ) 


শ্রীমহাতোষকুমার রায় চৌধুরী । 


ফান্ধন, ১৩২৯] 


“আবার তোর! মানুষ হ” 


৭৩১ 


“আবার তোরা মানুষ হ” 


একজন কবি একটা গান লিখেচেন যার গোড়ার 
ছত্র হলে! “আবার তোর! মানুষ হ।” তার পরের ছত্র 
কিতা আমি বল্তে পারব না। কেন না গোড়ার 
ছত্র পড়লেই আমি রাগে £অন্ধকাঁর দেখি। “আবার 
তোরা মানুষ হ”-_কি আশ্চর্ধ্য ! যেন আমরা সব মামুষ 
নই, গরু! অথচ এ কবিই আর একটা গানে লিখেছেন 
"মানুষ আমরা নহি ত মেষ।” কী আত্মবিরোধ ! 

“আবার তোরা মানুষ হ!” একে একে দেখা যাক্‌। 
“আবার কথা দিয়ে বোঝানো হচ্চে আমর! আগে মানুষ 
ছিলুম। আগে মান্য ছিলুম তার প্রমাণ ? হাল বিজ্ঞা- 
নের মতে আমরা ত আগে বনমানুষ ছিলুম। যদি বল 
বনমানুষের পরই মানুষ হয়েছিলুম তা হলে জিজ্ঞান্ত 
এখন আমরা কি? অমানুষ বল্পে চল্বে না অমানুষ ত* 
মানুষের উল্টো! । কোনো জীবের উপ্টো৷ জীব পৃথিবীতে 
এপর্যান্ত হয়নি । মানুষ পা দিয়ে হাঁটে আমরা মাথা 
দিয়ে হাটি না-_মানুষ মাথা দিয়ে ভাবে আমরা পা দিয়ে 
ভাবি না। তবে কি আমরা পণ্ড? কোন্পণ্ড? গরু 
নই, গাধা নই, উট নই। গরু হলে গরু আমাদের গুঁতোতে 
আসতো না, গাধা হলে গাধা আমাদের মোট বইতো৷ না 
আর উট হলে আমরা আকাশের দিকেই চেয়ে চলতুম, 
পায়ের দিকে চাইতুম না। যদি বল সব্জুলে গরু নই, সকলে 
গাঁধা নই, সকলে উট নই কিন্তু কেউবা গরু, কেউবা 
গাধা, কেউবা উট-_অর্থাৎ আমাদের সমাজ একটা পুরো 
দস্তর চিড়িয়াখীনা__-তা হলেও সমশ্তার কথা। শুনেছি 
বটে কুড়ি বছর ধরে মাষ্টারী করলে মানুষ গরু হয়, দশ 
বছর ধরে পদ ভাজলে গাধা হয় এবং পাঁচবছর ধরে দর্শন 
পড়লে উট হয়। কিন্ত আমরা যখন মানুষই নই তখন 
আমরা ও আশঙ্কার বাইরে। আমরা মানুষও নই, অমা- 
হুষও নই, পণ্ড নই। কোন্‌ পণ্ড হলপ করে মিথ্যা কথা 
বলে? কোন্‌ পশ্ড কাপড় পরে আগুন নিয়ে খেলা করে? 


ও আমরা চেহারাতেও পণ্ড নই, বুদ্ধিতেও নই--আমর! 
পণ্ড চরিত্রে! আমাদের চরিত্র আর পশুয় চরিত্র এক? 
কাক চরিত্র আমরাই লিখেছি; নারীর চরিত্র আমাদের 
দেবতাঁরাও জানেন না। আসল কথা পশুদের চরিত্র 
আছেও বটে, নেইও বটে।' হম্ুমান চরিত্র পড় ক বলতে 
পারেন কোন্‌ হনুমানটা সাধু, কোন হহ্মানটা অসাধু, 
কোন্টী পাগী, কোন্টাপুণ্যাত্বা, কোনটা ধার্মিক কোনটা 
পাষণ্ড? 

তাহলে সাব্যন্ত হল, আমরা আগে মানুষ ছিলুম, 
কিন্তু এখনকি তা বল্‌তে পারি না-_-এখন যাহোক 
একটা কিছু। সত্যিই কি আমর! আগে মানুষ ছিলুম? 
যে এবার মানুষ হয়, সেকি তার পর যাহোক একট! 
কিছু হতে পারে? যেমান্থুষ তার মানুষত্বকে ধোয়াতে 
পারে, বুঝতে হবে সে মানুষই হয়নি। আমর! কি নদীর 
জৌয়ার ভাটা যে একবার মানুষ হয়ে ফেঁপে উঠচি, 
একবার যা হোক একটা কিছু হয়ে চুপসে যাচ্ছি? 

এইবার “তোরা?কে ধরা যাঁক। তোরা কারা? 
এমন অশিষ্ট সম্বোধনে কাদের সমুদ্ধ করা হয়েচে? 
আমাদেরই--যদিও কবিও আমাদেরই একজন। আমরা 
মান্গুষ হব এ কথার মানে? যদি আমরা, মানে হয় যাঁরা 
বেঁচে আছি তারাই, তাহলে আমরা যা আছি তাই 
আছি। আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনে আমরা কবেই বা 
মান্ত্বের মটকায় উঠলুম, কবেই তা থেকে ধপাস করে 
পড়ে গেলুম, আর কবেই বাঁ ফের বুকে হেঁচড়ে সেই 
মটকাঁয় ঠেলে উঠবে৷? যদি 'আমরা” মানে হয় আমাদের 
জাত, তা হলে বুঝতে হবে আমাদের কোন একদল পূর্বব- 
পুরুষ মানুষ ছিল, তার পর কোন একদল পিছঘে পড়ে 
গিয়ে যাহোক একট! কিছু হল,' তার পর যে হেতু 
আমর! সেই পিছলে গড়া! পূর্বপুরুষদের দলেই পড়ে আছি, * 
সুতরাং আমাদের গা ঝাড়। দিয়ে ঠেলে উঠতে হবে সেই 


৩২ 


১টি 


মানসী ও মর্মবান 


[ ১৫শ বধ---১ম খ€্ড--১ম সংখ্যা 





মাধ পূর্বপুরুষদের দলে। খুব ভাল প্রস্তাব। কিন্ত 


আমাঁদের মানুষ হয়ে লাভ ? আমরা এত কষ্টে এত 
বিগ্ভার তেল পুড়িয়ে, এত প্রেমের সল্তে উস্কে যে মান্গ- 
বত্বের আলো 'আাললুম, আমাদের পরপুরুষেরা যদি তা 
এক ফু'য়ে নিবিয়ে দেয়? যদি সে আলোর স্থতিটুকুও 
কাব্য দর্শন শিল্প বিজ্ঞানের বুক থেকে ঘষে তুলে ফেলে? 
তখন কি আবার গাইতে হবে “আবার তোরা মানুষ হ? 
তাহলে “তোরা+টাকে এত তাড়াতাড়ি প্রয়োগ করবার 
দরকার কি? শেষ পুরুষদের জন্য মুলতুবী রাখলেই ত 
ভাল হয়। * 

এইবার 'মাহুয*। ধরলুমআমরা মানুষ নই, কিন্তু মানুষ 
জিনিষটা কি তা না বুঝলে মানুষ হব কি করে? কেউ ত 
বলেন আমরা জন্ম ইলেই মানুষ, কেননা মানুষের ছেলে । 
আমরা পক্ষহীন দ্বিপদও বটে, হাশ্ত-রন্ধন-কারী জীব বটে । 
আবার কারো মতে আমরা মোটেই মানুষ হয়ে জন্মাই 
না-_আমাদের খাইয়ে পরিয়ে মাস্থষ করতে হয়। কিন্ত 
থেয়ে পরে মানুষ হলেও অনেকে আপশোষ করে 
বলেন- “মানুষ হলোনা না শিখলে ছকলম লিখতে, না 
শিখলে ছু'টাকা আন্তে |” যদি লিখতেও শিখ লুম, 
টাকা আনতেও লিখলুম তাঁহলেও হয়ত একজন জটা- 
জুটধারী এসে শি বাজিয়ে শোনাবেন_-“সকলেই মানুষ 
হল তোর! হলিন1) তোর! যে তিমিরে সে তিমিরে।” 
তার পর সে মানুষও যদি হয়ে উঠলুম, তখনও রক্ষা 
নেই। হয়ত একজন দিগন্বর এসে মিষ্টি হেসে বল্লেন 
“মানুষ হতে চাস্‌ তো লোটাকম্ল নে।” ব্যস সারাটা 
জীবন ধরে মানুষ হতেই চন্লুম, কিন্তু মাস্্য হওয়া আর 
হল না। এ যেন ঠিক সেই কথা-_“আকাঁশ কতদূর ?* না 
“&ঁ গাছের মাথা যেখানে ।” গাছের মাথায় চড়লুম_ না, 
এঁ মেঘের যেখানে উড়চে। এয়ারোপ্লেনে চড়লুম-_নাঁ, এ 
টাদ (যেখানে ঝুলচে। যদি কামান দেগে কেউ 


আমাদের চন্ত্রলোকে ছুড়ে ফেলে দেয়, তাহলে হয়ত 
চাল্দ্র-জীবের মুখে শুনবো“ সুধা যেখানে জল্চে» কি 
“8 তারারা যেখানে ম্টমিউ করচে।” যতই উপরেই 
ওঠ-_ আকাশ যে দুরে সেই দুরে। মাস্থুয হ*! মান্থুষ কি 
কেউ কখনো! হয়েচে না হতে পারবে ? মহাত্মাকে জিজ্ঞাস] 
কর, তিনি বলবেন, "মানু হইনি পরমহংসকে জিজ্ঞাসা 
কর, তিনিও বল্বেন তাই। মানুষের যে ছবি বাজারে 
চল্চে সে হল মনগড়া ছবি, ফটো নয়। কি দেখে মানুষ 
হব? ্ 

আচ্ছা, ধরলুম আমরা মানুষ হ'তে পারি। “হ, 
বলবার মানে? ইচ্ছ! করলেই হওয়া যায়? হবার শক্তি 
আছে কি না তা না ভেবে চিন্তে একসাপট্টা খামখেয়!লী 
হুকুম “মানুষ হ* ? ছেলেটা একদম খাজা, যা পড়ে তাই 
ভুলে যায়, বাঁপ হুকৃম করলেন পরীক্ষায় ফার্ট হা» 
হোক দেখি সে কেমন করে ফার্ট হতে পারে? প্রশ্নপত্র 


“চুরি করলেও ত পারবে না। লাভে হতে রাত জেগে 


জেগে পড়ে হয়ত 'লাষ্ট, হবার শক্তিটুকুও খোয়াবে__অর্থাৎ 
ইহসংসার থেকেই বিদায় নেবে। যদি বল, "মানুষ হ৮ 
মানে “যতটা মানুষ হতে পারিস্, ততটা! হ*-_তাহলে বলি 
“ছকুম করচো কেন?” যদি বা হতে পারতুম তোমার 
শুনে যে ভড়কে যেতে হয়।” ছেলে আপনা হতে গাছে 
উঠচে--বাঁপ এসে বল্লেন ওঠ । অম্নি পা থর থর করে 
কাপতে লাগলো) আবার একবার “৪১১--ব্যদ্‌ সশক্ে 
চিৎপাত। যদি বল, ওটা অনজ্ঞ। নয়, অনুরোধ_-তাহলেও 
বিশেষ কিছু আসে যায় না! আমার বেশ বিশ্বাস, যদি 
কেউ আমাকে অনুরোধ করতো৷ “মানুষ হওয়া সম্বন্ধে 
প্রবন্ধ লেখ»_-তাহলে আমি এতটা দূরে থাক্‌, এর এত- 
টুকৃও লিখতে পারতুম না। সুতরাং দাড়াল এই যে, 
কথাটারও কোনে! মানে নেই। 

শ্রীসতীশচন্দ্র ঘটক । 


ফাল্গুন, ১৩২৯ ] 


পরিচিত 


১৩৩, 





পরিচিত 


(গল) 


রাঁুঘোষের লেনে একখানি দৌতালা বাড়ীর বাহিরের 
ঝুলানো বারান্দায় বসিয়৷ একটী আঠার উনিশ বছরের 
মেরে সন্তুথে রাস্তার অপর পারে খোলাঘরের বস্তির 
দিকে নিবিষ্ট চিত্তে চাহিয়া ছিল। কৃষ্ণপক্ষের জমাট- 
অন্ধকার ও রাত্রির গভীন্র্তীয় সে গলিপথ জনশৃন্ত, 
খোলাঘরগুলি নীরবতায় সমাচ্ছন্ন। দুরের গ্যাসালোক 
ঘন অন্ধকারজাল ছিন্ন করিতে বৃথ! প্রয়াস পাইতেছিল। 

পকাদি ও কাদি, তৃতের মত আধারে বসে থাকতে 
কি তোর এত ভাল লাগে বাছ?” 

কাদি ওরফে কাদম্িনী ফিরিয়! দেখিল, বামুন দিদি। 
মনে মনে বলিল_ণ্যার সমশ্ জীবনটাই এ& 
আঁধারের মত কালো, তার আধার ভাল লাগবে লা”* 
তকি?” - 
বাুন দিদি বলিল, “বলি কথা কচ্ছিন না যে! 
কাল কর্তা-গিমীর সঙ্গে তাদের দেশে যাওয়াই ঠিক করলি 
নাকি ?” 

কাঁদদ্বিনী এবারেও কথ! কহিল না, থোলাঘর গুলির 
দিকেই দৃষ্টি স্থির করিয়া রহিল। 

এই ছুই তিন বৎসর সে এই খোলাঘরের অধিবাসী- 
দের দেখিয়া! আসিতেছে; উহাদের দৈনদ্দিন কাষকর্ম্ 
চুইতে সাংসারিক সর্ববিধ খুঁটিনাটি দেখিতে দেখিতে 
সেএকরপ অভ্যন্ত হইয়! গিয়াছে ; যাহার যেমন সঙ্গতি 
সে তাহাতেই সন্তষ্ট হইয়! চলাফেরা করিতেছে__ 
এই লোকগুলির ক্ষুত্র সংসারের বাহুল্যবঞ্জিত ভাবগুলি 
চাহার হৃদয়ে এক গ্রীতির উৎস ঢালিয়৷ দিয়াছিল। 

প্রতিদিন দেখিতে দেখিতে এবং এই দীর্ঘকাল একব্র 
কিয় ইহাদের উপর তাহার কেমন একটা মমতাও 
ম্িরাছিল, তাই ইহাদের এই বিচ্ছেদ তার হৃদয়ে এমন 
বে আঘাত করিয়া মনকে এত আকুল করিয়া তুলিয়াছে। 


অবশ্ত আগে অনেকবার তার মনে হইয়াছে “কবে 
€ 


এ আপদগুলে! উঠে যাবে, এদের কোন্দল থেকে পাড়াট! 
উদ্ধার পাবে !* কিন্তু আজ আবার সেই ইহাদের জন্কই 
তার প্রাণ থাকিয়া থাকিয়া! রুদ্ধ বেদনায় ভরিয়া 
উঠিতেছে। 


৫ 


সন্ধা! হইবামান্র প্রতি কুটার হইতে একে একে 
জোনাকির মত যে ঙ্গীণ আলোকগুলি জুলিয়া! উঠিত, 
আজ সেগুলিও নির্বাপিত। কেবল ত্রঁবৃদ্ধার ক্ষুদ্র কুটার 
হইতে এখনও একটি আলোক রাত্রিশেষের শেষ 
নক্ষত্রটার মত মিট মিট করিয়া! জলিতেছে। পকলেই 
চলিয়! গিয়াছে, কেবল এ বৃদ্ধা তাহার ক্ষুদ্র ঘরকল্পার 
জিনিসগুলি আগলাইয়! দরজার কাছে বসিয়া বিমাইতেছে, 
বোধ হয় জিনিষগুলি বহি! নিবার লোক সে এখনও 
পায় নাই। আজ যে যাঁসের শেষ তারিখ; যাইতেই 
হইবে সে যেমন করিক্লাই হউক--সহরের উল্লতিকল্পে 
ইহাদের যে এই নির্বাসনদণ্ড। ঠ 

এমনই ঘন সন্নিবেশিত কতকগুলি ক্ষুদ্র কুটারের 
মধ্যে তারও অতি প্রিয় অতিপরিচিত একখানি কুটার 
ছিল। তার মধ্যে সে তার দিদিমার ন্নেহনীড়ে একদিন 
বাড়িয়া উঠিয়াছিল। তার পর এ বৃদ্ধার মত তার দিদিমাও 
এক জনের আশা-পথ চাহিয়। এমনই করিয়া দরঞ্গার 
কাছে বসিয়া বসিয়া ঝিমাইত। 

বড় আশা করিয়! তাহার দিদিম! একটি পিতৃমাতৃহীন 
অনাথ বালকের হাতে তার স্থখ হঃখের ভার অর্পণ 
করিয়! তাঁহাকে ঘরজাধাই রাখিয়াছিল। ভবিশ্যাতের 
আশা আকাঙ্ষার বীজ শ্বরূপ মনে করিগ্াই বৃদ্ধ! তাহাকে 
আপন গৃহে স্থান দিল্লাছিল। কিন্তু যৌবনে সে উচ্ছখল 
প্রক্কৃতির হইয়া উঠিয়া, বৃদ্ধার সকল আশার কুহেলিকা 
ছিন্ করিয়া একদিন কোখায় পলাইয়৷ গেল। * 






৩8 


৩ াপািসপিপিস্পা 
৯ 





সেখান হইতে বিতাড়িত হইল। 

বাল্য, কৈশোর ও যৌবনের স্ুখছ্ঃখময় স্থৃতি 
বিজড়িত সেই ন্গেহ নীড়টুকু ত্যাগ করিবার ইচ্ছ। কৌন 
দিনই তার ছিল না। তার মনে মনে আশ! ছিল 
বানী একদিন নাঁ একদিন :অবন্তই সেখানে ফিরিয়া 
আসিবেন। কিন্ত আসিলেন কৈ? 

তার এই অসহাঁয় অবস্থা! দেখিয়া! পাড়ার কতকগুলা 
ছুষ্টলোৌক মিলিয়। তাহাকে এমনই উত্যক্ত করিয়! 
তুলিল যে গ্রামে টিকিয়া৷ থাকা তাহার মত অরব্রসকা 
মুবতীর পক্ষে অসাধ্য । তার রূপের খ্যাতি ছিল, লোকে 
বলিত নীচ কৈবর্তের ঘরে সেই রূপরাশি ঠিক যেন 
গোবরে পদ্মফুল। | 

এই সময় এই বামুন দিদি কলিকাতায় আসিবেন 
জানিয়। সে তার শরণাপন্ন হইল ) এক পাড়াতেই ইহাদের 
ৰাড়ী। 

কিন্ত কলিকাতায় পৌছিবার কিছুদিন পরে কাদস্বিনী 
তাহার ভ্রম বুঝিতে পারিল। বামুন দিদির মিষ্ট কথার 
অন্তরালে তার প্রচ্ছন্ন পাপ অভিসন্ধির কথ! বুঝিতে 
পারিয়। সে অত্যন্ত নিরুপায় হইয়া পড়িল। এ কলিকাতা 
সহর! কোথায়' কার কাছে সে যাইবে, কে তাহার 
দুরবস্থা বুঝিবে ও আশ্রয় দিয়! রক্ষা করিবে? 

এই সঙ্কট সময়ে ভগবান তাহাকে রক্ষা করিলেন। 
কি একট। কর্ম উপলক্ষ্যে অরুণ বাবুর বাড়ী ঝিয়নের 
দরকার হওয়ায় এই বামুন দিদিই তাহাকে দিন কয়েকের 
ঠিকা বলিয়। সেখানে দিয়া আসিল। কর্মান্তে তার 
প্রাপ্যগণ্া মিটাইয় দিয়া অরুণ বাবুর স্ত্রী তাহাকে বিদায় 
দিতে চাহিলে সে তাঁহার প। ছুটী জড়াইয়! ধরিয়া আপনার 
অসহায় অবস্থার কথ! জানাইয়া আশ্রয় ভিক্ষা করিল। 
তিনি, তাহার চন্িত্রের নির্মলতা বুঝিতে পারিয়| 
তাহাকে নিজ গ্ৃহে স্থান দিয়া কন্তার ন্েহে প্রতিপালন 
করিতে লাগিলেন। 

গায়ে ঠেলা দিয়া বামুন দিদি বলিল, "কিলে! কথা 
কইবি না পিতিজ্ঞে কারছিস নাকি? দেখ. আমার 


মানসী ও মর্্মবানী 


স্পসপি পাসিসি আপিন াশিসাশা পা্পিস্িস্পিিিপাপস্পিস্পিস্পিস্পি ক্লে 
সপ পিসি ৯ আপা আাশিপাসিসপাপিস্পির্িপিস্পিস্পা পাস্পিস্পিন্পিসপিন্পি পিস্পিসপিস্পসপাস্পা পাশিসপস্পি সি পা পি পস্পিসিশা শম্পাশি পা 


*তার পর দিদিমার মৃত্যু হইল। সঙ্গে সঙ্গে সেও 


| ১৫শ বধস”১ম খ€ড--১ম সংখ্য। 


কথা শোন, কোন সে পাড়াগ। বন বাদাড়ের দেশ, 
সেখানে যাসনি, বুঝলি? এখানে কাযের ভাবনা কি?” 

বিরক্তিভরে কাদস্িনী বলিয়া উঠিল, "কেন এক কথা 
নিয়ে বারবার বিরক্ত কর বামুন দিদি? আমার ভাল 
মন্দ সে আমি বুঝবো। যাই না যাই তাতে তোমার 
এত মাথা বাথ কেন? ফের আলাতন করবে ত মাকে 
বলে দেব।” 

বামুনদিদি গর্জিয়া উঠিল। গ্লেষ মিশরিত্ব স্বরে বলিল, 
«ওঃ বড় মা পেয়েছিস লা,'এতদিন এ মা কোথা ছিল? 
কলকাতার পথ তোকে কে দেখালে? কোন পাঁদাড়ে 
পড়ে মরতিস যদি আমি সঙ্গে করে না আনতুম 

“ও মাগো-ওট। ভূত নাকি?” ভঙ়ে বামুনদিদি 
কাদস্বিনীকে অকড়াইয়া ধরিল। কাদগ্থিনী দেখিল একটি 
লোক অতি সন্তর্পণে বৃদ্ধার ঘরে ঢ কিয় মুহূর্ত মাত্র এদিক 
চাহিয়া প্রদীপটি নিবাইয়! দিল। ক্ষণ পরেই বৃদ্ধার ঘর 


' হইতে একট৷ গোঁঙানির শব্দ আসিল। 


ক হু রঙ 


“বলি আজ তোর কি হয়েছে? এখনও বসে থাকবি 
নাকি? কত লোক জড় হয়েছে দেখছিস ? পাহারাওল! 
এল বলে; সাক্ষী দিতে হবে ওর! যদি দেখতে পায় !” 

কাদস্বিনীর উঠিবার লক্ষণ না দেখিয়।৷ অগত্য। 
বামুনদিদি উঠিয়া! গে | 

কাদস্বিনী স্তত্ব। মুহূর্ত পূর্বে নিমেষ মাত্র এ ক্ষীণ 
আলোকে আজ সেযাহাক্ষে দেখিল, সেই কি তাহার 
স্বামী 1 তাহাই। 

কিস্ত একি মুর্তিতে আজ এতদিন পরে দেখ! দিলে 
স্বামী-চোখের সম্ুথে তোমার এ নরঘাতী মূর্তি কেন 
দেখাইলে প্রভু ! 

কতকগুলি লঠনের আলোক ও অনেকগুলি লোকের 
কোলাহলে যখন তার চেতনা ফিরিয়া! আসিল, তখন সে 
বৃদ্ধার দিকে চাহিয়া বুঝিতে পারিল বৃদ্ধাকে সে খুন করে 
করে নাই, তার হাত পা বীধিয়! মুখে কাপড় গুজিয়া 
দিয় তাহার দ্রব্জাত অপহরণ করিয়াছে মাত্র। 


ফান্তন, ১৩২৯] 


পরিচিত ৩৫ 





এখন ভালয় ভালয় রাত্রিটা কাটিলে হয়--কাল সকার 


৩ 


অরূপ বাবু দীর্ঘ কাল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে 
কর্ম করিয়া সন্প্রতি পেম্সন লইয়া জীবনের অবশিষ্ট 
ডাগ তীহার পল্লীভবনে কাটাইবার উদ্দেস্তে দেশে 
মামিন্লাছেন। কর্ম দক্ষতায় সন্থষ্ট উপরিতন কর্মর্টারী- 
নদের অনুরোধে এবং আপনার কর্মের নেশার ঝৌঁকে 
এখনও মাঝে মাঝে তাহাকে কর্মে ব্যাপৃত থাকিতে 
য়। তাহার নিজ গ্রাম মাধবীনগরের নিকটবর্তী 
চইখানি গ্রামের ভাকাইতির তদস্ত করিবার ভার এই 
[ময় তাহার উপর স্স্ত ছিল। 

গৃহিণীর পিত্রালয় নিকটেই। সংসার ও বৃদ্ধ স্বামীর 
সবার ভার কাঁদস্বিনীর উপর দিয়া তিনি দিনকয়েকের 
দন্ত সেখানে গিয়াছেন। 

এখানে আসিবার পুর্ব দিনের সেই ঘটন! হইতে 
চাদদ্ষিনীর মনের উপর একটা বিপ্লব চলিতেছে। 
মাজ এক মাসের উপর সে ভাবিতেছে “কে সে? 
[মীই তো ঠিক |» 

গভীর নিস্তব্ধ রাত্রিতে চিস্তাভাবাকুল হৃদয়ে 
নত্যকার মত আজিও সে অনেক্ষণ বিছানায় পড়িয়া 
টূফট্‌ করিতেছিল। ক্রমে একটু ঘুমের মত হ্ইয়া- 
ইল। সহসা এক অাম্ষিক চীৎকারধ্বনিতে তার 
[মভাঙ্গিয়া৷ গেল, সে শঙ্কিত চিত্তে বিছানায় উঠিয়! 
সিল। রর 

আজ কয়দিন হইতে সে গভীর রাত্রে ঘরের আশে 
[শে মানুষের পায়ের শব্ধ ও ফিম্‌ ফিস কথার আওয়াজ 
|নিয়াছে। মনে মনে হাসিয়্য বলিয়াছে, "ও বাবা, বাঘের 
রে ঘুঘুর বাপা_ চোরের বুদ্ধির বাহাহুরী তো কম নয়!” 
খন তার অন্থশোচনা উপস্থিত হইল, এত দিন অরুখ 
[বুকে এ কথা না জানান উচিত হয় নাই। আশে পাশে 
[ায়ই ডাকাইতি হইতেছে। তার উপর দীর্ঘকাল পুলিস 
[ভাগে কাধ করিয়া! যে অরুণ বাবু বহু অর্থ সংগ্রহ 
রিয়। দেশে ফিরিয়াছেন লোকের মুখে মুখে একথ! 
।মন ভাবে রাষ্ট্র হই্নাছে যে কাহারও অবিদিত নাই। 


উঠিয়াই সে সকল কথা অরুণ বাবুকে জানাইবে। 

কিন্ত ও কিসের শব আসে ? এযে গোঙাঁনির শব্খ! 
পাপের ঘর হইতে তো আসিতেছে । 

কাদস্থিনী প্রায় শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় শব্যা; ত্যাগ করিল। 
দরজা! খুলিতে গ্রিঝ! দেখিল, দরজা বাহির হইতে বন্ধ। 
পাশের ঘরই অরুণ বাবুর শয়ন কক্ষ । সে ছুই ঘরের 
মাঝের দরজা টানিল--বিপরীত দিক হইতে-তাহাও 
অর্গলবন্ধ। তার বেশ মনে আছে, নিত্যকার মত 
আজও সেই ছুই দরজার মাঝখানে ল$ন বাখিয়াই 
শয়ন করিয়াছিল। দাসী গোপালের মা যে তার ঘরের 
মেঝেতেই ঘুমাইয়। আছে তাহাও তাহার মনে হইল ন|। 
মাঝের দরবার ফাটল দিয়া অরুণবাবুর ঘরের আলোকরশ্মি 
প্রবেশ করিতেছিল, সে সেই ফাটলে চোখ দিয়া যাহা 
যাহা দেঁথিল, তাহাতে তাহার বুকের ব্রক্ত হিম হইয়! 


*গেল। দীড়াইয়া কাপিতে লাগিল। 


সে ঘরে তখন এক লোমহর্ষণ ব্যাপার সংঘটিত 
হইতেছিল। ঘরের মেঝেয় অরুপবাবুকে ফেলিয়৷ একজন 
লোক তাহার বুকের উপর বসিয়া গল] টিপিয়া 
ধরিয়াছে এবং অপর তিন চারিজন লোক অরুণ বাবুর 
লোহার সিদ্ধক হইতে টাকার জেঁড়াগুলি বাহির 
করিতেছে । যে গলা (িপিয়! ধরিয়াছিল সে এইবার 
বলিয়া উঠিল, “এই চটপট নে তোরা, এদিকে কাঁধ. 
সাবাড় ! 

কণ্স্বরে চমকিত হইয়! কাঁদদ্থিনী দস্থ্যর মুখের দিকে 
চাহিল--_সুখাবয়ব বিকৃত করিবার চেষ্টা সন্বেও সে মুখ 
কাদস্বিনীর চিরপরিচিত। 

অরুণবাবুর মৃত দেহ খাটের উপর তুলিয়া রাখি 
দস্থ্যুদল অস্তহিত হয় দেখিয়! কাদস্বিনী চীৎকার করিতে 
গেল। কিন্তু ক ও জিহ্বা আড়ষ্ট। তখন সে ক্ষিপ্ের 
মত দরজায় ক্রমাগত পদাঘাত করিতে লাগিল। জীর্ণ 
দরজ। অর্গলচ্যুত হইল। সে সেই হত্যাকারীর পদতলে 
লুটাইয়া পড়িয়া বলিয়া উঠিল, "কোথ! যাও, আছি 
তোমার চিনেছি |” 





কারীই এক|। হঠাৎ সঙ্গুথে এই বাধায় সে ফেমন 
বিচলিত হইয়! উঠিল। বুঝিল, তাহাদের কার্যকলাপ 
এ সবই দেখিয্বাছে। ইহীকে--না না ইহার অঙ্গে অর্থ 
ঘাত! তা সে কিছুতেই পারিবে না? কিন্তু এ যে এখনই 
একটা অনর্থ করিয়া বসিবে ! সে তাড়াতাড়ি কাদস্বিনীর 
মুখের মধ্যে খানিকটা! কাপড় গু'ঝিয়া দিয়া তাহার গরিধেয 
বন্বে !তাহাকে থাটের সঙ্গে বীধিয়! রাখিয়া! পলায়ন 
করিল। 


মোকদামা সেসনে গেল; আগ্জ শেষ বিচারের দিন। 
বিচার গৃহ জনতা ভরিয়া উঠিরাছে ; উকিল ব্যারিষ্টার 
প্রভৃতি ছাড়া দর্শকের সংখ্যাই অধিক। সকলেই 
উৎনুক--স্বামীর বিপক্ষে স্ত্রী সাক্ষী দিবে--তাতে আবার 
খুনের 'মামলা। 

সাক্ষীর তলব পড়িল; মলিন বস্ত্র পরিহিতা দীন! 
কাদদ্বিনী আসিয়া সাক্ষীর মঞ্চে দাড়াইল। উৎস্থক দর্শক 
মণ্ডলীর মৃছ গুঞনে বিঢার গৃছ ভরিয়া উঠিল। 

সঙ্কুথে কাঠগড়ার শৃঙ্খলাবন্ধা আসামী বিনোদ 
বড়াই! রহিয়াছে। মুহুর্তে উতরের দৃষ্টিবিনিময় হইয়া 
গেল। বাহার দর্শন আশায় কাদস্বিনী কত দেবমন্দিরে 
অনাহারে হত্যা দিয়াছে, যাহার আলিবার আশে দিদিমার 
ঘরে বসিয়া কত রাত্রি সে বিনিদ্র নয়নে অতিবাহিত 
করিয়াছে, একবার মাত্র চোখে দেখিবার জন্ত এই 
দীর্ঘ পাঁচটা বসর কাটাইয়াছে, সেই স্বামী খুনী 
সামী রূপে তাহারই সন্ুথে আজ দীড়াইয়া। আর, 
তাহার বিরুদ্ধে সাক্ষী সে নিজে! স্বামীর করুণ নয়ন 
ছটা আজ তার প্রতিই স্থির; আজ সে তার হয়ার 


[ ১৫শ বর্ব--১ম খ€--১ম সংখয। 


িসপিসপিশীপাশিপাপিশিশাশিপশি শিপ লাস উই 


“. ভিথারী_ সকরুণ দৃষ্টি বেন বলিতেছে__*ওগো 


এঅভাগার জীবনমর়ণ আজ তোমারই হাতে ।” 

কাদঘ্িনীর নিশ্চল দেহ কীপিক়া উঠিল। সে কর- 
যোড়ে উদ্ধে চাহিয়া! মনে মনে বলিল, “বিচলিত হইলে 
চলিবে না, মনে বল দাও প্রভু, সত্যের আদন যে অনেক 
উদ্দে!* 

তার অবগুঠন উন্মোচিত মুখে এক স্বর্গীয় দীপ্তি 
ফুটিয়া উঠিল। বিশ্ময়বিমুগ্ধ জনমণ্ডলী অবাক হইয়া 
সেই স্থির মূর্তির প্রতি চাহিল| রছিল। 

সেই আবরণহীন মুখের প্রতি দৃষ্টি পড়ায় বিচারকের 
সাদা সুখও অকল্মাৎ রাও! হইয়! উঠিল, তিনিও ক্ষণ- 
কালের জন্ত সুগ্ধের মত চাহিয়া রহিলেন। 

এই কঠিন সমস্তাস্থলেও কাদহ্বিনীও সত্যের অপলাপ 
করিল না। 

আজ বিনোদের ফঁশি। জেলের প্রহরী ও রাজকর্ম্- 
চারীবৃন্দ সকলেই উপস্থিত। কতলোক ফাঁসি দেখিতে 
আসিয়াছে। এক পাশে ীড়াইয়া আছে একটি অবগুঠন- 
বততী রমণী। রঙ্ছু ও সুখোস পরিহিত বিনোদলাল 
ফশীমঞ্চে দণ্ডার়ম ন। পারের নীচের টুল খানি এখনই 
সরিয়া। যাইবে-_সঙ্গে সঙ্গে হতভাগ্য ছুবৃর্তের জীবনের 
সমাপ্ডি। 

আর মুহূর্তমাত্র । টুল নড়িয়া উঠিয়াছে, দর্শক মণ্ডলী 
কম্পিতবক্ষে সেই দিকে দৃষ্টি স্থির করিয়াছে। 

কিন্ত এ কি! আলুলায়িত কুত্তল! সখলিত বসন! 
কে এ পাঁগলিনী নারী ছুটিয়া আসিঃ! মৃত্যুপথযাত্রীর 
দোছল্যমান পদযুগ্রল বক্ষে চাপিরা| ধ'রল। পরক্ষণেই সে 
মুষ্ছিতা হইয়। সেইখানে পড়িয়া গেল। এ কে? কাযস্বিনী। 


শ্রীকিরণবালা দেবী। 


ফাঞ্ধন, ১৩২৯] 


সতীত্বের কথা 


৭৩ 


সতীত্বের কথা 


সতীত্ব ও মনুয্যত্থের তিতর বড় কে এ কথ! লইয়! 
“মানসী ও মর্মববাণী”তে মামলা চলিয়াছে। গুডাঁশকে 
সৃষ্টি করিয়া আমি এ মামলায় একজন আসামী বনিয়া 
গিয়াছি। সেই জন্ভ এতদিন এ সম্বন্ধে উচ্চবাচ্য 
করি নাই। কিন্তু কথাটা এত দরকারী যে কিছু 
বলিবার লোভ সন্বরণ করিতে পারিলাম না। 

নগুভাপ্র মন্বদ্ধে জীযুক্ত যতীন্দ্রমোহন সিংহ মহাশয় যে 
কথ! বলিয়াছেন তার কোনও প্রতিবাদ করিব না, 
শশ্ুভীপ্র পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতীও করিব না। 
গ্রন্থকার বই লিবিয়া পণ্ডিত সমাজে হাজির করিয়! 
খালাস, তার বিচারের ভার লেখকের নয়। আমার 
ঘাহা বলিবার তাহা ০শুভা” ও পপাপের ছাপ"এর 
উপোদবাতে স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছি। , 

কিন্তু সতীত্ব সমন্ধে কথার সঙ্গে শুভ! বা কিরণময়ী 
বা আর কাহারও কোনও নিত্য সম্বন্ধ নাই। সেই 
জন্ত এই কথাটা আলোচনা করিতে অগ্রসর 
হইলাম। 

বাানুবাদে অনেক সমক্ধ অনেক গোঁড়ার খাটি 
কথ! চাঁপা পড়িক্া যায়। তাই সর্বাগ্রে কয়েকটা কথা 
বলিতে চাই। সতীত্ব যে রমণীর শোভা, সতীত্ব যে 
একটি উচ্চ শ্রেনীর সদ্গ্ুপ সে কথা আমি মুক্তকণ্ঠে 
বলিতে চাই। সকল নারীরই সতীত্ব রক্ষা করিবার 
চেষ্টা করা উচিত,--এবং যে নারী এই চেষ্টায় সফলতা! 
লাড করেন তিন্নি বরেণ্যা। 

সতীত্ব বলিতে সত্য সত্য বুঝায় কি? সতী 
নৈত্তিক পবিভ্রতার একটা বিকাশ মাত্র, ইহা নৈতিক 
জীবনের সর্বস্ব নয়। সমস্ত আচারে গুচি ও পবি্রাত্ম! 
হওয়াই নারীর লক্ষ্য হওয়া! উচিত। কিন্তু স্থধু নারীর 
নয়, পুরুষেরও ঠিক সমান গুচি ও পবিত্রাত্মা হওয়া! উচিত। 
থে পুককধ এই গুচিতা ও পবিজতা রক্ষা করিতে পারেন 
তিনি সকলের শ্রদ্ধার যোগ্য। 


* এই সতীত্ব ও শুচিতা অন্তরের জিনিষফ। কেবল 
বাহিক আচারে শুচি হুইলে কিছুই লাভ হয় না যদি 
মনটা পঙ্কিল.খাকে। বাহিক আচারট সাধনার অঙ্গ 
হ্বনপ ব্যবহৃত হইতে পারে, কিন্তু আসল জিনিষ 
আন্তরিক শুচিতা ও পবিত্রতা । যেগ্ছুত্র তা নাই 
সেখানে আচারের খোলস কি বীধাবাধির জোরে 
কাহারও সতীত্বের পদ্ছবী জন্মায় না। যেনারী পেটের 
দায়ে বা প্রাণের ভয়ে পরপুরুষকে বরণ করিতে বাধ্য 
হইয়াছে, মনের দিক হইতে দেখিলে তাহাকে, অনেক 
সময়ে, যে নারী কেবল ফাক পাইল ন| বণিক পরপুক্রুষসঙ্গ 
করিল না তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলিয়া দেখ! যাইবে। 

* সতীত্বের সঙ্গে স্বামীর ইচ্ছান্বত্তিতার নিত্য সম্বন্ধ 
নাই। একথা একটা সহজ দৃষ্টান্ত দেখাইলে সকলেই 
স্বীকার করিবেন। স্বামী যদি স্ত্রীকে নিজের বন্ধুর সঙ্গে 
সহবাস করিভে আদেশ দেন, সতী স্ত্রীর সে স্থলে আদেশ 
প্রতিপালন অকর্তব্য হইবে। মনি স্বামী বদ্ধ স্ত্রীকে 
পাপ করিতে আদেশ দেন, তবেও স্ত্রীর তাহাতে প্রতিবাদ 
অবস্ঠ কর্তব্য অধর্্ম না! করিয়াও স্বামী বদি অন্তায় 
জোর জুলুম করেন, তবেও স্ত্রীর স্বামিবাক্য প্রতিপালন 
করিতে অস্বীকৃত হওয়া কেবল স্বাভাবিক নয়, ইহার 
নদীর হিন্দুশান্ত্রে আছে। সতী দ্রৌপদী স্বামী কর্তৃক 
ছ্যতে পরাজিত হইয়াও সেটা মানিয়া না লইয়া! আইনের 
ফাক ধরিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন) সভায় আসিয়াও 
স্বামীদিগকে এবং তীন্মের মত গুরু্নকেও তিরস্কার 
করিয়াছিলেম। আর আদর্শ সতীকুলশিরোমণি সীতাকে 
খন বান্দীকির তপোবন হইতে উদ্ধার করিয়া 
আনিয়া রামচন্্র অগ্নিপরীক্ষার আদেশ দিয়াছিলেন, 
সীতাদেবী তখন নির্বিবাদে অগ্নিগ্রবেশ করেন নাই। 
তিনি তখন জোর করিয়া বলিয়াছিলেন “মে মাধবী দেবী 
বিবরং দ্াতুমর্থতি।” 

সতীত্ব স্বাভাবিক অবস্থায় পত্থীর প্রেমের একটা 


৩৮ € 


রি ষে সত্য সত্য প্রেমময়ী, সে কখনও পমনস! 
বাচা” তার প্রেমাম্পদ্দ স্বামী ব্যতীত অন্তের কথ! 
ভাবিতে পারে না। তেমনি যে স্বামী সত্য প্রেমিক সে 
কখনও অপর স্ত্রীর উপর অনুরস্ত হইতে পারে না । * 
সুতরাং সতীত্ব ধর্মের স্বাভাবিক ভিত্তি অন্ুরাগের উপর। 
01001 বা সহজ অবস্থায় সতীত্ব এইরূপ অম্ুর!গের 
উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ইহার ভিতর কোনও ক্ষোরা- 
জোরী ঝ| ঝধারীধির কথা উঠিতে পারে না। রামচন্দ্রের 
মত পত্বীপরায়ণ স্বামী সকলের শ্রদ্ধার পাত্র, কিন্ত 
রামচন্দ্রের এই পত্বীপরায়ণতা কোনও ধর্মশান্ত্রের বা 


আচারের বা আইনের বাঁধনে সৃষ্টি হয় নাই। ইহা 
তীহার চরিত্ের স্বাভাবিক ক্ফু্তি। তেমনি 
সীতাদেবীরও সতীত্ব তাহার অপরিসীম 


অন্রাগের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই সতীত্ই আসল 
সতীত্ব । ইহার ভিতরে চেষ্টা বা! যত্ব নাই, শাসনের 
রক্তচক্ষু নাই, এমন কি ্তায়ান্তায়ের বিচারও নাই। 
ইহা ছাড়া আর কোনও রকম সতীত্ব খাটি নহে। বিধি- 
নিষেধে সতীত্ব গড়িয়া তোল! যায় না । তাহাতে একটা 
মেকী মালের আমদানী করা যাইতে পারে যেটার সঙ্গে 
আদল সতীত্বের সম্পর্ক নামের সম্পর্ক। তুমি তোমার 
স্ত্রীকে ভালবাস, তিনি, তোমাকে ভালবাসেন-_- তোমরা 
পরম্পরের প্রতি একাগ্রভাবে অন্থরক্ত। এখানে প্রকৃত 
সতীত্ব পরিস্ফুট । তুমি তোমার স্ত্রীকে ভাল না বাসিলেও 
তিনি তোমার উপর অগ্থরক্ত হইতে পারেন এবং যথার্থ 
সতীর মন্ত তোমাগত প্রাণ হইতে পাঁরেন। কিন্তু যেখানে 
এই ভালবাসা নাই, সেখানে যে সতীত্ব সেট! নিতান্ত ধরে 
বেঁধে সতীত্ব্-সেট!,সতীত্বের খোলস--তার ভিতর শাসের 
গন্ধও নাই। এই আসল ও মেকী জিনিসের মধ্যে 
প্রডেদটা বুঝা দরকার। আমর! আসল সতীত্ব চাই, 
মেকীটা চাই না। ধরিয়া বীধিয়া সমাজের রক্তচক্ষুর 
শাসনে যাহাদিগকে সতীত্বের বাহিক খোলস ব্রক্ষা করান 
হইতেছে, তাহাদিগকে সীতা সাবিত্রীর সঙ্গে এক পংক্িতে 
বসান চলে না। মেরী মন্ডলিনের স্থান তাদের অনেক 
উচ্চে। « 


মানসী ও মন্মবানী 


[ ১৫শ বর্ম খ্ড--১ম সংখ্যা 


সতীত্ব খুব ভাল জিনিয। সতীত্বরক্ষা নারীমাত্রেরই 
কর্তব্য। কিন্তু সতীত্বেই মন্ুয্যুত্বের শেষ সীমায় পৌছান 
যায় না। যেনারী সতী সে চোর হইতে পাঁরে। মিথ্যা- 
বাদিনী সতী বোধ হয় গণিয়৷ শেষ করা যায় না। নিষ্ঠুর 
অত্যাচারী সতীরও অবধি নাই। ইংলগ্ডের রাণী মেরীর 
দুর্গতির কাঁরণ হইয়াছিল ত্ীহার স্বামী ফিলিপের প্রতি 
অতিরিক্ত অনুরাগ । তাহার ধর্মান্থরাগ ও সতীত্বের 
উপর কেহ কোনওদিন দোষারোপ করে নাই। কিন্তু 
তিনি ইতিহাসে দে স্থান অধিকার করিয়াছেন সেটা 
মোটেই সম্মানের নয় । সতীত্ব সম্বন্ধে যত লম্বা চওড়া] 
কথাই বলি না কেন, ইহাই যে নারীর একমাত্র ধর্ম 
তাহা কেহ বলিবে না। নারীর যেমন সতী হওয়। উচিত, 
হেমনি তাহার সত্যনিষ্ঠ, পিতৃভক্ত; পুত্রবৎসল, সেবা- 
পরাণ, ত্যাগশীলা, বিষ্তান্থরাগিণী ইত্যাদি নানাগুণে 
গুণবতী ইওয়। উচিত। সমস্ত জীবনে চারিদিক দিয়! 
যদি তাহার ভিতরকার মন্ুয্যতটা পরিশ্ফুট হইয়! না উঠে, 
তবে নারীর জীবন ঠিক আদর্শ বলিয়। ধরিয়া! লওয়! যায় 
না। 

এ সব কথায় কোনও গুরুতর রকমের আপত্তি হইবে 
এ রকম আমি মনে করি না। কিন্তু এই স্ব অবিসম্বাদী 
সত্য, সতীত্ব সম্বন্ধে মতভেদের কথাটার মীমাংদার পক্ষে 
একান্ত প্রয়োজন । মতভেদটা এই লইয়া যে, একদল 
লোক বলিতেছেন সতীত্ব লইয়! এতট। বাড়াবাড়ি কেবল 
পুরুষের প্রতুত্বের পরিচয়) পুরুষ নিজে পত্থীপরাযণ 
হইতে চায় না, অথ পত্বীর কাছে পরিপূর্ণ সতীত্ব আদায় 
করিতে চায় লাঠির জোরে । আর সেই লাঠির ভোরটা 
এই সতীত্ব ধর্মের আবরণে আমাদের দেশে এমন ভাবেই 
প্রয়োগ করা হইয়াছে যে ইহাতে নারীর স্বাধীনতা ও 
চিত্তের স্বাভাবিক স্ফত্তি একেবারে সঙ্কুচিত করিয়া তাহা- 
দিগের মন্ুযাত্ব খর্ব কর! হইতেছে-_এট! সমাজের পক্ষে 
হিতকর নহে; সতীত্বের চেয়ে মনুষ্যত্ের দাবী ঢের বড়-_- 
কাষেই সতীত্বের মর্ধযাদ] ক্ষু করিয়াও মনুষ্যত্বের পথে 
নারীকে ঠেলিয়! দেওয়! দরকার হইতেছে । 

এ কথার ভিতর যে কতখানি সত্য আছে তাহা 


ফান্তন। ১৩২৯ ] 


ও রস 


একটা! সামান্ত দৃষ্টান্ত হইতেই দেখ! যাইবে। সতীনব 
বলিতে আমর] কতট1 বুঝি সেটা সব সমর স্বীকার করি 
না। হ্থামীর প্রতি অনুরাগের উপর প্রতিষ্ঠিত যে শুচিতা 
সতীথের প্রকৃত লক্ষ্য, তাহা ছাড়াও অনেক জিনিষ 
সতীত্বের কল্পনার ভিতর আসিয়! পড়িয়াছে। ্ামীর 
পরিপূর্ণ আজ্ঞানুবন্তিতা, স্বামীর অন্তায় আদেশে হাসিতে 
হাসিতে প্রাণত্যাগ, স্বামীর অন্তায় ও অধর্-প্রন্ুত 
আকাঙ্ষার পরিতৃপ্তি-সাধন সতীত্ব ধর্মের অঙ্গ হইয়! 
উঠিয়াছে। আমাদের 'দেশী”শান্ত্রে কেবল বেহুলাই সতী 
বলিয়া বরণীক্প হয় নাই, যে নারী দাসীবৃত্তি করিয়। লক্ষ- 
হীরার সঙ্গে স্বামীর সংযোগ সাধন করিয়'ছিল, সেও সতী 
শিরোমণি বলিয়া কল্লিত হইয়াছে। এক বিজ্ঞ সমালোচক 
বঙ্কিমচন্দ্রের ভ্রমরের চিত্র আলোচন! করিয়! বলিয়াছেন-- 
আরও অনেক জায়গায় এমন কথ শুনিয়াছি--যে, সে 
চরিত্রে হিন্দু সতীর আদর্শ রক্ষিত হয় নাই। আমি 
বলিয়াছি, এ সব “দেশী শাস্ত্রের কথা, আসল শাস্ত্রে 
কথা নয়। আমাদের স্থৃতিশাস্ত্রে স্ত্রীবধ .মহাপাতক 
বলিয়া পরিগণিত। মহাপাতকী স্বামী পরিত্যাগ কর! 
পত্ীর কর্তব্য; তবে তাহার শুদ্ধি সম্ভব হইলে সেই 
গুদ্ধির জন্ত প্রতীক্ষ/ কর! স্ত্রীর উচিত-__আত্ুদ্বেঃ সম্প্র- 
তীক্ষ্যো হি মহাপাতকদুষিতং। বঙ্কিমচন্দ্র এই কথ! 
স্মরণ করিয়াই লিখিয়াছিলেন যে গোবিন্দলাণ আসিবার 
পূর্বে ভ্রমর ম্বামিগৃহ ত্যাগ করিতে চাহিয়াছিল, কেননা, 
*গোবিন্দলাল যে মহাপাতকী তাহা তুমর ভুলিতে পারিতে- 
ছিল না” কিন্তু আমাদের “দেশী” শাস্ত্রে এ তত চলিল 
ন!। 

এই যে *দেশী* শীস্ত্রের পরিকল্পিত সতীত্ব, এটা যে 
নিতান্তই গায়ের জোরের উপর প্রতিষ্ঠিত যে কথা কি 
বলিয়া দিতে হইবে? ইহার মানে এই যে, নারীর ধর্মা- 
ধর্ম পাপপুণ্য সমস্ত বিসর্জন দিতে হইবে, কেবল নিঃশেষে 
তাহাকে স্বামীর আজ্ঞানুবর্তী হইতে হইবে। অর্থাৎ 
সত্য, স্ায়,ধ্শ প্রভৃতি প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড জাহাজ ছাড়িয়া, 
তাহার স্বমীর খড়ম যোড়া আশ্রয় করিয়া ভবসমুদ্রে 
পাড়ি দিতে হইবে। সতীত্বের এই মেকী আদর্শ সমাজের 

















৫ 
একটা চরম অবনতির  পরিচ-_ইহা অমান্য মানের 
মনুয্যত্বহীনতা-প্রস্থত। প্রাচীন ভারতের আদর্শের দোহাই 
দিয়া এই যে সতীত্ব প্রচার করা হয়, ইহার কোনও 


'পরিচন় প্রাচীন হিন্দু সমাজে পাওয়! যার না। অরুত্ধতী, 


সীতা ঝ দময়স্তী এ দলের সতী ছিলেন লা, দ্রৌপদী তো! 
ছিলেনই না । তাহার! কোনও দিনই স্বামীর আদেশে 
অধর করিতে যান নাই বা স্বামীর অধর্ম্ের বর শর দেন 
নাই। 

ধাহার৷ নারীদাতির মনুষ্যত্বের দাবীর পক্ষে ওকা- 
লতি করেন, তাঁহাদের কথ| অস্বীকার করিবার উপায় 
নাই যে, সতীত্বই নারীর মন্তষ্যত্বের একমাত্র বিকাশ নয়। 
মনুষ্যত্বের আরও নানারকম পন্থা আছে। যদ কোনও 
নারী সতীত্বে হীন হইয়াও সত্যনিষ্ঠ, দয়াবতী, উচ্চ আদর্শে 
অন্থ্প্রাণিত, এবং দেশের ও সমাজের সেবায় সমর্পিত 
জীবন হন, তবে তাহাকে একেবারে নরকের কীট বলিয়! 
গণ্য করিতে হইবে,-আর যে নারী এই সমস্ত গুণে 
একেবারে বঞ্চিত হইয়া কেবল সতীত্ব ধর্মে বড়, 
তাহাকে মাথায় তুলিয়া রাখিতে হইবে_এই বিচারের 
কোনও ভিত্তি ন্মই। সমাজের অবস্থা বিশেষে এমন 
একট! ধারণ! থাকা সমাজের পক্ষে হিতকর হইতে পার! 
অসম্ভব নয়, কিন্তু আধুনিক সমাজে এমন একট! 
ধাব্রণাকে কোনও মতেই প্রশ্রয় দেওয়া বাইতে পারে ন। 
প্র্কত প্রস্তাবে এরতিহাদিক হিসাবে ধরিতে গেলে নারীর 
বিভিন্ন গুণের মধ্যে সতীত্বের এই আপেক্ষিক গুরুত্বের 
একমাত্র মুল পুরুষের গ্রতত্ব ও অধিকারবোধ এবং 
নারীতে সম্পত্তিবোধ। 

অবশ্তা কোনও কোনও লেখক হয়তো! অসাবধানত। 
বপতঃ .এই সব যুক্তি সতীত্ব সম্বন্ধে এমন ভাবে নিযুক্ত 
করিয়াছেন, যাহাতে মনে হয় যেন তাহাদের মতে সতীত্ব 
বন্তটাই বাঞ্ছনীয় নয়, এবং উহা! কেবল প্রতু্থর উপর 
প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু আমি আসল সতীত্বের যে লক্ষণ নির্দেশ 
করিতে চেষ্টা করিয়াছি,সেই প্রন্কত আস্তিক সতীত্ব সম্বন্ে 
তাহারা! কেহই এ কথা৷ বলিবেন বলিয়। মনে করি না। 
তাহার! প্রক্কৃত প্রস্তাবে আক্রমণ করিয়াছেদ মেকী 


ও 


মানসী ও অর্্বাণী 


| ১৫শ বর্ষ-”১ম খণ্ড--"১ম সংখ্য। 








সভীত্বকৈ-_যে সতীত্ব “দেশী” শান্তের নিষ্বমে গড়িয়া 
উঠিয়াছে। এ সতীত্ব যে মনুষ্যত্বের পরিপন্থী সে বিষয়ে 
সন্দেহ নাই। 

সতীত্ব না থাকাটা দোষের কথা তাহা আমি 
স্বীকার করি। কিন্তু অসতী সম্বন্ধে যে গুচিবাইয়ের 
পরিচয় আমরা বতীন্দ্র বাবু প্রমুখ লেখকগণের মুখে 
পাই, সেটা অসুহা। কোনও নারী সতীত্ব ধর্ম হইতে 
'খলিত হইলেই একেবারে অভিশপ্র হইয়! যাইবে, তা তার 
যতই সদ্‌গুণ থাকুক না! কেন, তাহার মনুষ্যত্ব চারিদিক 
দিয়া যতই স্ষুরিত হউক না কেন) পক্ষাত্তরে 
সম্পূর্ণরূপে মন্ুষ্যত্বহীন নারী কেবলমাত্র শারীর ধর্ে 
সতীত্ব নঙ্জার্‌ রাঁখিয়াও পূর্ব্বো্ত পতিতাদের মাথায় পা! 
ভুলিয়া দিবে, এমন কথা আব্রকালকার দিনে বড় 
অশোভন। একথা সেই দিনে সাজিত যখন নারীর 
কর্মক্ষেত্র ছিল সন্কীর্ণ এবং গৃহস্থালীর বাছিরে নাগীর 
নিরাপদ স্থান ছিল না। আজ সে দিন নাই। পুরুষ 
ও নারীর চরিত্র ও প্রতিভার বিকাশ আজ বহুমুখী, 
আব্ধিকার দিনে সে সব 'মুখ রুদ্ধ করিয়া কেবল এক 
সতীত্বের গৌরব-ধারাকে একমাত্র জীবনের ধারা করি- 
বার চেষ্টা! নিক্ষল বলিয়! মনে হয়। প্রশ্নটা ইহ! নয় যে 
সতীত্ব ভাল কি না কথাটা! এই যে--যে সতীত্বের 
আদর্শে উচ্চ স্থান পাইতে পারে না, তাহাকে আমরা 
সমান্ধে কোনও সম্মানের স্থান ও কর্মক্ষেত্র দিতে 
পারিকিনা? সত্যনিষ্ঠা একট! অবিসম্বাদিত ধর্্ম। 
সকলেরই সত্যনিষ্ঠ হওয়া উচিত। কিন্ত অসত্যবাদী 
হইয়াও ষে ব্যক্তি আর্তের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করে, 
তাহাকে আমরা মাথায় তুলিয়া বাখি। এমন নারী 
আছেন যিনি সতী নন, অথচ ধাহার মত বুদ্ধিমতী, দয়াবতী 
বা শুশ্রযাকারিণী সচরাচর দেখা যায় না। তাহার 
সতীত্বের খর্ধত বশতঃ, তীহার সমাজসেবার যে শক্তি 
আছে, মনধ্যত্ের যে প্রকাশ তাহার ভিতর আছে তাহা 
প্কুরিত হইবার উপযুক্ত ক্ষেত্র বাঁ অবসর আমরা দিতে 
পারি নাকি? অসভীকে শ্রদ্ধা করা কি একেবারেই 
অসম্ভব?" 


ধাহারা একথ! বলেন তীহারদ্িগকে নৈতিক শুচিবাই- 
গ্রস্ত ছাড়া আর কিছুই বলিতে পারি না। কিন্ত 
এ গুচিবাইয়ের তলায় যে এক ফৌঁটাও সহ্য নাই 
সেইটাই সব চেয়ে বেশী ছঃখের কথা। সমাজে মক 
প্রতিদিন, অসতীকে মাথায় করিয়া! রাখিতেছি। চাক 
ঢাক গুড়গুড় করিয়! জানিয়া গুনিয়া যে কত কেলেঙ্কারী 
মাথা পাতিয়া মানিয়া লইতেছি, তার একটু পরিচয় শরৎ 
বাবু তাহার পপল্লীসমাজে” দিয়াছেন। পুণ্যক্ষেত্র কাশী- 
ধামের অনেক কুকীর্ডির কথা মুখে মুখে চলিয়া আসি- 
য়াছে। সবাই জানে, স্তবু সবাই বলে চুপ চুপ।' প্রকৃত 
প্রস্তাবে অসতীর প্রতি যে তীব্র বিরাগের পরিচয় 
যতীন্দ্রবাবুর লেখায় পাই, সেটা! সমাজে কোথাও দেখিতে 
পাই না। সমাজ জানির়! শুনিয়! হাজার হাজার অসতীকে 
প্রশ্রয় এবং এমন কি সম্মান দিতেছে। কেন ন! 
সতীত্বের এই শুচিবাই সমাজে প্রক্কত প্রস্তাবে চলিতে 
পাঁরে ন। অথচ এই শুচিবাইয়ের প্রতি মৌথিক শ্রদ্ধা! 
জ্ঞাপন করিয়া! সকলে কেবলই মত্য গোপন কিয়! 
যাইতেছেন। বাহার এই সত্যটা স্বীকার করিয়া! মুক্ত 
কণ্ঠে বলিতেছেন যে অসতী মান্রকে অপাংক্রে্ধ করিতে 
অসম্মত হইয়া! সমাজ কোনও অন্তায় করে নাই, বাছা 
বিবেচনা করেন যে নানী-মধ্যাদার প্রকৃত মান্দগ 
কেবল সতীত্ব নয় মনুষ্যত্ব, তাহার! ঘতীন্ত্রবাবুর কাছে 
তিরস্কত হইতে পারেন, কিন্ত তাহাদের অন্ততঃ এইটুকু 
সাত্বনা আছে যে তীহারা সভ্যনিষ্ঠ। 

যতীন্ত্র বাবুর শুচিবাইয়ের পরাকা্ঠাা লা হইয়াছে 
তিনি নিরাশ্রয় বিধবাদের অন্ত যে গ্রেন্কপশন করিম্বা্েন 
তাহাতে । কোনও কুচুত্ববাড়ীতে আশ্রয় লইয়! তাহাদের 
বাটা লাথি খাইয়া ভ্রীবন দাপন করা উচিত, তবু 
স্বাধীনভাবে জীবিক1 অর্জনের চেষ্টা করা! উচিত নয়, 
কেন না তাহাতে সতীত্বের হানি হইবার আশত্ব। আছে। 
“আশঙ্কা*ই শুধু আছে, নিশ্চয়তা নাই; স্বাধীনভাবে 
এই আমাদের দেশেও লক্ষ লক্ষ নারী বিচরণ করিতেছে 
(বল! বাল্য নারী বলিতে কেবল ভদ্রমহিল! বুঝায় ন1)। 
তাহারা সবাই অসতী নয়, এবং আমার বিশ্বাস তাহার 


ফাল্গুন, ১৩২৯ ] 












মধ্যে অসতীর সংখ্যা, গুপ্তাদিগের মধ্যে অসতীর সংখ 
চেয়ে খুব বেশী হইবে না । এই “আশঙ্কা+্টুকুর বে 
যতীন্দ্রবাবু এই হতভাগ্য নারীদিগকে জীবন্মুত করিয়! 
রাখিতে চান। কিন্তু জিজ্ঞাসা করি, যতীন্দরবাবু কি 
কখনও শোনেন নাই থে, নিরাশ্রয় বিধবা! কুটু্ববাড়ীতে 
আশ্রয় লইঙ্জ। সতীত্ব ধর্ম হইতে ম্খলিত হইয়াছে? 
তাহার অভিপ্ততায় বিধবা কুটুদ্বিনী কি কোনদিন 
গৃহিনীকে কোণঠেস! করে নাই? সত্যের দিকে 
স্থির দৃষ্টিতে চাহিয়া! তিনি বলিতেম্পাব্েন কি যে তাহার 
নির্দিষ্ট পন্থায় সতীত্বহানির “আশঙ্কা” নাই। 

সতীত্ব সম্বন্ধে আমাদের শান্্রকারদিগের খুব কড়! 
শাসন ও উচ্চ আদর্শ ছিল। কিন্তু তাহাদেরও যতীন্দ্ 
বাবুর মত শুচিবাই কখনও ছিল না। ব্যভিচারিণী 
পত্বী একেবারে অভিশপ্ত বলিয়া কোনও শাস্ত্রেই বিবে” 
চিত হয় নাই। এ সম্বন্ধে শান্বচন উদ্ধৃত করিব। 

ব্যভিচারাদৃতো শুদ্ধি্র্ভে ত্যাগে! বিধীয়তে । 

গর্ত ভর্ভুবধদৌ চ তথা মহতি পাতকে ॥ 

বিজ্ঞানেশ্বর এই বচনের ব্যাব্যায় ঝালয়াছেন, ত্যাগ 
মানে গৃহবহিষ্কতা কর! নয়। ইহা! ছাড়া আরও রাশি রাশি 
বাক্য উদ্ধার করিয়! দেখান যাইতে পারে যে, ব্যভিচারিণী 
নারীকে শাস্ত্রকারেরা খুব হীনচক্ষে দেখেন নাই। 


পুন্শ্চ 
আমার প্রবন্ধটি পাঠাইবার পর রায় বাহাছুর 
যতীন্্রনাথমোহন সিংহের প্রত্যুত্তর বাহির হইয়াছে। সে 
প্রবন্ধের মাত্র একটি কথ বর্তমান আলোচনায় প্রাসঙ্গিক, 
দে সম্বন্ধে ছুই একটি কথ বণিতে চাই। যতীন্দ্রধাবু 
বিয়াছেন__ 
| সতীত্বের উচ্চ আদর্শ রক্ষা করিতে গেলে তাহাকে 
ন! প্রকার সামাজিক আইন কাহুনের বীধনে বধ হয়! 
রঃ হইবে। যেখানে যত অধিক উৎকর্ষ আশা! কর! 
ধায় সেখানেই আইন কাম্থনের তত বেশী কড়াকড়ি ।» 
এই ততবটি পরিস্ফুট করিবার জন্ত তিনি বিশ্ববিদ্তালয়ের 
এম, এ, উপাধির মাপকাঠির সঙ্গে তুলনা করিয়াছেন 


সতীত্বের কথ! 


পপ পিপিপি পাপসপিসিপাসিপিস্ পা সপ এপিস্িস্পাস্পিস্পিন্পাপিস্পিস্পাপস্পিনিপিশপািলাশ্পিমপাসপ্ি ৯ 


৪৯ 


১৫ পাপিস্পিসাসিস্পাপাপাশাি তি সপিসপিম্পাপিশিসপাশিা 





পাপা পপি 


এবং সর্বশেষে ইংরাজী ছাপার হরপে লেখা বই হই। 
মত উদ্ধার করিয়! দেখাইয়াছেন যে, অসতী সম্বন্ধে যদি 
সমাজ খুব বেণী কড়াকড়ি না করে তবে সতীত্ব মাটিতে 
গড়াগড়ি যাইবে। 

রায়বাহাছরের ইংরাজী নল্ীরে স্পূর্ণরূপ অভিভূত 
হইতে পারিলাম না। তার উত্তরে সাানাঠা বাঙ্গাল! 
বোলে বলিতে চাই__ 

“বজ আটুনি ফস্কা গেরে! ।” 

এ সামান্ত কথাটা! ষে কতবড় সত্য তাহাও আমর! যে 
কেবল দৈনিক জীবনে দেখিতে পাই তাহা নহে, সমাজের 
ইতিহাসে, দেশ বিদেশের আইনের ইতিহাসে ইহার 
তুরি ভূরি প্রমাণ আছে। যদি শাসন অতি কঠোর হয়, 
তবে তাহা কেমন করিয়া নিক্ষল হইর! পড়ে তার জলক্ত 
ৃ্টাস্ত ইউরোপের মধ্য যুগের শ্রীষ্টীয় মঠে দেখা যায় - 
আমাদের সমাজে তে! দেখা যাঁয়ই। শাস্তি অতিলঘু 
*হইলে যেমন তাহা অপরাধ নিবারণে অসমর্থ হয়, তাহা 
অতিকঠোর হইলেও তেমনি নিক্ষল হইয়া পড়ে এ সম্বন্ধে 
130700এর অতিপরুচিত পুত্রাত্ন তত্বগুলির চর্ব্বিত- 
চর্বণ করিয়া পাঠকের ধৈর্য্যনাশ কারব না। কিন্তু রায় 
বাহাছর অনুগ্রহ করিয়া 117৩): 01 14379150192 
খানা পাঠ করিলে বাধিত হইব । প্র 

আর একট! সাদা কথা রাম» বাহাদুবকে স্মরণ 
করাইতে চাই। উপম! যুক্তি নয়। ভারতীয় ন্যায়ে 
(১১119910) অবশ্থ দৃষ্টান্তের একটা স্থান আছেই -- 
কিন্ত দৃষ্ান্তই যুক্তি নহে। দৃষ্টান্ত যদি দিতেই হয় তবে 
সেট! সঙ্গত হওয়া দরকার। কিন্তু বি্ভালরের পাশফেলের 
মাপকাঠির সঙ্গে সতীত্বের শাস্তির পরিমাণের যে 
কোনও তুলনাই হয় না পেটা যতীন্দ্রবাবুও একটু 
স্থিরতাবে তাবিলেই বুঝিতে পারিবেন। তার চেয়ে 
বরং বক্ষ্যমান দৃষ্টাস্তই বেশী খাটে-_ 

“খাচার ভিতর বাঘকে বন্ধ করিয়া! বাখিয়াছে, 
তার বাহির হইবার উপায় নাই। তার থাঁচার আশে 
পাশে মাহ্ষগুলো ঘোরাফের! করিতেছে, কিন্ত বাঁঘ 
নিশ্চিম্তমনে শুইয়া আছে। কিন্তু বনের বাঘ মানুষকে 


৬ 


৪ 


মানে পাইলেই খায়।* তাই বলিয়া খাঁচার বাঘ যে 
বনের বাঘের চেয়ে কম হিংসাপরয়ণ তাহ! প্রমাণ হয় না । 

তেমনি শক্ত শক্ত বিধি নিষেধের দ্বারা! যে নারীকে 
লমাজের রক্ত চক্ষুর তলায় রক্ষা করা হইয়াছে, সে যদি 


অসতী হইবার অবসর না পায় তবে তাহার সতীত্ব: 


গৌরব খুব বাড়িয়া যার না। বীাধনের রুড়াকড়ি 
উৎকর্ষের মানদণ্ড নর, ঠিক তার উপ্টা। যেখানে 
বাধন বেদ সেখানে চরিজ্রের উৎকর্ষের পরিচয় কম। 

“যেখানে যত অধিক উৎকর্ষ আশা করা যায় 
সেখানেই আইন কাহ্থনের তত বেশী কড়াকড়ি !” 
বতীন্্রবাবুর এই 01০: 01০৮৮ যে সত্যের সম্পূর্ণ 
বিপরীত তাহা আর একদিক দিয়া দেখান যায়। 
আজকাল চুরি করিলে লোকের জেল হয়, সেকালে হইত 
প্রাণদণ্ড। সুতরাং যতীন্ত্রবাবুর নজীর অনুসারে. বলিতে 
হয় যে সেকালে চুরি না কর! বিষয়ে লোকের কাছে 
যতটা উৎকর্ষ আশা করা যাইত আজকাল ততটা” 
করা যায় না। সত্যটা যে ঠিক উল্টা তাহ! নানা দেশের 
জাতীয় ব্যবহার শাস্ত্রের ইতিহাস আলোচন! করিলেই 
দেখা যায়। আমাদের আদিকালে মানুষের অনেকগুলি 
প্রবৃত্তি তীব্রভাবে সমাজের জীবনের পরিপন্থী ছিল। 
তাই তখন কঠোর শাঁসনদ্বারা সেগুলি দমন করার 
দরকার ছিল। যতই সমাজ উন্নত হইতেছে ততই 
মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অধিক নিয়ন্ত্রিত হই 
সমাজের অনুকূল হইতেছে এবং ততই শান্তির কঠোরতা! 
ও নিয়মের বীধাবাঁধি সমাজের চত্িত্রের উৎকর্ষের পরিচায়ক 
নয়, বরং তাহাতে অপকর্ষই স্থচিত হয়। 

আমি আমাদের দেশের নারীর স্বভাবজাত পবিত্রতায় 
অত্যন্ত শ্রদ্ধাবান। আমি বাঙ্গালীর মেয়ের সতীত্বকে 
মোটেই ঠুনকো! জিনিয মনে করি না। কাবেই 
সতীত্বগৌরবে হীনা অথচ মহীয়পী কোনও নারীকে 
যদি আমর! সন্মান করি, কিংবা! কোনও হতভাগিনী 


মানসী ও মর্মমবামী 


, [১৫শ বর্---১ম খণ্ড--১ম সংখ্য। 





পতিতাকে বদি আমর দয়া করি তবেই যে বাঙ্গালী নারী 
দলে দলে ছুটিয়া সতীত্বের খোলস ফেলিয়া দিবেন 
এরকম আমি মনে করিতে পারি না । ষদ্দি তাই হইত, 
বদি সতীত্বট। তাদের স্বভাবগত ন1 হইয়া একটা! বাহ্িক 
খোলসমাত্র হইত, তাহা! হইলে তাহা৷ পরিত্যাগ করিলেও 
সমাজের যে বিশেষ ক্ষতি হইত তাহা মনে হয় না। 
কিন্ত সে অন্ত কথা । কিন্তু যতীন্দত্রবাবু মনে করেন ষে 
অসতীর সম্বন্ধে কড়াকড়ি যদি আমারা একটুও ছাড়ি, 
নারীর শাসন যদি একটুও আলগ! করি, যদি তাহা- 
দিগকে পথে বাহির হইতে দিই বা চাকরী করিতে দিই, 
কিংবা আজকালকার এই সর্বজন-হেয় ইংরাজী শিক্ষা 
শিক্ষিত করি, তবে আর সতীত্বটা তত বড় থাকিবে না। 

অথচ বোধহয় তিনিই বড় গলায় মন্ত্র সঙ্গে গাহিবেন 
প্যত্র নার্যযস্ত পৃজ্যস্তে, রমস্তে তত্র দেবতাঃ।* ফুল বেল- 
পাতায় পুজা হয় না, পুজার আসল উপকরণ অন্তরের 
শ্রদ্ধায় । ফাহাদের নারীর ভিতরকার মনুষ্যত্বের উপর 
এতটা" শ্রদ্ধার অভাব, তাদের মুখে নারীর দেবীত্ব, 
তাদের আধ্যাত্মিক গৌরব ও স্বাধীনতা প্রভৃতির কথা 
বড়" বেমানান শোনায় । 

রায় বাহাছুর যর্দ দয়! করিয়া তর্ককণ্ডতি পরিত্যাগ 
করিয়া অন্তরের সঙ্গে মুখোমুখি পরিচয় করেন এবং 
একটু ধীরভাবে ব্যাপারটা আলোচনা করেন, তবে 
দেখিতে পাইবেন যে তিনি যেটার জন্ত এত ব্যস্ত সেটা 
আসল সতীত্ব “নয়, সতীত্বের খোলস, তার বাহ্িক 
আড়ম্বর। খাটি সতীত্বের সঙ্গে তা'র সম্পর্ক একেবারে 
নাই তাহা নয়, কিন্তু সে সম্পর্ক তাদাত্য নয়। 

যতীন্ত্রবাবু অন্থান্ত যে প্রসঙ্গ উপস্থিত করিয়াছেন 
তাহা বর্তমান বিষয়ে প্রাসঙ্গিক নহে বলিয়। সে সব কথা 
আলোচনা করিলাম না । 


শ্রীনরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত । 


ফাগুন, ১৩২৯) 


প্রতিবাদের উত্তর 


৩ 


গ্রতিবাদের উত্তর 


আমার প্সতীত্ব বনম মনুষ্যত্ব” প্রবন্ধের আর একটি 
প্রতিবাদ “সতীত্বের কথা* এই নাম দিয়! শ্রীযুক্ত নরেশ- 
চন্ত্র সেনগুপ্ত মানসীতে পাঠাইয়াছেন। মানসীর সম্পাদক 
মহাশয়গণের সৌজন্যে আমি তাহা, প্রকাশের পূর্বে 
দেখিতে পাইয়া, সে সম্বন্ধে আমার বক্তব্য নিবেদন 
করিতেছি। এইসঙ্গে শ্রীযুক্ত ললিলতকুমার চট্টোপাধ্যায় 
লিখিত “সাহিত্য ও নীতি* নামক আমার প্সাহিত্যের 
্বাস্থ্যরক্ষা” পুস্তকের সমালোচনা, যাহ! মানদীর মাঘ 
ংখ্যায় বাহির হইয়াছে, সে সম্থন্ধেও কিঞ্চিৎ বলিব । 


১1| সতভীত্বের কথা । 


আমার “সতীত্ব বনাম মন্স্ত্ব* প্রবন্ধে বিচার্ধ্য বিষয় 
ছিল নারীর সতীত্ব তাহার মনুষ্যত্বলাভের অন্তর্য় কি 
না? শ্রীযুক্ত নরেশবাবু সেদিক দিয়া না গিয়া অনেক 
অবান্তর কথার অবঠারণ| করিয়া বলেন, সতীত্ব ভিন্ন 
অন্তান্ত অনেক গুণের দ্বার! মনুষ্যত্বের বিকাশ হইতে 
পারে। একি রকম হইল ?--না যেমন, একজনকে যদি 
প্রশ্ন করা যায়, ইংরাজী সাহিত্য পাঠ এম, এ পাশ করার 
অন্তরায় না সহায়? ইহার উত্তরে তিনি বলিলেন, 
“ইংরাজী সাহিত্য না পড়িয়াও কতজনে সংস্কৃতে, অঙ্কে, 
ইতিহাসে, বাঙ্গালায় এম, এ, পাশ করিতেছে ।” 

অনেক সময় দেখা যায়, যে উকীলের মোকন্দমা৷ হূর্বল 
তিনি আমল বিচার্্য বিষয় পাশ কাটাইয়া ছাড়িয়া গিয়', 
অনেক উতভয়তঃ শ্বীকার্ধ্য ও অবান্তর কথার অবতারণ! 
করেন এবং অবশেষে প্রতিপক্ষের উকীলকে গালাগাপি 
করিয়া মক্কেলের মনে একটা «এফেক্ট স্থঞ্জন করেন। 
ইহাকে বলে ”[40.৮5০5 8::£90০৮*--নরেশবাবু 
উকীল বলিয়া আমি একথা বলিতেছি না। 

নরেশবাবু তাহার হুর্বলতা নিজেই বুঝিয়্াছেন, 
তাই প্রবন্ধের মধ্যস্থানে বলিতেছেন, "এসব কথার 


কোনও গুরুতর রকমের আপত্তি হইবে এরকম আমি 
মনে করি না।” সে সব কথ! কি, একে একে দেখ! যাকৃ। 

(১) প্সতীত্ব নারীর শোভা... ...সকল নারীরই 
সতীত্ব রক্ষা করিবার চেষ্টা করা উচিত। "এবং ষে 
নারী সেই চেষ্টায় সফলতা লাভ করেন তিনি বরেণ্যা |” 
অতি উত্তম কথ! । ্ 

(২)৭সতীত্ব নৈতিক পবিত্রতার একট৷ বিকাশ 
মাত্র, ইহা নৈতিক জীবনের সর্বস্ব নয়-.-...... কিন্তু শুধু 
নারীর নয়, পুরুষেরও ঠিক সমান শুচি ও পবিভ্রাত! 
হওয়। উচিত।” ঠিক কথা,-তবে যে পুরুষ লম্পট 
স্বভাব,* সে যদি হিন্দুর পুরোহিত অথব! ব্রাঙ্মদমাজের 
*আচাধ্য হয়, তবে সে ঈশ্বরভক্তি হ্বারা নৈতিক চরিত্রের 
উৎকর্ষ লাভ করিবে কি? নারীর বেলায়ও সেইনপ 
হইবে। ও 

(৩) “সতীত্ব ও শুচিতা অন্তরের জিনিষ। কেবল 
বাস্থিক আচারে শুচি হইলে কিছুই লাভ হয় না, যদি 
মনট! পঙ্কিল হয়।” ঠিক কথা। ,তবে ভিতরের 
পবিত্রত। রক্ষা করিবার জন্য বাহিরের একট! আচারও 
দরকার। যেমন ফলের ভিতরের শাস রক্ষার জন্ত 
বাহিরে আপনা হইতেই একটা খোস! প্রস্তত হয়, 
সামাজে ও অন্তরের পাবত্রতা রক্ষার জন্ত এইরূপ কতক- 
গুলি বাহিক আচারের সৃষ্টি হইয়া থাকে--যাহাকে ০০০- 
০০00 বলে। ভিতবের জিন্ষিটার উৎকর্ষের মাপ- 
কাঠি (505002.:0 063০০1109০০ ) যত বড় হইবে, 
সেই দেশাচারও তত কঠিন হইবে। যেমন ফল বত 
বড় তাহার খোসাও তত কঠিন, আমের ধোস! অপেক্ষা 
নারিকেলের খোদা অনেক বেশী শক্ত। নিয়ে দৃষ্টাসত 
দিতোছি ঃ__ 

(ক) একজন বিচারক মনে মনে জানেন তিনি 
খুব স্তায়পরায়ণ, কিন্ত আদালতের বাহিরে অথব! নিজ. 


88 মানসী ও মন্্বাণী 


গৃঁহে দি তিনি কোন পক্ষকে তাহার নিকট আনাগোনা 
করিতে দেন তবে তীহার নিন্দা হয়। সেজন্ত তাহাকে 
একটা বাহিরের খোল অবলম্বন করিয়! খুব কঠোর 
হইয়া থাকিতে হইবে। | 

(খ) একজন সচ্চরিত্র জিতেন্্রিয় ব্যক্তি যদি 
বেস্তাগুহে গমনাগমন করেন, তবে তাহার উপর লোকের 
সন্দেহ আসিতে পারে। এমন কি প্রলোভনে পড়িয়া 
তাহার "্পতনও হইতে পারে। এজন্ তাহাকে বাহিরের 
শুচিতা অব্লস্বন করিয়া বেশ্ঠাপন্নী পথ্যস্ত এড়াইয়া চলিতে 
হইবে। 

(গ) ইংরাজ সমাজে অনুঢ। যুবতী নারীর কোনও 
যুবকের সহিত নির্জনে আলাপ নিষিদ্ধ কেন? তাহার 
কারণও বাহিরের শুচিত। দ্বারা অন্তরের গুচিতা রক্ষ। 
আর দৃষ্টান্ত বাড়াইব:না। 

(৪)”সতীত্বের সঙ্গে স্বামীর ইচ্ছান্ুবর্ডিতার নিত্য 
সম্বন্ধ নাই।” কে বলে আছে? গৃহস্থ ঘরে স্বামীর সঙ্গে 
স্ত্রীর ত সর্বদাই নান! বিষয়ে মতভেদ হয়। এমন কি 
কলহ হইয়া কথাবার্তা ও মুখ দেখাদেখি পর্য্যস্ত বন্ধ হয়। 
তাই বলিয়া কি সেই সকল গৃহিণী সতী নহেন? এ জন্ত 
নরেশ বাবুর দ্রৌপদী ও সীতার দৃষ্টান্ত অবতারণ| 
কৰিবার কোন প্রয়োজন ছিল না। তিনি মহাভারতকে 
শহিন্দুশান্ত্র” বলিয়াছেন, বাস্তাবক ইহা! ধর্মশান্্র নহে, 
ইতিহাস। 

(৫) “সতীত্ব স্বাভাবিক অবস্থায় পত্রীপ্রেমের একটা 
প্রকাশ 17 সহজ অবস্থায় সতীত্ব এইরূপ অন্ুরাগের 
উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ইহার ভিতর কোনও জোরাজুরী 
বা! বাধাবাধির কথা উঠিতে পারে না।* অতি উত্তমকথা। 

.দকিস্ত যেখানে ভালবাসা নাই, সেখানে যে সতীত্ব 
সেটা নিতাস্ত 'ধরে বেঁধে সতীত্ব--সেটা সতীত্বের খোলস 
--ভার ভিতর শাসের নাম গন্ধও নাই ।” ঠিক কথা। 
তবে একটা কথা এই, যেখানে শাস নাই, থোস' আছে 
--সেখানে সেই খোসাটাকে কি ভাঙ্গিয়া ফেলিতে হইবে? 
অর্থাৎ যে নারী কোন কারণে--যেমন স্বামীর চরিত্র- 
দোবের জনা তাহার শ্বাীকে ভাঁলবাসিতে পারেন না, 


.[১৫শ বধ--১ম খণ্ড--১ম সংখ্যা 


নরেশঝবু কি তাহাকে সতীত্ব বিসর্জন দিয়া, তাহার 
“শুভার” স্তায় বাজারে বাহির হইতে বলেন? আমি 
কিন্তু "গুচিবাই্রন্ত* হইলেও সেরূপ পরামর্শ দিব না। 
আমি সেই স্বামী স্ত্রীকে প্ঢাকৃ-ঢাক্‌* পচুপ-চুপ” করিয়া 
সমাজে থাকিতেই বলিব, কারণ তাহাদের সেই বাহিরের 
খোসাটার মধ্যে যদি আবার প্নারিকেলফলাদুবং* সার 
পদার্থটি কখনও আসে-_“মন্ত্রশক্তি”্র নাপ্িক ও “দিদি*র 
নায়কের মধ্যে যেমন আসিয়াছিল। 

(৬) “সতীত্ব খুব ভালি জিনিষ ।......কিস্তু সতীত্বেই 
মনুষ্যাত্বের শেষ সীমায় পৌছান যায় না1-..... নারীর 
যেমন সতী হওয়া উচিত, তেমনি তাহার সত্যনিষ্ট, 
পিতৃভক্ত, পুত্রবৎসলা, সেবাঁপরায়ণা ত্যাগণীলা বিদ্তান্থ- 
রাগিণী ইত্যাদি নানাব্ধপ গুণে গুণবতী হওয়া উচিত।* 
এসকল কথা কে অস্বীকার করে? 

কথাটা হইল কেমন, না! ইংরাজী না পড়িয়া! সংস্কৃত, 
বিজ্ঞান, ইতিহাস, অঙ্ক ইত্যাদি পড়িয়া! এম, এ পাশ 
করার .মতন। ইংরাজী সাহিত্য পড়া এম, এ পাশ 
করার অন্তরায় কি লা, লেখক সেই প্রশ্রের বাড়ীর কাছ- 
দিয়াও গেলেন না। 

সতীনারী যদি চোর হয়-__অর্থাৎ যেমন কোনও নারী 
ুর্িক্ষপীড়িত শ্বামীকে বাঁচাইবার জন্য যদি চুরি করে,_ 
তবে সে যেমন সতীত্বের জন্য প্রশংসা! পাইবে, সেইক্সপ 
চুরির জন্ত দণ্ডও পাইবে। তবে উদ্দেপ্ত (72956) 
বুঝিয়৷ তাহার দুটা খুব লঘু হইবে সন্দেহ নাই। যে 
ব্যক্তি ব্যবসায়ে অন্যকে ঠকাইয়া লক্ষপতি হয় এবং 
সেই টাকার কতক অংশ দিয়! হীঁসপাতাল নির্মাণ করে, 
তাহাকে এই দানের জন্য লোকে যেমন প্রশংস! করিবে, 
তেমন প্রবঞ্চক বলিয়! দ্বণাও করিবে। শুনিতে পাই একটি 
বেশ্তা কোনও তীর্ঘস্থানে বনুতর্থ ব্যয় করিয়া একটি 
ধর্মশাল! নির্মাণ করিয়া দিয়াছে, সে দন্ত লোকে তাহার 
নিকট যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তেমন তাহার 
চরিত্রের কথ! স্মরণ করিয়া দ্বণাও করে। সংসারের 
অধিকাংশ লোকই দোষগুণের সমষ্টি। সতীত্ব নারীর 
একমাত্র ধন্ম একথা কেহ বলে না, আবার সতীত্বের 


ফাল্গুন, ১৩২৯] 


দুপা পা্ার্পীাউপসপাশিিপা্পি পর্পিি 


মর্ধযাদা ক্ষু্জ করিয়া কোন নারীই আদর্শ, চরিত বিয়া 
গণ্য হইতে পারে না। কিন্তু এসকল বথায় আসল 
প্রশ্নের মীমাংসা হইল কৈ? 

(৭) এতক্ষণে নরেশ বাবুর সে কথা মনে পড়িয়াছে। 
ভাই তিনি বলিতেছেন, “মতভেদটা এই 'লইয়া যে 
একদল লোক বলিতেছেন সতীত্ব লইয়া! এতটা! বাড়াবাড়ি 
কেবল পুরুষদের প্রতুত্বের পরিচয়; পুরুষ নিজে পত্বী- 
পরায়ণ হইতে চাঞঃট না, অথচ পত্বীর কাছে পরিপূর্ণ 
সতীত্ব আদায় করিতে চায় লাঠির জোরে ।*_এসকল 
কথা লেখক কোথায় পাইলেন জানি না, অস্ততঃ আমি ত 
কোথায়ও এরূপ কথা শুনি নাই। ধাহারা এরূপ কথা 
বলেন ত্তাহার! দেশের ও সমাজের কোন খবর রাখেন না। 

« সতীত্বের চেয়ে মনুষ্যত্বের দাবী ঢের বড়, কাজেই 
সতীত্বের মর্ধ্যাদা ক্ষু্ করিয়াও মনুষ্যত্বের পথে. নারীকে 
ঠেলিয়া দেওয়! দরকার হইতেছে [ অর্থাৎ তিনি যেমন 
“স্ভাকে ঠেলিয়া দিয়াছেন ।] 

আঙ্লকাল আমাদের গবর্ণমেণ্ট যেমন ছুইটি কুঠুরীতে 
বিভক্ত, নরেশ বাবুও মনুষ্যত্বকে ছুই কুঠ্রীতে ভাগ 
করিতেছেন-_তাহার মধ্যে সতীত্বকে *1225200 
৪001০০৪% এর মধ্যে ঠেলিয়া দিয়া, নারীর অন্তান্ত গুণ- 
গুলিকে [২০9615০0 901)1009 করিয়া রাখিয়াছেন। 
মিনিষ্টারদের হাতে যে *1:0090060.  501)1600 
আছে তাহার উৎকর্ষ না হইলেও গবর্ণমেণ্টের শাসন যেমন 
চলিতে পারে, সেহক্প তীহার মতে সতীত্ব ক্ষু্ন হইলেও 
মনুষ্যত্ব গড়িয়া উঠিতে পারে। কিন্তু মিনিষ্টারদদের হাতে 
যে ৮08:01010-109110206 06199:0061069 রহিয়াছে, 
যাহার উপর জাতীয় উন্নতি নির্ভর করে, একথা ভুলিলে 
চলিবে কেন? অন্নবন্ত্র, রোগচিকিৎস। ও সুশিক্ষা অভাবে 
যদি জাতিটা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়, তবে পুলিশ ও শাসন 
বিভাগের উন্নতিতে কি হইবে? ইন্দ্রিয় সংযম মনুষ্যজীবনের 
একটি প্রধান নৈতিক বল-_যেখানে তাহ। ক্ষুপ্ণ হইয়াছে 
সেখানে মনুষ্যত্বের সৌধও ধুলিসাৎ হইয়াছে। 

সতীস্বের দ্বারা মনুঘ্ত্ব ক্ষু্ হয় একথার কোনও 
উত্তর নাদিয়া লেখক সেই একই কথ! প্রকারাস্তরে 


প্রতিবাদের উত্তর 


রর “৮ 
আবার  বনিতেছেন-_সতীতঘ গু লি রা 
জদ্মিতে পারে, অর্থাৎ ইংরাজী ন! পড়িয়াও কতলোক 





, এম, এ পাশ করিতেছে | এটা যে একটা] 196 49906 


লেখক তাহা যুবিয়াও বুবিতেছেন না। 

নারী সতী না হইয়াও পিতৃভক্তি, পুত্রবৎসলতা, সেবা- 
পরায়ণতা ইত্যাদি গুণের অধিকারিণী হইতে পারে, কিন্ত 
তাহার পূর্ণ মনুষ্যত্ব লাভ হইয়াছে একথা কেহই বলিবে 
না। তাহার অন্ত গুণের জন্ত যেমন প্রশংসা হইবে, 
অসতী বলিয়া তাহার সেইরূপ নিন্দাও হইবে। একথা 
পূর্বেই বলা হইয়াছে । সাহিত্য সমালোচনা! উপলক্ষে 
যখ্ন একথ! উঠিয়াছে, তখন জিজ্ঞাস। করি প্রাচীন 
কাবো কখনও কি 
এরূপ নারীচরিত্র কেহ দেখাইতে পারিবেন যে, অসতী 
হইয়াও সে মনুষ্যত্বগুণে আদশ নারী? বরং পরপুরুযাসক্ত 
নারী যে অনায়াসেই পিতামাতার অবাধ্য, শ্বামীর বিত্তাপ- 
হারিণী, এমন কি পুত্রাতিনী হইতে পারে--কি সংসারে, 
কি কাবো ইহার দৃষ্টান্ত অনেক আছে। ঘরে-বাইরে” 
উপন্যাসের বিমলা সন্দীপের প্রতি আসক্ত হইয্নাই ত 
স্বামীর টাকা চুরি করিয়াছিল। কলসী ছিদ্র হইলে যেমন 
তাহা দিয়! সব জলটুকু পড়িয়া যায়, নারীরও এ চরিত্ররস্ধ, 
দিয়া সব গুণ উবিয়! যাইতে পারে।' 

(৮) নরেশবাবু আবার কোথাকার “দেশী শাস্ত্রের? 
পরিকল্পিত সতীত্বের আর একটা “মেকি আদর্শ” খাড়া 
করিয়াছেন। ইহার মানে প্নারীর ধর্ীধর্ম পাপপুণ্য 
সমস্ত বিসর্জন দিয়া স্বামীর আল্ঞান্ুবর্তিনী হইতে হইবে ।” 
এরূপ আদর্শের কথ! আমি জানি না। আমি ত প্রাচীন 
ভারতের আদর্শ অর্থাৎ অরুন্ধতী, সীতা, দময়স্তীর আদর্শই 
সকলকে অবলম্বন করিতে বলিয়াছি। এসম্বন্ধে বেশী 
বাক্যবায় নিশ্রয়োজন। 

(৯) কিন্ত এতক্ষণে নরেশবাবু সেই আসল “ইন্থ- 
টার জবাব দিতেছেন। বাহার সতীত্ব মনুষ্যত্বের 
পরিপন্থী বলেন, প্প্রকৃত সতীত্ব সম্বন্ধে তাহারা কেহই 
একথা বলিবেন বলিয়া মনে করি না।” তাহারা “মেকি 
সতীত্ব*কেই আক্রমণ করিক্বাছেন। ? 


(01955102] 11602005 ) 


৪ও মানসী ও রিট 


যাহীহউক, এতক্ষণে বুঝিলাম ইংরাজি পড়াটা 
এম, এপাশ করার অন্তরায় নহে। তবে ইংরাজীর 


নামে যে ০040৮019160 অর্থাৎ “দেশী” ভাষা ৃঁ 


(91428) প্রচলিত আছে, তাহাই এম, এ পাশ করার 
পক্ষে বিম। এক্থাট। প্রথমে বলিলেই চুকিয়া যাইত। 
কিন্তু ধাহার৷ সতীত্ব মনুষ্যত্ব লাভের অন্তরায় বলেন 
তাহারা! ত এইরূপে সতীত্বকে খাটি ও মেকি এই ছইভাগে 
বিভক্ত করেননা। 
(১০) এতক্ষণ পরে তাঁহার মক্ধেলের পক্ষে কবুল 
জবাব দিয় নরেশবাবু আমার পগুচিবাই” দেখাইতে 
আরম্ভ করিলেন। পূর্বেই বলিয়াছি, যে উকীলের 
মোকর্দম! ছুর্বধল, তিনি প্রতিপক্ষকে গালি দিয়া মকেলের 
মনস্তপষ্টি করেন। কিন্তু আমি ত্বাহার এই গালিকে 
00111013706 বলিয়া মনে করি, কারণ অশুটচিবাই 
অপেক্ষা গুচিবাই ভাল জিনিষ। তিনি বলেন আমার 
লেখাতে অসভীদের প্রতি তীব্র বিরাগের যে পরিচয় 
পাইয়াছেন; সমাঙ্জে বা শাস্ত্রে তাহা দেখা যায় না। 
আমাদের সমাজ যে সময় সময় নীলকঠের স্তাক় কত 
বিষ হজম করিয়া লইতেছে, একথা ত আমি মাঘের 
*মানসীপ্তে প্রকাশিত আমার প্রবন্ধে দেখাইয়াছি। আর 
আমার কোন্‌ গ্রন্থে তিনি “অসতীর প্রতি তীব্র বিরাগের” 
পরিচয় পাইয়াছেন, নরেশ বাবু তাহা অনুগ্রহ পূর্বক 
দেখাইয়! দিলে বাধিত হইব। তবে আধুনিক বাঙ্গলা 
উপন্তাসে আর্টের নামে স্থুনীতি-নাশক যে সকল সংক্রামক 
রোগের বীজ সমাজে ছড়াইয়াছে, আমি আমার পুস্তকে 
তাহাই প্রদর্শন করিয়াছি। সতীত্ব রক্ষার জন্ত শাস্ত্রকার- 
দের শাসন কিরূপ কঠোর ছিল তাহা মন্গর সেই 
বচনটাতেই প্রকাশ--যেখ'নে তিনি কোন কোন ঘনিষ্ঠ 
আত্মীয়কেও যুবতী নারীর সহিত নির্জনে উপবেশন 
করিতে নিষেধ করিয়াছেন-_-কারণ, 
*বলবানিক্দরিয়গ্রামো বিদ্বাংষমপি কর্ষতি |” 

* অর্থাৎ ইন্দ্ি়সমূহ এতই বলবান যে জ্ঞানী ব্যক্তিও 
তাহাদের উত্তেজনায় পড়িয়া হিতাহিত জ্ঞানশৃন্ত 
সন। 


থে 


[ ১৫শ বর্--১ম খ&--১ম সংখ্য। 


িসিপািতত পিসি পা 





পিস ০১৩ 2৩ সিসি তি শিপাসি পট পাস সস ২ম 


-আর সে জন্ত কোন কোন উদারনৈতিক ব্যক্তি 
মন্থকে বর্বর বলিতেও কুঠিত হন নাই। 

(১১) নিরাশ্রয় বিধবা রমণীকে আমি চাকুরী 
করিতে না বলিয়া কোন কুট ুশ্বের আশ্রয়ে থাকিতে 
ব্যবস্থা দিয়্ছি) এই জন্ত নাকি আমার *গুচিবাইয়ের 
পরাকাঠা” লাভ হইয়াছে । কিন্তু ইহা ত আমার নিজের 
ব্যবস্থা নহে, সেই উদার প্রকৃতি শান্ত্রকারদেরই ব্যবস্থা 
যথা স্ত্রীলোক বাল্যে পিতামাতার অধীনে, যৌবনে 
স্বামীর অধীনে, বিধবা! হইলে পুত্র বা অন্ত কোন নিকট 
আত্মীয়ের অধীনে থাকিবে, কারণ -- 

“ন স্ত্রী স্বাতন্ত্রামহতি * 

অর্থাৎ স্ত্রীজাতি স্বাধীনতা পাইবার যোগ্য নহে। 
নরেশ বাবু কোন্‌ শাস্ত্রের বলে তাহাদিগকে স্বাধীনবৃত্তি 
অবলম্বন করিতে আদেশ দেন? বিধবা নারী আত্মীক্ 
কুটুন্বের গৃহে থাকিলে সেখানে “লাথি ঝাঁটা* খাইতে 
বাধ্য হন, কোন কোন স্থলে একথা সত্য বটে। আবার 
অনেক গৃহে. দেখা যায় বিধব! ভগিনী, খুড়ী, পিসী, 
মাসী গৃহের সর্ধমরী কর্রী হইয়া সংসার চালান। এরূপ 
দৃষ্টান্ত আজকালও অনেক গৃহে দেখা যায়। তবে আমা- 
দের মনুষ্যত্বের অভাব হওয়াতে বিধবার নির্যাতন যে 
না হইতেছে এপ নহে! আমরা! যদি আবার মানুষ 
হইতে পারি, তবে আবার আশ্রিত প্রতিপালন করিতে 
শিখিব। আৰ যদি মান্থুষ না হই, তবে ইগর পর বৃদ্ধ 
পিতামাতাকেও &179,770/90এ পাঠাইব। 

নারী বিধবা হউন, সধবা হউন, বা কুমারী হউন 
পুরুষের অধীনত স্বীকার না করিয়া! যদি স্বাধীন বৃত্তি 
অবলম্বন করেন তাহা হইলেই কি তাহার মনুষ্যত্বের 
বিকাশ হয়? পুরুষদের তাহা হইতেছে না কেন? 
আবার শ্রীযুক্ত বিপিনচন্ত্র পাল তাহার প্মার্কিণে 
টারিমাস* প্রবন্ধে লিখিয়াছেন, “মার্কিণীয় স্ত্রীলোক- 
দিগের আগে ছিল পরিবারের দীস্ততা, এখন হইতেছে 
দোকানের বা কলকারখানার দাস্ততা।” ( মাঘের 
মানদীতে আমার প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য) । আফিসের সাহেব 
অথব। দোকান বা কল কারখানার মালিকের "লাথি 


ফাল্তুন, ১৩২৯] 


ঝাঁটা” খাওয়া অপেক্ষা নিজের দেবর, তান্ুর, ভাই, 
ভাইপোর লাথি ঝণটা খাওয়া অনেকগুণে ভাল। 

আফিসে বা দোকানে স্বাধীনভাবে চাকুরি করিতে , 
গেলে নারীর পরপুরুষসঙ্গে সতীত্ব নাশের আশঙ্ক। 
আছে আমি এ কথা বলায় নরেশ বাবু “ছি ছি" করিয়া- 
ছেন। এরূপ অবস্থায় সকল রমণীই যে চরিক্রত্রষ্ট হন 
একথা! আমি বলি নাই। চরিত্রত্রষ্ট হওয়া না হওয়া 
নিজের উপর যেমন নির্ভর করে, তেমন পারিপার্খিক 
অবস্থার উপরও নির্ভর 'করে। বিপিন বাবু বলেন 
মার্কিণীয় রমশীগণ বেশভৃষার পারিপাট্য দ্বার! দোকাঁনের 
ব| কলকাঁরখানার প্রতুদিগের এনস্তষ্টির জন্ত অনেক 
সম:য় “নিজের শরীর বেচিয়া* অর্থ উপার্জন করিতে বাধ্য 
হয়। নরেশ বাবু ষদি বলেন ইহাও এক প্রকার মনুঘ্য- 
ত্বের বিকাঁশ, তবে আমি নিতাস্তই নাচার। . 

(১২) নরেশ বাবু আমার মাঘ মাসের প্রবন্ধটী পড়িয়া 
আবার একটি “পুনশ্চ” জুড়িয়া দিয়াছেন। তাহাতে 
একটি বিষের প্রত্যুত্তর দেওয়া হইয়াছে-“যেখানে যত 
বেশী উৎকর্ষ আশা করা যায়, সেখানেই আইন কান্ু- 
নের তত বেশী কড়াকড়ি।” ইহার উত্তরে তিনি 
বলেন “বজ্র আটুনি ফসকা1 গেরো”_ আর খাচার বাঘ 
বনের বাঘ অপেক্ষা কম হিংঅক হয়না। অবশেষে তিনি 
বলেন, তিনি আমাদের দেশের নারীর ম্বভাবজাত 
পৰিক্রতায় অত্যন্ত শ্রদ্ধাবান্‌, তাঁহাদের সতীত্ব নিতান্ত 
ঠুনকো! জিনিষ তিনি মনে করেন না। 

আর আমিই কি ঠুনকো জিনিষ মনে করি? আমিই 
কি তাহাদের সতীত্বে কম শ্রদ্ধাবান্‌? দুঃখের বিষয় 
তিনি উল্টা বুঝিয়াছেন-_যাহাকে বলে 10105 00৩ 
২:০6 600 ০£ 0১৫ 5001. | সামাজিক আইন কানু- 
নের কড়াকড়ি অনেক স্থানেই নারীদিগকে সন্দেহ 
করিয়া! নহে, পুরুষদিগকে সন্দেহ করিয়া । সেই জন্যই 
সকল সমাজে কতকগুলি ৫০20%86102এর সৃষ্টি 
হইয়াছে। মনু যে বলেন .প্বলবানিষ্জিয়গ্রামে। বিদ্বাং- 
বমপি কর্ষতি* ইহাঁও বিদ্বান পুরুষর্দিগের উপর সন্দেহ 
জন্য _-বিদুষী নারীদিগের উপর সন্দেহ জন্ত নহে। বিশে- 


প্রতিবাদের উত্তর 


2৭ 


ষতঃ আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থায় অশিক্ষিত ও 
অর্ধশিক্ষিত লোকের ত দূরের কথা, তথাকথিত ন্ুশি- 
ক্ষিত-লোকও নারীদ্দিগকে সম্মানের চক্ষে দেখিতে 
শেখেন নাই | ষত দিন সমাজের পরিবর্তন না হয়, 
ততদিন নারীদিগকে নিজ নিজ সম্মান বজায় রাধিবাঁর 
জন্ঞ কতকগুলি সামাজিক ০01570092এর মধ্যে 
থাকিতেই হইবে। আমি পূর্ব প্রবন্ধেই বলিয়াছি, সহয়ে 
যতটা কড়াকড়ি পর্দীগ্রামে ততদূর নহে। পল্লীগ্রামে 
সকলেই সকলকে জানেন ও চেনেন, সে জন্য মেলামেশার 
কোন বাধা নাই। 

আমি বিশ্ববিস্তালয্বের 527,021 এর স্তায় সতীত্বের 
যে একটা 56%:2060 কল্পনা করিয়াছি, নরেশ বাবু 
ভাহাকে রূপক বা উপম! বলিয়া! উড়াইয়! দিতে চান] 
কিন্তু যাহ! সমাজে আছে তাহা অস্বীকার করিলেই তাহার 
অস্তিত্ব লৌপ হইবে না। ইংরেজ সমাজে একটি নারী 
কোনও পুরুষের প্রতি প্রেমাসক্ত হইয়া, পরে আবার 
আর একজনকে বিবাহ করিতে পারেন তাহাতে সমাজে 
কোন নিন্দা হয় না। কিন্তু 'আমাদের সমাজে সেব্ূপ 
করিলে দোষ হয়। আবার আমাদের সমাজে সতী 
নারীর পরপুরুষস্পর্শ নিষেধ । ইংরেজ সমাজে একজন 
বিবাহিতা স্ত্রী পরপুরুষের সহিত হুত্য করিতে পারেন। 
এই সব ভিন্ন ভিন্ন সমাজে সতীত্বের ভিন্ন ভিন্ন 
90000217 আছে তাহ! অস্বীকার করিলে চলিবে কেন ? 
তবে তাহার কোন্‌ 5021702:0 কতদূর উৎকৃষ্ট তাহ! 
বাক্তিগত মতামতের উপর নির্ভর করে। আমরা অবপ্ত 
আমাদের 562019:0কে খুব উৎকৃষ্ট ও পাবত্র বলিব। 
নরেশ বাবু হয় ত তাহা মানেন ন1। 

আমর! গৃহে নারীর পুজা করিয়া! থাকি, তাহা৷ যে 
ফুল বিশ্বগত্র দিয়া নহে এ কথা আরু বণিয়! দিতে হইবে 
না। আমাদের পূজা, পথে ঘাটে যুবতী নাম্ীর রুমাল 
কুড়াইরা :দেওয়া বাঁ তাহার" হাত ধরিয়া গাড়ী হইতে 
নামান নহে। আমর! আমাদের কন্তা বা ভগিনী- 
দিগকে গৃহের বাহিরে দোকানে আফিসে রোজগার 
করিতে পাঠাইয়া৷ তাহাদিগকে সংসারের ' ধুলিমলিন 


হ তি 5 ইচ্ছা করি রা আমরা তাহাদিগের ভরণ 
পোষণের ভার নিঙ্গ স্বন্ধে সানন্দে বহন করিরা তাহা" 
দিগের নানাপ্রকার লাঞ্ছনা এমন কি আফিসে ব 
দৌকানে লাথি ঝাঁটা খাওয়া হইতে রক্ষা করি। 
আমাদের কন্তাদায়ের অর্থ-_-পিতামাতার সর্বস্ব পণ 


করিয়াও মেয়ের সখ শ্বচ্ছন্দতার বিধান করা। যুদি 
ইহাকে নারী পুজা না বলে, তবে নারীপুজা কি 
জানি না। 

এসব বাদানগুবার্দে কোন ফল, নাই, বিশেষতঃ 
দেখিতেছি নরেশ বাবুর তর্কের ঝাঁজটা যেন ক্রমেই উগ্র 
হইয়। আসিতেছে । তাহার মনে রাখা উচিত, তিনি যত 
বড় আইনের ডাক্তারই হউন ন! কেন, আমাদের সমাজ- 
ব্যাধির প্রতিকার ব্যবস্থা করিতে কখনও তাহাকে 
মন্থ যাজ্ঞবন্ধ পরাঁশরের আসনে বসাইয়। কেহ তাছার 
ব্বস্থ। গ্রহণ করিবে না। শ্বয়ং বিদ্যাসাগর মহাশয়কে 
বসায় নাই। 


২। সাহিত্য ও নীতি। 


শ্রীযুক্ত ললিতকুমার চট্টোপাধ্যায় কৃষ্ণনগর সাহিত্য 
পরিষদ্‌ শাখার এক অধিবেশনে তাহার এই প্রবন্ধটা পাঠ 
করিয়াছিলেন। সেই"সভাতেই আমি ইহার সংক্ষিপ্ত 
উত্তর দিয়াছিলাম। পরে আমার "সাহিত্যের স্বাস্থ্য- 
রক্ষা” পুস্তকে তাহার যুক্তিগুলির অবতারণা! করিয়! 
তাহা খগুনও করিয়াছি। ছঃখের বিষয় ললিত বাবু 
তাহা লক্ষ্য করেন নাই। 

প্রথমতঃ তিনি বলেন সাহিত্য যদি সমাজের দর্পণ 
হয়, তবে সাহিত্যে বীভৎস প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হইয়াছে 
দেখিয়া বুঝিতে হইবে ধে সমাজেরও স্বাস্থ্য পুর্ব্ব হইতেই 
আক্রান্ত হইয়াছে । এ সম্বন্ধে আমি লিখিয়াছি-- 

“সমান্ধে বিনোদিনী, বিমল বা কির্ণময়ী অপেক্ষাও 
অনেক খারাপ স্ত্রীলোক আছে সন্দেহ নাই, কিন্তু তাহা- 
দ্বেরকে খোজ রাখে? কবি তাহার আর্টের ছারা 
তাহাদের প্রলোভনময় পাপ চিত্র অধিকতর প্রলোভ- 
নীয় করিয়া ধরাতে তাহার! আমাদের পরিচিত হইয়াছে, 


মানসী ও মন্মবাণী 


্ ১৫শ বধ--১ম খণ্ড--১ম সংখ্যা 





এমন কি অনেকের অন্থকরণীরও হইতে পারে।* ১০৫ পৃ 
ললিতবাবু বলেন, পকিস্ত সাহিত্য শুধু সমাজের 


, দর্পণ নহে। সাহিত্য নৃতন আদর্শ ও চিত্র স্থ্টি করিয়া 


থাকে এবং তাহার প্রভাব সমাজের উপর পড়িয়া 
মনুষ্য হদযকে উত্তেজিত করিয়! তুলে ।» 

আমিও ঠিক সেই কথা বলি। এবং সেই জন্তই 
কবিদিগের এরূপ চরিত্র স্থজন আপত্তিজনক মনে করি, 
যন্বারা মনুষ্য সমাজ নৈতিক ধ্বংসের মুথে অগ্রসর 
হইতে পারে। আর আমি যে সকল গ্রস্থকারের পুন্ত- 
কের সমালোচনা করিয়াছি, তাহাদের বিরুদ্ধে আমার 
নালিশও এই যে, আমাদের সমাজে যাহা নাই, যাহ! 
[০০] (সত্য) নহে, তাহারা সেই কল চিত্র 
[০21150এর দোহাই দিয়া সাহিত্যে প্রচলিত করিতে- 
ছেন। আমি লিখিয়াছি £-_- 

“আমাদের উপন্তাসলেৰকগণ আর্টের সাহায্ে এই 
বিঙলীতী প্রেমকে আমাদের সমাজে আমদানী করিতেছেন । 

১২১ পৃঃ । 

ইহার পরে ললিত বাবু স্তাহার আসল কথার অব- 
তারণ! করিয়াছেন। তিনি আমারই স্তায় স্বীকার করেন 
যে সমাজ ও মনুষ্যত্বের মঙ্গলই সাহিত্যের এক মাত্র উদ্দেস্ 
হওয়া উচিত |” তবে “সাহিত্যকে যদি শুধু শিক্ষকতার 
গণ্তীর মধ্যে আবদ্ধ থাকিতে হয়- কেবলমাত্র উপদেষ্টার 
পদে প্রতিষ্ঠিত থাকিতে হয়, তাহ! হইলে সাহিত্য প্রতিভা 
এবং সৌন্দর্য্য বিকাশ হ্বইবে কেমন করিয়া?” 

অর্থাৎ আমি যেন এতই কাওজ্ঞান-বঙ্জিত যে 
কবিদিগকে কেবল স্ুুল-মাষ্টার হইতে বলিতেছি। 
আমি লিখিয়াছি, “তাহার! ( বাঙ্গলার উপন্তাস লেখকগণ ) 
কি কেবল 20:01 ৮৩৮০০০ রচনা করিবেন? না, 
আমি ত্াহার্দিগকে কেবল হিতোপদেশ রচনা! করিতে 
বলি না। তাহারা বাঙ্গালী জীবনের বাস্তব চিত্র অস্কিত 
করিবেন” ইত্যাদি। বাহুগ্য ভয়ে আর উদ্ধৃত করিলাম 
না-১১৯ পৃঃ ভ্রষ্টব্য। 

ললিত বাবু বলেন, “করনা যদি অবাধে বিচরণ 
করিতে না গাইল, তবে তাহা হইতে নৃতন বিষয়ের 


ফাঙ্ুন ১:২৯ ] 


থষ্টির উদ্ভাবনা হইবে কেমন করিয়।? সাহিত্যে সৌন্দর্য্য 
কোথায়? মানব চিত্তের সকল বাধা অতিক্রম করিয়া 
সকল সঙ্ধীর্ণতার উপর ফড়াইয়! সত্য চত্ত। ও মনোভাবের 
অভিনব চিত্রাঙ্কনের বিকাশেই সাহিত্যের সৌন্দর্য্য ।” 

“কল্পন! যদি অবাঁধে বিচরণ করিতে না পাইল৮-- 
এ সম্বন্ধেও আমি ১১৩ পৃষ্ঠায় এইরূপ লিখিয়াছি £-- 

পআর্টকে নীতিমার্গ অবলম্বন করিতে বাধ্য করিলে, 
আর্টের স্বাভাবিক বিকাশ নষ্ট হইবে, আর্টি পঙ্গু ও 
কৃত্রিম হইয়া পড়িবে। সুতরীং আর্টকে স্বাধীনভাবে 
আত্মপ্রকাশ করিতে দেওয়াই কবির কর্ম।» ইহার 
উত্তরে আমি লিখিয়াছি £_ 

“এত দিন আমরা কবিকেই নিরস্কুশ বলিয়া 
জানিতাম। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তাহার আট ও থে নিরুশ 
হইবে এন্ধপ কথন শুনি নাই। একজন যোদ্ধা অপেক্ষ। 
যদি তাহার তরবারি অধিকতর স্বাধীন হইয়। উঠে, তবে 
সংসারে অনর্থক মারামারি কাটাকাটির বিলক্ষণ সম্ভাবন] 
*** অতএব আমরা দেখিলাম 917001091১071৫ তাহার 
আর্টের অধীন ছিলেন না, আর্ট তাহার অধীন 
ছিল ।৮ ১১৪ পৃঃ। 

সাহিত্যকে যদি মানব চিত্তের নকল বাধা অতিক্রম 
করিতে হেয়, তবে ব্যাপার যে কতদূর সাংঘাতিক 
হইয়। 'পড়ে ললিত বাবু ভাহা একবার চিন্তা কারয়! 
দেখিয়াছেন কি? কেবল পৌন্দ্ধ্য সৃষ্টি দ্বারা আনন্দ 
দান সাহিত্যের উদ্দেস্ত হইলে "সমাজ ও মন্ুয্বের মঙ্গল” 
থাকে কোথায়? সৌন্দ্্ধ্য মাত্রই মঙ্গল আনয়ন করে 
না। ধরুন একটি পরমন্ুন্দরী সর্বালঙ্কারে ভূষিত! 
রমণীতে স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য ও আর্টের চরম বিকাশ 
হইয়াছে; কিন্তু তাহার নীতিচরিত্র অতি দূষণীয়। 
আমরা ভদ্র পলীতে তাহাকে স্থাপন কয়িয়া তাহাকে 
দেখিয়া আমাদের সৌন্দর্য স্পৃহ! চরিতার্থ করিতে পারি 
কি? না সমাজের মগলের জন্ত আমরা তাহাকে 
বপিতে বাধ্য হইব, “হে সুন্দরি! তুমি অতি স্থুন্দর 
সন্দেহ নাই, কিন্তু তুমি হন্যস্থান খুঁজিয়া লও, যেখানে 
তোমার রূপ ও সৌন্দর্য কলার আদর হইবে।” 


প্রতিবাদের উত্তর 


*৪ট 


আসল কথ! হইতেছে, মানুষ বড় না আট এর়্? 
সমাজ বড় না৷ সাহিত্য বড় ? মানুষের জন্য আর্ট,না আর্টের 
জন্ভ মানুয? সমাজের জন্য সাহিত্য, না সাহিতোর 
জা সমাজ? ফুলের সৌন্দর্যের ন্ায় অন্ত কোন 
সৌন্দর্য পৃথিবীতে নাই এ কথা সকলেই স্বীকার করি- 
করিবেন । বিশ্বজষ্টা সেই ফুলের সৌন্দর্য্য কি কেবল 
মানুষকে আনন্দ দান করিবার জন্যই সৃষ্টি করিয়া 
তাহার আর্টের চরমোৎকর্ষ দেখাইয়াছেন? আহা নহে। 
সেই সৌনর্ধ্য সৃষ্টির অন্তরালে তাহার একটা মঙ্গল ভাব 
নিহিত আছে। ফুলের" সৌন্দর্যের দ্বারা ফলোদ্গমের 
সম্ভাবন| হয়, এবং ফলোদ্গমের দ্বারা স্থষ্টিধারা অব্যাহত 
থাকে, ইহাই তাহার সৌনর্ধ্য স্থষ্টির একমাত্র কারণ 
বলিয়া বোধ হয়। সুতরাং কেবল সৌন্দর্য দেখাইবার 
জন্ত তাহার ফুল স্থষ্ট নহে । কবি যদি বিশ্বকবির স্টায় 
একজন্ন যথার্থ আর্টিষ্ট হন, তবে তাহাকেও এই নিয়ম 
মানিয়া চপিতে হইবে। 

যদি বল, এ সকল কবিও হ্ৃট্টিধারা রক্ষা করিতে 
চান, তবে তাহাদের শিক্ষা কাব্য সৌন্দর্যের অন্তরালে 
গু ভাবে থাকে-ঠিক ফুলের মধ্যে বীজের ন্তায়। 
নীতিশিক্ষকের ন্যায় তাহাদের শিক্ষা সৌন্দর্য্য ছাপিয়া উঠে 
ন|। ইহাতেই তাহাদের প্রকৃত আটর প্রিচয়। 

খুব উচ্চাঙ্গের কাব্যে নীতিশিক্ষা এইরূপ গুপুভাবেই 
থাকে তাহা আমি স্বীকার করি। শকুস্তল! নাটকের 
মধ্যে কি নীতিশিক্ষা নিহিত আছে, তাহা রবীন্দ্রনাথ 
তাহার অতুপনীয় সমালোচন। দ্বারা পরিপ্ম,ট না করিলে 
কে বুঝিতে পারিত? আবার বঙ্কিমচন্দ্র তাহার বিষ- 
বৃক্ষে কি শিক্ষা লাভ হয় তাহ! পাঠকের চক্ষে পাছে 
সহজে ধর! না পড়ে এই ভয়ে তাহ! তিনি নিজেই ব্যাখ্যা 
করিয়াছেন । 

কিন্তু আধুনিক কোন কোন কবি তাহাদের আটের 
দ্বাবা ফুলের স্বগীয় সৌরভ বিস্তার করিবার পরিবর্তে যে 
পুতিগন্ধ বিস্তার করেন, তাহাতে সেই আর্টের অন্তস্তলে 
যে গ্ুশিক্ষা নিহিত আছে সে পর্য্যন্ত পৌছিবার অবকাশ 
দেন কোথায়? তাহারা মানবের অন্তজ্জীবনের ,সুক্ম 


৫০ মানসী ও 





মতীগুলি যেভাবে 0199৩০৮ ( বিশ্লেষণ ) করিয়। দেখান, 
তন্দারা পাঠকের 17101018696 ভোতা! হুইয়। ষায়। 
জ্জামার পুস্তকে আমি একথা লিখিয়াছি £-- 

*্ধরীরবিজ্ঞানবিৎ মানব দেহের গোপনীয় অংশ যে 
ভাবে পরীক্ষা করিয়া দেখান, তাহাতে কাহারও মনে 
রিপুর উত্তেজনা হয় না, কিন্তু কৰি অথবা চিত্রকর 
মগ্র মানব দেহ বা! লমাজকে তীহার শিল্পকলার সাহায্যে 
ধেরূপ লোর্ভনীয় করিয়! চিত্রিত করেন তাহাতে সাধারণ 
মরনারীর মনে ফুভাবের উদয় হওয়াই শ্বাভাবিক |” 
১০৬৭৭ পৃষ্ঠ! | 

*্ঘরে বাইরে” উপন্তাসের নায়িক| বিমল্গাচবিত্রে, 
রৃত্তিকে বড় করিয়! লইয়া চলিলে জীবনে কি বিপত্তি 
ঘটে, কবি তাহা যেমন শিক্ষা! দিয়াছেন, তেমন আবার 
নানা প্রকার ঘটনার মধ্যে পড়িয়া সে কি প্রকারে পাপের 
সিঁড়ি দিয়া ধাপে ধাপে নামিয়া চপ্সিল তাঁহা দেখাঁইতে 
চেষ্টা করিয়া, তাহার প্রতি পাঠকের সহান্ুভৃতি আকর্ষণ 
করিবার বিলক্ষণ চেষ্টা করিয়াছেন এবং তীহার আর্টের 
গুণে তাহা সফলও হইয়াছে। তাই ললিতবাবু বলিতেছেন, 
“নায়িকার ভীবন-ইতিহাসে বিস্ময় এবং করুণায় পুর্ণ 
হই ।” বলা বাহুল্য যেখানে পাপীকে অবস্থার দাগ 
বলিয়া! মনে হয়, (সথানে পাঠক তাহার দোষ দেখিতে 
পায় না। স্মুতরাং কবির যদি কাব্যের অস্তস্তুলে সং 
শক্ষা দেওয়ার চেষ্টা থাকে, তাহা বিফল হইয়া যায়। 

সন্দীপ চবির রচনা প্রসঙ্গে কৰি সীতার উল্লেখ 
করাতে অনেকে তীহার দোষ দিয়াছেন, ললিত বাবু 
রবীন্দ্রনাথকে সমর্থন করিয়। লিথিয়াছেন, "সন্দীপের 


মন্ববানী 


[ ১৫শ ব£--১ম খণ্ড --১ম সংখ্যা 


সি সিসি ৯. ২পাসিলী পাশ শপ 





পাপা 


তাৎকালীন মনের ভাব এ একটি গ্রসঙ্গের দ্বারা যেরূপ 
প্রকাশ হইয়াছে তাঁছা বোধ হয় আর অন্ত কোন প্রকারে 
অমন স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ করিয়া বল! যাইত না" 

সন্দীপের মুখ দিয়া কবি সীত| দেবীর প্রপঙ্গ একট। 
উদাহরণস্বরূপ বাহির করিয়াছেন মাত্র । ধে সীতা দেবী 
ভারতবর্ষে আপামর সাধারণ হিন্দুর নিকট জননীর 
নায় পুজিতা, তাহার নাম এরূপ একটা! খারাপ বিষয়ের 
উদ্দাহরণ স্বরূপ ব্যবহার না করিয়! কবি অন্ত ভাবেও 
সন্দীপের মনোভাব ব্যক্ত করিছে পারিতেন। এ সম্বন্ধে 
আমার পুস্তকে লিখিয়াছি__ 

«কোন গৃহস্থ নিতান্ত সর্বস্বান্ত না হইলে এ "লক্ষ্মীর 
কৌটা*র় পুরুষানুক্রমে রক্ষিত স্বর্ণ মুদ্রা খরচ করিবার 
জন্য বাহির করে না। সাহিতা-সমাটু রবীন্দ্রনাথ ভাৰ- 
রাজ্যের কি এতদূর দরিদ্র হইয়াছিলেন? আবার কোন 
ব্যক্তি নিতান্ত বিপদে ন। পড়িলে নিজের পিতামাতার 
“প্রতি অলঙ্কারোপ করে নাঁ। রবীন্দ্রনাথ এক্প কোন্‌ 
বিপদে পড়িয়াছিলেন? তিনি বিশ্বকবি হইয়!ছেন 
বলিঘ্বা কি জাতীয় ভাবের কোন ধার ধারেন না?” ৮৬ পৃঃ 

ললিত বাবুর প্রবন্ধের প্রধান বক্তব্যগুলির আলো 
চন| করিলাম। ঠিনি যদি কষ্ট হ্বীকার করিয়া আমার 
পুস্তকথানি আবার পাঠ করিয়া তাহার প্রবন্ধটি ছাপিতে 
দিতেন, তবে আমাকে এত কথা৷ লিখিতে হইত না। 
পুস্তক না পড়িয়া! তাহার সমালে!টনা করিলে এইরূপই 
হইস্কাথাকে। 


জ্রীফতীন্দ্রমোহন সিংহ । 


বেঙ্গল আঘ্বুলেন্স কোরের কথা 


অষ্টম পরিচ্ছেদ 
সমুদ্র বক্ষে । 


৭ই জুন ভোর বেলায় আমাদের ট্টামার ছাড়িল। 
যুদ্ধে সাহাযোর জন্ত মান্দাজবাসীরা 7. 230 0. ০০£৩- 


[ঘর এই জাহাজখানি ছুই বংসরের জন্ত ভাড়! 
করিয়। ইহাকে হাসপাতাল জাহাজে পরিণত করিয়া- 
ঠিলেন। ইহাতে প্রায় ১০৭০ রোগীর জন্ত স্থান 
নির্দিষ্ট ছিল। সর্বোচ্চ ডেকে অফিসাসদের থাকিবার 
স্কান। তাহার পর নীচের তিন তালায় সৈম্থদের 


ফাল্গুন, ১৩২৯ | 


বেঙ্গল আ্যাশ্মবুলেন্দ কোরের কণা 





শমান্জরাজ" ইাসপাত!ল জাহাজ 


থাকিবার স্থান। অপেক্ষাকৃত আরামে আসিত 
পারিবে বলিয়া ডেকের উপর সারি সারি [২০৫111761১6 
বা দোলনা-বিছান! প্রস্তুত করা হইয়াছিল। ইহার 
তাৎপর্য এই যে সমুর্রের ঢেউয়ে জাহীজখানি বেশী 
চুলিলেও আহত ও রোগীদের সে জঙ্ত বিশেষ কষ্ট হইবে" 
না। 

জাহাজ যতক্ষণ বাহির সমুদ্রে পৌছায় নাই ততঙ্গণ 


জাহাজের প্রধান অফিদার আম দের কিরূপে সমুদ্রপীড়া, 
হইতে রক্ষা পাণয়া যায় সে সম্বন্ধে উপদেশ দিতে 
লাগিলেন। লোকটা স্কটলাগুবাসী ও বেশ আমুদে। 
তাহার কথিত প্রধান উপাহটি হইতেছে আধপেটা খাইয়া 
দূর সমুদ্রের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া থাকা । জাহাজের বুড়া 
্টিয়ার্ড (খানসাম! বলিল, সোডার সহিত হুইন্কি খাপ, 
ভিতরে ছুলিলে বাহিরের দোলে কিছুই হইবে না। যাহা 





আসার এক 


৫২: 


শয্যাশায়ী হইলেন। তিন দিন শয্যাগত থাকিয়া! চতুর্থ 
দিনে সকলে ফোরক্যাস্লে বাঁ সম্মুখ ভাগের অনাবৃঠ 
ডেকে আসিয়া গায়ে হাওয়া লাগাইলেন। | 

ই্টীমারখানিতে কয়েকজন ইংরাজ ডাক্তার; কয়েকজন 
মান্ত্রাজী ডাক্তার ও কয়েকটি মান্জ্রাজী মেডিকেল কলে- 
জের স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন এবং ইহা ব্যতীত প্রায় 
জন কুড়ি ইইরাজ নার্স ঝা শুশ্রষাকারিণী ছিলেন। 
“বসরা বেস হসপিটাল” হইতে যে সৈন্যদের রোগের জন্ত 
কিংবা আঘাতের জন্য অকর্ম্ণ্য বিবেচনা করা হইত 
তাহাদের ভারতবর্ষে ফিরাইয়া লইয়। আসা হইত। 
পমান্ত্রীজ হস্পিটাপ শ্রিপ” এই কার্যোর ভস্ তিষুক্ত ছিল। 
কখনও মোসাপটোমিয়ায় কখনও পূর্ব আফ্রিকা যাইয়া 
রুগ সৈন্ঠদিগকে লইয়! আসিত। 

জাহাজ ছাড়িবার পূর্বমুহূর্ত পধ্যন্ত আমর! কোথায় 
যাইতেছি তাহার -ঠিক খবর জান! যায় নাই। সমুদ্রে 
পৌছাইয়া দিয় যখন পাইলট জাহাজ হইতে নামিয়া 
যায়, তখন যুদ্ধকালীন ব্যবস্থামত কাগ্ডেন সাহেব 
সরকারী শীণমোহর করা ব্যবস্থাপত্র খুলিয়া, নির্দেশ 
মত বসরা অভিমুখে জাহাজ চালাইলেন। 

ঈনমুুনের পূর্ণ প্রচকাপ বালয়া সমুদ্র সে সময় অতিশঙস 
তরঙগায়িত ছিল। অবিরাম ঢেউয়ের সহিত যুদ্ধ করিয়া 
জাহাজ চলিতে লাগিল। যে শিকে দৃষ্টিপাত করা যায়, 
সেইদিকেই শুধু কৃষ্ণবর্ণ অনীম জলরাশির উদ্দাম নৃত্য। 
ঢেউগুলি একটির পর একটি শ্রেণীবদ্ধ হইয়া! পূর্বদিকে 
ছুটিতেছে, সে শ্রেণীরও অন্ত নাই, যতদুর দৃষ্টি চলে, 
চক্রবাল-রেখার প্রান্ত হইতে জাহাজের খোল পর্ধ্স্ত 
কেবলই শুভ্রফেনশীর্য তরঙ্গের শ্রেণী। জাহাজ বামে 
দক্ষিণে ছুলিতে ছুলিতে লাফাইয়৷ লাফাইয়! ঢেউগুলি 
অতিক্রম করিতে লাগিল। মধ্যে মধ্যে এক একটা ঢেউ 
আলিয় জাহাজের অনাবৃত ফোরক্যাসলের উপর দিয়া 
যুইতে লাগিল। 

আরব সাগরে যে পাঁচদিন থাকিতে হইল, সে 
কয়দিনই ২এই অবিশ্রান্ত ঝড়ের মধ্য দিয়া জাহাজ 


মানসী ও মন্মবাণী 


[ ১৫শ বর্_১ম খ€্--১ম সংখ্যা 





চলিল। প্রথম তিন দিন সমুদ্রগীড়ার জন্য কাহারও 
আহার করিবার সামর্থ্য ছিল না। আমাদের দলের “ওল্ড 
সেলর' ডাক্তার বাগঠীর উপদেশ মত তেঁতুল ও গুড় 
সহযোগে ভিজা চি'ড়া খাইয়৷ সকলে ক্ষুধা নিবৃত্ত 





লেফটেনেন্ট পি, কে, গুপ্ত 


করিতাম। তিন দিন পরে সকলে সুস্থ হইয়া উটিলাম। 
আমাদের দলের আর একজন “ওল্ড সেলর' কয়েকবার 
হ'কং গিয়াছিলেন, কিন্তু এবার তিনি জাহাজ বসোরায় 
লঙ্গর করিবার পুর্ব পর্যন্ত শধ্যাত্যাগ করিতে পারিলেন 
ন1। ডাক্তার বাগচী যখন তাহাকে বিছানার নিকট 


ফাঙ্ন, ১৩২৯] 


আসিয়। উপহাস করিতেন, তখন তিনি 
বলিতেন যে, "এযে আরব সাগর, এতো 
প্রশান্ত সাগর নয়।” 

জাহাজের ট্িউয়ার্ড বা সর্দার খান- 
সামাটা এ সময় আমাদের বড় উপকার 
করিয়াছিল। সে প্রকাণ্ড একটি জগে 
করিয়৷ লেবুর সরবৎ লইয়া আসিয়! 
আমাদের বিতরণ করিত এবং আমরা 
নুস্থ হইয়া উঠিলে সন্তায় জাহাজের 
খানা খাওয়াইত। লোকটার মুখে 
ইংরাজি শুনিয়া আমরা তাহাকে 
গোয়ানিজ তাবিয়াছিলাম। কিস্ত 
আমর! যেদিন বসরাঁয় নামিয়া যাইব 
সেদিন দে আমাদের দিগারেট বিক্রয় 
করিতে করিতে বলিয়া উঠিল, “ওরে 
ছোড়ারা, বেশী খেজুর খাসনি, ফোা 
হবে।” তখন আমাদের কৌতুহল 
নিবারণের জন্ত বলিল, সে বাঙ্গালী, 
খিদিরপুরে তাহার বাড়ী। জাহাজের 
বৈছ্যাতিক ইহঞ্জিনিয়ারটীাও বাঙ্গালী 
ছিলেন। 

স্থলে সৈম্তনিবাসের স্তায় জাহাজেও 
রাত্র ৯টার সময় বিগল বাজাইয়া 
আলো নিবাইয়া দেওয়া হইত। 
কেবল জাহাজের ছই পাশে হুইটা বড় 
বড় রেচক্রশ চিহ্নের উপর তীব্র আলো জলিত। 
পাছে শক্রর সাবমেরিন অন্ধকারে চিনিতে না পারিয়া 
টপাভে। ছোড়ে সেই জন্তই হাসপাতাল জাহাজের চিহ্ন 
রেডক্রশ দুইটা আলো! জালাইয়! দেখান হইত। 

ষষ্ট দিনে জাহাজ ওমান উপসাগর অতিক্রম করিয়! 
অরমুজ প্রণালী বহিয়া পারস্ত উপসাগরে প্রবেশ 
করিল। এদিকে মনস্থুনের বাতাম নাই বলিয়া সমুদ্র 
একেবারে সমতল । আরব সাগরের জল দেখিতে ঘোর 
কৃষ্ণবর্ণ ও নিকট গা নীলবর্ণ, কিন্তু পারশ্ত উপসাগরের 


বেঙ্গল আ্যান্থুলেন্ন কোরের কণ 





৫৩ 


বময়াবাসী আরব ভন্রলোক, তাহার স্ত্রী ও ভৃত্য 


জল ঈষৎ হরিদ্রাত ও জলজ উদ্িদে পূর্ণ। আরব 
সাগরে যে উড়ুক্ধ, মাছের ঝাঁক দেখা যাইত, এখানে 
তাহার! অদৃষ্ত হইল। 

পারস্ত উপসাগরে পড়িয়াই অতিশয় গরম অন্থভব 
করিতে লাগিলম। বামে আরবের ধুসর বৌদ্ধ 
তটভুমি ও বছদূরে পারশ্ঠের সুনীল পর্বতরাজি দৃটি- 
গোচর হইতে লাগিল। সপ্তম দিবসে পারশ্ত উপপাগর 
ত্যাগ করিয়া সটখল-আরব বা টাইগ্রিস ও ইউ্ফ্রেটিস 
নদীর সুম্মিলিত প্রবাহের মুখে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। 





মানসী ও মশুবানী 


| ১৫এ বষ-_১ম খ৬্-১ম পংখা 





রা 
* এ ক এ 


কাফিখানায় ইর়াকদেশীয় লৌক 


নদীতে জল অগভীর বলিয়া সট-এল-আরবের মুখ হইতে 
ব্রা পর্যান্ত লইয়া যাইবার জন্য অষ্টীয়ানদের একখানি 
19:15 91১11) বা কয়েদকর] জানাজ “্ান্স ফাডিনাও" 
উপস্থিত হইল। এই দ্বিতীয় জাহাজ'নিতে প্রীয় 
পাচ শত রুগ্ন দেশীয় সিপাহী ছিল। আমরা তাহাদের 
্্রেগোরে করিয়! মান্াজ হাসপাতাল জাহাজে উঠাইয়া 
দিলাম। আমরা একটু সঙ্গীতপ্রিয় বলিয়৷ মান্্রাজ 
জাহাজের একজন কর্মচারী মেমোপটেমিয়া যাত্রী 
কয়েকজন দেশীয় ও ইংরাঁজ কর্মচারীর নিকটে আমাদের 
উপহাস করিয়াছিলেন। কিন্তু ফ্রান্স ফাডিনাণ্ডের 
সিপাহীদের সুখ্যাতি করিলেন এবং আমাদেন সহিত 
আলাপে প্রবৃত্ত হইলেন। রাত্রে পাশাপাশি দুইটা জাহাজ 
নঙগর করিয়া থাকিল। 

১খুই জুলাই ভোর বেলায় মান্দ্রাজ জাহাজ নঙ্গর 
ভুলিল। কর্ণেল নট বার্গালা দেশের পক্ষ হইতে মান্দ্রাজ 
জাহাজের অধ,ক্ষ 00190] (৮৭ (গিফার্ড ) এর 
নিকট মান্দ্রাজবাসীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিলেন। 
আমরা 'মান্দ্রাজ জাহাজের আতিথেয়তার জন্তা তিনবার 


ষ 


জয়ধ্বনি করিলাম এবং নিজেরাও নগ্গর তুলিয়া বসরা 
অভিমুখে যাত্রা করিলাম। 

কিছুদূর আলিয়া দেখিলাম যে নদীর গর্ভ তিনখানি 
সমুদ্রগামী জাহাজ নিমজ্জিত অবস্থায় রহিয়াছে । আমাদের 
জাহাজের একজন গোর! সৈনিক বণিল যে তুকীরা হটিয়! 
যাইবার সময় এগুলি মাইন সহযোগে উড়াইয়া জলঃগ্ন 
করিয়াছে, উদ্দেশ্তী পশ্চাৎ-ধাঁবমান 1256 [101 
৯100019 বা পুর্ব্ব ভারতীন্ মানোয়াণী জাহাজ গুলির 
গতিরোধ করা । এখন এই গ্ামারগুলিকে সরাইয়া নদীর 
উত্তর পারে ব্রাখা হইয়াছে । এখানে সট্‌-এল-আরব 
নদীর প্রসার প্রায় দেড়মাইল হইবে। 

বেলা প্রায় ওটার সময় বসরা পৌছিলাম। সাটেল 
আরবের মুখ হইতে বসরা পর্যন্ত ছুই পারের দৃপ্ত প্রায় 
বাঙ্গালা দেশের মত। নদীর ঢুইধারে ছোট ছোট গ্রাম, 
ঘরগুলি মাটির নির্মিত। প্রধান উল্লেখযোগ্য 
দৃশ্ত নদীর উভয় পার্খের ঘন খেজুর গাছের বাগান । 
এক থেজুর গাছ ভিন্ন অন্ত কোনঃ গাছ দৃষ্টিগোসর 
হইল না। এই পঞ্চাশ মাইল পথ অতিক্রম করিতে 


ফাল, ১৩২৯] 


বেঙ্গল আন্বলেন্ন কোরের কথা ৫ 





বেছুইন জীবন 


উভয় পার্থে কেবল মাহ সুদীর্ঘ ও ম্পু্ট খেজুর গাছই 
দেখিতে লাগিলাম। 

বসরার যে স্থানে আমাদের জাহাজ আসিল তাহার 
সম্মুখে অসংখ্য সেনানিবাস ও হাসপাতাল দেখলাম। 
নদীর ধারে এই স্থানটিকে 'আসার' বলে, পুরাতন বস্রা 
ইহা অপেক্ষা চারি মাইল দুরে ভিতর দিকে অবস্থিত। 
সে রাত্রে আমাদের জাহাজেই বাদ করিবার হুকুম 
হইল। 


নবম পরিচ্ছেদ 


নদী পথে। 


বগর। নিম্ন মেসে.পটে ময়ার বা ইরাকের একটি প্রধান 
সহর। প্রায় ৬ হাজার অধিবাসী বস্রা সহরে বাস 
করে। মেসোপটেমিয়। আক্রমণ করিবার ভার ৬ 


মংখ্যক পুণা বাহিনীর উপর পড়িয়াছিল। পূর্ব্ব ভার- 
তীয় নৌবহরের তোপের আড়ালে সর্ব প্রথম বিগ্রেডটি 
জেনারেল ডিলা মেইনের নেতৃত্বে 'ফাও' নামক স্থানে 
অবতরণ করে এবং ঘণ্টাকয়েক মুদ্ধের পর স্থানটিকে 
অধিকার করিয়। লয় । এখানে তুকীদের একটি 
ফাড়ি বা 040১08৮ ছিল। কয়েক দল সৈন্য, একটি 
তোপখানা € একটি টেলিগ্রাফ আফিন এখানে অবস্থান 
করিতেছিল। ইহার ডিভিগনের অন্ত ছুইটি বিগ্রেড 
ফাওতে অবতরণ করে এবং ছোটখাট আর কয়েকটি 
যুদ্ধের পর বসরা হইতে ছয় মাইল দক্ষিণে সইবা নামক 
স্থানে তুঃক্ষের বাহিনীর সহিত তিনদিন ঘোর যুদ্ধের 
পূর জেনারেল ব্যাটে বসর! অধিকার করিয়া লয়েন। 
এই ৬ষ্ঠ সংখ্যক বাহুনীর নেতা জেনারেল টাউন- 
সে্ড। ইহার অধীনে ডিলামেইন, মেসিল, হটন 
প্রভৃতি কয়েকজন অধিনায়ক ছিলেন । ইহ! ব্যতীত, একটি 


৫৬ 


আিলারি বিগ্রেড ও ক্যাভালরি বিগ্রেড এই অভিযানে 
যোগ দিয়াছিল। বসরা অধিকার করিবার কিছু পরে 
ব্যারেট ভারতবর্ষে প্রত্যাবর্তন করেন এবং দক্ষিণভা বূতেয় 
সেনাপতি জেনারেল নিক্সন (২15০: ) মেসোপটে মিয়ার 
প্রধান সেনাপতি নির্বাচিত হন । 

আমরা! যে সময় বসরা পৌছাই, সে সময় আক্রমণ- 
কারী বাহিনীর অগ্রগামী দল কুরণার যুদ্ধে তুকাদিগকে 
পুনরায় পরাজিত করিয়া টাইগ্রিস নদীর বামপার্ন্ 
'আ-মারা' স£র অধিকার করিয়াছে। আ-মারায় একটা 
ট্েশনারি হম্পিট্যাল স্থাপিত হওয়া প্রয়োজন বলিয়া 
আমানের আমারায় অগ্রসর হইবার আদেশ দেওয়া হইল। 
এষ সংখাক বাহিনী টাইগ্রিসের পথে তুরক্ষের পশ্চাদ্গামী 
সৈম্তদিগকে আক্রমণ করিতেছিল এবং জেনারেল গরিপ্ী 
ইউফে.টিসের পথে তাহাদিগের পশ্চাৎ ধাবন করিতে- 
ছিলেন। | 

বৈকালে মেডিকাল বিভাগের ডিরেক্টর 3015001 
0601614.1 1720105 জাহাজে আসিয়া আমাদের 
পর্যাবেক্ষণ করিলেন। 


মানসী ও মর্ম্মবাণী 


[ ১৫শ বধ--১ম খণ্ড--"১ম সংখ্য। 


পরদিন ভোরবেলায় লেফটেনান্ট গুপ্তের অধীনে 
নৌকাযোগে আমরা তীরে অবতরণ করিলাম এ*ং 
আসারে খানিকটা! বেড়াইয়৷ আসিলাম। বাখরগঞ্জ 
জেলার গগুগ্রথমের স্থায় আসার অনেকগুলি খালের 
দ্বারা বিভক্ত, এ খালগুলি অধিকাংশই কৃত্রিম। গখেঞ্জুর 
বাগানে জলের বন্দোবস্ত করিবার জন্য এগুলি কাট 
হইয়াছে। সর্বাপেক্ষ। বুহৎ খাল, আসার ক্রীক্‌, 
বপর! সহরের মধা দিয়া গিয়াছে । এই থালটিই আসার 
এবং বসরার প্রধান রাজপথ ৰলা যাইতে পারে। 
অসংখা ছোট ছোট নৌকা খাল দিয়া যাতায়ত করিতে 
ছিল। কোনওটিতে তরমুজ ও ফুটি বোঝাই, কোনওটিতে 
গ্রাম্য বেছুইন বুমণীরা দুধ ও দই লইয়া যাইতেছে, কোন- 
টিতে আবার রেশমী কাপড়ে রঙের বাহার তুলিয়! 
ইছদী পুরুষ ও রমণীর! যাত্রা করিয়াছে। 

আমরা আসার ক্রীক হইতে দক্ষিণদিকে একটি ছোট 
গ্রামের মধো অমিলাম এবং একটি খেজুর বাগানের ছায়ায় 
বিশ্রাম করিতে লাগিলাম। এখানকার খেজুর গাছগুলি 
দেখিতে আমাদের দেশের নারিকেল গাছের স্তায় বড 





বেছুইন জীবন । বাতা পিবতেছে 


ফাল্গুন, ১৩২৯ ] 


এবং পাতাগুলি দীর্ঘ ও পুষ্ট। গাছের উপরের 
অপ থেজুরগুলি আমাদের দেশের নারিকেলি কুলের 
ন্যায় বড় বড় ও রসাল। গাছের অপৰ ফলগুলির প্রতি 
অতগুলি লোককে দৃষ্টিপাত করিতে দেখিয়৷ একটি 
বুদ্ধ একটি ছোট চাঙ্গারিতে কতকগুলি পাকা ফল 
আনিয়। আমাদের বিতরণ করিল। থেজুরগাছই ইরাকের 
গৃহস্থের প্রধান অবলম্বন বলিয়া দখলকারী সৈশ্যগণের 
হম্ত হইতে সেগুলি রক্ষা করিবার জন্য সামরিক কর্তৃপক্ষ 
প্রতি রেজিমেন্টে ঘোষণা! করিত্বা দিয়াছিলেন যে, খেজুর 
গাছ হইতে ফল পাড়িলে সামরিক আইন অনুসারে 
দণ্ডনীয় হইতে হইবে। 

স্লীমারে প্রত্যাবর্তন করিয়া আমরা কেহ কেহ 
পুনরায় ছে'টি বালাম বা নৌকাযোগে আসার 
বাজারে বেড়াইতে গেলাম । আসার সহরের রাস্তাগুলি 
অপ্রশস্ত, কিন্তু বেশ পরিষ্কার বলিয়া বোধ হইতে 
লাগিল। ব্রাস্তার উভয় পার্খে বৌদ্রদগ্ধ ইঞ্টকের গৃহ ও 
দৌকান। দৌকানের অধিকারী প্রায়ই ইছদী। কাপড়ের 
দোকানগুলির মালীক আরব দেশীয় বলিয়াই বোধ 
হইল। বাজারে মাছ তরকারী প্রভৃতি বিক্রয় হইতেছে, 
বিক্রেতা সকলেই গ্রামবাসী বেছু ন কিংবা নদীর উত্তর 
পারে ইরাণী। ছুগ্ধ, দধি, গৃহে প্রস্তুত চিড়া, প্রভৃতি 
রমণীর! বিক্রয় করিতেছে। বৃহৎ ও স্থায়ী দোকানের 
মালীকেরা! প্রায়ই হিন্দী বলিতে পারে। মেসোপটে- 
মিয়ার বাণিজ্য বোম্বাই ও করাচী হইতে পণ্যদ্রব্য সংগ্রহ 
করিয়া হয়, এবং ব্যাপার উপলক্ষে প্রায়ই বোস্বাই যাইতে 
হয় বলিয়৷ বসরার সওদাগরের! অনেকেই হিন্দি বলিতে 
পারে। পারস্তের বহি্বাণিজ্যও বোশ্বাই ও করাচী 
হইতে প্রমিত 

কতকগুলি প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করিয়া আমর! 
কয়েকজনে একটি কাফিখানায় আহার করিতে প্রবেশ 
করিলাম। দৌকানটিতে থেজুরেরর ডালে টৈয়ারী 
কতকগুলি বড় বড় লম্বাকৃতি ডাইভান নামক আসন ও 
একটি লম্বা টেবিল। ছোট কাচের পেয়ালায় করিয়! 
ছৃগ্ধবিহীন পারম্ত দেশীয় সুগন্ধী চা ও তুন্দুরে প্রস্তুত 


বেঙ্গল আ্যা্দুলেন্দ কোরের কথা 


৭ 


চাপার্টির মত বের রুটা বা খবুস্‌ দিয়া গেল। কাবার্বের 
সহিত এক প্রকার লম্বা সুগন্ধী ঘাস ইহার; আহার 
করিয়া থাকে । কাফি প্রস্ততের পাত্রগুলি এক একটি 
জাঁলার ন্যায় বড় হয়। 
মারে ফিরিয়া! দেখিলাম যে কয়েকটি গ্রামবাসী 
আবার নৌকায় করিয়া আঙ্গুর বিক্রয় করিতে আসিয়াছে। 
ছুই আনায় ১ হোক্‌ বা পাচ পোয়া। ইহার পর লোক 
ংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জিনিষ পত্রের দামও চড়িয় 
গিয়াছিল। গ্যাঙ্গওয়ের ধারে দেখিলান রায় ও ঘোষ 
হুই লাম্দনায়েক চক্ষু বুজিয়া হা করিয়া পড়ি! আছে। 
পর্যাপ্ত আর দেখিয়! প্রায় ৬৭ জনই প্রত্যেকে ১ সের 
করিয়া ফল কিপিতেছে বলিয়া, ইহারা বুদ্ধিমানের থস্থা 
অবলগ্থন করি! সাধু সাজিয়াছিলেন, এক একজন উপরে 
উঠিয়া! যাইতেছে আর ই'হারা অঙ্গুলি নির্দেশে নিজ নিঞ্জ 
উন্মুক্ত" মুখ গহ্বর দেখাইয়া দিতেছেন। কেহ ছুইটি কেহ 
* চারিটি করিয়া ফল সেইখানে নিক্ষেপ কব্রিতেছে। কিছুক্ষণ 
পর উদরাময়ের আশঙ্কা করিয়া সাধুদ্বঃ পৃষ্ঠভঙ্গ দিলেন। 
জাহাজের অন্যান্য কর্মচারীরা সুকৌতুকে এই দৃশ্ত 
দেখিতেছিল। 
সেদিনও আমরা “ফ্রান্স ফাঙিনাও জাহাজেই বাম 
করিলাম। তৃতীক্ব দিনে বৈকালে একখানি নদীগামী 
চাকাওয়ালা স্টীমার আসিগা জাহাজে লাগিল। আমরা 
সুনিলাম যে তাহার পর দিন আহারাদির পর আমাদিগকে 
শর গ্বীমার্টীতে আরোহণ করিগজ! আ-মারা সহরে যার! 
করিতে হইবে। 
পর দিন ভোর বেল! হইতে আমাদের জিনিস পত্র 
সেই ্রীমারে সরাইতে লাগিলাম। বেলা ঢারিটার 
সময় সকলে মিলিয়া তাহাতে গিয়া উঠিলাম । এই 
্রমারগুলি ব্রহ্মদেশীয় ইরাবতী নদী হইতে সমুদ্রযোগে 
এতদুর আনীত হইয়াছে। অনেকগুলি পূর্ববঙ্গের 
পুলিশ লঞ্চও মেসোপটেমিয়্ার নদী ছুইটিতে তখন কার্য্য 
করিতেছিল। ইহা ব্যতীত মেসোপটেমিয়ার লিঞ্চ 
কোম্পানী নামক ইংরাজ জাহাজ কোম্পানীর '্রীমার- 
গুলিও সৈম্ত বিভাগ নিজের কাজে লাগাইতেছিলেন।* 


৫৮ 


“কিছুদূর অগ্রসর হইলে আমরা সট-এল-আরব ত্যাগ 
করিয়া টাইগ্রীস নদীতে প্রবেশ করিলাম। স্থানটি 
বসরা হইতে প্রায় ৪* মাইল পশ্চিমে । ইহারই বাম- 
দিকে যে জলাভূমি দৃষ্টিগোচর হয় ইহুদীরা তাহাকেই 
বাইবেলের পুরাতন ইডেন গার্ডেনের স্থান বলিয়া নির্দেশ 
করে এবং নিরক্ষর ভক্তের! এখনও একটি বছ পুরাতন 
ডুমুর গাছকে তাহাদের শাস্ত্রে বর্ণিত জ্ঞানবৃক্ষ বলিয়৷ 
ভক্ষি সহকারে দর্শন করিতে যায়। সন্ধ্যার সময় 
আমাদের বীমার সেখানেই নগর করিল। 

বছদিন যাবত লোনাজলে স্নান করিয়া যে অস্বস্তি 
বোধ হইতেছিল, তাহার লাঘবের জন্ত আমর! কেহ 
কেহ নদীতে লম্ষ প্রদ্দান করিয়া স্নান সমাধা করিয়া 
লইলাম। নদীর আ্রোত অতিশয় প্রথর এবং এই 
ত্রোতের প্রথরতার জন্যই ইহাকে পুরাকালীন গ্রীকেরা 
টাইগ্রীস বা ধনুকের তীর নাম দিয়াছিল। সন্ধ্যার 
অন্ধকার যতই ঘনাইয়! আ্বাসিতে লাগিল, ততই তীরের 
শবাযমান মশকে ঝণাক আমাদের গ্রীমারকে আক্রমণ 
করিতে লাগিল। সম্নদ্রর নিকটবর্তী এই স্থান্টার 
জমি অপেক্ষ কৃত কোমণ বলিয়া! টাইগ্রীস ও ইউফে'টাস 
বার বার এখানে দ্বিক পরিবর্তন করিয়াছে এবং সেই 
জন্তই চারিদিকে খড় বড় বিল ও জলাভূমির সৃষ্টি হইয়াছে। 
মশকের অত্যাচারে মেসোপটেমিয়ার এই অংশ ম্যালে- 
রিয়ার আক্রান্ত। কত দিন ধরিয়া এই টাইগ্রীস 
ইউফে.টিসের নাম পাঠ করিতেছি । কখনও পাঠারূপে 
কখনও বা মনোরম উপন্যাসের বর্ণনার বিষয়ীভূত হইয়। 
ইহারা আমাদের মানসনেত্রের সম্গুথে ভাসিয়াছে, 
আবম স্বচক্ষে সেই ইতিহাস বিশ্রুত নদী ছুইটা দেখিয়া 
বড় আনন্দলাভ করিলাম! এই নদী ছুইটির ধার 
বহিয়্াই দশ সহ গ্রীকৃ যোদ্ধার সহিত জেনোফন্‌ 
, স্বদেণ যাত্রা কারয়াছিলেন এবং ইহার খরশ্রোতেই 
তরণীমুক্ত করিয়া সিন্দাবাদ নাবিক সমুদ্র যাত্রা করিত। 

বসর। হইতে যাত্রা করিবার সময় আমাদের 
রস্দ ট্রামারে উঠাইয়া লইগ/ছিলাম, সেই সঙ্গে আমা- 
দের কষেক বস্তা ভাজ ছোল! ও গুড় দেওয়া হইয়াছিল। 


মানসী ও মর্ন্মবানী 


| ১৫শ বধ--১ম খণ্ড--১ম সংখ্য। 


সে রাত্রে আমরা সেই ছোলা! ভাজ! ও গুড় দিয়া আহার 
সমাধা করিলাম। বসরা হইতে ক্রীত প্রচুর আম্ুর, 
ফুটি ও তরমুজ প্রভৃতিও আমাদের সঙ্গে যথেষ্ট ছিল। 

পরদিন প্রতাষে আবার ট্রীমার চলিতে আরম্ত 
করিল। বেলা প্রায় ৯টার সময কুর্ণা নামক সহরে 
পৌছিল। কুর্ণা একটি ছোট সহর। নদীর ছুই ধারে 
তুর্কিদের তৈয়ারী ট্রেঞ্চ শ্রেণী তখনও বর্তমান ছিল। 
্টামার দেখিতে বহুলোক ঘাটে আসিয়! সমবেত হইল। 
তাগারা সকলেই আরব ।” স্ত্রী পুরুষ বালক বালিক৷ 
সকলেই সে দলে উপস্থিত ছিল। সগ্ভোবিজিত অধিবাঁসী- 
দের যেব্নপ সসঙ্কোচ ভাব থাক! স্বাভাবিক ইহাদের 
তাহা নাই দেখিয়া আনন্দিত হইলাম। বুটিশ পতাকার 
অমর্ধ্যাদা ইংরাজ কি ভারতবর্ষীয় সিপাহী কাহারও দ্বারা 
হয় নাই। যদি যুদ্ধজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই ইহারা বৃটিশ 
কর্চারীদের নিকট সদয় ও নির্ভয় ব্যবহার ন| 
পাইত, তাহা হইলে এইরূপ অসঙ্কোচে স্ত্রী পুরুষ একত্র 
জাহাজ দেখিতে কখনই আসিতে পারিত ন|। 

কুর্ণা হইতে একদল পাঞ্জাবী সৈম্ভ আমাদের ট্রীমারে 
উঠিল এবং একখানি তর্দেশীয় বাল্লীম বাঁ বজরা! প্ামারের 
সহিত বীধিয়! দেওয়া হইল। তাহার উপর হারিয়ান! 
লাম্স!র্দ নামক অশ্বীরোহী দলের রিশালদার মেজর ও 
কয়েকটি সওয়ার আম্মারায় যাইতেছিল। পাঞ্জাবীদের 
অধিনংরনুক একজন জমদারও ট্রামারে উঠিলেন। 

কয়েক ঘণ্টার পরই কুর্ণা হইতে ট্ীমার ছাড়িল এবং 
পুনরায় পশ্চিম দিকে চলিতে আরম কারল। নদীর 
ছুধারে মধ্যে মধ্যে গ্রাম্য আরবী বা বেছইনদের আড্ড| 
দেখিতে লাগিলাম। ইহারা! ধাযাবর জাতি বলিয়া 
কখনও কোথায় স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ করে না। খেজুরের 
পাতা নির্িত কয়েকটী চাল! ও ভেড়ার লোমের প্রকাণ্ড 
তাঘুইঈ ইহাদের প্রধান বাসস্থান। কোনও কোনও 
স্থানে মাটির ঘরও দেখিলাম। ইহাদের অধিবাসীর! 
কৃষি ব্যবসায়ী বেছুইন বলিয়া গুনিতে পাইলাম। ইহাদের 
সম্বন্ধে সহর বর্ণনাকালে বারাস্তরে বলিবার হচ্ছ! 
থাকিল। 


ফান্তুনঃ ১৩২৯ ] 


সেদিন ভোর হইতেই প্রধান চিন্তা হইল, আহার্যয 
প্রস্তুতের উপায়। ট্টীমারে মাত্র একটি পাকশালা 
তাহাতে অফিণারদের পাক হইতেই প্রায় ১২টা বাজিয়া 
গেল এবং তাহার পর জাহাজের খালাসীর! নিজেদের 
পাক করিতে আরস্ত কব্রিল। আমাদের জন্য উনান 
ছাড়িয়া দেওয়া হইল বেলা তিনটার সময়। চাল ও 
ডাল একসঙ্গে চাপাইয়া৷ লান্স নায়েক রায় পাকের ভার 
লইলেন। কিন্তু প্রায় ঘণ্টাখানেক পরেই দলস্থ একজনের 
চীতৎকারে নীচে নামিয়া “দেখি যে পাঞ্জাবীদের 
জমাদার তাহার দলের লোকের কুটী সেকিবার জন্ত 
রায়কে তাহার ডেকৃচি নামাইঙে বলার সে নামায় নাই 
বলিয়া, জোর করিয়া তাহ! কার্য পরিণত করার চেষ্টা 
করায় রায়ের হাতে প্রহাত্র খাইয়়াছে। ক্রোধোন্মত্ত 
একজন পাঞ্জাবী হাঁবিলদার চীৎকার করিয়া বলিতেছে 
“তোন আযায়লা বেকুফ্‌ ভাঁয় কি সর্দারকো মার ' দিয়া, 
চলা আও কোই শিব জাঠ হায়?” নিজে তাহাদের, 
থামাইতে অনুপযুক্ত বিবেচনা করিয়া তৎক্ষণাৎ চম্পটী 
বাবুকে সংবাদ দিলাঁন এবং আমাদের ওস্তাদ বাঘ সিংও 
আপিয়া জুটিল। বন্ুমিষ্ট কথার পর সিপাহীর দল ঠাণ্ডা 
হইল। রান্ন শনাগ্রার্থনা করিল। আমাদের ছোলা- 
ভাজার এ:বস্তা শিখদের অর্পণ করিলাম। তাহার! 
পরম সন্তষ্টচিত্তে তাহা লইয়া গেল ও আমাদের অসংখ্য 
ধন্যবাদ দিল। তাহাদের সবুল ব্যবহারে, আমরা 
আমাদের অপরাধের জন্য বহু ক্ষমাপ্রীর্থনা করিলাম ও 
শীম্ই তাহাদের পরম বন্ধু্ূপে পরিগণিত হইলাম। 
তাহারা বলিল যে পথ পর্যটনের জন্ত তাহারা দুদিন 
কিছুই খায় নাই, তাই এত তাড়াতাড়ি করিয়াছে; তা 
না হইলে অনাহারে থাক1 তো সিপাহীরদের দৈনন্দিন 
কার্্য। 

আমাদের ই্ীমারে কয়েকজন ইংরাজ সৈন্তও 
উঠিয়াছিল। তাহার! তাহাদের সঙ্গে 40) 10150875 
ও টিনে রক্ষিত মাংসদ্ধারা আহার সমাধা করিয়া লইল। 


বেঙ্গল আ্যাম্থুলেন্স কোরের কথ! 


৫ 


যুদ্ধের সময় যখন কখন কোথায় যাইতে হইবে কিছুই 
ঠিক নাই, তখন এবপ প্রস্তত ও রক্ষিত আহারের বিশেষ 
উপকারিতা আছে। ভারতীয় সৈম্তবিভাগে এ পিদ্মটি 
কর্তৃপন্ষীয়েরা প্রচঙ্গন করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। 
গুনিয়াছিলাম এক রাজপুত রেজিমেন্টের কর্ণেল 
প্রত্যেককে কীচা আটা ডাল ন! দিয়া ব্রাহ্মণ প্রস্তত 
রুটি খাওয়াইতে চেষ্টা করিয়াছিলেন কিন্ধু জাতিভেদের 
কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ হিন্দু সিপাহীর! তাহাতে রুষ্ট হইয়া 
উঠে। সেইজন্ত সিপাহীদিগকে প্রতিজন পিছু আটা, 
ডাঁল, ঘি, কাঠ রসদ 1বিভাগ হইতে দেওয়া হত এবং 
ইহ! স্বচক্ষে প্রত্যক্ষও করিয়াছি যে অভিযানের অর্ধেক 
কষ্ট হিন্দস্থানী সিপাহীরা৷ এই সংকীর্ণ 51 দোষের, জন্য 
ভোগ করিত। আমরা বাঙ্গালীরা যদিও প্রস্তত খাগ্য 
ও টিনে রক্ষিত থাগ্ঠ খাইতে প্রপ্তত ছিলাম, তথাপি 
হিনদুগ্থানী সিপাহীর শ্রেণীভুক্ত বলির! সেই কীচা রেশনই 
প্রাপ্ত হইতাম। অন্তকোন দেশীয় ফৌজের তুলনায় 


ভাবুতব্ীয় ফৌজের কর্মকুশলতা এই একটি 
কারণেই অনেকট! লাঘব হইয়! পড়ে। 
সেদিন »্সহ্থ গরম পড়িয়ায়াছিল। চারিদিকে 


প্রথব্র রৌদ্র, ্টীমারটিও তীষণ গরম হইয়াছিল বলিয়াই 
কর্ণেল হইতে আরম্ভ করিয়া! আমরা সকলেই প্র'য় 
অর্ধনগ্ন গাত্রে থাকলাম। দূরে চক্রবালের নিকট 
গাছগুলি খুব বড় বড় দেখাইতেছিল। কর্ণেল বলিলেন 
উহাও একরূপ মৃগতৃষ্চিক]। 

প্রায় তিনদিন নদী বহিয়৷ ১৬ই জুলাই তারিখ আমরা 
বৈকালে আমার! সহরে পৌছাইলাম। সহরের নীচে 
নদীর পাড় প্রান্ন একমাইল ধরিয়া ইটের পোস্তা দিয়া 
বাধান। সন্ুখেই তৃক্কা দৈন্যের সেনানিবাদ। তাহাদের 
খুটায় তখন ইউনিয়ম জ্যাক উড়িতেছিল। সে রাত্রে 
আমরা স্টামারেই থাকিলাম। র 

ক্রমশঃ 


শ্রীপ্রকুল্লচন্দ্র সেন। 


উঞ্ত 


মানসী ও মর্্মবাণী 


[ ১৫শ বর্ষ--১ম খণ্ড --১ম সংখ্যা 


নিন্রাতুরা 


(গল্প) 


গভীর রাত্রি। বারবছরের বালিকা নন্দরাণী দোলন! 
দোলাইতে দৌলাইতে দোলনায় শয়ান শিশুটিকে" শান্ত 
করিবার জন্ত নিদ্রাবিজড়িত স্বরে বলিতেছিল-_“থোক] 
ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো--” 
অদুরে পিতলের পিলনুজের 'উপর তেলের প্রদীপ 
জলিতেছিল। ঘরের দেওয়ালে পেরেক গাড়িয়া লম্বালন্থি 
একগাছ৷ দড়ি টাঙ্গানো--তাহাতে শিশুর গায়ের জামা, 
কাথা প্রভৃতি ঝুলিতেছিল। দেওয়ালের উপর পিলন্ুজের 
লম্বা কালো! ছায়া-- দড়িতে ঝুলানে কাপাড়জামার ছায়াও 
ঘরের মেঝেয়, দোলনায় ও নন্দরাণীর গায়ে ছড়াইয়। 
পড়িয়াছিল। প্রদীপের শিখা কীপিয়৷ কাপিয়! উঠিলে 
সেই সঙ্গে সঙ্গে এই ছায়াগুলিও যেন জীবস্ত হইয়া নড়িয়া 
চড়িয়া উঠিতেছিল। 
শিশুটির ক্রন্দনের ' বিরাম নাই। কীদিতে কীদিতে 
ক্লান্ত হইয়৷ পড়িলেও সে চীৎকার ক রতেছিল--কথন যে 
চুপ করিবে তাহার, ঠিক ছিল না। এদিকে নন্দরাণীর 
ঘুম পাইয়াছিল। তাহার মনে হইতেছিল-_চোখের 
পাতা কে যেন আঠা দিয়া বন্ধ করিয়া দিতেছে। 
ভাহার মাথ! সামনের দিকে ঝুকিয়া পড়িতেছে, ঘাড় 
অসহা বেদনায় টন্‌ টন্‌ করিতেছে । তার চোখের পাতা, 
কিংব। ঠোট নাড়িবার সামর্থ্য ছিলনা । তাহার মনে 
হুইতেছিল মুখ গশুকাইয়া কাঠ হইয়াছ আর তাহার 
মাথাটি যেন আলপিনের মাথার মত ক্ষুদ্র হইয়৷ গিয়াছে। 
তবু সে কোনও রকমে মুখে বলিতেছিল--“থোক! 
ঘুমালো/, পাড়া জুড়ালো__1” 
বাহিরে ঝি'9ঝি পোকা অবিশ্রান্তভাবে ঝি' ঝি' 
. করিয়া ডাকিতেছিল। পাশের ঘর হইতে তাহার প্রতু ও 
প্রভুপত্বীর ভীষণ নাকডাকার শব আমিতেছিল। 
দৌলন] দোলার শব, নন্দরাণীর অস্পষ্ট ছড়া মিশ্রিত 


হইয়। এক মধুর শবের সৃষ্টি করিয়াছিল। এই শব, 
ষে বিছানায় শুইয়৷ তাহার নিকট প্রীতিগ্রদ হইলেও, 
নন্দরাণীর বিরুজিজনক মনে হইতেছিল। কারণ, 
এই শের জন্তই ঘুম তাহ্বকে আরও পাইয়া! বসিয়াছে। 
কিন্তু তাহার তো ঘুমাইবার উপায় নাই-যদি সে হঠাৎ 
ঘুমাইয়া পড়ে, তাহ হইলে তাহার প্রভু ও প্রতৃপত্বীর 
প্রহারে সমস্ত শরীর জর্জরিত হইয়! উঠিবে। 

প্রদীপের শিখা নড়িয়। উঠিল-_সেই সঙ্গে সঙ্গে 
ঘরে ভিতরের ছায়াগুলিও যেন প্রাণের ম্পন্দন অনুভব 
করিয়া নড়িতে লাগিল। নন্দরাণী আধখোণা স্থির চক্ষু 
দিয়া এই দৃশ্ত দেখিতেছিল বটে, কিন্তু তাঙ্কার নিপ্রাভারা- 
ক্রান্ত «মস্তি ঠিক ধারণা করিতে পারিতেছিল না_- 
এগুলি কি। তাহার মনে হইল যেন আকাশে খণ্ড 
খণ্ড কালে! মেধ পরস্পরকে তাড়া করিতেছে, এবং তাহার! 
শিশুর মত চীংকার করিতেছে । হঠাৎ বাতাস বহিতে 
লাগিল -মেঘ কাটিয়! গেল। নন্দরাণী দেখিতে পাইল 
তাহার সম্থুখে প্রশস্ত কর্ঘমাক্ত পথ। সেই পথের উপর 
কত গাড়ীঘোড়া চলিতেছে, আর কত নরনারী পিঠের 
উপর কম্বল ফেলিয়৷ হাটিতে হাঁটতে যাইতেছে ; সহস! 
লোকগুলি কর্দমাক্ত রাস্তার উপর শুইয়া! পড়িল। 

নন্দরাণী প্রশ্ন করিল_-"কি করছে৷ তোমরা] ?” 

তাহারা উত্তর দিল_-"আমর1 ঘুষাবো-মামর! 
ঘুমাবো।* তারপর তাহার! গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হইয়া 
পড়িল। 

নন্দরাণী তখন মুখে বণিতেছিল--”খোঁকা ঘুমালে! 
পাড়া জুড়ালো--1” 

এবার তাহার মনে হইল সে এক অন্ধকার কুঁড়ে ঘরে 
রহিয়াছে। এই ঘরের ভিতর তাহার মৃত পিতা রঘু 
রোগের যন্ত্রণায় ছটফট করিতেছে । অন্ধকারে তাহাকে 


ফাস্তন, ১৩২৯] 






দেখিতে পাইতেছে না_কিন্ধ তাহার অসহ যন্ত্রণাজনিত 
শব কাণে আসিতেছিল। তাহার ম| মনিববাড়ী খবর 
দিতে গিয়াছে যে তাহার স্বামীর মৃত্যুর আর বিলম্ব নাই। 
সে অনেকক্ষণ গিয়াছে- এতক্ষণ তাহার ফিররিবার কথা । 
-_এমন সময়, তাহাদের কুটারের সামনে একখানি গাড়ী 
আসিয়া পঈলাড়াইল। তাহার মা মনিবকে বলিয়া ডাক্তার 
লইয়া আসিয়াছে । 

ডাক্তার ঘরেত্র ভিতর অন্ধকার দেখিয়া আলো 
আঁগিতে বলিল। রঘু যেন অস্ধু'ট আর্তনাদ করা উঠিল । 

নন্বরাণীর মা একটুকরা মোমবাতি লইয়া আসিয়া 
আলো জালিল। রঘু ডাক্তারকে দেখিয়। বলিতে লাগিল, 
"আমি মর্ছি ডাক্তারবাবু, আর আমি বচবে! না।” 

ডাক্তারবাবু যেন তাহাকে সাস্বন! দিয়া বলিলেন, ”ও 
কি বলছ রঘু? আমি তোমায় ভাল করবো 1” 

রদু বলিয়া উঠিল, "মে আমি জানি! আর সাস্বন! 
দিয়ে ফল কি ডাক্তারবাবু?" 

ডাক্তার পরীক্ষা করিয়া নন্দরাণীর মাকে বলিরা 
গেলেন, "আমি কিছু করতে পারবে! না। হাসপাতালে 
পঠানোর ব্যবস্থা কর। আমি তোমার মনিবের গাড়ী 
পাঠিয়ে দিচ্ছি।” 

ডাক্তার চলিয়া গেলে আলো নিবিল। আবার তাহার 
পিতার আর্তনাদ যেন তুমুল হইয়া উঠিল। আধ ঘণ্ট! পরে 
গাড়ী আসিল। সেই গাড়ীতে তাহার পিতা হাসপাতালে 
চলিয়া গেল। পরদিন সকাল বেল! তাহার ম! হাসপাতালে 
স্বামীকে দেখিতে গেল। নন্দরাণীর তখনও মনে 
হইতেছিল একটা শিশু কাদিতেছে, আর তাহারই গলার 
স্বরে কে যেন বলিতেছে,”খোকা ঘুমালে! পাড়া! জুড়ালো।” 

কিছুক্ষণ পর তাহার মা যেন কীদিতে কাদিতে ফিরিয়া 
আসিয়! বলিল, নন্দরাণীর বাপ সকালবেলা মারা গিয়াছে। 
ইহা শুনিয়। ননারাণী রাস্তার উপর দৌড়াইয়া গিষ্া 
কাদিতে বসিল। হঠাৎ তাহার মনে হইল কে যেন 
স্কাহার মাথায় এমন জোরে আঘাত করিল যে তাহার 
কপাল সম্মুথের গাছে £ঁকিয়া গেল। ননদরাণী এইবার 
চোঁথ মেলিয়া ফিরিয়া তাকাইয়! দেখিল তাহার মনিব 


সত ৩০৫৩৩৩৮৭ 


১৬১ 


চীৎকার করিয়া বলিতেছে__-“এতবড় পাজির ধাড়ী তুই ! 
ছেলেটা কেঁদে সারা হচ্ছে আর দ্দিব্যি ঘুম দিচ্ছিস!” 
-বলিয়া তাহার গালে এক চড় কসিয়! দিতেই, 
নন্দরাণী মাথাটা একবার বাঁকাইরা লইয়া, দোলন! 
ছুলাইতে ছুলাইতে ন্থুর ধরিল- “থোকা ঘুমালো পাড়া 
জুড়ালো।” 

মনিব চলিয়া গেলেন। আবার সেই আলো. 
ছায়ার স্পন্দন তাহার মন্তিফকে অধিকার করিয়া 
বসিল | সে পুনরায় দেখিতে লাগিল যেন নেই কর্দমাক্ত 
রাস্তার উপর মান্ুষগুলি ঘুমে নিদ্রামগ্ন রহিয়াছে। 
তাহাদের দিকে চাহিয়া নন্দরাণীরও ঘুমাইতে ইচ্ছা 
হইল। সে হয়ত এতক্ষণ ইহাদের সঙ্গেই ঘুমাইয়। 
পড়িত, কিন্তু তাহার মা! তখন তাহাকে পইয়া ভ্রুত 
সহরের দিকে কাজের চেষ্টান্গ চলিয়াছে। 

তাহার মা যাহাকে দেখিতেছে তাহারই নিকট 
যেন আবেদন করিতেছে, প্গরীবকে কিছু ভিক্ষা দেও 
বাবা 1” 

হঠাৎ পরিচিত স্বর তাহার কৃণে গেল-_"খোকাকে 
এখানে দিয়ে যা!” তারপরই নন্দরাণী শুনিল-_-দকি 1 
ঘুম হচ্ছে হতভাগী !” 

নন্দরাণী লাফাইয়! উঠিয়া চারিদিকে তাকাইয়াই 
বুঝিতে পারিল ব্যাপারখানা কি। সেখানে বাস্তাও 
নাই তার মাও নাই, শুধু তাহার প্রভৃপত্বী ঘরের 
মধ্যে দাড়াইয়।। সে শিশুকে তাহার মায়ের কোলে 
তুলিয়া ধিল। মা শিশুকে ছুধ খাওয়াইতে লাগিলেন, 
আর নন্দরাণী দীড়াইয়া তাহাই দেখিতে লাগিল। 
বাহিরের অন্ধকার তখন ফিকে হইয়া আসিয়াছে, 
এবং ঘরের ছায়াগুলি ক্রমশঃ অস্ফুট হইয়া উঠিতেছে। 
শীত্রই রাত্রি প্রভাত হইবে। 

প্রতুপত্বী কিছুক্ষণপর সেমিজের বোতাম আ'টিতে 
আঁটিতে বলিলেন পনে-_আর কীদেনা। যেন।”* সে শিশুকে 
লইয়া আবার দোলায় দৌলাইতে আরম্ভ করিল। 
মনের ভিতর ছায়াগুলি ক্রমশঃ অস্পষ্ট হইতে অল্পষ্ট- 
তর হইয়া মিলাইয়! গেল। নন্দরাণীর মস্তি ভারাক্রান্ত 


৬২. মানসী ও মন্্বাণী 


করিতে আর সেগুলি রহিল না। কিন্তু চোখের ঘুম 
তাহার ছাড়িল না। সে তাহার মাথাটা দোলনার পাশে 
রাখিয়া সমস্ত দেহের ঝাকানি দিয়! ছুলাইতে লাগিল 
_যদি ইহাতেই ঘুম চলিয়! ঘায়। কিন্তু কিছুতেই তাহার 
ঘুম দূর হইল না? 

“নন্দরাণী_-উন্থুনে আগুন দাও ।* মনিবের এই 
আদেশেই সে বুঝিতে পারিল ভোর হইয়!ছে। এখন 
কাধ করিতে হইবে। সে দোলন! ছাড়িয়া সজোরে চোখ 
রগড়াইয়। করল! ভাঙ্গিতে গেল। এইবার তাহার মন 
অনেকটা প্রসন্ন হইয়া! উঠিল। কারণ, ছুটাছুটি করিয়া! 
বেড়াইলে আর তেমন ঘুম আসিবে না। সে কয়ল! 
আনিয়া উহ্থুন ধরাইল। তাহার মনে হইতে লাগিল__ 
দেহের মে জড়ভাব যেন অনেকটা কাটিয়া গিয়াছে, আর 
তাহার মন্তি্ষও অনেকট। পরিস্কার হইচা আঁসিয়াছে। 

গৃহকর্ত্রার হুকুম হইল-_পনন্দরাণী, বাসনগুলো মৈজে 
ফেল ।” 

অর্ধেক বাসন মাজা হইতে না হইতেই আবার তাহার 
প্রভুর হুকুম হইল--"এই নন্দ, আমার জুতোয় কালি 
দিয়ে যা” জুতোয় কালি দিতে দিতে তাহার মনে 
হইতে লাগিল, বদি সে এই জুতোর নধ্যে ঢর্ণকয্া! একটু 
ঘুমাইয়া লইতে পারিত! ঘুমের কথা ভাবিতেই 
তাহার মাথা আবার বিমঝিন করিয়া উঠিল। সে 
দেখিল যেন জুতাথানি বড় হইতে হইতে ঘরের সমান 
হইয়া উঠিয়াছে। নন্দরাণীর হাত হইতে ব্রাপটি পড়িয়া 
গেল--সেই সঙ্গে সঙ্গে তাহার তন্ত্রাটুকুণ ছুটিঝা গেল। 
সে চোখ মোঁলয়। স্প্টভাবে ভাবিতে চেষ্টা করিল, যেন 
আর তার চোখের সাম:নর জিনিষগুলি বৃহদাকার হইয়া 
না উঠে। 

অবার মনিবপত্ধী আদেশ 
বাইরের বারান্দাটা ধুয়ে ফেল ।” 

বারান্দ! ধুইয়। ঘরদ্বার পরিষ্কার করিরা যে বাজার 
করিতে চলিয়া! গেল। তাহার কাধের অস্ত ছিল না-- 
এক মুহূর্ত তাহার অবসর ছিল না। 

কিন্ত সব চেয়ে তার কঠিন কাঁধ ছিল আলুর থোসা 


করিলেন, “নন্দরাণী 


[ ১৫শ বর্ষ-- ম খণ্ড-- ম সংখ্য। 


০০০০০০০০০০০ 
ছাড়ানো । এই সময় তার মনে মাঝে মাঝে সামনের 
দিকে ঝু'কিয়্য পড়ত, আর আলুগুলি যেন চৌঁখের সামনে 
নৃত্য করিত। 

দিন এম্নি তাবে চলিয় যায়। ক্রমে অন্ধকাঁর 
হইয়া আদিলে নন্দরাণী তাহরে শরীর টিপিয়! দেখে যে 
তাহ! মাংসের না কাঠ দিয়া তৈরী, আর নে মনে 
হাসিতে থাকে-_কেন তা সে নিজেই জানে না। 
সন্ধ্যার অন্ধকারের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে তাহার *চোখে 
নিদ্রা! আসিয়া ভর করে, এঁকন্ত ঘুমাইবার উপায় নাই। 
তখন আবার গৃহকর্তীর বন্ধুরা বাড়ীতে আড্ড। জমাইয়| 
বসে। 

সন্ধ্যা হইলেই প্রতুর হুকুম হয়--প্নন্দরাণী, চা নিয়ে 
আন ।” প্ৰন্দরাণী পাণ আনতে এত দেরী কেন?” 
ইত্যাদি। সে গনবরত ছুটাছুটি করিয়! বেড়ায়, যাহাতে 
ঘুম তাহাকে চাপিয়া না ধরে। 
* অবশেষে, বন্ধুবর্গ চলিয়া গেলে প্রভু ও প্রভুপত্বী 
নৈশ আহার শেষ ক।রয়া তাহাদের শেষ হুকুম দিয়া যান 
প্নন্দরাণী, পাঁথীর ছোলা ভিজতে দে ।” 

রাত্রে আবার সেই ঝিঝি' পোকা ডাকিতে থাকে, 
প্রভু ও প্রত্ুপত্রীর ভীষণ নাকডাক। সুরু হয়, ঘরের 
ভিতরে আ:লাহায়ার নর্তন তাহার মস্তিষ্ককে আবার 
পাইয়া বসে। আর নন্দগাণী সেই একভাবে নিদ্রা- 
জড়িতম্বরে বলিতে থাকে, “খোকা ঘুমালো, পাড়া 
জুড়ালো।” কিন্ত একই ভ'বে চীৎকার করিতে করিতে 
ক্লান্ত হয়, তবুসে নীরব হয় না। নন্দরাণা সেই বড় 
রাস্ত|, কম্বল কাধে নরনাপী, মাতা ও পিঙা সবই 
দেখিতে থাকে | সে বুঝিতে পারে লব, চিনিতেও পারে 
সঙ্কলকে, কিন্তু আধ তন্জ্রার ভিতর দিয়া এই কথাটাই 
ধরিতে পারে না ষে কোন্‌ শক্তি তাহার হাত পা 
বাঁধিয়া নায় তাহার উপর এমন ভারী বোঝ! চাপাইয়া 
তাহাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলিয়া লইয়া চলিয়াছে। নন্দ- 
রাণী চারিদিকে তাকাইয়া সেই শক্তির অনুসন্ধান 
করিবার চেষ্টা করে-কিন্ত কিছুতেই খু'জির। বাহির 
করিতে পারে না। 


ফাল্গুন, ১৩২৯ ] 





ও 





উস পপাসপাস্পিনপরিপসপিপাপাসপিসপিপ পসরা বি ই 


অবশেষে সে একবার প্রাণপণ চেষ্টায় আয়ত লোচনে 
ঘরের ছায়াগুলি দেখিতে লাঁগিল। কিছুক্ষণ স্থির হইয়া 
শিশুর ক্রন্দন শুনিল। সহসা সে যেন বুঝিতে পারিল 
কে তার শক্র-কে তাহাকে মরণের মুখে পাঠাইতে 
চায়। 

'এই শিশুই তার শক্র 

নন্দরাণী বিকটভাবে হাসিয়া *উঠিল। সে ভাবিয়া 
আশ্চর্য্য হইল, কেন এই সহজ কথ! এতদ্দিনও বুঝিতে 
পারে নাই। সেই ঘরেক্জ ছাঁয়াগুলি, বাহিরে ঝি'ঝি 
সবই যেন তাহার হাসির সঙ্গে হাসিক্স! উঠিল। 

এই খেয়াল নন্দরাণীকে একেবারে পাইয়া বসিল! 
সে উঠিরা দীড়াইয্সা হাসিতে হাদিতে ঘরের মধ্যে 


২ পা পা 


কিছুক্ষণ পায়চারি করিতে লাগিল। সে এই ভাবিয়! 
আনন্দিত হইল যে, এখনই এই শিশুটিকে নিকাশ করিয়! 
ফেলিম্বা অঘোরে নিদ্র। যাইবে । 

« নন্দরাণী হাসিয়া নিঃশবধে দৌলনার কাছে উপস্থিত 
হইয়। শিশুটির উপর ঝুঁকয়া পড়ল। শিশুর গল৷ 
সজোরে টিপিয় দিরাই সে তাড়াতাড়ি সেইখানেই গুইর়! 
পড়িল' এবং মুহূর্তেই অগাধ নিদ্রা অভিভূত হইয়া 
পড়িল ।* 





জ্রীশটীন্দ্রলাল রায়। 


* রুম উপন্তাধিত শেখভের অনুসরণে । 


ফাল্গুন 


আহা ও-_রঙের আগুন কে লাগাল 
এ ফাগুনের বন জুড়ে? 
ও আগুন--হাইয়ে গেল, ছাই হলো যে 
সাল স্বপন সব পুড়ে। 
আগ্ুনের-_আ'চ লেগে দশ হাজার পাখী 
সঘনে-একভানে এঁ উঠল ডাকি, 
আগুনের- রাঙা ব্রাঙা আঙার গুলে। 
ভ্রমর হয়ে যায় উড়ে ॥ 
আগুনে-__নটকোন। বন ফটফটয়ে 
ওই ফাটে 
শিমুলের পুড়ল পাতা, জলছে আগুন 
তার কাঠে। 


ও আগ্ুন-_ঢেউ খেলে যাঁয়, উঠল গিয়ে 
পলাশে- গাবগাছে দ'য় ধিলনিলিয়ে, 
ও শিখা-- বাদাম গাছের ফাকে ফাকে 
লক্লকিয়ে যার ঘুরে । 
আখনের-_-আচ লীগে সব সথাসখীর 
অন্তরে, 
তড়াগে,-_চখাঁচথী বন ছেড়ে এ 
সম্তরে। 
ও আগুন-_মলয় বাছে যার বেড়ে ওই 
ও তাতে-__তরুণীদের প্রাণ বাচে কই! 
আগুনের -ফুলকি গিয়ে লাগল যত 
বিরহিণীর প্রাণপুরে ॥ 
শ্রীকালিদাস রায়। 


৬৪, 


মানসী ও মন্্রধাণী 


[ ১৫শ বর্-.ম খণ্ড--১ম সংখ্যা 


কাশ্মীর ভ্রমণ 
( পূ্বানুরৃততি ) 


আর একমাইল যাইতেই দেখি দূরে বাম দিকে 
প্গিলমার্ পর্বতের তুষারশূর্গের উপরে একখানি কৃষ্ণ- 
বর্ণ মেত্রে অস্তরাল হইতে অন্তগামী কুর্য্যকিরণ *সা্চ 
লাইটের মত পড়িয়া এক অপরূপ সৌন্দর্য্যের সৃষ্ট 
করিয়াছে। ঠিক যেন দ্রবীভূত রজত ও সুবর্ণধারা 
বিরাট পর্বতগা্র বাহিয়! নামি! অসিতেছে। 

চাহিয়৷ দেখি জাফবাণ ক্ষেত্রে ৩৪টি ফুল ফুটিয়াছে। 
বন্ধু একটী ফুল তুলিয়া লইলেন। এই ফুলের তিনটা 
কেশর, ইহাই প্ররৃত জাফরাণ। আমরা দোকানে যাহা! 
কিনি তাহা ফুলের পাপরি ও ডাটা সমেত। আর প্রায় 
আধ মাইল যাইতে একটা উচ্চ স্থানে ছুটা লোক দীড়াইয়া 
আছে দেখিলাম । তাহার মধ্যে একজন বলিল “পোষ* 
বন্ধু বলিলেন «পোষ কেয়া 1” প্রশ্ন হইল প্কুল নিকাঁলা ?* 
বন্ধু বলিবেন "নেই দেখা।* আমর! চলিলাম। বুঝাগেল 
যে এই মূল্যবান ফুলের' অন্ত প্রহরীর বন্দোবস্ত আছে। 

ক্রমে অন্ধকার হইয়া! আসিতেছে। গুলমার্গ শৃঙ্গ এমন 
কি ডানদিকের উচ্চ মহাদেব পর্বত শৃর্গ পথ্যস্ত কৃষ্ণব্ণ 
হইয়া গিরাছে। হাটিতেও কষ্ট হইতেছে। কিন্তু উপায় 
নাই। প্রায় পাঁচ মাইল আসিবার পরেই নিকটবর্তাঁ পর্বত- 
কন্দর হইতে “ছা'-উ, ছ'উ* শব আসিতে লাগিল। 
কোনও বন্তজন্ত হইবে--উভয়েই ছুটিলাম। বাম দিকে 
চেনার আর ডানদিকে উইলো বনের গভীর 
অন্ধকারের ভিতর দিয়! দুটা পরিশ্রান্ত প্রাণী আমরা! 
প্রাথভয়ে ছুটিতেছি। আমাদের পদ্শবধে চমকিত হইয়া 
পক্ষীগুলি গাছের ভাল হইতে শব্দ করিয়া উঠিতেছে। 
প্রায় পাঁচ মিনিট এইরূপে ছুটিয়া একেবারে হাফাইয়] 
বসিয়৷ পড়িলাম; তখন আর শব্ধ শুনা .যাইতেছে না। 
আর শীত নাই, হাত পা গরম হইয়া উঠিয়াছে | বসিয়া 
দেখি যে আমি একা, বন্ধু দৌড়ান আবশ্তক বোধ করেন 
নাই। খানিকটা পরে তিনি আসিয়৷ বেদম হাসিতে 


লাগিলেন। তিনি ওখানকার ওয়াকীব-হাল লোক, 
কেবল «মজা! করিবার জন্য দৌড়ের অভিনয় করিয়া" 
ছিলেন। পায়ে ফোস্কা উঠিয়াছে, রাগও বিলক্ষণ হইয়াছে 
কিন্তু বুদ্ধিমানের মত তাহার হাসিতে দোগদাঁন করিয়। 
আবার উভয়ে চলিলাম। আমি বলিলাম, "এই সুযোগে 
গাটা গরম করিয়া লইয়াছি 1” ৭ টায় বাড়ী ফিরিলাম। 

২১শে অক্টোবর-_১১টায় রৌদ্র উঠিল, শরীর 
অতিশয় শ্রাস্ত ছিল, এবেল! বাহির হইলাম না। 

বেলা ২--৩০ এ ছুটী বয়স্ক সঙ্গীব্র সহিত বাহির 
হইলাম। ইহাদের মধ্যে একজন 'অমরনাথের” ফেররতা। 

২ *প বাবু ইনি অতিশর অমায়িক ও ধর্মভীরু । 
এখানে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, এখন কর্মে ইস্তফা দিয় দেশে 
ফিরিবার উদ্ভোগ করিতেছিলেন | ৭/৮ দিন পরে রৌদ্র 
হওয়ায় সমস্ত শ্রীনগর আজ যেন হাসিতেছে। বাস্তাস 
বু লোক, সকলেই যেন আনন্দিত। কতকগুলি 
বালক খোলা গায়ে খেলা করিতেছে । তাহাদের শুত্র- 
শরাঁরে সুধ্যকিরণ পড়িয়া যেন তুষারশৃঙ্গে ৌদ্রপাতের 
দৃশ্ত দেখাইতেছে। আগ্ পাখীর আওয়াজও কাণে 
আদিতেছে-_তাহার মধে' শালিক, বুল্বুল্‌ ও কাকই 
অধিক। এখানকার কাকগুলি আমাদের কাক হইতে 
আকৃতিতে অনেক ছোট, ইহাদের ঠোঁটও ছোট । কিন্তু 
তফাৎ ইহাদের ডাকা । সে "কাঃ কাঃ* বাজর্থাই শব্ধ নাই, 
বেশ মৃহ “কঃ কঃ* রব কর্ণে মধুবর্ষণ না করিলেও অসহ্য 
বোধ হয় না। 

আমরা বাজার ছাড়াই! বামদিকে খানিকক্ষণ গিয়া 
শ্রীপ্রতাপ মিউজিয়মে উপস্থিত হইলাম। মিউজিয়মের 
অবস্থানাদি অতি নুন্দর। অবশ্তঠ কলিকাতার তুলনায় 
ইহা অতি ক্ষুদ্র, তবে কাশ্মীরের জীব জন্ত, কাশ্মীরের 
শাল ও ওয়।লনট € ৮210) কাষ্ঠের উপর অসামান্ত 
কাঁরুকার্ধ্য দেখিবার মত। একখান! শীলের উপর 


ফাঙ্ুন, ১৩২৯] 


"৬৫ 





সুচিকার্ধো সং সমস্ত নগরের সুন্দর মা মিটি প্স্ 2 এহিযাছে [ 
এতদ্বাতীত কাশ্মীরের পুরা তন মুদ্রা, ষ্টাম্প এবং ওলাদাদ 
ও আঙ্কারছু হইতে আনীত অনেক দ্রব্যদি রহিরাছে। 

একটা পুস্তক ঘরে অবস্তিপুরা, পাগুবাথান প্রভৃতি 
স্থান হইতে আনীত বুদ্ধ, অবলো কিতেশ্বর প্র্থুতির" প্রস্তর 
ৃত্তি, অনেক এ্রঁতিহাদিক তথা প্রকাশ করিতেছে। 

বাপার় ফিরা দেখি এক পণ্ডিত [তিক্ষার ওস্য 
নিচে দাঁড়াইয়া কাতরশ্বরে মিনতি করিতেছে । আমি 
উপরে আমিনে বলিলেও আসিতে মাহন কাল না। 
অবশেষে একটা লাকি নিক্ষেপ কৰিলে মাশীর্বাদ কিয়া 
রর করিল। বোধ হয় শহাব্দীর 
রশতাদী ক্রমাগত অত্যাচার ও 
রঃ £ণ সু করিয়া এই জাতি এত 
কাপুর্ষ হয়া উঠিগাছে। 

২২শ আ্টাবর - আজও বেশ 
রে্র উঠিন্রাছে। আহারাধির পর 
পূর্বধিনের বন্ধুদ্য়ের »হিত নদীর 
ধারের ব্রাস্তা দিয়া ৪1 ব্রী্গ ণজ্ন! 
কদলে পৌছিলাম। এইথানে সমস্ত 
পাখরেরু দোকান্দারের আচগ। 
বেখানেই সমাবেশ, 
সেইথানেই এই সমস্ত প্রস্তরের দ্রব্য 
বিক্রেতার সমাবেশ দেখা যাম্ম। 
এখানে 2152 ৯007৮ 
110000156ই বেশী মুদলমান 
কারিকরগণ বসিয়। একরপ কুঙ্ষু 
করাত দিয়া পাথর কাটিয়া নানারূপ 
দ্রব্যাদি প্রস্তুত করিতেছে । হাট 
দেখিলেই মৃগ্য চতু গুণ হইতে দশ 
গুণ হইয়। বায়। সী বহুকাল 
কাশ্মীরে আছেন সুতরাং তাঁহাকে 
১কাইতে পারিল না। ২০ 
দোকান দেখিয়। অবশেষে এক 
যায়গায় ফরমাইস দিয়া আম৭1 বাসায় 


জমণকাগাব 


এবং 








সি পি 
মী 


করিঠেই, 


ফিরিবার উদ্ভোগ একদল শিকার। ালা 
ঘিিম্া ধরিল। প্রার় ১খাইল নর্দা/ঠ উজাইস| 
খাইতে হইবে। আমি মনে করিপাম যে ৯২ কি 


১।০ দর স্থির তইবে। বঙ্গ ৮৭ হইতে সুরু করিয়া 
| আনার রফা করিলেন । ফল5ঃ এখানে শিকারাই 
যাতায়।তের প্রধান উপায় । 

নদার উভয় পার্থে দেইরূপ লুন্দগাকুলের সমাবেশ। 
একটী পণ্ডেঠ বালিকা! ঘাটে দাড়াইয়। আছে, হাভার 
আগত চক্ষুত অলোকগানানা রূপ এবং সর্ষোপরি পবিত্র 
মু্ভাব দেখিপার নোগ/। 


কাশ্রীরী ঈমণীর সাধারণ পরিচ্ছদ | 


৬৬" মানসী ও মর্ধ্াবাণী 


চা পানাস্তে সন্ধার সময় 2[.].র সহিত আবার 
ঘাহির *ইয়। বাজারে কাশ্মীরের বিশেষত্ব একটি কাঙ্গরী 
কিনিতে গ্রেলাম। হঠাৎ বাজারের সমস্ত বৈছ্বাতিক্‌ 
আলো নিবিয়া যাওয়াতে আমরা প্যারেড আদালতের 
দিকে গেলাম। ফিরিয়া দেখি বাজারে আলো! 
জন্য়াছে। একটি কারুকার্ধা খচিত “কাংরী”র দর ক্লুরায় 
দোকানী হ'াকিল ৪॥৭-_মাথায় হাট ছিল। লএয়া হইল 
না। ফিরিয়া ই ].রু বাসায় গিয়া আর একটী লোক 
পাঠাইয়া সেইরূপ একটী কাংরী ১%০তে আনানো হইল । 

২৩শে অক্টোবর-আজও বেশ রোদ উঠিয়াছে। 
সকাল বেলা য বাৰু আসিয়া! তাহাদের টেকৃনিকেল কুলের 
শিল্প শ্রাদর্শশীতে যাইবার নিমন্থণ করিয়া গেলেন। বেলা 
১১টার সময় মিঃ জে আমিলেন। তার সহিত চশমা- 
সাহী গিয়া তথা হইতে ফিরিয়া প্রদর্শনী দেখিতে যাইব 
স্থির ছিল, কিন্তু মিঃ জে আসিলেন না। হঠাৎ মিঃ কিউ 
উপস্থিত। তিনি দেশীয় খুষ্টান। এখানকার একজন 
রড় কন্ট্রাক্টর, পূর্বে একদিন মাত্র তাহার সহত 
আলাপ হইয়াছিল। * আমি চশমাসাঁহী যাইব শুনিয়া 
তিনি তখনই আমাকে তীহার মোটরকারে তুলিয়া 
ইলেন এবং নিজেই চালাইতে লাগিলেন। 
গুপকরের পাশ দিয়া ক্রমে উঠিয়া আমরা চশমাসাহী 
উদ্ভানে পৌছিলাম। উদ্তানটা ক্ষুদ্র__সালেমার প্রভৃতির 
তুলনায় কিছুই নয়। সেইরূপই স্তরে স্তরে উপরে 
উঠিয়াছে, সেইরূপই বাহার। আমরা সকলের উপরের 
স্তরে উঠিয়া দেখি একটী চশমা” অর্থাৎ স্বাভাবিক 
উৎস হইতে অবিশ্রান্ত নির্মল জল উঠিতেছে এবং 
তাহাই ফোয়ার! হইয়া ক্রমে নহর,এ পরিণত হইয়াছে। 
এখানে বিশ্বা যে এই জলে খনিজ পদার্থ থাকায় ইহা 
অতিশক্ উপকারী এবং পান করিলেই ক্ষুধা পাঁয়। মিঃ 
জে'র দৃষ্টান্ত মত আমিও উপুড় হইয়া মুখে করিয়া 
সেই জল পান করিলাম। বাস্তবিক জল অতি পরিষ্কার 
ও স্ুগ্বাহ। মিঃ কিউ আমাকে লইয়া তাহার বাড়ীতে 
গেলেন এবং *গরীবের বাড়ী আসিয়। কিছু খাইতে হইবে" 
বলিয়া কতকগুলি ফল আনিয়৷ দিলেন। আমি সেখানে 


[১৫শ বধ--১ম খণ্ড-১ম সংখ্য। 


বসিয়া ফল ভোজনের সঙ্গে সঙ্গ রোগনামচা লিখিতে 
লাগিলাম। 

অপরাহ্ে মিঃ জে আমাদিগকে ক্বশ্মুর বিখ্যাত 
থান্থিরা খাওয়াইলেন। খাস্বিরা একরূপ ঢাকাই পরটায় 
মত, কিন্তু ভিতরটা পাউরূটা। ময়দা পচাইয়া লইয়া 
ইচ্ছা প্রস্তত হয়, ঘিয়ে ভাজিয়া লওয়া হয়। 

২শে অক্টোবর-_শ্রীগরের নিকটবর্তী স্থানের 
প্রায় সমস্তই দেখা হইয়াছে, এইবার বাহিরে যাইতে 
হইবে। আজ মিঃ কিউর নিকট হইতে ছু দিনের জন্ত 
তাহার মোর চাহিয়। লইয়া কাল “মাটন” বা মার্ভও 
ভবন, 'অনস্তনাগ', “ভেরনাগ” ইত্যাদি দেখিয়া পরশু 
ফিরয়! আপিব বাবস্থা করিয়া গেলাম। 

৩--৩০ টায় ওনং প বাবুর সহিত রগনা হইয়া 
আমরা পুর্বদিনের গিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে অমরসিংহ 
টেক্নিকাল ইন্ষ্রিটউটের দরজায় উপস্থিত হইলাম। 
'বড়লাট সাহেবের আগমন উপলক্ষ্যে সমস্ত অট্টালিকা! 
পতাকা দ্বার! সুসজ্জিত হইয়াছে। এখান হইতে গুল- 
মার্গ পর্বতের গভীর তুষার মণ্ডিত রজতশৃঙ্গ গুলি 
অপরাহ্থের রবিকিরণে বড়ই মনোরম বোধ হইতেছিল। 

“ম' বাবু এই স্কুলের শিক্ষক । তিনি বিশেষ যত 
করিয়া আমাদিগকে সমস্ত দেখাইলেন। উইলে! 
বাস্‌কেট প্রস্তত, চিত্রাঙ্কন, ইঞ্জিনিয়ারিং, কার্পেন্টারি 
প্রভূত বহু বিষয়ে এই স্কুলের কাশ্মীরী ছাত্রগণ বিশেষ 
দক্ষত| দেখাইতেছে এবং তাহাদের উন্নতিও বেশ দ্রুত 
হইতেছে। 

এ সমস্ত দেখিয়া আমরা প্রাঙ্গণে কাশ্মীরী শাল, 
আলোয়ান, জামিয়ার ও অন্থান্ত পশমির উপর অসাধারণ 
নিপুণতার সহিত প্রস্তত সুচিকার্ধ্য দেখিয়। বিস্মিত 
হইলম। একখানা জামিয়ার ছুই আড়াই হাজার টাকা 
পর্য্যন্ত মূলোর দেখা গেল। তাহার পরই কাশ্মীরের 
বিখ্যাত 2086 ০০৫-০০:1)৫- কাঠের উপর 
এরূপ নুস্ম খোদাইয়ের কার্য আর কোথাও দেখা 
যায় না । 

[১1016 অথব! 


1212.0170 


( প্যাপিয়ামাশে) 


ফাল্গুন, ১৩২৯ ] 


কাগজের পাল্প দিয়া গ্রস্ত 5 বহুবিধ দ্রব্য এবং তাহার উপর 
অসামান্ত নৈপুণোর সহিত কারুকার্য আর সোনারূপার 
দ্রবোর উপর কারু কর্্য এ সমস্তই দেখিবার মত। 
এ সকল দেখিযা,অন্ধকার ঝেলম বক্ষ বাহিয়া শীতে প্রায় 
জমাট অবস্থায় বাসায় ফিরিলান | 

২৫শে অক্টোবর-_আজ ১২টায় “মাটন, 'রওনা 
হইবার কথা ছিপ, কিন্তু কোন কার্ধযব্ণতঃ নিঃ কিউ 


কাশ্মীর-ভ্রমণ 


৬৭ 


ধরাইয়া দিলেই তাহা মশালের মত জলিতে থাকে। 
আমি 'এক খণ্ড কাঠ পরীক্ষণ করিগ্া, দেখিয়াছি তাহাতে 
একপ্রকারে ঠেল আছে বোধ হয়। অন্ধকারে পর্বতের 
গাত্রে এ আলোকরাশ কেমন যেন একটা শ্বপ্নরাজ্যের 
ভাব আনিয়া দিল। অন্ত মনে বহুগ্গণ 7ঁড়াইয়া 
এই দৃগ্ত দখিলাম। ক্রমে আলোকগুলি নিবিয়া যাইতে 
লাগিল খাহির হইয়া শুনিলাম আতসবাজী কাস 





কাশ্ীরী কুন্তকার-রুমণী। 


আসিতে পারিলেন নাঁ। ৪-৩৭্টায় তিনি আসিয়া সে 
জন্ত ছ:খ প্রকাশ করিলেন। স্থির হইলযে কাল সমস্ত 
দিনের জগ্য গাড়। লইয়া প্রথমে “ভেরনাগ' দেখিয়া 
আঁমিব) অন্ত একদিন “মাটন” দেখিব অর্থাৎ কোথায়ও 
রাত্রিবাস করা হইবে না। 

সন্ধার পর মিঃ জে আসিয়। বলিলেন, রাত্রি 
৯--৩৭টাম় বাদি পোড়ান হইবে। বাহির হইঠেই 
দেখিলাম সম্মুখে শঙ্কর পর্বতে ষশাল দিয়া এক অদ্ভুত 
ভূতের আলোকের সৃষ্টি হইয়াছে। এই মশাল এদেশীয় 
একপ্রকার কাঠের চেল! মাত্র। তাহাতে আগুন 


হইবে, সুতরাং দারুণ শীতে আর বেশী দূর না গিয়া 
বন্ধুর নিকট বিদায় লইয়| শধ্যাগ্রহণ করিলাম। 


ভেরিনাগ। 


২৬শে অক্টোবর--সকাল বেলা উঠিয়া দেখি আকাশ 
বেশ পরিষ্কার । পর্বতর্ণীজ বেশ স্পষ্ট দেখা যাইহতছে। 
গুপকর পর্বচের মন্তকে বুক্তচ্ছটা দেখিয়া সৃর্ষেযোদয় 
বুঝিতে পাগ্িলাম। এই কগাদনেই দৃষ্ভাবণা অনেক 
পারবর্তন ইইয়াছে। চারদিকে হেমন্তের শো হাসম্পদ 
ফুটিয়া উঠিয়াছে। সফেদ! (1১১1)101) হরিদ্র্ণ আর চৈনার 


৭০, 
হয়। একটু যাইয়া একটা পেতু। লেখা রহিয়াছে 
প্মেটরকারের পক্ষে বিপজ্জনক।” কাশ্মীরের 


দরবার এইনূপ একটী নোটিস দিয়াই খালাস, সে সেতু- 
টীকে মেরামত করা কর্তব্য বোধ করেন না। সকণো 
নামিয়া পড়িলাম। আর অন্য দিক দিয়া যাইবার উপায় 
নাই। আমরা সকলেই পদক্রজে সেতু পার হইলাম। 
চালক অতি সন্তর্পণে ধীরে ধীরে নদী পার হইয়া গেল। 

আবার চলিলাম। সম্মুখে বিরাট পর্ধতপ্রাকার_ 
বরফে ঢাকা । ভেরনাগ আর ১১ মাইল। রাস্তা 
ক্রমে অসমান হইয়া উঠিতেছে। মেোটরের বেগও কমিয়া 
আসিয়াছে। একটা মোড় ঘুরতেই একটা লাল ফের” 
পর! প্রাণী চমকিয়া প্রায় মোটরের গায়ে আদিয়৷ পড়িল। 
তক্ী রূপসী পাহাড়ী । 

ঝেলম ক্রমেই ক্ষীণকায়া হইয়া ঝবণায় পরিণত 
হইতেছে । পাহাড় নিকটে আসিয়াছে; গাছের আদ্ধক 
বরফে ঢাকা । আমরা সোঙগা বরফের দিকে চলিতেছি। 
বরফের ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগিতেছে। ভেরনাগ আর 
আধ মাইল মাত্র। চারিদিকে ঝেলমের জল ঝরণার 
আকারে বাহির হইতেছে। আমরা ১১০ মিনিটে 
ভেরনাগে পৌছিলাম। 

এটা ক্ষুদ্র গ্রাম। মোটর থামিহেই বছলোক 
আমিয়া উপস্থিত হইল। আমর নামিতেঠ একদল 
লোক মহাস্ত' 'পাণ্ড' ইত্যা্দ বলিঘ়া পরিচয় দি] 
প্রকাণ্ড খাতা হাতে ঘিরিয়। দড়াইল। আমরা একটা 
অতি সুনর নালার পাশ দিয়! চলিলাম। অত স্বচ্ছ 
জলে অসংখ্য ছোট ছোট মাছ চলিতেছে। প্রায় এক 
রশি যাইতেই একটা থের! যায়গার পৌছিলাম। এইটা 
সাহাজাহান বাদশা প্রস্তত বিখ্যাত ০0110 51)105 
একটী উচ্চ পাইন বৃঙ্ষসমন্থিত পাহাড়ের পাদদেশে এই 
'চশমা” অবস্থিত। এই ঝেলমের উৎপত্তিষ্থল। সম্রাট 
শাহজাহান হুন্দর স্থানটা পছন্দ করিয়া চশমাটীকে এক 
প্রকাণ্ড ইদারার মত করিয়৷ বাধাইয়া লইয়্াছিলেন এবং 
এই চশমাটাকে কেন্দ্র করিয়া এক বিশাল অক্রালিকা 
নি্গ শ্্রীম্মাবাসের জন্য নির্মাণ করিয়াছিলেন। সে 


মানসী ও মর্শ্মবাণী 


| ১৫শ বধ-_১ম খণ্ড--১ম সংখ্যা 


অট্টালিকা আঙ্ ভ্নস্তূপে পরিণত হইয়াছে, কিন্তু সেই 
বিরাট কুপ হইতে এখনও সেই ভাবেই জল উঠিয়। একটা 
প্রণালী দ্বারা শ্রোতের আকারে বাহির হইয়া যাইতেছে । 
জল অতিশয় স্বচ্ছ. নিম্নের পাথরের টুকরাগুলি পর্য্যস্ত 
বেশ দেখা যাইতেছে । আর সেই জলের মধ্যে লক্ষ 
লক্ষ ছোট বড় মাছ আনন্দে বিচরণ করিতেছে। 
চারিদিকে দেওয়াল দিয়! ঘের । তাহার গায়ে ছোট 
ছোট কামরার মত কর। হইয়াছে। স্থানটি এতই সুন্দর 
ও শান্তিপূর্ণ যে সমাট্‌ শাহজংহান মৃত্যুকালে নাকি বলিয়া 
হিলেন “আমাকে সেইখানে লইয়া! যাও।” 

দেয়ালের গায়ে ছানি কালো পাথরে সম্াটের নাম 
ও এই চশম! অথবা উৎস নির্মাণ করিয়া তারিখা্ি 
উদ্দিতে লেখা আছে। আমরা ঢ,কিতেই ৫৭টা পাণা 
ধরিয়া ৎপিল। ৩নং প বাবু ধার্মিক নিষ্টাবান হিশ্দ 
সুতরাং এই মুললমান নির্মিত চশমার দেয়ালে একটা 
গণেশ স্থাপিত দেখাইয়া তাহার পিকট হইতে কিছু 
আদায় করিল। আমি এক পাগ্ডাকে কিছু পদ্ম! 
দিয়া বাজার হইতে মাছের জন্য খাবার আনাইলাম। 
চালখুপি নিক্ষেপ করিতেই হতরিদ্বাদের ঘ1টের মণ হাজার 
ভাজার মাছ কাড়াকাড়ি করিয়া তাহা খাইঠে লাগিল। 
এখান হইতে "মাইল দূর পর্যন্ত জলে মাছ ধরা মহারাজের 
নিষেধ। স্থতরাং মাছগুল নিয়ে একরকম হাত 
হইতে খাবার লইয়া! খায়। 

চশমা হইতে বাহির হইয়! জানরা সম্মুখের বাগানে 
প্রবেশ করিলাম। এই বাগানের ঠিক মধ্য দিনা একটা 
নহর এবং চারি পাশ দিয়া একটা নালা চলিয়া গিক্সাছে। 
ছুইটাই মাছে পরিপূর্ণ। বাগানে ঢ.কিতেই মালী কতক- 
গুলি সুন্দর আপেল ও একরাশি ফুল লইয়া! আসিল, 
আর একটা সুন্দর বালক কতকগুলি আলু বোখারা 
৪ আখরোট ভেট লইয়া উস্থিত হইল। 

আমর! নহরের ধার দিয়া চলিলাম। খানিকট! 
গিয়া দেখি একটা ঘর, তাহার নিচে দিয়া নহর চলিয়া 
গিয়্াছে। তাহীর পর আর একখানি ঘর, তাহার 
প্রায় ১৫২০ হাত নিম্নে ঝেলমের পরিস্কার জল 


ফাল্গুন, ১৩২৯] 


কাশীর-জরমৎ খ১ 





লাফাইয়৷ পড়িয়া জলপ্রপাতের স্থষ্টি করিতেছে । আর বৃদ্ধ যুবক আমাদিগকে ঘিরিয়া বসিয়াছিল। আহার 


যে নালাটা বাগানের চারিদিক ঘুরিয়। গিয়াছে তাহার 
ছুই মুখ আসিয়। ইহারই সঠিত মিশিয়াছে। এই 
হইতেই ঝেলমের উৎপত্তি । 

বাগান হইতে বাহির হইতেই রেষ্ট হাউসের চৌক- 
দার আমাদের সঙ্গ লইল। ফিরিয়া আ সয়! বাগানের 
পাশে একটা পরিষ্কার স্থানে কম্বল বিছাইয়! বাঁসলাম। 
সকলকে যথাযোগ্য বখসিস্‌ দিয় বিদায় করিয়া ভৃত্য 


গোবিন্দকে চা গ্রস্থতের হুকুম দেওয়া গেল। তন 


নানারূপ গল্প করিতে লাগিল। 
" ৩--৪৫ আমরা ফিরিলাম। 
অসমান রাস্তা ছাড়াইয়া নক্ষত্রবেগে মোটর ছুটিল। 
সন্ধার পূর্বেই আমবা 


| অবস্তিপুরী 


পৌছিলাম। 'অবস্তিপুরী, খুীয় নবম শতান্দীতে 
রাজা অনন্ত বর্ম কর্তৃচ স্থাপিত হয়্। ইহা এক সময়ে 





অবস্তীপুরের ধ্বংনাবণেষ। 


আমরা বৃদ্ধ ৩ওনং প বাবুর নিকট এক ঘণ্টার বিদায় লইয়া 
চৌকিদারের সহিত ছুই বন্ধুতে পিছনের পর্রতের দিকে 
রওনা হইলাম। খানিক উঠিয়া একটু সমভূমি। 
সেখান হইতে চৌকিদার সন্মুখের পর্বতগাত্রে বিখ্যাত 
“বানিহাল' ও জন্ুর ব্রাস্ত। দেখাইয়া দিল। এখান 
হইতে আর প্রায় ছুই মাইল উপরে যাইতে পারিলেই 
বরফ পাওয়া যাঁয়। উভয়ের নিতান্ত ইচ্ছা সব্ধেও 
সময়াভাবে নিবৃত্ত হইতে হইল। 

ফিরিয়া আগিয়া দেখি চা প্রস্তুত হইয়াছে। ফল 
ও সন্দেশ সহকারে জলষোগ সম্পন্ন হইল। বনু বালক 


কাশ্মীরের রাজধানী ছিল। হর্তনে সমস্ত সহরুটি 
মৃস্তিকাগর্ভে। কিছুদন হ£ল খনন কার্ধ্য আর্ত হইয়া 
ছুটী মন্দির উদ্ধার হইয়াছে। আমরা সেখানে নামিয়া 
এই গ্রত্রতবববিতের লোভনীয় পদার্থটী দেখিতে গেলাম। 
বুদ্ধ ৩নং প বাবু গাড়ীতেই রূহলেন। অবশ্য মন্দিরের 
ছাদ নাই। কতকগুলি ভগ্র দেওয়াল দীড়াইয়! 
রহিয়াছে । দেওয়ালের :গায়ে অবলোকিতেশ্বর প্রভৃতির 
মৃন্তি। আমি এই পুরাতৈন মন্দিরের একটি ক্ষুদ্র প্রস্তর 
খণ্ড স্থৃতিচিহ্বম্বরূপ লইয়া! আসিলাম। 

শরপূর্ণচন্দ্ রায় 


৭২ মানসী ও মন্দ্ববাণী 


[ ১৫শ বর্ষ--১ম খণ্ত--১ম সংখ্য? 





-৯৯ ০৯৯০-৯০-৯৯ ৮৬ কিস পাপ পিপাসা পাত পতি সি সিস্পিসিস্টি পাটি সি িস্তি 


/রাজ] প্যারীমোহন মুখোপাধ্যায় 


বিগ ১৬ই জানুয়ারী মঙ্গলবার বেল! চারিট! চল্লিশ 
মিনিটের সময় উত্তরপাড়ার স্বনাম্ধগ্ত রাঞ্জা প্যারী- 
মোহন মুখোপাধ্যায় ইহলোক হইতে অপস্য হ ইইয়াছেন। 
তাহার ন্তায় ধর্মভীরু ও নিষ্ঠাবান বাক্ধন, তীঠার স্ার 
সব্রজচেতা ও নিভীক স্বদেণগ্রেনিক, তীহার স্তানস বিদ্যা 
হুরাগী ও বিষ্বোংসাহী বাঞ্তিকে হারাইয়! বাঞঙ্গলার কল 
সম্প্রদায় যে ক্ষতিগ্রস্ত হইল, তাহা সহজে পুরণ হইবার 
নহে। 

রাজা প্যারীমোহনের পিতা বাঙ্গালার অন্ধ রাজা 
জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সমৃদ্ধির ক্রোড়ে জন্মগ্রহণ করেন 
নাই।তাহার পিত। সৈনিক বিভাগে বেনিয়্ানের কার্ধ্য 
করিতেন টৈম্তবিভাগ সংক্রান্ত বি্ভালয়ে ইংরাজী 
শিক্ষা লাঁভ করিরা ষোড়শ বর্ষ বয়ঃক্রুমের সময়েই জয়কৃষঃ 
দৈনিক বিভাগে অন্ত হম গ্রনান কেরানীর পদে নিষুক্ত 
হন এবং ভরতপুর অবরোধের সময় ৮২৪ খ্রীষ্টাব্দে পিতার 
সহিত ভরতপুরে উপস্থিত ছিলেন ইহার পরে তিনি 
লুষ্ঠিত অর্থের অংশী হন। অনন্তর তিনি হুগলী কলেক্ট- 
রীতে কিছুকাল কার্দ্য করেন। এই সময়ে তিনি অনেক 
ভূসম্পত্তি ক্রর করেন। কুশাগ্রবুদ্ধ জয়কৃষ তাহার জমী- 
দারীর এরূপ উন্নতি সাধন করেন যে, অধিক কাল তাহাকে 
সরকারী কার্ধ্য করিতে হয় নাই। অল্লকালের মধোই 
জয়কষ্ণ হুগলী জিলার অন্যতম প্রধান জমীদার বলিয়া গণ্য 
হইলেন। তিনি তাহার জমীদারীর অন্তর্গত জঙ্গলাদি 
পরিস্কার ও বাসযোগ্য করিয়া জমীদারীর আয়ের পরিমাণ 
যথেষ্ট বন্ধিত করেন। কুলীন ব্রাঙ্গণগণ অনেকে আবহ্‌- 
মানকালু পর্যান্ত কোনও খাজানা দিতেন না. ইহাদিগের 
নিকট হইতেও জয়কৃষ কর আদায় করিতে আরম্ভ 
করেন। তিনি দোদ্িও প্রতাপে প্রঞ্জাশাসন করিতেন 
এবং স্থাধ্য প্রাপ্য আদায় করিবার জন্ত মামলা মোকন্দম] 
করিতে,বিরত হইতেন না। একবার স্বয়ং একটি মোক- 
মায় এরূপ বিব্রত হইয়াছিলেন যে তাহার লাঞ্নার 


,কাবয়া তিনি চিরম্মরণীয় হইয়াছেন! 


একশেষ হয়। তিনি জাল করার অপরাধে সদর নিজা- 
মত আদালত কর্তৃক দোষী সাবান্ত হন এবং ৫ বংসরের 
জন্য কঠিন পরিশ্রমের সহিত কারাবাস এবং দশ সহশ্র 
মুদ্রা অর্থপণ্ডে দণ্ডিত হন। প্রিভিকৌন্সিলের আপিলে 
কি্থ তাহার নির্দোধিতা প্রতিপন্ন হয় এবং গবর্ণমেন্ট 
তাহাকে অব্যাহতি প্রৰান করেন। 

জয়কৃষ এদেশের রাজনীতিক ও শিক্ষাবিষয়ক উন্নতির 
জন্য যথেই চেষ্টা করিয়াছলেন। বাঞগণায় তদানীন্তন 
প্রধান রাগনী[5ক »ভ| বিটিশ ইগ্ডিঘান এসোসিয়েশনের 
ভিনি স্তন্তম্বরূপ ছিলেন এবং দেশে বিদ্যা বিস্তারের 
জন্য বিগ্ভালয় ও সাধারণ পাঠাগার প্রভৃতি প্রতিষ্ঠিত 
কবি হেমচন্্র 
“হুতোম পাচার” গানে ইছার সম্বন্ধে লিখিকাছিলেন - 


তার পর গুড়ি গুড়ি এসে! বুড়ো শিব, 
গঙ্গার ওপারে বাড়ী অডুত 'নপীব? | 
জমিদারী মিন্টে ঢালা আদোৎ “মডেল, 
ঝাঙ্গালার কাদাহোড়ে পাথুরে পাটকেল। 
বয়েসে অনাদি লিগ “জরাসিঙ্' বলেঃ 
দাপো্টে এখনো যায় হুগলি জেল! টপে ॥ 
মাল্‌ আইনে তোদরমল রোখে হাইদর আলী, 
কৌশলে চাণক্য দ্বিঞ্, বিগ্যাদানে বলি। 
গুষ্টী বন্ধ বাস্তভুমি যেন লঙ্কাপুরী, 
ইন্্রজিৎ সম পুত্র কৌন্দলে মুহুরি। 
দিখ্বিজয়ী দণ্ধর রাষ্ট্র যুড়ে নাম, 

ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ চরণে প্রণাম । 


১৮৭৯ গ্রীষ্ঠাঝে জয়কৃষ্ অন্ধ হন। অন্ধ হইলেও 
তিনি কর্তব্য সম্পাদনে কখনও অবহ্ল! করেন নাই। 
তিনি কর্মচাতীদিগের দ্বার সংবাঁদপত্রাদি পাঠ করা- 
ইতেন এবং সভাসমতিতেও যোগদান করিতেন । ১৮৮৮ 
্রীষ্টান্দে আশী বৎসর বয়নে তাহার মৃত্যু হয়| শেষ 


ফালঙ্ুন, ১৩২৯] 


অবধি তাহার স্বৃতিশক্তি ও অন্তান্ত মানসিক বৃতিনিচয় 
অনুপ চিল। »/ 

গ্যারীমোহন অয়কৃষ্ণের দ্বিতীয় পুত্র । ১৮৪* থৃষ্টাবে 
১৭ই সেপ্টেম্বর দিবসে ইনি জস্মগ্রহণ করেন এবং বাল্য- 
কালে উত্তরপাড়া স্কুলে প্রাতঃম্মরনীয় রামতন্ লাহিড়ীর 
নিকট শিক্ষা লাভ করেন। পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে 
প্রবিষ্ট হইয়। তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ১৮১৪ 
ুষ্টান্দে তিনি বিজ্ঞানশান্ত্রে এমএ এবং পর বংমর 
বি-এল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। রাজ! প্যারীমোহনই 
বাধ হয় কলিকাতা! বিশ্ববিগ্তালয় হইতে সর্বপ্রথম বিজ্ঞান 
শাস্ত্রে এম.এ উপাধি লাভ করেন। বিজ্ঞানচর্চায় 
তাছার বিশেষ আনন্দ ছিল। উত্বম ইংরাজী শিখিবার 
জন্যও যৌবনে তাহার আদম্য ইচ্ছা ছিল। হিন্দু 
পেটিয়ট সম্পাদক হরিশ্চন্্র মুখোপাধ্যায়, “বেঙ্গলী 
সম্পাদক গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রভৃতির ইংরাজী রচনাপন্ধতির 
তিনি পক্ষপাতী ছিলেন এবং কিরূপে তাহাদের স্টায়* 
ইংরাদী লিখিতে শিখিবেন তীহার সেই চেষ্টা ছিল। 
তাহা কিরূপে প্ররূপ বিশ্তগ্ন রচন! পদ্ধতি শিখিষ়্া- 
ছিলেন তাহা পুজ্থান্বপুঙ্খরূপে জিজ্ঞাসা করিতেন। হরিশ- 
চন্ত্র তাহাকে বলিয়াছিলেন, কয়েক বৎসরের এএডিনবর! 
রিডিউ' পড়িস্বা তিনি যুক্তিতর্ক সমন্বিত ওজন্বিনী 
রন! লিখিতে শিক্ষা করেন। গিরিশচন্দ্র তাহাকে বলিয়া- 
ছিলেন, থ্যাকারের গ্রন্থাংলী বারঘার পাঠ করিয়া 
তাহার রচনাশক্তি বিকশিত হয়। গিরিশচন্ত্র শেষ 
জীবনে বেলুড়ে অবস্থাদ করিতেন। সেই সময়ে তাহার 
সহিত প্যারীমোহনের ঘনিষ্ঠতা হয়। বিজ্ঞানামোদী 
প্যারীমোছন যৌবনে যখন নুতন ফটোগ্রাফি শিক্ষা 
ফরিতেছিলেন, তখন একবার গিরিশ-ক্দ্রকে উত্তরপাড়াস 
নিমন্ত্রণ করিয়া! লইয়। যান এবং উত্তরপাড়। লাইব্রেরীর 
সম্থুথে তাহার ফটোগ্রাফ তুলেন, কিন্তু একটি আরক 
দিতে ভুল হওয়ায় ফটোগ্রাফ উঠে নাই। ইহার সপ. 
কাল পরেই গিরিশচন্দ্র ইহলোক পরিত্যাগ কননন্ন। 

১৮৬৭ শ্রী্টান্যে মেরী কার্পেন্টারের চেষ্টার এদেশে 
এ্চাট সমাজবিজ্ঞান সভা প্রতিষ্ঠিত হয। প্যারীমোহন 

ও 


রাজা প্যারীমোহন মুখোপাধায় 


৭৩ 


এই সভার কার্ধযনির্বাহক সমিতির অন্যতম সদস্ত ছিলেন 
এবং ইংরেজী ভাষায় কতকগুলি সুন্দর সুন্দর সন্দর্ভ পাঠ 
করেন। নিম্নলিখিত প্রবন্ধগুলি উল্লেখযোগ্য 

91 60৪ ০০120161010 ০01 00৩ 960291 [২০৮ 
(১৮৭০ খৃষ্টাব্দে ১১ই ফেব্রুয়ারী তারিখে পঠিত ) 

92 00০ ০3277100610 01 /6063953 10 
৫919551] ০০96 € ১৮৭১ শ্রীষ্টাবে ফেব্রুয়ারী মাসে 
পঠিত) 

£809811৩ (১৮৭২ খৃষ্টাবে .মার্চ মাসে পঠিত 
হয়) | 

গ্রথমোক্ত প্রবন্ধটী সভার তাৎকালীন সভাপতি 
মাননীয় বিচারপতি স্তর জন বাড় ফিয়ার কর্তৃক ৰ্বিশেষ 
ভাবে প্রশংসিত 2য়। 

প্যারীমোহন ১৫ বৎসর হাইকোর্টে ওকালতী 
করেন। তিনি কবিবর হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক্নন 
অনুরস্ত তস্ত ছিলেন, হেমচন্ত্রের ভীবনচরিত পাঠক- 
গণের তাহা অবিদিত নাই। তিনি ভূমি সংস্তাস্ত 
আইনে একজন বিশেষজ্ঞ বলিয়া খাতিলাভ করেন। 

প্যারীমোহন ব্রিটিশ ইগ্ডিষান সভার অন্যতম নেতা 
ছিলেন। ১৮৭৯ থ্টাব্ধে তিনি বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার 
সভ্য নির্বাচিত হন। ১৮৮৪ খুষ্টান্দে কৃষ্ণদাস পালের 
মৃত্যুর পর ইনি ভারতীয় ব্যবস্থাপক সভার সন্ত হন 
এবং ১৮৮৬ খুষ্টাকে পুনরায় এ সভার সাস্ত নির্বাচিত 
হন। এই সভায় 730102] ]:619110 7111 বিধিবদ্ধ 
হইবার সময় ইনি জমিদারী ও রাজস্ব বিষয়ক জ্ঞানের 
যে পরিচয় দিয়াছিলেন, তাহাতে প্র রিলের প্রস্তাব 
কর্তা স্তর ়ার্ট বেলি চমতকুত ত্য বলিয়াছিলেন £--. 

০৪৪ 056 2620 0£ 01 12507670150. 
0)11699 [9% 10775001025 791] 73209.0 20 
00612030016 ০6০9 01500095100. 1০9 ৪, £26- 
₹্93 1999 0£ 68০ 70052] 2500100019 2:00 
1706০ 0০ 2] 0 £৪, 36 02610 1005055 
00010 179,101 1026 2৪০৫ 2109060 £60£6- 
86069056 050 201039 590005801 ৭00 


৭8 মানসী ও মশ্পরবাণী 


খু 2006য2016 ০012562100য 0500. 6৮৪10 ৪, 
10016 70665০৮ 10005416050 ০1 06211 1720 
1019 00:60.0069301, . 00216560 ৪৩ 11101 
0£ 20800 200 01951012590 £ (0095: 
200 হাতে 030 90050 00৭৮ 29615 
006 01091) 
108.09 €17610 816001255 

১৯.৭ খৃষ্টাকে 82821 
সংস্কারকালে গবর্ণমেপ্ট কর্তৃক অনুরুদ্ধ হইয়া প্যারীমোহন 
বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্ত পদ পুনগ্রুহণ করিয়া 
ষ্টাহার অভিমত ও উপদেশ প্রদান করিয়াছিলেন । 

ন্যবস্থাপক সভায় বিশিষ্ট কার্য্যের জন্য ১৮৮৭ 
খৃষ্টাবে প্যারী'মাহন গবর্ণমেন্ট কর্তৃক এককালে “রাজা 
ও “লি এস-আই' উপাধিতে ভূষিত হন। একই দিনে 
এই ছুইটি সম্মানজনক উপাধিলাভ পুর্বে কৌনও 
বাঙ্গালীর ভাগো ঘটে নাই।-/ 

দেশহিতকর সকল সভা সমিঠিতে প্যারীমোহন 
আস্তরিকভাবে যোগ দিতেন । বনু বৎসর ব্রিটিশ ইত্ডিয়ান 
সভার তিনি সম্পাদক এবং পরে সভাপতি ছিলেন। 
তিনি কলিকাতা যুনিভারসিটার অন্ততম অনারারী 
ফেলো! ছিলেন, 'এবং ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার 
গ্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানসভার সভাপতি ছিলেন। অর্ধশতাবী 
ধরিয়া তিনি বাঙ্গালার শিক্ষিত সমাজের অগ্ততম নেতার 
পদ অধিকার করিয়া নান! দেশহিতকর কর্য্যের অনুষ্ঠান 
করিয়া গিয়ছেন। এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে তাহার সংক্ষিপ্ত 
পরিচয়? প্রদান করা সম্ভবশর নহে। 

সদনুষ্ঠানে অর্থনীহাধ্ করিত প্যারীমোহন কখনও 
কার্পণ্য করেন নাই। উত্তরপাড়া রেলওয়ে গ্রেশ-নর 
জন্্র পচিশ সহন্ মুদ্রা এবং উত্তরপাড়া কলেজের জনা” 
লক্ষ যুদ্রা দান করিয়া তিনি চিরম্মরণীয় হইয়াছেন । 
এতদ্বাতীত বহু চিকিৎসালয় ও বিদ্যাপয্জে তিনি বিস্তর 
অর্থ সাহায্য করিয়াছেন। , 

তিনি আইন ও চিকিৎসা সন্স্থীন গ্রন্থ পাঠ করিতে 
ভালবাঁসিতেন ৷ তিনি হোষিওপ্যাথির পক্ষপাতী ছিলেন 


[1001007 :£590012,6101 ণ 1720 


7:609,005 4০চএর 


| ১৫শ বর্ব---১ম খণ্ড-.১ম সংখ্য। 


এবং প্রতিদিন প্রাতঃকালে দরিদ্রগণে ওউধধ বিতরণ 
করিতেন। মধ্যে মধ্যে তাহাদ্দিগের বাটীতে গিয়াও 
চিকিতৎস! করিতেন। 

তাহার স্তায় সরল, উদাঁর, অমায়িক ও মিষ্টভাষী 
বাক্তি প্রায় দেখা যায় না। তিনি বিনয় ও সৌজম্ের 
আকর ছিলেন বলিলেও অভুক্তি হয় ন/। বার তেরে! 
বৎসর পূর্ব্বে আমার পিতামহ, 'বেঙ্গলী'র প্রবর্তক ও 
প্রথম সম্পাদক গিরিশচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের জীবনচরিতের 
উপকরণ সংগ্রহ মানসে আঁম উত্তরপাড়ায় গিয়াছিলাম। 
বাজ'র সহিত সাক্ষাৎ করিলে তিনি আমার প্রতি 
যেরূপ ্সেহ প্রদর্শন করিয়াছিলেন, এবং নানাবিধ উপদেশ 
ও সৎপরামর্শ দিয়াছিলেন, তাহা! চিরদিন স্ৃতিপটে মুদ্রিত 
থাকিবে। সেদিন ছুটী ছিল বলিয়। উত্তরপাড়া লাইব্রেরী 
বন্ধ ছিল। রাজা আমার জন্ত পুস্তকালয় খুলাইয়।৷ দেন। 
আমি আবন্তক তথা সংগ্রহ করিয়া! ছইখানি ছুশ্রাপ্য 
গ্রন্থ বাটাতে লইয়া আসিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিলে, 
্রস্থীধাক্ষ. আমাকে বলেন যে পুস্তকাগারের অধ্যক্ষগণের 
বিনান্ুমতিত্ে কোনও গ্রন্থ উত্তরপাড়ার বাহিরে লইয়! 
ফাইতে দেওয়। হয় না। উত্তরপাড়ায় আমার পরিচিত 
ব্যক্তি কেহ ছিলেন না। কাহারও পরিচয়পত্র না লইয়াই 
ব্াজ্জার সহিত প্রাতে সাক্ষাৎ করিয়াছিলাম। এক্ষণে 
কাহার ম্থপারিশ লইয়া অধ্যক্ষগণকে ধরিব? গ্রস্থাধ্যক্ষ 
বলিলেন রাজার অনুমতি পাইলে পুস্তক ছুইথামি আমাকে 
দিতে পারেন এবং একখানি ক্ষুদ্র কাগজ ও পেম্দিণ দিয়! 
আমাকে রাজার অনুমতি চাহিতে পরামর্শ দিলেন। 
আমি কয়েক ঘণ্টামাত্র পূর্বে রাজার সহিত পরিচিত 
হইয়াছি, দৃপ্রাপায গ্রস্থদবয় বাছিরে লইয়া! যাইয়া অনুমতি 
চাহিলে কি তাহা পাইব? আমি সন্দিগ্চচিত্তে সেই 
ক্ষুদ্র কাগজখণ্ডে পেম্সিল দ্বারা একটি পত্র লিখিয়! 
রজার অনুমতি চাহিলাম। অনুমতি আসিতে বিল 
হইল না এবং আমি অনতিকালমধ্যে হষ্টচিত্তে অভিলধিত 
রস্থবয় লয় গৃহে প্রত্যাগমন করিলাম । 


ভ্রীসম্মথনাথ ঘোষ । 





সতাযবালা 


€ উপন্যাস ) 


ছা 


প্রথম পরিচ্ছেদ 
মনা । 


বৈশাখ মাস পল্ড়তে ন! পড়িতেই কণ্কাতায় অসহা 
গ্রীষ্ম আরম্ভ হইল। রৌদ্রের যেমন উত্তাপ, তেমনি 
তাহার ওজ্জল্য। দ্বিগ্রহব্র সময় জানাল! খুলিয়৷ 
বাহিরে চাহিলে চক্ষু ঝলসিয়া যায়। হাত পার 
দাম ছুই পয়সার স্থানে চারি পয়সা হইয়াছে, বরফের 
মূলাও পরিবদ্ধিত। আমরা যে সময়ের কথা পিখিতেছি, 
তখনও কলিকাতায় বৈদ্যুতিক কারবার আরম্ত হয় 
নাই, মান্তষে পাখা এবং ঘোড়ায় ট্রাম টানিত। বাহাদের 
বাড়ীতে টানাপাখ। আছে তীহার! পাখাকুলি খু'ঁজিয়া 
পাইতেছেন না; মধ্যাহ্নে রাজপথে বাহির হইলে স্থানে 
স্থানে ট্রামের ঘোড়া হৃূর্ধযাহত হইয়া! ঘর্ঘমান্ত কলেবরে 
পড়িয়৷ মৃত্যু যস্্রণায়ছটফট করিতেছে দেখা যাইতে লাগিল। 
সমস্ত দিন এমন গুমট করিয়া থাকে যে গাছের পাতাটিও 
নড়ে না। সন্ধার পর, আটটা কি নয়টা বাজিলে তবে 
একটু বাতাঁস বহিতে আরস্ত হয় লোকে খোলা ছাদের 
উপর মাছুর বিছাইয়] শয়ন করিয়। বলে--“আঃ-_প্রাণটা 
বাচলো !” 

এইরূপ একটি গ্রীগ্সের প্রন্তাতে, ভবানীপুরে কোনও 
অট্রালিকামধ্য্থ ছ্বিতলের একটি সুসজ্জিত কক্ষে বসিয়া 
ছইন্ন যুবক কথোপকথন করিতেছিল। তখন মাত্র 
আটট। বাজিগ্নাছে। উভয়ে একটি টেবিলের ছু:ধারে 
উপবিষ্ট, স্মুথে এক একটি চায়ের পেয়ালা। 

যুবক দ্বইটার মধ্যে একটির বয়স ভ্রিংশৎবর্ষ হইবে। 
সেই গৃহস্বাণী। ইংরাজি রাভ্িবসনের উপর একটা 
কুচিত্রিত জাপানী কিমোনো! তাহার অস্পোপরি বিরাজ 
করিতেছে। পদদ্য়ে তব নির্পিতি চটা ভ্ুতা যোড়াটাও 


কিমেনোর ন্যায় জাপানী চিত্রে শোতিত। টেবিলের 
উপর ইজিপিসিয়ান সিগারেটের একটা বাক্স রহিয়াছে। 
চা পান শেষ হইবার পূর্বেই গৃহস্বামী যুবক একটি 
সিগারেট ধরাইয়া, বাল্সটি অপর যুবকের দিকে ঠেলিয়! 
দিল। 

দ্বিতীয় যুবকটী আগন্তক | তাহার বয়স পঞ্চবিংশতি 
বর্ষের অধিক হয় নাই। গাত্রে বাঙ্গালী পোষাক--সুস্ 
ধুতির উপর একটী আন্ধির পাঞ্জাবী) একটি রেশমী 
উত্তরীয় বসনের কিয়দংশ স্বন্ধদেশে জড়িত। লোকটা 
গৌরকাস্তি, মাথায় ঝাঁকড়া ঝাকড়া চুল। চক্ষু ইটা 
বৃহৎ ও উজ্জল। ভাবভঙ্গি দেখিলে তাহাকে কবি বলিয়া 
সন্দেহ জন্মে । 

প্রথম বুবকের নাম হেমচন্দ্র কর; দ্বিতীয়টির নাম 
কিশোরীমোহন নাগ । হেমচন্দ্র ধনীসন্তা”--বহছ সহ মুদ্রা 
ডিপোজিট দিদা কলিকাহার একটি প্রসিদ্ধ সওদাগরী 
আফিসে কেসিম়্ারি কর্ম লইয়াছেণ কিশোরীমোহন 
মধ্যবিত্ত গৃহস্থের সন্তান, বিশেষ কোন কাধকর্ম্ম নাই-_মধ্যে 
মধ্যে মাসিক পত্রে কবিতা লেখে । 

চ৷ পান শেষ করিয়! অত্যন্ত গরম বোধ হুইল, তাই 
হেমচন্দ্র কিমোনোটি খুলিয়া ফেলিল। পাখাকুলীকে 
সজোরে পাখা টানিতে আদেশ দিয়া বলিল, "আর ত 
কলকেতায় টেকা যায় না” 

কিশোরী জিজ্ঞাস করিল, “ছুটির দরখাস্ত করেছিলে 
তার কি হল 1?” 

চটী পাব। বোধ হয় আসছে সোমবার থেকেই ছুটা 
পাব। কস্ত এই ৪1৫দিনই বাকাটে কি করে?” 

(িশোরী প্রশ্ন করিল, *. ' দার্জিলিঙে এখন 
শীত কেমন?” শিং 

মুখ হইতে সিগারেটের ধৃম উদ্দিগরণ করিতে করিতে 


৭৬ মানসী ও মন্্মবাধী 


[ ১৫শ বর্ষ--১ম খ--১ম সংখ্যা 


233১0 ৩৯উ১ইউউসউউি১উউউউওভলজ 


হেম বলিল, «এই-_অর্থাৎ এখানে পৌষ মাঘ মাসে 
যেমন হয়, সেই রকম আর কি!” 

প্রাত্রে লেপ গায়ে দিতে হয় ?” 

হেম হাস্ত করিয়া বলিল, "বেশ দিতে হয়। ছুখানা 
কম্বল সহ হয়।” 

শ্বরফ -দখ। যায় ?” 

প্মুরে--মাঝে মাঝে দেখা যাঁর বৈ কি। তা, তোমার 
কবিত| লেখবার খুব স্থুবিধে হবে| কবিতার উপকরণ 
সেখানে যথেষ্ট পাবে ।” পু 

কিশোরী সাগ্রহে জিজ্ঞাস! করিল, শক রকম? কি 
রকম ?” 

হেম গম্তীরভাবে বলিতে লাগিল, “এই ধর, চারিদিকে 
শৈলশ্রেণী--ভিত্ব,গ' মানে কি হে?” 

কিশোরী ঈষৎ হান্ত করিয়া বলিল, প্উত্তঙ্গ মানে 
খুব উচু।” * 

“তা হলে ঠিকই বলছিলাম। চারিদিকে উত্তজ 
শৈলশ্রেণী। র্বিকরকিরণে তাদের গা--* 

কিশোরা বলিল “মড়াদাহ কোর না-বরবপু 
বল। রবিকিরণ সম্পাতে--* 

হেম বলিল, “রাইট -ও! রবিকিরণ সম্পাতে 
তাদের বর বপু ৫বশ সবুজ। এমারেল্ড যাকে বলে 
ভার বাঙ্গলা কি?” 

*মরকত মণি ।” 

“মরকত 1 বাঃ বাঃ- সুন্দর কথাটি। রবি কিরণ 
সম্পাতে তাদের বর বপু মরকত মণির ন্যায় কাস্তি 
ধারণ করে। আবার মেঘোদয়ে তাদের দ্েহবর্ণ শ্তামায়- 
মান হয়। “্তামায়মান' কথাটা ঠিক হল ত? ব্যাকরণ 
ভুল হচ্চে না?” 

“না, ঠিক হচ্চে--বলে যাও ।” 

শ্যখন নুর্য্েদেয় হয়নি, তখন তার! ধৃসরাভ-_যেন 
যোনীখধির। ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে আছেন ।--কেমন বলছি 1” 

গ্বেশ বলছ । -” পর?” 

"এই ত গেল ভট্ট প্রকৃতির শৌভা। তার পর 
চঞ্চল প্রক্কৃতি--ঘর্থাৎ পাহাড়ী ছঁড়িগুলো--সিগারেট 


মুখে করে পথে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্চে। আমি এক একটা 
রঙ দেখেছি, প্রায় ইউরোপীয়দের মত পরিস্কার--অথচ 


ওদের মত ফ্যাকাসে নয়, বেশ গোলাপী রঙ । কেমন, 
কাব্যকলা চর্চার উপযুক্ত স্থান নয়?” 
কিশোরী বলিল, “লোভনীয় বটে। অনেকদিন 


থেকে ইচ্ছে, একবার দার্জিলিওটে বেড়িয়ে আসি, কিন্ত 
সঙ্গীর অভাবেই এতদিন তা হয় নি। এবার বেশ 
আমোদে থাক' যাবে ।” 

হেম দগ্ধপ্রান্ন সিগারেট ফেলিয়া নিজের দেহ চেয়ারে 
এলাইয়! দিয় জিজ্ঞাসা কন্সিল, “তোমার কাপড় চোপন্ত 
সব তৈরি হল?” 

“আজ বিকেলে দেবে বলেছে 1” 

"কি কি করালে ? 

“একট! কাশ্মীর! স্ুট, ছুটো ফ্লানেলের স্থুট, একটা 
ইভনিং ড্রেস, আর দুপ্রস্থ রাত কাপড় ।” 
৭. পছুপ্রস্থ রাতকাপড় মাত্র? তাতে হবে না।” 

কিশ্বোরী একটু লঙ্জিত হইয়৷ বলিল, “কিছু ধুতি 
টুতিও সঙ্গে থাকবে কি না» 

হেমচন্ত্র যদিও বিলাত প্রত্যাগত “সাহেব” লহ, 
তথাপি তাহার একটি সিভিলিয়ন জাটতূতো ভাই আছে 
--সেই সুবাদে সে সাহছেব। তখনকার দিনের বিলাত 
ফেরতের ধুতি পরাকে নিতাস্ত বর্বরোচিত বলিয়া 
মনে কদ্দিতেন, হেমচন্দ্রও সেই ব্যাধিতে আক্রাত্ত হইয়া 
ছিল। সে বলিল, “আরে না না-দার্জিলিঙে আর ধুতি 
টুতি নিয়ে গিয়ে কাষ নেই।” 

কিশোরী একটু সন্কুচিত হইয়া বলিল, "আচ্ছা, তবে 
আরও ছটো| রাত কাপড়ের স্থট তৈরি করতে দিই না 
হয়।” 

“তাই দাও।” 

কিশোরীমোহন লোকটা যতদুর সৌথীন, তাহার 
আর্থক অবস্থা -ততট! স্বচ্ছল নছে। তাহার পিতা 
সামান্ত কিছু বিষয় সম্পত্তি রাখিয়া গিয়াছিলেন, তাহারই 
আম কইতে কিশোরীর ব্যয় নির্ববাছিত হইয়া যায়, চাকরি 
করিতে হয় না এট মাহে। সে নিজে অবিবাহিত। 


ফাঙ্কন, ১৩২৯] 


সত্যবালা ৭ 





পপ পি 





ু 





আত্মীয়ের মধ্যে কেবল এক তাহার বড়দাাদা, তিনি 
পাশ্চমে ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট, মাও সেইথানেই থাকেন। 
তাছার স্বন্ধে সংসার ভারশুন্ত | 

“তাই দাও”-__বলিয়া পাখাওয়ালাকে হেমচন্দ্র বলিল, 
“সবুর 1” পাথ! থামিলে সে নিজে একটি সিগারেট ধরা- 
ইল, কিশোরীকেও একটি দিল। আবার পাখা 
চলিতে লাগিল। 

কিশোরী কহিল, “কলার নেকটাই গুলো!, হাট ট্যাট- 
গুলো কেনবার সময় তুমি সঙ্গে থাকলেই ভাল হয় হেম।” 

"আচ্ছা, তোমায় আমি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে কিনে 
দেবো এখন ।* 

কিশোরীমোহনের অপর কোনও বন্ধুবান্ধব এ সময় 
উপস্থিত থাকিলে বিস্মিত হইত। .তাহারা এপর্যযস্ত 
কেহই জানে না যে কিশোরীকে ভিতরে ভিতরে সাহেবী 
রোগে আক্রমণ করিগ্কাছে। পূর্বে ইংরাজ বেশধারী 


বাঙ্গালীদের সম্বন্ধে সেকত না বিভ্রপোক্তি করিয়াছে__' 


তাহাদিগকে হবজাতিদ্রোহী--ময়ুরপুচ্ছ শোতিত টাঁড়কাক 
ইত্যাদি কত কি বলিয়াছে। এ সস্বন্ধে তাহার একট! 
ব্গপূর্ণ কবিতাও কোনও এক মাসিক পত্রে ছাপ! হইয়া- 
ছিল। সেই কিশোরীমোহন দার্জিলিঙ যাত্রার প্রাক্কালে 
পমিষ্টার” বনিবার ষড়যন্ত্র করিয়াছে-_বিশ্ময়ের বিষয় 
বৈকি! আহারাদি সম্বন্ধে তাহার হি'ছুয়ানি পূর্ব 
হইতেই ছিল না। আজ বৎসরখানেক হেমচন্দের সঙ্গে 
ভুটি্ ছুরি কাটা চালানো বিলক্ষণ অভ্যাস করিয়া লইয়াছে। 
কিন্তু ইহা গৃহাভ্যন্তরে-_-সুতরাং নিধ্কাট । বন্ধুবান্ধ- 
তের বিজ্পের আশঙ্কায় এ পর্যন্ত ইংরাজি পোষাক ধারণ 
করিতে সে সাহস করে নাই-_-এবার করিবে। 

তাহার অন্তরে আরও একটি গোপন বাসনা! আছে, 
তাহাও চরিতার্থ করিবার স্ুঘোগ হইবে । মনে মনে 
অনেক দিন হইতেই তাহার সাধ, বিলাতফেরত সমাজে 
একটু মেলামেশা করে। পোড়া ধুতি ও চাদরের শৃঙ্খল 
এতদিন কাটিকনা! উঠিতে পারে নাই বলিয়াই এ সাধ আজিও 
অপূর্ণ আছে। এ সকল বিষয়েও হেমচক্ের সহিত পূর্ববা- 
বধিই তাহার পরামর্শ স্থির হইয়! গিয়াছে। 


৯ পািপস্পিস্পিশিপা পাস্পাসিপা পাস পপি পপসপপসপিস্পাপাসিপাসপিসিপীরত নস 


ই সা পপি 


বেহার। একখানি পত্র আনিয়৷ হেমচন্দ্রের হাতে দিল। 
পড়িয়! হেমচন্দ্র বলিল, প্ভালই হল। ঘোষেরাও 
যাচ্চেন।” 

কিশোরী প্রশ্ন করিল, ব্যারিষ্লার মিষ্টার ঘোষ?” 

“না, হাইকোর্ট বন্ধ না থাকলে ঘোষ কেমন করে 
যাবেন? মিসেস্‌ ঘোষ আর তীর মেয়ে ছুটি যাচ্চেন। 
আমাকে জিজ্ঞাসা করে পাঠিয়েছেন আমি কবে যাব, 
তা হলে তারাও আমার সঙ্গে যেতে পারেন ।” 

কিশোরী বণিল, "সে ত ভালই হ্য়।* 

“ধুব ভাল হয়। সেখানে গি'য় মিসেস্‌ 'ঘোষের বড় 
মেয়েটির সঙ্গে আমি প্রেমে পড়ব এখন, তুমি ছোটটির 
সঙ্গে পোড়--কি বল1?”__বলিয়৷ হেম হাহা করিয়া 
হাসিতে লাগিল। 

এই মেয়ে ছুটি বিখ্যাত সুন্দরী। কিশোরী ইহার্দিগকে 
দুর হইতে দেখিয়াছিল, তাহাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচয় 
হইবে ইহা মনে করিতে তাহার বক্ষে আনন্দ হিল্লোল 
বহিল। তাহার ভাব দেখিয়া হেম বলিল, “আব তা যদি 
না! পছন্দ হয়, তুমিই না হয় বড়টিকে বিয়ে করবে--আমি 
ছোটটিকে নেবো এখন ।”__বলিয়৷ সে হাসিতে লাগিল। 

কিশোরী গলা ঝাড়িয়া বলিল, «তোমার ত কেবল 
মুখই সার। প্রেমে পড় কৈ ? তোমার মত নুযোগ 
পেলে আমর! এতদিন কোন্‌ কালে বিয়ে থাওয়া করে 
ভদ্রলোক হয়ে ষেতাম। তোমার হ্থদয়টি পাষাণের মত 
কঠিন; কন্দর্পের বাণ ওতে ঠেকে, হুল ভেঙ্গে ভোতা 
হয়ে পড়ে যায় ।” 

হেমচন্ত্র তখন ব্যঙ্গ করিয়া, নিরাশ প্রপয়ীর স্তায় 
বক্ষে হস্তার্পণ করিয়া করুণ স্বরে কহিল, “ভাই, আমার 
হৃদয় কঠিন? আমার হ্থদয়ে ঠেকে কন্দর্পের বাণ ভেশত| 
হয়ে পড়ে ঘান্স ? তা নয়, তা নয়। আমার হৃদয় মাখলেব 
মত কোমল,--কন্দর্পের চার পাঁচটি বাণ এভে বিধে 
রয়েছে ।” 

“অর্থাৎ?” 

“অর্থাৎ আমি এমনই মৃঢ় ষে, এক সঙ্গে চার পাঁচটি 
তরুণীক্ষে তালবেসে ফেলেছি। কোন্টিক্ষে প্রার্ঘন! 


৭৮ 


করব কিছুই ঠিক করতে পারিনে--তাই এত দিনেও 
আমার আইবুড়ো নাম ঘুচলো! না” 

এইরূপ হাস্য পরিহাসে নয়টা! বাঁজিল। রৌদ্রতেজ 
প্রবল হইতেছে দেখিয়! সেদিনকার মত কিশোরী বিদায় 
গ্রহণ করিল। আগামী রবিবার দিন দাজ্ভ্বিলি৬ যাত্র।ই 
স্থির। 


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ 
যা'ধার আয়োজন। 


আজ রবিবার। আজ কিশোর'মোহন, হেমচক্জ 
প্রভৃতির সহিত দার্ডিলিউ যাত্রা করিবে। আজ তাহার 
অত্যন্ত আনন্দের দিন। তাহার বহুদিনের আশা আব 
ফলবতী হইবার উপক্রম হইয়াছে; প্রথমতঃ দার্ডিলিউ 
ভ্রমণ, দ্বিতীয়তঃ না সমাজে অবাধ মিশ্রণ। “কিন্ত 
তথাপি তাহার মুখমণ্ডল আজ যেন শুফ, যেন চিন্তাযুক্ত। 
ইহার কারণ কি? 

দার্জিলিউ যাত্রার 'সঙ্গে সঙ্গে তাহার জীবনের যে 
একটি বিপৎসম্কুল পরিচ্ছেদের প্রারস্ত সচিত হইল, তাহা 
সে এখনও অবগত নহে। ভবিষ্যৎ ঘটনা পুর্ব্বাবধিই 
নাকি মানবচিত্তে নিজ ছার়াপাত করিয়া থাকে, তাই কফি 
আজ কিশোরীর মনটা এমন বিষ? হইতে পারে। 
কিন্ত আরও একটা! স্কুটতর কারণ বিদ্যমান রহিয়াছে । 

নব্যতন্ত্বের মহিলাগণের সহিত সে অজে প্রথম 
পরিচিত হইবে। তাই তাহার মনে একটা অশাস্তির 
একটা আশঙ্কার রেখা পড়িয়াছে। তাহার কথাবার্তীস়, 
তাহার ব্যবহারে যদি তাহার অন্পযুক্জত। প্রকাশ পায়? 
যখন হেমচন্ত্র প্রথম তাহাকে ইহাদের নিকট “ইন্ট্ো- 
ডিউন' করিয়া দিবে, সে সেময়কি কি করা কর্তব্য 
তাহ! হেমচন্ত্র উত্তমরূপে শিখাইয়! দিয়াছে বটে, কিন্ত 
কার্যকালে যদি ভুলচুক হইয়া যায়? তাহার “বাউ' 
(শিরোনমন) যথানিয়মের অপেক্ষ! যদি কিঞ্চিৎ অধিক ঝ| 
কিঞ্চিৎ অল্প হইয়া পড়ে? কথাবার্তায় যদি ইংরাজি 
কোনও শব্দ অশুদ্ধ ভাবে উচ্চারিত হয়? গদ্মাবক্ষে 


মানর্সী ও মর্্মবাধী 


[.১৫শ বর্ব--,ম খ--১ম সংখ্যা 


জাহাজে সাদ্ধ্ভোজনের সময় হেমচন্ছে্র শিক্ষান্সারে 
মহলাগণের প্রতি তাহার “মনোযোগে যদি কোনও 
আনাড়ীত্ব প্রকাশ পায়? এক কথায়, হদি তীহারা 
কিশোরীকে একটি “জানোয়ার বলিয়! ধার্ধ্য করেন? 
সেই বিখ্যাত সুন্দরী কুমারীঘয়ের চারিচস্ষু বদি তাহার 
অলক্ষিতে ঘ্বণা ও বিদ্রপপর্ণ মন্তবা বিনিময় করিয়া লয়? 
যদি কাহারও গোলাপী অধরযুগল রুমালের অন্তরালে 
গোপনে একটু হান্ত করে? 
এইরূপ দুশ্চিন্তায় প্রাতকাল অতিবাহিত হইল। 
ক্রমে স্নানের সময় আমিল। কিশোরীর একটি কুকুর 
ছিল তাহার নাম টম বা টমি। ইর্দানীং কিশোরী 
তাহাকে আদর করিয়। মিষ্টার টম বলিয়াও ডাকিত। 
আজ নিজে স্নান করিবার সময» সে স্বহস্তে টমির গাত্রে 
উত্তমরূপে সাবান ঘষিয়! তাহাকেও স্নান কাইয়া দিল, 
কারণ টমিও তাহার সহিত দার্ভিলিউ যাইবে । টমি 
“তাহার বড় আদরের কুকুর। টমির যখন একমাস মাত্র 
বয়স, তখনই কিশোরী তাহাকে পুষিয়াছিল-সে আজ 
ছুই বৎদরে কথা। তখন টমি ভেউ ভেউ করিতে 
পারিত না-শুধু কই কুই করিত) ছুটিতে 
পারিত না, আস্তে আস্তে থপ, থপ, করিয়া! চলিত। 
তখন দ্বিতলে শয়ন করিতে যাইবার সময় কিশোণী 
তাহাকে কোলে করিয়। লইয়া! যাইত, কারণ সি'ড়ি 
উঠিবার শক্তি তখন টমির ছিল ন1। প্রভাতে আবার 
কোলে করিয়! নীচে নামাইয়। আনিতে হইত। তখন 
টমি দুধ পাইলে চক্‌ চক করিয়া খাইত, ভাত কিংবা 
ংস কিংবা বিদ্কুট খাইতে জানিত না। সেই টমি 
এখন ছুইবৎসরের হইয়াছে, পুর্ণ যুব কুকুর । 
অন্ত আহার করিয়া কিশোরী পাণ খাইল ন1-. 
স্থপারি ও লবঙ্গ মুখে দিল। সাহেবিয়ানার জন্ত এই 
তাহার প্রথম ত্যাগম্বীকার। আহারাস্তে কিয়ৎক্ষণ 
নিদ্রার চেষ্টা করিল, কিন্তু তাহার মন এতই উত্তেজিত 
যে নিদ্রা আদিল না। ক্রমে একটা বাজিল। জিনিষ- 
পত্র পূর্বব হইতেই বাধাছাদা দিল। এখন দুয়ার বন্ধ 
করিয়াসে পোষাক পরিতে আরম্ভ ক্রিল। প্রধান 


ফকান্তুন, ১৩২৯ ] 


সত্যবাল! 


গ৯ 


এত হাতাহাতি 


সমন্ত। নেকটাইট! নির্দোষভাবে বাধ! । ছুই তিন দিন 
ঘভ্যাস করিয়া! এ বিভা তাহার কতকটা আয়ত্ত 
হইয়া আসিয়াছে । দর্পণের সম্ুথে দাড়াইয়। এক 
নেকটাই সে কতবার বাধিল কতবার যে খুলিল তাহার 
খ্যা নাই। অবশেষে যখন কতকটা পছন্দসই, হইল 
তখন তাহার দেহ ঘর্ম্ান্ত হইয়া উঠিয়াছে। 

একটু বিশ্রাম করিয়! পুনরপি দর্পণের সন্দুথে গিয়া 
নূতন উজ্দ ই্র হাটটি মাথায় দিয়! দ্রাড়াইল। মোহিত 
হইয়। নিজের চেহারাঁটি দেখিন্তে লাগিল। তাহার পর, 
হেমচন্দ্র যখন 1শয়ালদহ &্েঁশনের প্র্যাটফর্খ্ে মহিলাগণের 
নিকট তাহাকে ইন্ট্রোডিউস্‌ করিয়া দিবে, তখন কিক্ধপ 
ভঙ্গিতে টুগীটি তুলিয়া শিরোনমন করিবে, বারস্বার তাহারই 
আখড়া দিতে লাগিল। হেমচন্ত্র বলিয়াছে, প্রথম 
আলাপে মহিলাগণ তাধার সহিত করমর্দন করিবার 
জন্থ হন্তগ্রসারণ করিতেও পারেন, নাও করিতে পারেন 
-_ প্রথম আলাপে ইহাঁ আবশ্টাক বলিয্া! বিবেচিত হয় 
না। কিন্তু যাঁদ তাহারা হাত বাড়াইয়] দেন, তবে ক্গিপ্রহস্তে 
টুগীটি মন্তকে পুনংস্থাপন করিয়া করমর্দিন করিতে হইবে। 
দে সময় তাড়াতা'ড়তে পাছে টুপীটি মাথায় সিধাভাবে 
ন! বসে তাই বারম্বার কিশোণী সেটি কপরৎ কাতে 
লাগিল। তাছার মনে অত্যন্ত ওয় ছিল পাছে পরিচয় 
কালে টুপীটি তুলিতেই সে ভুলিয়া যায়। কোনও কোনও 
*আনাড়ী» সাহেব নাঁকি গ্রথম প্রথম এন্সপভূল করিয়! 
থাকে, তাই হেমচন্ত্র কিশোরীকে বিশেষ করিয়া সাবধান 
করিয়! দিয়াছিল। যদি ভুলিয়া যায়, তবে তাহার 
লজ্জা রাখিবার ঠাই থাকিবে না--তখন হাওড়ার 
পুলে গিয়! গঙ্গাগর্ে ঝাপ দেওয়াই তাহার একমাত্র 
প্রায়শ্চিত্ত । 

টম এতক্ষণ বাহিরে কোথায় থেলা করিতে 
গিয়াছিল। ফিরিয়! আসিয়া দেখিল তাহার মনিবের দুম্ার 
বন্ধ। তাই সে কবাটে আচড়াইতে লাগিল। 

কিশোরী ছার খুলিয়। দিল। টম প্রবেশ করিয়া, 
এই অড্ভূত নূতন মুত্তি দেখিয়া একেবারে অবাক্‌। 
অপরিচিত ব্যক্তি অনধিকার প্রবেশ করিয়াছে ভাবিয়া, 


কয়েক পদ পিছু হটিয়া ছই তিন বার ভেকৃ তেক্‌ করিয়! 
ডাকিয়া, চক্ষু রক্তবর্ণ করয়া 'গৌ গো শব 
করিতে লাগিল। কিশোরী কুকুরের ভ্রম বুঝিয়া 
ডাঁকণ--*্টম্‌।৮ কষ্ঠম্বরে টমের ভ্রম দুর হইল- লজ্জায় 
তখন সে অধোব্দন। কাণছুইটা গশ্চাদ্‌ভাগে গুটাইয়া 
সবিনয়ে লাঙ্কুল নাড়িতে লাগিল । 

কিশোরী তাহার পিঠ চাপড়াইয়! বলিল, *্টমি, 
কোথায় গিয়েছিলি? এত করে সাবান দিয়ে গা পরিস্কার 
দিল'ম, এখনই ধুলো! মেথে এসেছিম্‌?” 

টম এ আদরে, তাহার পূর্ব অসডাতার মার্দন! 
হইয়াছে বুঝিয়া, মুনিবের পদদয়ের বন্ত্রাবরণ আত্রাণ 
করিয়া তাহার মুখের দিকে প্রক্নপর্ণ দৃষ্টিতে চাহিয়া, 
রহিল। ভাবট! হেন--এ আবার কি সব পরা হয়েছে? 
এরকম ত কোনদিন দেখিনি! 

কিশোরী কুকুরের গায়ের ধূলা ঝড়িয়! দিতে দিতে 
বলিল, টম, আজ আমরা কোথা ষাচ্চি তা জানিস্নে 
বুঝি ? আজ আমরা দার্জিলিও যাচ্চি।” 

টম এ সংবার্ধে কোনও উৎসাহ, প্রকাশ করিল না; 
কেবল ধীরে ধীরে লেজটী নাড়তে নাঁড়িতে, মনিবের 
মুখের পানে আকুল দৃষ্টিতে চাহিয়! রহিল। সেকালে 
শুনা যাইত, পশুপক্ষীর। ভবিষ্যৎ জানিতে পারে। তাহা 
যদি সত্য হয়, তবে টম নিশ্চয়ই মিনতি করিয়া তাহার 
প্রভুকে দার্জিলিউ যাত্রা করিতে নিষেধ করিতেছিল। 

ক্রমে তিনটা বাজিল। কিশোরী তখন গাড়ী 
ডাকাইয়া, জিনিষপঞ্রা লইয়া, কুকুর লইয়া, শিক্ালদহ 
ষ্টেশন অভিমুখে যাত্রা করিল। 

কিশোরী যখন শিয়ালদহে পৌছিল তখনও ট্রেণ 
ছাড়িবার বিলম্ব আছে। মধ্যম ও তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীরা 
গাড়ীতে উঠিতেছে বটে, কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর 
যাত্রিগণ তখনও বড় একটা! কেহ আসে নাই। কিশোরী 
নিজের জিনিষপত্র একটা! কামরায় উঠাইয়!, কুক্টিদিগকে 
বিদায় দি£ চুরট মুখে পাতলুনের পকেটে বামহস্ত 
প্রবেশ কগাইয়। দিয়া, অত্যন্ত "সন্ত্াস্ত* ভাবে প্ল্যাটফর্মে 
উপর পদচারণ! করিতে লাখিল। 


৮৩ 


আকাশে শুখন অল্প অল্প মেঘ উঠিতেছে। কাল- 
ধৈশাখীর পূর্বলক্ষণ। 

কিয়ৎক্ষণ পরে ছেমচচ্ছের দ্বারবান আসিয়! তাহাকে 
সেলাম করিল। কিশোরী জিজ্ঞাসা করিল, প্লাহেব 
কাহা?” 

্বারবান বঞ্লি, পরর, সাহেব তো হামকে জাগিজ- 
উগিজ সাথ ভেজ দ্রিহিন স্থ্য়। সাহেব মালুম ঘোষ 
ষেম সাহেবলোগকে1| সাথ আওয়েঙ্গে ।” 

ইহ শুনিয়া কিশোরী নিজ অধিকৃত কামর! দেখাইয়া 
দিল) দ্বারবান জিনিষপত্রগুল!| তাহাতে উঠাইতে লাগিল। 

আর কিয়্ৎক্ষণ অপেক্ষা করিবার পর, ঘোষ সাহেবের 
ধিপৃলকায় যুড়ীগাড়ী আ'সয়! বাহিরে াড়াইল। হেমচন্্র 
গ্রফলম্ফে অবতরণ করিয়া, মহিলাগণকে নামিতে সাহাধ্য 
করিতে লাগিল। মিষ্টার ঘোষ একটা কন্সাল্টেশন 
লইয়া বস্ত ছিলেন বলিঘবা! সঙ্গে আসিতে পারেন* নাই, 
তবে ট্রেণ ছাড়িবার পূর্বে আসিয়া পৌছিবেন আশ্বাস 
দিয়াছেন। 

মেঘটা তখন একটু বাড়িয়াছে, বাঁতাসও একটু 
প্রবল হুইয়াছে। কুমান্রীঘয়ের বাহুল্য বস্তা্দি ফরফর 
করিয়! উড়িতে লাগল। দূর ₹ইতে এই দৃশ্ঠ দেখিয়া 
টেম্পে্ট নাটকে ,মরান্গার চিত্র কিশোত্বীমোহনের মনে 
পড়িল। সে বেড়াইতে বেড়াইতে প্ল্যাটফর্মের বিপরীত 
প্রান্ত অবধি চলিয়া গেল। ইহার! আমিলে সে আবার 
এই দিকে আসিবে । এখনি দেখা হইবে, হেমচন্ত্র তাহাকে 
ইন্ট্রোডিউম করিবে। ভালয় ভালয় সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ 
হইয়া গেলে কিশোরী নিশ্বাস ফেলিয়া! বাচে। 

দর হইতে কিশোরী যখন দেখিল ইহার! প্লাটফর্মে 
আসিয়া পৌছিয়াছেন, তখন সে ধীরপদধিক্ষেপে অগ্রসর 
হইতে লাগিল। 

টু্ী তোলার কথাটা মনে আছে ত1--হ, বেশ 
মনে আঁছে। 

এ অদূরে ঘোষজায়া কমায় সহ ঈীড়াইয়া আছেন। 
তাহান্গের তিন জনেরই পরিধানে রেশমী শাড়ী--তবে 
ঘোষজায়ার শাড়ীখানি গুভ্রবর্ণ, দেয়ে ছুইটির রতীন। 


মানদী গু মর্্মবারী 


[ ১৫শ বর্---১ম খণ্--১ম দংখ্যা 


একথানি ঈষন্লীল, অপরথানি ফিক বাদামী। খোষ- 
জারার মন্তকে একটি *ব্রাঙ্গিকা” টুগী, তাহার পশ্চাদ্তাগ 
হইতে এক খণ্ড সুদীর্ঘ শিফ' ঝুলিতেছে। কুমারী দ্য়ের 
মন্তকার্ধী কেবলমাত্র শাড়ীর প্রান্ত স্বারা আবৃত-__তীহারা 
এ শিফ' টুপী পছন্দ করেন না, বলেন উহ! পরিলে 
0০:5৫ ( বুড়ো বুড়ে। ) দেখায়। 

কিশোরী ক্রমশঃ নিকটবর্তী হইতে লাগিল। 
তাহার অনতিদুরেই যে সৌন্দর্যের বিকাশ হইয়াছে ভাহা! 
উপভোগ করার সময় এখন তাহার নহে। 

নিকটবর্তী হুইবামাত্র হেমচন্ত্র ইংরাজিতে বলিল, 
“হেল্লো স্তগ, কতক্ষণ ?” 

“এই কতক্ষণ।”--কিশোরী দেখিল মহিলার! কেহ 
প্রাটফর্ম্বের পানে কেহ অন্তদিকে চাহিয়! রহিয়াছেন। 
সঙ্গে সঙ্গে হেমচন্ড্র বলিল, 142.0159, 21104 226 0 
20:9৫506 105 11600.. ( মহিলাগণ, আমার বন্ধুকে 
আপনাদের নিকট পরিচি 5 করিয়া দিব, অনুমতি করুন) 

এই, কথা গুনিবামাত্র মহিলাগণ নিজ নিজ দৃষ্টি 
ফিরাইয়া, কিশোরীমোহনের মুখের দিকে চাহিলেন। 

কিশোরী টুপী তুলিয়া আভবাদন করিল। সঙ্গে 
সঙ্গে মিসেস ঘোষ করপ্রসারণ করিলেন । 

যথাশিক্ষা কিশোরী টুপীট মাথায় বসাইয়া, কাহার 
সহিত করমর্দন করিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে একটা 
দমক1 বাতাম আসিয়া হতভাগ্য যুবকের টুগী উড়াইগ 
প্লযাটফর্খের উপর ফেলিল। টুপী প্ল্যাটফর্ম স্পর্শ করিবা- 
মাত্র বাধুবেগে গড়াইয়া চলিল। 

কিশোরী সেখান হইতে এক লক্ফে টুপীর পশ্চান্ধাবদ 
করিল। গড় গড় করিয়া! টুপীও যত ছুটে, কিশোনীও 
ক্ষিপ্তের মত তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছুটে । আর এদিকে, 
প্আমার মনিব কোথায় যায়” ভাবিয়া টি কুকুরটিও 
উ্দলাঙ্গুল হইয়া কিশোরীর পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছুটিতে 
লাগিল । 

অনেকটা দুর গিয়া অবশেষে টুপী গের়েপ্তান্প হইল। 
তখন কিশোরী থামিয়া টুপী মাথায় পরিয়া, চিন্ত! করিবার 
অহসর পাইল। 


ফাল্ধন, ১৩২৯ ] 


সত্যবালা 


৮3 








ছি ছি, ছছি, একি ঢলানট! টলাইলাম! এতক্ষণ 
তাহারা মুখে রুমাল দিয়া কত হাসিই ন| জানি হাসি- 
তেছে। হেম ত পা্ধী পড়ানো করিয়া শিখাইয়া দিয়া- 
ছিল, তাহ! সত্তেও টুগী মাথায় ভাল করিয়া বসাইতে 
পারি নাই। পারিলে, কখনই উড়িয়। যাইত না। ছি ছি, 
কি কেলেঙ্কারি, কি কেছেক্কারি। উঃ এ কালা মুখ 
তাহাদিগকে দেখাইব কোন্‌ লজ্জায়? “নাগ' স্থানে প্যিগ' 
উচ্চারণ করিলেই বাঙ্গালী কি আর সাহেব হইয়া যায়? 

ছই এক মুহুর্তের মধ্যেই কিশোরীমোহনের মস্তিষ্ক 
শিয়া এই প্রকার চিস্তাআোত বহিয়া গেল। পশ্চাৎ 
ফিরিয়া দেখল, হেমচন্দ্র তাহার সন্ধানে আসিয়াছে। 

বন্ধুর সহিত কিশোরী ফিরিল। তাহার মুখচক্ষু 
লজ্জায়, ক্ষোভে পাংশুবর্ণ ধারণ করিয়াছে । 

মহিলাগণের নিকট ফিরিয়া আসিবামাত্র মিস্‌ ঘোষ 
বাঙ্গলায় বলিয়া উঠিলেন, “আপনার টুপীটি জখম হয়নি ত 
মিষ্টার ন্যগ 1” 

কিশোরীর কগঠস্বর তখন কোথায় যেন হারাইয়! 
গিয়াছে । অনেক কষ্টে সে বলিল, “না ।» 

হেমচন্দ্র বলিল, “ঝড় বাতাসের দিনে হ্যাট জিনিষটে 
সময় সময় বড়ই ধোক! দেয়। সেই জন্যে আমি যখনই 
কোনওখানে যাতায়াত করি, দ্বিতীয় একটা হ্যাট সঙ্গে 
নিই। একবার চলস্ত গাড়ী থেকে আমার হাট উড়ে পড়ে 
গিয়েছিল, সেই অবধি আমি সাবধান হয়েছি” 

এ কথা শুনিয়া কিশোরীর মন কতকটা শাস্ত হইল। 
তবে হেমচন্দ্রের মত লোকেরও টুপী উড়িয়া যায়! 

মিস্‌ বীণা বলিলেন, "মা, বাবার বিলেতে সেই 
টুপী উড়ে যাওয়ার গল্পটা! বল না!” 

ইহা কিশোরীর দগ্ধ হৃদয় যেন অমৃতসিঞ্চনের সভায় 
বোধ হইল! মিষ্টার ঘোষ, অমন প্রবল সাহেব, তাহারও 
টুপী উড়িয়া গি্লাছিল! এবং যেখানে সেখানে নয়, বিলাতে ! 
তবে আর তার লঙ্জাই বা কিসের, ছুঃখই বা কিসের ? 

মিসেস্‌ ঘোষ বলিলেন, “দে আমি তার মত তেমন 
মজা করে বলতে পারবো! না । তিনি ত এখনই আসবেন 
তাকেই বলতে বলিস্‌।* 

১১ 





বীণা আবদারের স্বরে বলিল, প্তিনি ক--খোন্‌ 
আসবেন, ততক্ষণ জুড়িয়ে যাবে। তুমিই বল মা!” 

মিসেস্‌ ঘোষ বলিলেন, “সেও ষ্্ হাট। হবর্ণ দিয়ে 
যাঁচ্ছিলেন, হঠাৎ দমকা বাতাসে টুপী উড়ে গেল। এত 
হাওয়া যে টুপীটা রাস্তায় পড়েই ডাকগাড়ীর মত গড়াতে 
লাগলো ।, তিনিও দিগ্থিদিক্‌ জ্ঞানশৃন্ঠ হয়ে টুপীর পিছনে 
ছুটলেন। সমুখে একখানা অগ্নিবাস আসছিল, একট! 
পুলিসম্যান তাঁকে ধরে ফে্লে, নইলে অম্নিবাসের নীচে 
পড়ে প্রাণটা যেত আর কি! সেই অগ্নিবামের চাকা- 
তেই টুপীটা গুঁড়ো! হয়ে গেল ।» 

হেমচন্ত্র বলিল, “কি সর্বনাশ ! তার পর ?” 

মিসেম্‌ ঘোষ বলিলেন, "সেখানে কাছাকাছি কোর্চও 
টূপীর দোকান ছিল না, থাকলেও কেন্বার টাকা সঙ্গে 
ছিল না| খালি মাথায় বাসায় আসেন কি করে? চু 
করে একটা! ক্যাব ডেকে, তাঁর মধ্যে ঢ.কে বাসায় ফিরে 
*এলেন |” 

মিস্‌ ঘোষ বলিলেন, প্মা, সেই ক্যাবির উপদেশটাও 
বলে দাও ।” * 

ঘোষজায়া বলিলেন, ৭ক্যাবিটা আগাগোড়া সমস্ত 
দেখেছিল কিন! । বাড়ী পৌছে দিয়ে ভাড়াঁটি নিয়ে বল্লে-_ 
মশায়, টূপী উড়ে গেলে কি করতে হম্ম জানেন না? 
[10110] 0075 পড়ে দেখবেন ।” 

বীণা বলিলেন, ৮730110] বেচারীরও ঠিক শী 
বিপত্তি হয়েছিল কি না! সেই যে ছবিটে আছে, যখনই 
দেখি, হেসে আর বাঁচিনে। টুপী গড়িয়ে যাচ্চে, আর 
পিছু পিছু 7০11 একে বুড়ো মানুষ, তায় মোটা 
--থপাস্‌ থপাস্‌ করে দৌড়চ্ছে। 7170:এর সব 
ছবির চেয়ে সেইটেই আমার ভারি মজার লাগে ।” 

ইহা গুনিগ্জা কিশোরীর মন হইতে অবশিষ্ট গ্লানিটুকুও 
নিশ্চিহৃভাবে মুছিয়া! গেল। * 

হেম জিজ্ঞাসা করিল, “উপদেশট! কি ?” 

মিস্‌ ঘোষ বলিলেন, “উপদেশট! হচ্ছে, রাস্তায় টুপী 
উড়ে গেলে, খবরদার তার পিছু পিছু ছুটবে না। ঠিক 
ঈলাড়িয্ে থাকবে । আর পাঁচজনে যেমন হাসবে, তুমিও 


৮২. 


তেমান হাসবে, যেন কত মজাই হচ্চে। তারপর কেউ 
টুপীটা ধরে তোমার হাতে এনে দেবে এখন, তখন তাকে 
বলবে থ্যাঙ্কিউ।” 

হেমচন্দ্র বলিল, “বাঃ বাঃ, এ উপদেশ মহামূল্য 1 
ডিকেন্স, তুমিই ধন্ত । আহা, ডিকেছ্দের বই পড়লে 
ধেমন সাংসারিক ভ্ঞানলাভ হয়, তেমন আর কারও বই 
পড়লে হয় না।” 

মিসেস ঘোষ বলিলেন, "এ সব সাহিত্যমালোচন! 
পরে হবে এখন। চল, এখন আমরা গাড়ীতে উঠি।* 

হেম [জিজ্ঞাসা করিল, দজাপনারা কি মেয়েদের 
গাড়ীতে উঠবেন না! কি? চলুন না দামুকদিয়াঘাট অবধি 
একসঙ্গে গল্প করতে করতে যাই।” 

মিসেস ঘোষ বলিলেন, তোমাদের গাড়ীতে হয়ত 
একগাদা ইংরেজ উঠে পড়বে, সে দরকার নেই ।» 

হেম বলিল,*এখনও অনেক গাড়ী পূরো খালি রয়েছে। 

আমরা পাঁচ কালোমুর্তি উঠে বসে থাঁক আম্থন” 
তা হলে কোনও ইংরেজ আর সে গাড়ীতে উঠবে ন1।” 

মিস্‌ ঘোষ কৃত্রম কোপ সহকারে বলিলেন, “আপনি 
আমাদের কালে বল্লেন মিঃ কার? আপনাদের সঙ্গে 
আমরা যাব না, যান।” 

হেমচন্্র বূলিল, “আপনি বুঝি রাগ করলেন 1 
এ পৃথিবীর কোনও খবরই রাখেন ৮? আমি আপ- 
নাদের একটু খোসামোদ করেই কালো! বল্লাম বই তনয়! 
আনরঞাল কালো রঙের যে বড় কদর, তা শোনেন নি? 
একজন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ করে দিয়েছেন যে মানুষের 
সাদা! রঙই কুভী। এখং অস্বাভাবিক । শ্রামবর্ণ ই £ন্দর, 
কেন ন! তা প্রকৃতির নিজের গায়ের রঙ। দেখুন আকাশ 
শ্তাম, পাহাড় হাম, সমুদ্র শ্তাম, গাছপালা” 

মিস্‌ ঘোষ বাধা দিয়া বলিলেন, “বৈজ্ঞানিক, না কৰি 
বলুন!” 

হেমচন্দ্র কয়ৎকাল ম্মরণ করিবার ভাগ করিয়া বলল, 
প্হায। হা) ঠিক তাই। কবিই বটে, কবিই বটে।” 

মিস্‌ ঘোষ হাসিতে হাঁসতে বলিলেন, “এবং সে 
করিটি--আপনিই।” 


মানসী ও মর্ম্মবাণী 


[ ১৫শ বর্ষ--১ম খণ্ড-১ম সংখ্য। 


হেম হাতযোড় করিয়া বিল, "দোহাই আপনার ' এ 
প্রীবনে অনেক পাপ করেছি বটে, কিন্তু টি করি ন-_ 
কবিতা কখনও লিখনি । সে যদি বলেন, তবে আমা- 
দের এই নাগভায়া ।”--বলিয়া হেম, কিশোরীর পিঠ 
ঠুকিয়া দিল । 

মিস্‌ ঘোষ জিজ্ঞাসা করিলেন, "মিষ্টার ন্তগ, আপনি 
কৰি ?” 

এতক্ষণ কথাবার্তায় কিশোরীর সঙ্কোচ কাটিয়া গিয়া- 
ছিল। গুছুল্লভাবে উত্তর করিল, “আপনি এ অসম্ভব 
কথায় বিশ্বাস করেন ?” 

বীণা বলিলেন, “নাগ? নাগ 1--আপনার পুরে! 
নামটি কি জিজ্তাস|৷ করতে পারি ?” 

কিশোরী উত্তর করিবার পূর্বেই হেম বলিয়৷ দিল, 
পকিশোরীমোহন নাগ ।” 

' শুনিয়া মি ঘোষ বলিলেন, "ওঃ হো, তাই বলুন। 
শুধু মিষ্টার স্থগ শুনলে বুঝবো কি করে? মাসিক পত্রে 
তণুর কত কবিতা পড়েছি। এবারকার বঙ্গদর্পণে 
“বসঞ্ডে কুছুধবনি” কবিতা আপনিই ত লিখেছেন 1” 

কিশোরী মনে মনে পুলকিত হইয়৷ উত্তর করিল, 
“ও রকম করে যদি ধরেই ফেললেন, তবে আদামী কবুল 
জবাব কণছে।” 

সকলে হাসিতে লাগিলেন। এই হাসির মধ্যে মিষ্টার 
ঘোষ আস! পৌছলেন। 

কিশোরী তাহারও নিকট পরিচিত হইল। ক্রমে 
ভীড় হইতেছে দোখয়া, মিসেস ঘোষ প্রভাতকে মাঃচলা- 
কক্ষে উঠাইয়া দেওয়া ইল) [কশোরী ও হেমচস্দ্র অন্ত 
কামরায় উঠিল। 

বাশী বাঁজিল, নিশান উড়িল, ট্রেণ ছাড়িয়। দিল | 

ক্রমশঃ 


শরীপ্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় 


* বোল খখখপণ পূর্বে “ভারতী” পাঁকায়, এক হুইচি 
গাঁএচ্ছেদ পলানাকুমারী” নামক উপন্তাসের শিরোলনাতুন্ 
হা প্রকাশত হংয়|ছল। কিন্তু তখন এ পর্যন্ত ।পথত 
হইয়াই বন্ধ হুইয়া যার। এখন এই,নুতন নাষে ধারাবাহিক 
তাবে ইহা "মাদসীনতে প্রকাশিত হইতে থাকিবে ।--লেখক। 


ফার্থন। ১৩২৯ | «প্রভাপসিংহ”-এর গান ৮৩ 


“প্রতাপসিংহ”-এর গান । 
(নব্বহম গীত) 
[রচনা-_স্বগগঁয় মহাত্মা িজেন্্রলীল রায় ] 
৪র্থ দর্শক । 

: মিশ্র মঙার_-_-_ কাহারওয়া|% 


কি সুখেরই হ'ত পৃথিবী রে-_ 
আমি যদি হতাম একাই পুরুষ, আর অন্ঠে সবাই আমার স্ত্রী রে। 
যদি, শুভ্র শয্যায় করে' শয়ন, বিভোর হয়ে, মুদে নয়ন, 
অধর চুম্বনেই হ'ত ক্ষুধা তৃষ্ণা নিবৃত্তি রে !! 


[ স্বরলিপি-__-্রীমতী মোহিনী সেন গুপ্তা] 


হ্ছশস্্ী 
০ ১ ২ ৩ ». মে 
111 দবা. মররী।মা পাপা বাস সর্প। 
কিন্তু খেরই হ ত পৃথি বী০ রে০০ আহা 
9 ূ ১ হু ৩ 
। সর সধধা। স্ ধণা]পধা মপা | মম -রা )। 
কিন্তু খেরই হ ত০ পৃথি বাণ রে ০ 
১ ২ ৩ 
1 বদ পদ । পলা. এমা গা মদা। দা -সণ 
আমি যদি হতা ০ম একা ইপু রু ষ্‌ 


* হতটুকু আমার জা] আচে, কালকাত্তার বড় বড় আঁভন'লয়ে এগানথান হয় না। ইতঃপৃর্বব ছটত ক লা-জানি 
না। কিছু দিন হইল এক মধের থিয়েটার পাটীতে এ পাদধান জভিনয় গ্গাপে যে হরে ও তালেসীঙক্ইতেশুনিবার সুযোগ 
পাইয়াছিলাধ, অবিকল সেই হুয়ের ও তালের অধুসকণ করিয়াই গ্বরলিপি করিলাম । স্লেখিকা। 


৮৪ 


11 


গা হও 


তথ ১০5 


০৩ 


মপা 
যদি 


2০ 


বে *. 
সর্পস৭ 
কসেবি 


১ 
সররণ। সা 
অন্তে সব 


১ 
ধসা । -সরা 
আমা রুস্ত্রী 


তব ১ 
সস1 সণা 


ছক আগ 
নি 
ররজ্জচ্ঞা। রা 
১ 
শু9০ভ্র০ শ 
পপা। মা 
ভোর হ 
-না । সূ 
০. ই 
৯ 
পপা। না! 
ভ্রু শ 
রে রি 
রক্ঞ]1 রণ 
ভোর হু 


মানসী এুবাণী 


রর 


২ 
-ধ ধাপধপা 
৭ ০ই আমার্‌ 


যায় 
রণ] না 
কে মু 


০ 


মপা। মমা 
সা 


ব্য 


স্্রীণ রে 


-সরা। সা 
০শ য় 


গা । মগা 
দে নয় 


সণ ।ধপা 
০ ই9 


না । সা 
রে শয় 


৪৬ ৮৩ 
নরণ। নস 
দেন র়০ 


[ ১৫শ বর্ষ-১ম খণ-১ম সংখ্য। 


-রা। 


ধা। 


জা 


সরা । 


-মমা। 
০ন্‌ 


সমগা। 


9০ 


ফাঙ্কন, ১৩২৯ ] 


0 
মামা » 
| ধধধধদা 


এক্দন্বি 


শ 


প্র 


কে 


প্প্রতাপসিংহ*-এর গান 


খ 
পপা | মগা 
ভোর হণ 
পা । সন রঙ 
বধ. *ন 

১ 
সা । না 
ধা তব 

৩১৪ 
সণধা। -মমপধা! 
রচু ম্বনেই 
চি ও 
মপ! 1 নস৭ 
ক্ষুধা ত্য 

খু 
ধধা । ণধা 
[| 
বৃ তিও 
মি ১ 
সসা। ধা 
যদি নি 


এ ০এ 
মমবা২ 
পপপা | মা 
রে,ওরে নি 

র্ 
পে] 
বৃ তি 
গশশশশশ' 


৮০০ ৩ রি 
বরা। নস! 
নেই হণ 
৩ 
ননা / ধনা 
* বৃৎ তি 
2.2 ৩ 
গগ! 1 মপা 
হত হইহ9 
5 ৮৬ 9 
বরা। নস 
ব্যাগ 
ক্ষুধা তৃষ 


৩ 
-পধা। ম! 
০০ রে 


. ৮৫ 


না। 
রে 


শ্াপা। 
০ত 


সনা। 
পা 
10 


গর /]]]] 


9০ 


খ্বরলিপির ঘে যে হুরাক্ষরগুলির উপয়ে ইংরাজি যর অক্ষর বসান হইয়াছে, সেগুলি স্বাভাবিক (72009) ) আওয়াজে অর্থাৎ 
হয় করিয়া নহে, অথচ 'উদার1 ব1 'মুদারা? কি্বা 'তার11-গ্রামজয়ের অনথপাতে, অর্থাৎ নিয় ব1 মধ্যম কিনব চড়! গলায় জাওয়াজে, 


বেধানে হেমন লিখিত হইয়াছে, উচ্চাহিত হইবে। 
হইতে শু উচ্চারণ কর হয়। 


এখানে "আওয়াজ? মানে এই বে, সাধারণ ভাবে কথ] কছিবায় সময় যেমন ক 
-লেধিক1। 


৮৬ 


মানসী ও মর্মবাণী 


| ১৫শ বর্-_.ম খণ্ড--১ম সংখ্যা 


খড়মের বৌলো 
€(নক্স। ) 


রামরূপ ভট্টাচার্য স্বরবর্ণ এক টুকরা কীঠালকাষ্ঠ 
্রা্ত হইয়া ভাবিলেন যে, উহার দ্বারা এক ঘোড়া নুগৃ 
খড়ম প্রস্তুত হইতে পাঁরিবে। এ কাষ্ঠথও লইয়া গঙ্গান্নানে 
যাইবার পথে তিনি সুত্রধরকে উহা প্রদান করিলেন ) 
এবং অনুরোধ করিলেন, সে যেন অক্পদিন মধ্যে উহা 
হইতে এক ঘোড়া খড়ম প্রন্তত করিয়া দিয়া ব্রাহ্মণের 
অব্যর্থ আশীর্বাদ লাভ করে। 

সপ্তাহকাঁল অতীত হইল । ভট্টাচার্য মহাশয় গঙ্গান্নীনে 
যাইবার সময় পথিপার্থে সত্রধরের কুটার-প্রাঙ্গণে প্রবেশ 
করিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, "্াণাগা মিস্ত্রী, আমা 
খড়ম যৌড়াটা কি তৈরী হয়েছে ?” 

সুত্রধর তখন সবেমাত্র গাত্রোখানি করিয়া, এক ছিলিম 
তামাক সাঁজিয়া, ধূমপানের, দ্বারা আপনার নি্রা-বিজড়িত 
ঙ্গপ্রত্যঙ্গ সকলকে সজীব করিবার চেষ্টা করিতেছিল। 
রামরূপ ভট্টাচাধ্যকে গৃহপ্রাঙ্গণে সমাগত দেখিয়া, সে 
নসন্ত্রমে হু'কাটি ছারগ্রার্থখে রাখিয়া» তাঁহাকে প্রণাম 
করিল; এবং তাহার প্রশ্নের উত্তরে কহিল, “আজ্ঞে 
আরও কিছু দিন আপনাকে সবুর করতে হবে; হাতে 
কাষের একটু বঞ্কাট আছে; এই ঝঞ্চাটটা মিটলেই 
আপনার কাঁে হাত দিব ।” 

উ্টাচার্য্য গঙ্গাঙ্গীন করিয়া বাড়ী ফিরিলেন। আবার 
সপ্তাহ কাঁল পরে সুত্রধরের গৃহে উপস্থিত হইয়! জিজ্ঞাস! 
করিলেন, প্হাণীগ খড়ম যোড়াটা কি তৈরী হয়েছে।” 

সুত্রধর বণিল, “আজ্ঞে এখনও হাঁত দিতে পারি 
নি। এমাসের এ ক্টা দিন আর হবে না। আস্ছে 
মাসের প্রথমেই পাবেন।৮ 

পরমাসের প্রথম পক্ষ অতিবাহিত হইলে, খড়ম্রান্তির 
প্রত্যাশায় ভট্রাচাধ্য মহীশয় আবার স্থত্রধরের বাটীতে 
দেখা দিলেন। স্ুত্ধধর দীর্ঘস্ত্রতার অন্ুরক্ত উপাসক ) 


চি 


সে তখনও খড়ম প্রস্তুত কার্য্যে হস্তক্ষেপ করে নাই। 
বস্ততঃ ভট্াচার্য্য-প্রদত্ত কাষ্ঠথগ্ড সে কোথায় রাখিয়াছিল, 
তাহা তাহার স্মবরণই ছিল না। সে ভট্টাচার্যের মন- 
্ষটির জন্য বলিল, “আজে এই পরশুদিন নিয যশ 
পাবেন ।৮ 

সেই দিন ভট্টাচার্য ুত্রধরের বাটাতে যাইয়া আবার 
খড়ম চাহিলেন। ভট্টাচার্যের মনস্তষ্টির জন্য হুত্রধর 
সেদিনও বলিল, “আজ্ঞে, কলি এই সময় বেওজর 
পাবেন। এবার আর কথার নড়চড় হবে না 1” 


২ 


পরদিন যথাসময়ে ভট্টাচার্ধ্কে উপস্থিত দেখিয়৷ 
সুত্রধর ভাবিতে লাগিল, আজ কি মিথ্যা বলিয়া সে 
তাহাকে বিদায় করিবে? একটু চিন্তার পর সে মনোমধ্যে 
একটা উত্তর রচনা করিয়া! কহিল, “আজ্ঞে, খড়ম আপনার 
তৈরী হয়ে গেছে; এখন কেবল বোলো বসাতে 
বাকী। একযোড়া বোলে যদি কাউকে দিয়ে কল্কাতা 
থেকে কিনে এনে দেন, তাহলে আজই বিকেলবেলায় 
খড়ম আপনার ছিচরণে পরিয়ে দিব।” 

ভট্টাচার্য কহিলেন, “আমাদের পাড়ার বিমল গাঙ্গুলী 
তডেলিপ্যাসেঞ্জার,-_রোজই কল্কাতীয় যায়। সময় উত্তীর্ণ 
হয়ে গেছে; আজ আর হবে না) কাল তাকে দিয়ে 
এক যোড়া বোলো কিনে আনিয়ে তোমাকে দিয়ে 
যাব» 

পরদিন সুত্রধর উট্টাচার্যকে গঙ্গাঙ্গীনের পথে তাহার 
বাঁড়ী অতিক্রম করিয়া যাইতে দেখিয়া উৎদীহের সহিত 
জিজ্ঞাসা করিল, প্ভটচাধ্যি মশাই, বোলো যোড়াট! 
আনতে দিয়েছেন কি ?” 

ভট্টাচার্য্য কহিলেন, “& দেখ, বোঁলোর কথ! একে" 


কাঙ্কন, ১৩২৯ ] 


বারে বিন্মরণ হয়েছিলম। আজ আর হবে না) কাল 
আন্তে দেব। পরশু এই সময় তোমাকে দিয়ে যাব ।” 

পরদিন গঙ্গাম্নানের পথে অগ্রসর হইয়া, পথিপার্ে 
সুত্রধরের কুটার দেখিয়! ভট্টাচার্যের মনে পড়িয়া গেল যে 
খড়মের জন্য বৌলো৷ আনিতে দেওয়া হয় নাই।, অতএব 
তিনি সথত্রধরের সহিত বাক্যালাপ না করিয়া গঙ্গাঙ্গান 
করিয়া বাটা ফিরিলেন। তৎপরদিবস শুত্রধরের বাঁটার 
নিকট যাইয়া, তাহার আবার মনে পড়িল যে, সে দিনও 
বোলো আনিতে দেওয়া হয় নাই । 

নির্ধাকভাবে বাটা অতিক্রম করিয়! তাহাকে ত্বরিত 
পদে প্রস্থান করিতে দেখিয়া শৃত্রধর সাহসপূর্বক হ্াকিল, 
দ্দপতবৎ, ভটচার্ধ্যি মশীই ! বৌলো যোড়াটা কি আনিয়ে- 
ছেন ?” 

ভট্টাচার্য্য মহাশয় বিব্রত হইয়া কহিলেন, “না, আনতে 
দেওয়! হয় নি! কাযের ঝঞ্াটে মনে পড়ে নি। কাল 
নিশ্চয় আন্তে দেব। আর ভুল হবে না; এই গামছা 
গেরো বেঁধে রাখলাম । পরশু তুমি নিশ্চয়ই বোলো 
পাবে” কিন্তু পরদিন রবিবার ছিল) তজ্জন্ত আফিস 
বন্ধ থাকায় ভট্রাচাধ্য মহাশয়ের গ্রতিবেশী সেদিন আর 
কলিকাতায় যান নাই। কাঁধেই বোলো আনিতে দেওয়া 
হইল না। 

০1মবারে স্থত্রধরের বাটা দৃষ্টিপথে পতিত হুইবামাত্র 
ভট্টাচার্যের হৃদয়টা আশঙ্কিত হইয়! উঠিল ৮ মনে পড়িল, 
আজও বোলো আনিতে দেওয়া হয় নাই। স্ত্রধর 
জিজ্ঞাসা করিল, “ভট্টাচাধ্যি মশাই, বোলো! যোড়াটা ?” 

ভট্টাচার্য্য বিহ্বল নেত্রে স্ুত্রধরের দিকে চাহিয়া! কহি- 
লেন, “বোলে। আজও আনতে দেওয়া হয় নি। আজ 
বাড়ী গিয়েই গিন্নীকে বলে রাখব; আর কিছুতেই ভুল 
হবে না 1” 

মঙ্গলবার দিন ভট্টাচার্য্য মহাশয় নির্বিষ্বে গঙ্গাঙ্গান 
করিয়। আসিলেন। বুধবার দিন স্ত্রধর তাহার গমন- 
পথে দ্বাড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “ভটচাঁধ্য মশাই, বোলো 
যোড়াটা ?” 

ভ্্রাচার্্য বলিলেন, “দেখ, কাল গিত্রীকে বলে রেখে- 


খড়মের বৌলা 


৮৭ 


ছিলাম, আর তিনিও রাত্রে আমাকে মনে করে, দিয়ে 
ছিলেন বটে, কিন্ত সকালে উঠে সংসারের কাষে আমার 
আর মনে ছিল না। কিন্তু কাল আর ভুল হবে না। যদি 
কোঁন গতিকে ভুলে যাই, তুমি মনে পড়িয়ে দিলে, আমি 
নিজে কল্কাতায় গিয়ে বোলো কিনে নিয়ে আসব। 
কালু বিকালে তোমায় বোলো! দেবই দেব ।” 

বৃহস্পতিবার দিন স্ুত্রধর স্মরণ করাইয়া দিল-_- 
“ভটচার্ধ্ি মহাশয়, বোলো! যোড়াটা ?” 

ভট্টাচার্য্য মহাশয় কহিলেন, “আজও ভূল করেছি। 
কিন্তু আজ আহারাদির পর আমি নিজে কলকাতায় 
গিয়ে বোলো নিয়ে আসব । বিকাল বেলা তুমি নিশ্চয়ই 
পাঁবে।” কিন্তু আহারাদির পর তিনি কলিফাঁতায় 
যাইতে উদ্যত হইলে, গৃহিণী আসিয়। তাহাতে বাধা 
দ্রিলেন। বলিলেন, «আজ বৃহস্পতিবার; আজ আর 
যাওয়। হবে না। আর একদিন এনে দিও ।” ভট্টাচার্য্য 
মহাশয় গৃহিণীর অকাট্য যুক্তি লঙ্ঘন করিতে পাঁরিলেন 
না। মনে করিলেন যে পরদিন স্মরণ রাখিয়া উহ! 
প্রতিবেশীর দ্বারাই আনাইবেন ॥ কিন্তু পরদিন সকালে 
উঠিয়া, সংসারের নান| অভাবের জন্ত তিনি গৃহিণীর নিকট 
অভিযুক্ত হইলেন। কাযেই বোলোর কথা তাহার মনে 
পড়িল না। 


৩ 


শুক্রবার দিন গঙ্গান্নানের পথে কিয়ন্দর অগ্রসর 
হইয়! তিনি ভাবিলেন, “তাই ত! আজও ত বোলো 
আনতে দেওয়। হয় নি। আজ মিস্ত্রি জিজ্ঞেন করলে কি 
বলব? তার চেয়ে অন্ত পথ দিয়ে অন্ত ঘাট থেকে 
গঙ্গাম্নান করে আসি।” তাহার পর দিনও অর্ধপথে 
যাইয়। বোলৌর কথা মনে উদ্দিত হওয়ায়, তিনি অন্ত 
ঘাটে যাইয়া ্লান করিলেন। এইরূপ কয়েক দিন চলিল। 

কিন্তু স্ুত্রধর তীহাঁকে ত্যাগ করিল না। কয়েক" 
দিন উট্টাচার্যের দর্শন লাভ করিতে না পারিয় সে 
অনুসন্ধান করিয়া জানিল যে তিনি অন্য একথাটে 
ন্ান করেন। তখন সে সেই ঘাটে যাইয়া তাহাকে 


৮৮, 
ধরিল; এবং জিজ্ঞাসা করিল, "গটুচাহ্যি মশাই, বোলে! 
যোড়াট! ?” 

ভট্রাচার্ধয মহাশয় সে ঘাট ত্যাগ করিয়া, অন্য এক 
দুরবর্তী ঘাটে যাইয়া গ্নান করিতে লাগিলেন। স্ত্রধর 
সন্ধান পাইয়া, সেখানে যাইয়াও জিজ্ঞাসা করিতে 
লাগিল, “ভটচাধ্যি মশাই, বোলো! ঘোড়াটা?”  * 

অবশেষে ভট্টাচার্য্য মহাশয় গঙ্গান্নান ত্যাগ করিলেন। 
কিন্ত তাহাতেও নিস্তার পাইলেন না । সেই অধ্যবসায়ী 
সথাত্রধর, হাঁটে বাঁজারে তাহার সাক্ষাৎ পাঁইলেই নত 
মন্তকে প্রণত হইয়৷ জিজ্ঞাসা করিত, “ভটচায্যি মশাই, 
বোলো যোড়াট! ? 


মানসী ও মর্্মবালী 


[ ১৫শ বর্ধ--১ম খণ্ড--১ম লংখ্যা 


তিনি হাটে ঃবাঁজারে যাওয়া বন্ধ করিয়৷ দিলেন। 
কিস্তু রাত্রে স্বপ্ন দেখিলেন, যেন গৃত্রধর যাত্রার দাতা" 
কর্ণের ন্যায় হস্তে করাঁতি লইয়া, তাহার সন্দুখে ধাড়াইয়! 
তাহাকে প্রণাম করিয়! বলিতেছে, “ভটচায্যি মশাই, 
বোলে! যোড়াট! ?” 

আমরা গুনিয়াছি, রামরূপ ভট্টাচার্য্য মৃত্যুকালে পুত্র 
পৌত্রগণকে নিকটে ডাকিয়া আদেশ করিয়াছিলেন, 
“আমার বংশে কেউ যেন কখনও খড়ম পায়ে না দেয়) 
দিলে সে নির্বংশ হবে।৮: 


আীমনোমোহন চট্টোপাধ্যায় । 


কোকিল 


বসন্তের হাসি সহ মিলাইয়! তান 
রোমাঞ্চিত করিতেছ রসিকের চিত -- 
কদগ্থের শাখে যথা গোবিন্দের গান ; 
সকপি মধুর--শুধু গায়ক অসিত। 
জনম ক্ষত্রিয় বংশে, গোপের আশ্রঙ্ে 
যশোদার স্তনে দেহ বর্ধিত হরির; 
তুমিও কোকিলকুলে স্থুথে জন্ম লয়ে 
করেছ বায়সগৃহে পুষ্ট ও শরীর । 
কৃষ্ণের বাশরী-রবে গোপাঙ্গনাকুল 
ধাইত সরম ত্যঙ্জি যমুনার ধারে ; 

তব কঠরবে, শুনি, হইয়া আকুল 
কত বিলাসিনী ডোবে অকুল পাথারে। 
মহতের সহ তব এত যদি মিল/_ 
মেরন! ক্ষু্রেরে প্রাণে, গুনরে কোকিল। 


ত্ীবিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য্য 


ফাল্গুন, ১৩২৯ ] 


প্রাথমিক শিক্ষা 


৮৭৯ 


প্রাথমিক শিক্ষা 


কলেজে ও যুনিভারসিটিতে যে ভাবে শিক্ষা প্রদান 
করা হইয়া! থাকে তাহার সহিত ব্যক্তিগত ভাবে 
জড়িত থাকিয়া আমি এই অভিজ্ঞতা লাভ করিয়াছি যে, 
কলেজে প্রবেশের পুর্বে ছাত্রগণ যে ভাবে পিক্ষা প্রাপ্ত 
হইয়! থাকে তাহার বিশেষ সংস্কার না হইলে দেশে 
প্রকৃত শিক্ষার যথেষ্ট প্রচার হইবে না। বিস্তাশিক্ষার 
উদ্দেপ্ত নানা প্রকার। কেহ কেবল মাত্র নিজের 
জ্ঞানার্জন-ম্পৃহা পরিভৃপ্তির জন্যে বিদ্ভাভাস করেন, 
কেহ পৃথিবীতে নুতন তথা বিস্তারের অন্ত বিদ্যাচর্চাতে 
নিযুক্ত থাকেন, কেহ সমাজ ও দেশের হিতার্থে নিজকে 
নিয়োঞ্জিত করিবার জন্য লেখাপড়ার চেষ্টা করিয়া থাকেন, 
আবার কেহ বা স্বীয় জীবিকা অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ে 
যোগদান করেন। যিনি যে উদ্দেশ লইয়াই 
বিদ্বালয়ে যোগদান করুন না কেন, যদি তাহার 
প্রাথমিক শিক্ষা সুদৃঢ় ভিত্তির উপর স্থাপিত না হয়, 
তাহার উদ্দেশ্ত একেবারেই সফল হইবে না, অথবা 
যদি উহা সফল হয় তাহাঁও অত্যন্ত আয়াসসাধ্য হইবে। 

দেশে শিক্ষপ্রচারের যে সমস্ত অন্তরায় আছে তন্মধ্যে 
শিক্ষার বাহনের প্রশ্ন সর্বপ্রধান। যত দিন পর্য্স্ত 
আমাদের মাঁতৃভাষাতে পঠন পাঠনের ব্যবস্থা না হইবে, 
ততদিন পর্য্স্ত দেশে শিক্ষার বহুল প্রচার অসম্ভব। 
কলিকাতা বিশ্ববিদ্ঠালয়ের সংস্কার সাধন সম্বন্ধে 
ভারত রাজসরকারকে উপদেশ ও পরামর্শ দিবার জন্ত যে 
কমিটি গঠিত হইয়াছিল, সেই কমিটি বাঙ্গলা ভাষার 
সাহায্যে শিক্ষা বিস্তার সম্বন্ধে যে মন্তব্য প্রকাশ করিয়া- 
ছেন তাহাও বিশেষ সন্তোষজনক নহে। এ সম্বন্ধে 
আমার নিজের যাহা বক্তব্য তাহা ইতঃপৃর্বে অগু্র 
বলিয়াছি, এ স্থলে তাহার উল্লেখ নিশ্রয়োজন। 

পূর্বোস্ত স্তাডলার কমিটি আমাদের দেশের 
প্রচলিত শিক্ষাপ্রণালী দত্বন্ধে যে সমস্ত ক্রুটার উল্লেখ 

১২ 


করিক্লাছেন তন্মধ্যে একটা এই যে, শিক্ষক ও 
শিক্ষার্থী কেহই পরীক্ষার জন নির্দিষ্ট পাঠ্য বিষয়ের 
গণ্তীর বাহির যাইতে প্রস্তুত নহেন। এই অভিযোগ 
আমাদের দেশের সর্বপ্রকার বিদ্যালয়ের প্রতি প্রযোজ্য। 
বর্তমান সময়ে অনেকে দর্শন শান্ত্রে এম-এ উপাধিধারী 
ব্যক্তি হয়ত, জলের কি উপাদান ভাহা জাদেন না এবং 
অনেক অঙ্কশাস্ত্রে উচ্চ উপাধিধারী হয়ত গাল্ফ সীম 
কাহাকে বলে দে খবর রাখেন না। ইহা! অত্যন্ত 
দুঃখের বিষয়। যাহাতে ছাত্রগণ পরীক্ষার গণ্ভীর মধ্যে 
নিবন্ধ না থাকে সে বিষয়ে গত বৎসর হইতে প্রেসিডেন্সি 
কলেজের অধ্যক্ষ মিঃ ওয়ার্ডসওয়ার্থের চেষ্টাতে উক্ত 
কলেজে কিঞ্চিৎ কার্য করা হইতেছে। বিজ্ঞানের 
শিক্ষকগণ আর্ট বিভাগের ছাত্রদিগের বিজ্ঞান-বিষয়ক 
এবং আর্টের শিক্ষকগণ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদিগকে 
আর্ট বিষ়ক উপদেশ প্রদান করিতেম্ছেন। এই প্রথা 
সমস্ত বিদ্যালয়ে গ্রচলিত হওয়া! বাঞ্ছনীয় । শিক্ষকের ও 
অভিভাবকের স্মরণ রাখা “কর্তব্য এই যে, যদি ছাত্রগণ 
পরীক্ষায় সম্মানের সহিত রুতকার্ধ্য ।হয় 'তাহা হইলেই 
তাহাদের দায়ীত্বের শেষ হইবে না। এই -কথাটি বট 
বিশদভাবে বলিতে চাই। 

সভ্যজগতে শিক্ষকের মত দায়িত্বপূর্ণ কাষ আর 
কাহারও নাই। বেতনের মাপকাঠিতে শিক্ষকের দায়িত্ব 
পরিমিত হইতে পারে না। বিস্তা ও চরিত্র ব্যত'ত 
শিক্ষকের আরও একটী গুণ থাকা উচিত, (সটা 
কার্ষ্যে একাগ্রতা । সম্যক্রূপে কৃতকার্ধ্য সেই শিক্ষক 
হইবেন, যিনি ওতপ্রোত ভাবে ছাদের সঙ্গে মিশিতে 
কোন কু রা দ্বিধা বোধ করিবেন না। নানা কাপ্পণে 
বাধ্য হইয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদিগকে বিদ্তালয়ের 
বাহিরে ছাত্রদিগকে পড়াইতে হয়, এবং এই অবস্থা হেতু 
শিক্ষকগণ অপেক্ষা বিস্তালয়ের কর্তৃপক্ষ অধিকতর 


০ 


দায়ী। কর্তৃপক্ষের মনে রাখিতে হইবে যে, যদি শিক্ষক 
চিরকাল আর্থিক অভাবে বিব্রত থাকেন তাহা হইলে 
তীছার নিকট হইতে উপযুক্ত কা্ধ্য পাওয়। যাইবে ন1। 
আবার ইহাঁও বক্তব্য যে, যিনি শিক্ষকতা কার্য গ্রহণ 
করিবেন, তিনি যদি ইহাকে রেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের 
অন্ততম উপায় মনে করেন, তবে আমার সনির্বন্ধ অনু 
রোধ যে তিনি যেন এই কার্ধ্য গ্রহণ না করেন। যে 
শিক্ষক শিক্ষকতাকে একটী মিশনের ন্তায় মনে ন! 
করিবেন, তিনি কখনই উপযুক্ত শিক্ষক হইতে পারি- 
বেন না। শিক্ষক নিযুক্ত করিবার সময় বিস্তালয়ের 
কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্ধ্য হইবে ভাল করিয়া দেখা যে, 
যে আবেদনকারীকে নিযুক্ত কর! হইতেছে সে থাটা 
শিক্ষক কিনা। খাঁটা শিক্ষক নিযুক্ত না করিয়া, হদি 
কর্তৃপক্ষের কোন বেকার আত্মীয়কে, যেহেতু সে 
সম্প্রতি কোন কার্য পাইতেছে না সেই হেতু ও অপর 
স্থানে তাহার সুবিধা না হওয়া! পর্য্যন্ত নিযুক্ত করা হয়, 
তবে বিস্তালয়ের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে নিক্ষল হইবে? 
এই শ্রেণীর শিক্ষকের মন সর্বদাই অন্যদিকে ধাবিত 
হইতে চাহিবে, সুতরাং তাহার নিকট হইতে যথার্থ 
কার্যযের আশা ছুরাশা মাত্র! শিক্ষককে মনে রাখিতে 
হইবে যে যদ্দি তিনি রীতিমত পড়াশুনা করিয়। নিজের 
জানভাগার পূর্ণ রাখিতে ন! পারেন, তৰে তিনি কখনও 
উপযুক্ত শ্রিক্ষক হইতে পারিবেন না। শিক্ষককে 
সর্বদা মনে রাখিতে হইবে যে, ছাত্রকে পরীক্ষার অন্ত 
প্রস্তুত করান শিক্ষকের একমাত্র কার্য্য নহে। ছাত্রের 
চরিত্রগঠন শিক্ষকের এক অতি প্রধান কার্য্য | সুতরাং 
নি-শ্রেণীর বিদ্তালয়ের শিক্ষকগথকে শিশু-মনোবিজ্ঞান 
বিশেষ ভাবে শিক্ষা করিতে হইবে। বেকব্রের সাহাদ্যে 
শিশুচরিআ গঠিত হুইতে পারে না বলিয়। অনেকের 
দু বিশ্বাস। উপযুক্ত ভাবে চেষ্টা করিলে প্রত্যেক 
শিশুকেই একজন উপযুক্ত মানুষে পরিণত করা যাইতে 
পারে, পরীক্ষ! দ্বারাও ইহ! স্থিরীকৃত হইয়াছে। 
ধাহার! আমেরিকাতে প্রতিষ্ঠিত “জুনিয়র রিপাবংলিকণ্এর 
খবর রাখেন তীহার্দিগকে এই কথা নূতন করিয়! 


মানপী ও মর্ঘ্মবানী 


[ ১৫শ বর্ষ-১ম খণড--১ম পংখা। 


বলিয়া দিতে হুইবে না। শিক্ষকের মনে রাখা কর্তব্য 
যে, তিনি যদি ছা্রকে যথোচিতভাবে শিক্ষিত করিতে না 
পারেন সেই ছাত্রের অক্ৃতকার্ধতার জন্য তিনিও 
আংশিক ভাবে দায়ী। নির্দিষ্ট বিষের শিক্ষাদান 
ব্যতীত, বালকের বুদ্ধিবৃত্তি যাহাতে ক্রমশ বিকশিত হঙ্ক 
তথ্থিয়ে শিক্ষককে সতত লক্ষ্য রাখিতে হইবে। 
যাহাতে লেখাপড়ার সঙ্গে বালকের চরিত্র গঠিত হয়, 
অর্থাৎ যাহাতে বালক সত্যবাদী, নির্ভীক, সৎসাহসী 
পরোপকারী, পরছুঃখকাঁতর, অপরের সুবিধার জন্ত- 
নিজের কিঞ্চিৎ অন্থবিধা ভোগ করিতে সর্বদা প্রস্তত, 
দেশ ও সমাজ হিতৈধী এবং অপরাপর সগুণে তৃষিত হয় 
সে বিষয়ে শিক্ষকের প্রখর দৃষ্টি থাকা উচিত। 

সাধারণতঃ আমাদের দেশের বিদ্যালয় সমূহে যে ভাবে 
শিক্ষাদান করা হইয়! থাকে, তাহাতে অধিকাংশ স্ক,লে 
কুইনাইন গলাধঃকরণ করার স্তার় শিক্ষার্থী তাহার .পাঠ. 
গ্রহণ করে। এই ছুরবস্থার জন্ত শিক্ষকই মুখ্যতঃ দায়ী। 
ষে স্থানে শিক্ষক পাঃদানের জন্য গৃহে অধ্যয়ন ন! 
করেন, সেই স্থানেই এই অবস্থা ঘটিয়! থাকে.। ইতিহাষের, 
শিক্ষক গল্পচ্ছলে ও চিত্রশোভিত পুস্তকাদির সাহায্যে 
অনেক এতিহাসিক তথ্য ছাত্রপ্নিগকে জানাইতে পায়েন, 
এবং যদি তিনি ইতিহাস বলিবার সময় 'নজেকে একজন 
প্রকৃত ঠাকুরদাদা বানাইতে পারেন, তাহা হইবে 
তিনি স্পষ্ট দেখিতে পাইবেন যে, ভবিষ্যতে তীহার: 
ছাত্রগুলি হইতে অনেক রাজেন্দ্রলাল মিত্র, রামদাস 
সেন বাহির হইয়াছে। ভূগোলের শিক্ষকের 
কর্তব্য, মধ্যে মধ্যে ছাত্রদিগকে বাহিরে লইস্াঁ যাওক 
যাহাতে ছাত্রগণ ভূগোলে শিক্ষণীয় বিষয়গুলি সন্ধে 
হাতে কলমে কিছু জ্ঞানলাঁভ করিতে” পারে। ভৃগোল- 
সম্বন্ধে, হাতে কলমে কিছু জানল'ভ করিত. হইলে 
ছাক্রদিগকে বিষ্কালয় গৃহের বাহরে আসিয়া উদ্মুজ 
মাঠ, নদীতীর গ্রভৃতি বালকদের প্রিয়ন্থানে কাষ করিতে 
হইবে এবং আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে,যদি এইভাবে 
ভৌগোলিক শিক্ষা আরম্ভ হয়:তবে ভবিষ্যতে এভারেষ্ট 
পর্বতশ্ঙ্গ সম্বন্ধে তথ্য নির্ণয়ের জন্ত সমিতি. বিদেশি 


ফাঙ্জন, ১৩২৯ ] 


কর্ত্ক গঠিত হইয়। লজ্জায় আমাদিগকে অধোমুখ 
করিবে না। 

শিক্ষক হয়তো বালকদিগকে এক 'আখ্যায়িক্া 
পড়াইরেন এবং এই আখ্যায়িকা হইতে ছাত্রগণ 
কি উপদেশ লাভ করিতে পারে তাহ! তাহাদিগকে 
বিশদভাবে বুঝাইয়! দিলেন। কিন্তু বদি ছাত্রগণ বুঝিতে 
পারে যে শিক্ষক মহাশয় নিজের জীবনে পুর্বোক্ত 
উপদেশের বিপরীত আচরণ করিতেছেন তাহা হইলে 
সেই শিক্ষকের সমন্ত উপদেশই*ব্যর্থ হইবে। শুনিতে 
পাওয়া যায় যে অনেক বিগ্তালয়ে এইরূপ ব্যবস্থা আছে 
আছে যে, .শিক্ষক বেতন হিসাবে খাতাতে যত টাক্কা 
পাইয়াছেন বলিয়া স্বাক্ষর করেন, বাস্তবিকপক্ষে সেই 
টাকা অপেক্ষা অল্প টাকা তিনি বেতন হিসাবে পাইন! 
থাবেন। যে বিগ্কালয়ের কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকের মধ্যে 
'এইরূপতবন্দ্োবস্ত থাকে, সে বিদ্যালয়ের উঞ্ছেদ 'ক্ইহল 
সমাস ও দেশের কল্যাণ বই অকল্যাণ হইবে -ন1। 
আমাদের -অদাসর্বদ! মনে-রাখা কর্তব্য যে, যে অনুষ্ঠান 
মিগ্যার উপর 'প্রতি্িত, তাহা হইতে ৫কনও নন্থাস্থী 
জুফলন্ধাতের আশ! নাই। যে শিক্ষক এইবপ'ব্য/বস্থাতে 
মন্সত .হইয়। স্ুকুমারমতি বঝাঁলকগণের শিক্ষার '্ডার 
গ্রহণ করিয়া থাকেন, অভিডাবকগণের কর্তব্য বালক- 
গণকে তাহার নিকট হইতে দূরে রাখা । 

আজকাল গ্রায়শই আমাদের দেশে লোকের 
সুখে বিজ্ঞান-শিক্ষার উপকারিতা সম্বন্ধে নানা কথাবার্ধা 
গুনিতে পাওয় যায়। সকলেরই-ইচ্ছ৷ যে দেশে বিক্ঞান 
শিক্ষা বিশেষভাবে প্রচলিত হউক । দেশের বিজ্ঞানালো- 
চনার বিস্তার দেখতে চাহিলে ছাঞ্জের প্রাথথামক শিক্ষার 
অবস্থাতেই তাহাকে বিজ্ঞান শিক্ষাতে উৎসাহিত কর! 
কর্থব্য। অনুসন্ধানে জানিতে পারিলাম যে .ইতঃপূর্বে 
মধ্য ইংরেী |বন্ালয়ে বিজ্ঞান রিডার নামক যে সমস্ত 
পুস্তক পড়ান হইত, এখন নাকি তাহ! হয় না। এই 
সংবাদে নামি ক্ষুব্ধ হহু নাহ, কার- যে ভাবে এই সমস্ত 
পুস্তক পড়ান হইত, তাহাতে স্আমার বিশ্বাস যে বজ্ঞা- 
নের নামে ছাত্রদের মনে এক বিভীষক। উপস্থিত হইত। 


প্রীথমিক শিক্ষা ৯১ 


ইহাতে দেশের 'অমঙ্গল ভিন্ন মঙ্গল সাধিত হইক্জ না। 
আমাদের শিক্ষা পদ্ধতির এক প্রধান দোষ এই যে, মস্ত 
স্ুলেই ছার্রদিগের পাঠ পুস্তকের উপর অতাধিক জোর 
দেওয়। হুয়, যে বিষয় সম্বন্ধে পুস্তক পড়ান হয় সে 
বিষয়ের উপর তত জোর দেও! হর না। সাঁছিত্যে 
পাঠপুস্তক নির্দিষ্ট থাকিতে পারে, কিন্তু ইত্তিহাস, 
ভূগোল, কিজ্ঘিন প্রভৃতি বিষয়ে যদি শিক্ষকের দৃষ্টি 
কেবল যাত্র পাঠ্যপুস্তকে নিবন্ধ থকে, তবে কাহার 
কার্য অনের পরিমাণে :অসপ্পূর্ন থাকিবে। পাঠ্য 
পুস্তকের প্রধান উদ্দেশ্য ছাত্রদের নিকট হইতে 
আমর! কোন্‌ নিষয় সম্বন্ধে কতখানি জ্ঞানের আশ! 
করি তাহার আভাস আমর1 ইহা হইতে জানিতে পারি 
একটা দৃষ্টান্ত ঘ্যরা আমার কথা বুঝাইতে চেষ্টা করিব। 
বিজ্ঞানের ষে ভাগ বৃক্ষ লতা প্রভৃতির আলো]চনাতে ব্যন্ত 
তাহাকে উত্তদ্‌ বিগ! বলা হইয়া.থাকে। উদ্ভিদ বিগ্তাতে 
বৃক্ষের মমৃস্ত সংশ যথা ফুল সম্বন্ধে নান তথ্য ক্বানিত্ে 
পারা যার । উদ্ভিদ .বিগ্র প্রাথমিক দ্নবন্থাতে [ফুল 
সম্বন্ধে .ছাব্রদিগকে শিক্ষা দেওয়া হই থাকে, আবার 
বিশ্ববিস্ভালয়ের সর্কোঞ্চ পরীক্ষা জন্তে যে ছাত্র গুঙত 
হইতেছে তাহাকেও ফুল সম্বন্ধে নানা বিষয়ে .পাঠ 
লইতে হয়। কিন্ত এই উভর শ্রেণীর ছাত্রের দ্মধীত 
বিগ্তার মাপকাঠি কখনও এক হুইতে পারে :ন!। 
এবং এই হই শেক ছাত্রের পাঠপুস্তকে আমরা ইহাই 
বুঝিয়া থাকি। 

এক হিপাবে বিজ্ঞান রিভার পাঠ উঠিয়া যাওয়াতে 
আমি দুঃখিত হই নাই বটে, কিন্তু অপর হিসাবে 
আমি ইহাতে অত্যন্ত ছুঃখিত হইয়াছি। পূর্বোক্ত বিজ্ান 
গিভারগুলি যখন প্রচলিত ছিল তখন এই সমস্ত পুস্তকের 
ভাষা সন্বন্ধে অনেক তীব্র সমালোচন1 কাগজে দেবিয়াছি। 
কিন্তু এই সমস্ত পুস্তক ও পুস্তকে আলোচিত বিষয়গুলির 
পঠন ও পাঠন যখন উঠিয়া গেল, তখন দেশে কোনও 
আন্দোলনের চিহ্ন দে:খতে পাইয়াছি বলিয়া মনে হয় না। 
ইহাতে কি করিয়া বলিতে পারি যে দেশের লোর 
বিজ্ঞানের প্রচারের জন্ত বিশেষভাবে উৎস্থৃক ? আমা” 


২ মানসী ও মর্ম্মবানী 


দের দেশে সাধারণ লোকের বিশ্বাস যে বিজ্ঞান শিক্ষার 
উদ্দেশ্য দেশের ধনাগম বৃদ্ধি করা। কোনও বৈজ্ঞানিক 
এই কথাতে সায় দিবেন না । সত্য বটে যে বিদ্তানের 
কোন কোন অংশ ধনার্জনের জন্ত বা মানুষের সুখ 
স্থবিধার জন্য ব্যবস্বত হইয়া থাকে, কিন্তু বিজ্ঞানালো- 
চনার আসল উদ্দোগ্ ইহা নহে। বিজ্ঞানের যথার্থ উদ্দেস্ত 
প্রক্কাতিকে সম্যকৃভাবে বুঝা এবং চরিত্র গঠন। 

প্রধানতঃ বিজ্ঞান আলোচনাতে তিনটা পর্যায় 
দেখিতে পাওয়া যায়,--যণা প্রাক্রয়া, অবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত । 
পশ্লীগ্রামে ম্যালেরিয়ার প্রাহর্ভাবের জন্ত জর হইলেই 
সাধারণতঃ চিকিৎসক সিডাণঞ্ চুর্ণের ব্যবস্থা করিয়! 
থাকেন। এই ওঁষধ ছুইটা পৃথক পুরিয়াতে দেওয়া হয়। 
ওষধ গ্রহণের পূর্বে এই ছুই পুরিয়াস্থিত দ্রব্য আলাদ। 
করিয়া জলে দ্রব করা হয়। পরে এই ছুইট, দ্রবীভূত 
জিনিষ এক স.ঙ্গ মিশাইলে সমস্ত ওষধ উৎলাইয়া উঠে 
ইহা আমর! দেখিতে পাই। এই দৃষ্টান্তে পুরিক়াস্থৃত 
ছইটী দ্রব্য দুই ভিন্ন আধারে জলে মিশানো ও ছুই আধার- 
স্থিত জলে একত্রীক্বরণ বৈজ্ঞানিকে্র প্রক্রিয়ার অত্র্গত। 
মিশ্রণের পর উথলান দেখা ধৈজ্ঞানিকের 
অবেক্ষণ| এই দুই আধাগস্থৃত দ্রব্যের উপাদান ভিন্ন। 
এ পর্য্স্ত পরীক্ষা করিয়া দেখা গিয়াছে যে এই হুই 
বিভিন্ন েণীর দ্রব্য একত্র কঠিলেই সরমশ্রিত ভ্রব্য 
বুদদযুক্ত হইয়া থাকে এবং ইহা হইতে রালায়নিক 
এই ছুই শ্রেণীর দ্রব্যের পারম্পারক আচরণ সম্বন্ধে 
এক নিয়ম খাড়া করিয়াছেন। কিন্তু এই নিয়ম বা 
সিদ্ধান্ত স্থাপন করার পুর্বে যে বরাসায়নিককে কত 
প্রক্রিয়ার সম্পাদন ও অবেক্ষণের তালিকা সঞ্চালন 
করিতে হইয়াছে, তাহা রাসায়নিক মাত্রেই অবগত 
আছেন। 

* বিষয়টি এই ভাবে চিন্তা করিলে সকলে সহজেই 
বুঝিতে পারিবেন যে, বজ্ঞান শিক্ষাতে কি 
ভাবে চরিত্র গঠিত হইতে পারে। বিজ্ঞান পাঠে 
অবেক্ষণ, অধ্যবসার, চিত্ত সংযোগ ও বিচার শৃক্ত 
ক্রমিক ও স্বাভীবিক ভাবে বিকাশপ্রাণ্ত হয়| একটা 


[ ১৫শ বর্ষ--১ম খশ-_-১ম সংখ্য। 


বালককে একটী কীঠাল গাছের পাতা অঙ্কিত করিতে 
দিয়া আমার কথ! ঠিক কি না তাহা আপনার পরীক্ষ] 
করিতে পারেন। 

জন্মানজাতি যে বিজ্ঞানালোচনাতে পৃথিবীতে 
অতি উচ্চস্থান অধিকার করিয়াছে তাহা সকলেই 
জানেন এবং এই উচ্চস্থানের ভিত্তি জর্মনদের কিণ্ডের- 
গার্ডেন শিক্ষাপগ্রণালীর উপর স্থাপিত পকথ চ্ছলেন 
বালানাং নীতস্তদি২ই কথ্যতে* এবং কিগ্ডেরগার্ডেন 
প্রণালীতে শিক্ষা প্রদান মুখযতঃ এক। পরলোকগত 
স্তর এ, পেডলার আমাদের দেশে এই কিগেরগার্ডেন 
প্রণলীতে শিক্ষা প্রবর্তন করিতে চাহিয়া!ছলেন। 
স্থৃতরাং তাহার উদ্দেশ্যের জন্ত তাহার নিকট আমদের 
রলৃতজ্ঞ থাক উচিহ। যে সময় এই প্রথা প্রবর্তিত 
হয় তখন আমাদের দেশে বর্তমান সময়ের ন্ায় বিজ্ঞান 
শিক্ষার প্রচলন ছিল না এবং উপযুক্ত শিক্ষকের 
যথেষ্ট অভাব ছিল। বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানে শিক্ষিত 
অনেক যুবক বিদ্যালয় হইতে প্রতিবৎসর বাহির হইতেছে, 
স্থতরাং পুর্বের স্তায় বৈজ্ঞানিক শিক্ষকের অভাব আর 
এখন নাই । সুতরাং আশা করা যায় যে নির্দিষ্ট পাঠা 
বিষয়ের অন্তভূক্ত হউক আর না হউক, প্রতোক 
মধ্য ইংরেজী বিগ্ভালয়ে অবিলম্বে [বগ্ায়ের আর্থক 
অবস্থার অন্পাতে ছুই একটী ঝ্জ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক 
নিযুক্ত হইবেন এবং এই জন্ত যাহা অধিক বায় হইবে 
তাহা স্বচ্ছন্দচিত্তে গ্রহণ করিয়া, দেশবালী যে [জ্ঞান 
শিক্ষা বিস্তারের অন্ত ব্যাকুল তাহ! প্রমণিত 
করিবেন। মনে রাখিতে হইবে যে কোনও ভাল কাজ 
ত্যাগ স্বীকার ভিন্ন স্ুসম্পন্ন হইতে পারে ন!-_সে কাজ 
যত বড়ই হউক বাযত ছোটই হউক। 

শিশুর সমাক্‌ বিকাশের অন্ত দাগ্নিত্ব কেবলমাত্র 
শিক্ষকের উপর স্ন্ত রাঁথিলে চলিবে না| অভিভাবকেও 
শিশুর প্রতি সতত লক্ষ্য রা্থতে হইবে ও মনে রাখতে 
হইবে ষে শিশুর চরিত্র গঠনের স্তায় দায়িত্বপৃণ কাধ্য 
আর কিছুই নাই। সাধারণতঃ চরিত্র শব আমাদের 
দেশে অত্যন্ত সঙন্কীর্প অর্থে ব্যবহৃত হয়, আমি কিন্তু 


অররাজ অশোক-স্তস্ত 


"৯৩ 









এস্থলে চরিত্র শব্ধ খুব ব্যাপক অর্থে বাবহার করিতেছি । 
যদি নিজের বালককে অভিভাবক ন্ুচরিত্র করিতে 
চান, তবে অভিভাবককেও সুচরিত্র হইতে হইবে। 
শিশুর সম্মুখে পিতা মাতা ও অপরাপর অভিভাবককে 
সর্বদা! অতি শুদ্ধ মনে থাকিতে হইবে। পিতাকে 
হয়ত তাগিদদার তাগাদা করিতে আসিয়াছে, পিত! 
অন্তঃপুরে আছেন, কিন্ত হাতে টাকা নাই, তাঁগিদ- 
দারুকে ফিরাইয়া দিবার জন্য পিতা মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ 
করিলেন; পুত্র বাহিরে "গিয়া! সংবাদ দিল যে বাঝা 
বাড়ী নাই। তাগিদদারের কিঞ্চিৎ কটুবাক্যের হস্ত 
হইতে রক্ষা পাইবার জন্ত পিতা যে পদ্ধতি অধলম্বন 
করিলেন, তাহাতে যে পুত্রের তিনি কি অপকার 
সাধিত করিলেন তাহ! ভাবিলে বুদ্ধিমান ব্যক্তি মাত্রেরই 


পিপি পিপিপি পা পাপা পি ২ সর 


০০০০ 


আতঙ্ক উরি হয়। অতি এ চর বস্ত এক এক 
করিয়া বৃহৎ বস্ত প্রস্তত হয়, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকাকণার 
সমষ্টিতে যমুনা নদীর অত্যস্তরস্থ বড় বড় চর প্রস্তত 


হইয়াছে। মনে বাঁথতে হইবে যে এই ভাবে পিতা, 


মাতা ও অন্তিভাবকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত শিশুর চরিত্র- 
গঠনের উপর প্রতৃত ক্ষমতা বিস্তার করে। মন্পানাসক্ 
অভিভাবকের বালক যদি মগ্ঘপানাসক্ত হয়, তবে সে 
দোষ কাহার এই প্রশ্নের উত্তর অতি সহজ । 
কেবল মাত্র চরিব্রগঠন ও বিগ্ভাশিক্ষায় সহায়তা 
করিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হইল না। যাহা ত 
উপযুক্ত বায়ামাদির হারা বালকের স্বাস্থ্য গঠিত হয় সে 
বিষয়েও অভিভাবক ও শিক্ষকের দৃষ্টি রাখা আবশ্বক। 
শ্রীহেমচন্দ্র দাশগুপ্ত । 


অররাজ অশোকস্তস্ত 


মতিহারীর ১৬ মাইল দক্ষিণপশ্চিমে ও বিথাত 
বোসরিয় স্ত,পের ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অররাঙ্জ 
মহাদেবের মন্দিরের দক্ষিণ পশ্চিমদিকে একমাইল দূরে 
একটি অশোক প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরস্তস্ত আজিও দণ্ড মান 
দেখা যায় । স্তন্তটা সাধারণের নিকট শিবলিঙ্গ বলিয়া 
পরিচিত এবং তাহার অদুরবর্তী কষদ্রগ্রামথানি লৌড়িয়া 
নামে পারচিত। অশোকন্তম্ত এ গ্রামের পূর্বসীমানা 
হইতে ২*০ হস্ত দুরে অবাস্থত। 

আধুনিককালে স্ত্তগী 1 7. [" [00904500 
কর্তৃক সাধারণের পাঁরচিত হইয়াছে । তিনি ইহাকে 
প্রাধিয়া স্তস্ত* নামে উল্লেখ করিয়া গিয়ছেন» তাই 
শ্স্তটা এ নামেও আভহিত হইয়া থাকে । বেতিয়ার 
উওরের অপর অশোকপ্তস্তটি হজসন সাহেব “মাথয়া- 
স্তস্ত" নামে উল্লেখ করিয়াছেন। তাহার নিকটবর্তী 
গ্রামের নামও লৌড়য়া। তাই মনে হয় যে, তাহার 
মুন্সী ইচ্ছা করিয়াই নিন্দাবাচক গ্রামের নাম না করিয়া 


অপেক্ষাকৃত দৃরবর্তীঁ গ্রামের নাম করিয়াছিলেন। রাধিয়া 
গরমের প্রকৃতনাম রুহরিয়া-উহা অশো কন্তত্তের গাড়াই- 
মাইল উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত। সেইরূপ মথিয় গ্রামও 
অপর লৌ'ড়ঙ স্তস্ত হইতে দক্ষিণদিকে তিনমাইল দুরে 
অবস্থিত। কাঁনংহাম নিকটবর্তী গ্রামের নাম বজান 
রাখিণ এবং উত্যন্তস্তের পার্থক্য বুঝাইবার জন্ত মতি- 
হারীর দক্ষিণের স্তস্তটীর নামকরণ করেন *লৌড়িয়া- 
অররাজ শ্তস্ত* এবং বেতিয়ার উত্তরেন স্তম্ভের নাম রাখেন 
গ্লৌড়িয়া নন্দনগড় স্ত1৮ উতযন্তন্তের মধ্যের ব্যবধান 
প্রায় ২৬মাইল হইবে। 

অশোক প্রতিষিত অন্তান্য স্তপ্তের স্তায় এটাও এক 
অখগুপ্রস্তর নির্মত এবং মন্থণ ও উজ্জ্বল গালিসধুক্ত। 
্তম্তটী বর্তমানে তৃপৃষ্ঠের উপর ৩৬ ফুট উচ্চ। ইহার 
তলদেশের ব্যাস 9১৮ ইঞ্চি ও উপঠিঅংশের ব্যাস ৩৭1 
ফুট-_মর্থাৎ ৯ফুটে একইঞ্চি কমিয়াছে। অপর লৌড়িয়া- 
স্তপ্ডের হাসের পরিমাণ ৩৩ ফুট ৯ ইঞ্চি, বা প্রান ৪ ফুটে 





এক ইঞ্চি কম। এই জন্যই নন্দনগড় স্তপ্তের গন; এ 


শুন্দর ও স্থুগোল। পক্ষান্তরে অপেক্ষার্কতণহ্ম্বাকার অথচ 
স্থলতর বলিয়া অরব্া্জ স্তপ্ত তাহার তুলনায় নিতান্তই 
কুগঠন। কানিংহাম অনুমান করেন শ্তস্তটীর ওজন প্রায় 
৩৫ টন হইবে। কিন্তু তৃগর্ভপ্রোথিত অমস্থণ 
ংশ সমেত তাহা ৪৭ টনের কম হইবে বলিয়া বোধ 
হর না। র 
বর্তমানে অরর।জ স্তত্তের শীর্ষদেশে কোনও পণুমুত্তি 
নাই। কিন্তু এক কালে যেছিল, সে বিষয়ে কোনই 
সনোহ নাই। গ্রামবাসীরা বলে যে তাহারা বরাবরই 
গ্তসুটা এই ভাবে থাকার কথা শুনিয়া আসিতেছে, 
উপরে কোনও অন্তর মুন্তি ছিল বলিয়া কখনও শুনে নাই। 
অনুসন্ধান করিয়াও এখানে ভস্মুর্তি বা তাহার কোন 
নিদর্শন পাওয়া যায় নাই। কিন্তু তাহা বলিয়া এখানে 
যেকোনও কালে কোন পশুমুত্তি ছিল না এরূপ মনে 
করিবার কারণ নাই। অশোক প্রতিষ্ঠিত সমস্ত স্তস্তই 
পণ্মুর্ঠিশিরস্ক ছিল। ত্রিছুতের মধ্যেই অশোকের 
তিনটা সিংহমুষ্তিযুক্ত অন্ত অবস্থিত। মথিয়া, রামপুরায় 
উতত় স্তস্তেই (সিংহমুষ্ি দেখা যায়। তাই মনে হয় যে, 
অশোকের ছয়টা অন্ুশাসনযুক্ এই স্তসটাও এ ছুইটীরই 
মত পণ্ুরাজমুন্তি-শীর্য ছিল। 
অশোকের অনুশাসন সমূহ স্তস্তগাত্রে ছই অংশে 
উৎকীর্ণ। দৃক্ষিণদিকে ২৩ লাইনে প্রথম চারিটি ও উত্তর 
দিকে ১৮ লাইনে পঞ্চম ও ষষ্ঠ অনুশাসন খোদিত। 
অক্ষরগুল বেশ পরিষ্কার ও সুন্দর এবং গভীরভাবে 
খোদিত--সর্বব ংশে দিল্লী ও এলাহাবাদ স্তত্তের বর্ণ- 
মালার অনুরূপ। শুধু “৪” অক্ষরটির গঠনে সামান্ত 
কিছু প্রতে? দেখা যায়। এই ধরণের গজ” ভ্রিছুতের 
অপর দুইটি স্তস্তেও দেখা [গয়াছে। রাধির়া এবং 
মধিয়! সত ছয়টা যুক্তাক্ষরের প্রয়োগ দেখা বায়, যথা 
ক্‌খ, ত্যধ্য,খা, স্ত ও স্ব-_হহার মধ্যে প্রথম তিনটি [দল্লীর 
স্তপ্ভে নাই। রাধিয়া, মনা ও রামপুরার প্রথম 
স্ুস্তে অশোকের ছয়টি স্তস্ালপি আছে। এই তিন 
স্তস্তগাত্রে উৎকীর্ণ লিপিতে অক্ষরে অক্ষরে মিল দেখ! 


যার। যৎসামান্ত বেক এজেদ দেখা রি তাহা গিপি- 
করকৃত প্রমাদ বলিয়্াই মনে হয়। তাই বুঝহার মনে 
করেন যে, এরই পাখুলিপি হইতে বা একই কারণ 
লিৰিত এক পাঙুলিপির তিন প্রতিলিপি হইতে এই 
লিপিত্রয় খোদিত হ্ইয়াছিল। € 

লৌড়িয়া গ্রাম থুব নির্জন অঞ্চলে অবস্থিত এবং 
ইহার নিকটেও কোন প্রাচীন যুগের ধ্বংসরা্জি দেখা 
যায় না। তাই অররাক্্ স্তভ দর্শকবুনন্দর নাম খুদিয়া 
অমর হইবার উৎপাত হইতে রক্ষা! পাইয়াছে। কানিং- 
হাম যখম দেখিয়াছিলেন তখন 76010500100 
2772 সুধু এই নামটি ছিল। এই নাম মধিয়! এবং বদ্ষিরা 
স্স্তেও দেখা গিয়াছে । তা ছাড়া প্রাীন শম্বুকাক্কৃতি 
অক্ষরের রুতকগুপণি লেখাও অররাজ স্তস্তগাত্রে উৎকীর্ণ 
দেখা যায়। প্রিন্সেপ, কানিংহাম প্রভৃতি অনুমান করেন 
যে খুষ্রীয় সপ্তম শতাবী এই অক্ষরগুলির কাল। 
এলাহাবাদ ছর্সের অশে!কন্তস্তে প্রিন্সেপ সর্বপ্রথম এই 
ধরণের অক্ষর আবিষ্কার করেন । তিনিই ইহার এইব্প 
নামকরণ করিয়াছিলেন। উত্তর ভারতে অবস্থিত প্রায় 
সমস্ত প্রাচীন স্তস্তেই এইরূপ অজ্ঞাত রুহন্তপূর্ণ অক্ষর 
দেখা যায়।& 

ফাহিয়ান ও হিউয্বেনসঙ্গ-এর বৃত্তান্ত মধ্যে রাধিয়া, 
ময় এবং রামপুরা স্তম্ভের উল্লেখ দেখা যায় +ন]। 
তাহার এক মাত্র কারণ যে তাহার! কেহই এ অকলে 
পদার্পণ করেন নাই। হিউয়েনসঙ্গ বৈশালী পর্য্যস্ত 
আসিয়া সেখান হইতে ৫০০্লি উত্তর পূর্ব বৃদ্ধি- 
রাজ্যে ও তথা হইতে নেপালে গয়্াছিলেন। তিনি যদি 
এ অঞ্চলে আসতেন তবে এ সকল স্থানের প্রাচীন তথ্য 
আমরা তাহার লেখা হইতে জানতে পারতাম। 
প্রাচান ভারতের অনেক তথে।র জন্তহ আমরা তাহার 





৬.:0001181))015 (00109) ৮০1. 11, 0946 

*&.8 তি, ০] 1, 0910 হথা বিছ্বার, [ভটাএী, কাহাতি, 
কুইল কলেছের স্তস্ত, কৌশখা, প্রয়াগ, সিংভূমজেলার বিজয়া 
পাহাড় ইত্যার্গ। 


ফাল্তুন, ১৩২৯ ] 


নিকট খণী, তাই বড়ই ছুঃখের [বিষয় যে হিউয়েনসঙ্গ 
চম্পারণ জেলায় আসেন নাই। 

অ'শাকের -্তন্তলিপি হইতেই প্রকাশ যে এ্রগুলি 
তাহার অভিষেকের ষড়বিংশ বর্ষে উৎকীর্ণ হইয়াছিল | 


গ্রন্থ-সমালোচনা 


সে হিসাবে অনুমান ২৪৩--৪২ খ্রীষ্ট পূর্ববা এগুলির 
কাল। সুতরাং অররাজ স্তস্তও এ সময়ে প্রতিষ্ঠিত 
বলিয়া স্থির হইয়াছে। 

শ্রীঘন্বুজনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় | 


গ্রন্থ সমালোচনা 


সৌঁম্দ নম্দ__জ্রীবিষলাচয়শ লাহ1 এম এ বি এ কর্তৃক 
বজভাবায় অন্থদিত এবং গুকুদাস চটোপাধ্যার এ সঙ্গ কর্তৃক 
গ্রকাশিত। ডবল ক্রাউন ১৬ পেজী ১৮১ পৃষ্ঠা, কাপড়ে 
বাধান, শুজ্য ১২ 

মুল পুস্তকখানি"কনিফের বৌদ্ধ গুরু বুদ্ধ চরিত রচয়িতা 
অঙ্থঘোষ কর্তৃক লিখিত-! অস্থবাদ-পুস্তকের ভূষিকা* লেখক 
বহাযক্োপাধ্যায় জীবুক্ক হরপ্রসাগ শাত্রী মহোদয় প্রথঘে ইহ! 
এলিয়াটিক পোসাইটি হইতে শ্রকাশ করেন। অনুবাদক লিখিযা- 
ছেন, “ইহা আজ পর্ধ্ত্ত কোন ভাষায় অন্থদিত হয়'নাই বলিয়] 
আমার বিশ্বাস |” কিন্তু চতুর্থ বর্ষের গৃহস্থ পত্রিকায় (১৩১৯-২*) 
ইহার যথাষথ না হউক সংক্ষিপ্ত বঙ্গাহবাদ প্রকাশিত হুইয়া- 
ছিল। লা! হকাশঘ়ু ইকার যথাযথ অন্থবাদ কারয়াছেন। 
যেখানে যথাধথ অন্থবাদে অর্থ স্পষ্ট হছ্গ নাই সেখানে ভাবার্থ 
দিয়াছেন। 

কাবাধানি অ্রাদশ সর্গে বিভক্ত । নিজ বৈমাহ্রেয় ভাই সুন্দর 
বন্জরকে যুদ্ধদেব উপদেশ দিয়! প্রত্রজা| গ্রহণ করান। নন্দ স্বীয় 
গৃছে হুদ্বরী নাষে সথন্দরী স্ত্রী ফেলিয়া আসিয়াছিলেন। কাষেই 
সংষপর ত্যাগ দ্বারাও ভীহার সংসারাসক্তি কমিতেছিল না। 
তাই দেখিস বুদ্ধদেষ নানারূপ উপদেশ দিয়া ডাছার সংসারাদক্তি 
ঘুতাইয়। দেন | শেষে নন্দ সন্ধর্থ্ের সাধন পদ্ধতির জন্থষ্ঠান 
কারয়। অর্থৎ পদ লাভ করেন। 

ভূষিক1 লেখক শাস্ত্রী হহাশয় ও পৃহস্থে প্রকাশিত ।বঙ্গাহ্‌- 
বাদক পিত জীযুক্ত বিধুশেধর শাস্ত্রী মহাশয় দেখাইয়াছেন যে 
অশ্থখোধ স্থানে স্থানে কবি কালিদাসকেও পরাজিত করিয়াছেন। 
সুল কায্যের সৌন্দর্য এই পুত্বকখানিতে অধিকাংশ স্থলেই বজায় 
জান্ছে। 


ভিম্দীশব্দ ও অন্থবাদ মালা--জ্ীগোপালচন্্র 
বেদান্ুশাস্ত্রী ও জীনরেন্্রনাথ ভট্টাচার্য্য প্রণীত্ত। হিন্দী প্রচার 


কার্যালয় (ভথানীপুর) হইতে প্রকাশিত। ভবল ক্রাউন 
১৬ গেজী ১২৯ পৃষ্ঠা, মূল্য 1 

ইংরাজী চ০:0০০% এর প্রথালীতে এখানি বাক্যালীর 
হিন্দী শিখিষার অন্ত লিখিত । অখঢ বাঙলা হইতৈ হিন্দীতে 
অগ্থবাদ করিবার পদ্ধতি দেখাইয়া প্রতোক পাঠে শেষে কতক. 
গুলিঅন্শ্ীলনী দেওয়া হইয়াছে । ব্যাকরণের অবশ্যজাতবা 
স্জগুলিও বৃষ্টান্ত দিয়া বুঝা ইয়া দেওয়া হইয়াছে! 

বাঙ্গালীর হিনী শিখিবার পক্ষে প্রধানত: ছুইটি অন্তয়ায়, 
এক উচ্চারণ অপর লিঙগজ্ঞান। দণ্ড স. অন্তস্থ যুব এইতিম্টীয় 
উচ্চারখের বিশেষত্ব ভূমিকায় যতদুর সম্ভব বুঝাইয়া দেওয়া 
হুইয়াছে। পুস্তকের মধ্যেও স্থানে স্কানে বালা অক্ষরে উচ্চারণ 
লিখিত হইয়াছে । কেবল হিন্দী অকারের উচ্চারণের কোন 
উল্লেখ নাই । ইহা বাঙ্গলা অক্ষরের সাহায্যে বুঝান দুষ্কর 
্রস্থকারতয় তাই বলিয়াছেন, অপর ভাষার উচ্চারণ শ্রুতিপাধা। 
অপর অন্তরায় দূর করিবার জগ্ত প্রত্যেক পাঠে স্ত্রীলি্গ 
পুংলিঙ্গ তেদে বিশেষ্যগুলি পৃথক করিদ্া লেখা ছই্াছে। 
এই পুস্তকের সাহায্যে হিন্দী শিক্ষার্থী বাঙ্গালী সহজেই হিশী 
ভাষ] শিখিতে গারিবেন। কেবল হধ্যে মধ্যে লক্ষ্য করিস] 
ছিম্ুস্থানীর উচ্চারণ শুনিতে হুইবে। 


বিপধা-ঞীফতীন্রফোহন চট্টোপাধ্যায় প্রণীত। ডবল- 
ক্রাউন ১৬পেজী ২১১ পৃঃ। লালকাপড়ে বাধা সোশারজলে 
নামলেখা, দাষ ১1৯ 

বইখানি উপন্তাস। সমালোতনার খাতিরে কোনরকমে ১৪২ 
পৃঃ পড়িয়াছি, আর ধৈর্ধ্য খাকিল ন।| গল্পের মাথামু$ বাই। 
প্রথষাংশের সঙ্গে শেবাংশের সামঞ্জন্ত নাই, কথ্যভাষায় ও 
সাধুভাষায় ধিপ্চ়ী পাকান হইয়াছে । উপযাগুলি জন্ভূত রকমের । 
সাধুভাষার বধ্যে ইতরলোফের ভাষা বিশান আছে। আর্টের 
দোহাই দিয়! আজকাল যে সকল গল্পের বই বাহির হইতেছে, 


৯৬ « 


গ্রন্থকার সেগুলির ব্যর্থ অহৃকরণচেষ্ট। করিয়া গোটা কতক চুম্বন, 
জধর, পয়োধর প্রভৃতি শঙ্খের প্রয়োগ করিয়াছেন । সম্য- 
হুচক সর্বনাম ও ক্রিয়ায় রূপের প্রয়োগে গ্রন্থকার কেমন 
সিশ্ধংস্ত দেখুন | তিনি লিখিতেছেন, “সে বুঝল আর সংসারে 
তাহার স্থান নাই।” তবে একট! প্রশংসার কথা এই যে এইটুকু 
ছোট বইয়ে সাতখানি ছবি জআছে। 


কাগ্য-রেশী _বা লালা গোলকটাদ, প্রথম ও 
জীহুরেন্চন্ত্র বহু (ভিখারী শীরানম্দ) প্রণীত। ডবল ক্রাউন 
১৬ পেজি, ৬৪, পৃষ্ঠা পুতি ধের মুলা | 

পুশ্তকমধো শার্ট ও চাপকান পরিহিত, চেয়ারে উপৰিষ্ু 
তিথারী নীরামন্দ্ের একথানি উবি, কয়েকটি বিজ্ঞাপন এবং 
বক্তব্য জানে! আহরা সেগুলির বিষয় কিছু নাবলিয়া আধ্যা- 
রিকায় এসন্বত্ধে ছুষ্ট চাতরিটী কথ! বলিব। পুন্তকখানি সম. 
লোতনার্থ প্রেরিত হইয়াছে বটে, কিন্তু উহাতে আধ্যারিক] 
শেহ হওয়া দুয়ে থাকুক, আরম্তমার হইধাছে। এজন্য এবিবয়ে 
এখন কোনও মত প্রকাশ করিতে পারা যায় না; তবে স্থনে 
স্থানে যু্রাক্ষনের দোষ এবং ভাবার কিছু কিছু ক্রটি লক্ষিত 
হইল। আফরা নিযে কঘেকটা উদ্ধত করিয়া দিলাম-_ 

(১)*যুদ্ধ বিপিনের সহিত কথ] কহিতে কহিতে তিনি ভীত 
হর” (পৃঃ ১২)--এস্থলে* যখন বুদ্ধ রহিয়াছেন। তখন 
পুনয়ায় 'তিনি'র আবম্তাকতা কি? 

(২) ১৬ পৃষ্ঠায় ভতিবৌর উক্কিতে একইন্থানে “তোমাদের, 
এবং 'তোমাগর” আদ্র ছষ্টটা একপ্রকারই হওয়া উচিত। 
ধবাগানো"র পরিবর্তে 'বাধানো?ই লেখ! উঠিত। 

(৩) অনেক স্থলে 'নাছি” শবের ব্যবহার হউয়াছে, অথচ 
'নাই। শষও যে পুস্তকহধ্যে দেখা যায় না, তাহা নহে। আমাদের 
মতে দ্বিতীয় শলিরই প্রয়োগ হওয়া! উচিত। 

(৪) ১৯ পৃষ্ঠার 'গৌরধেঃর স্বলে 'গৌরু”ই ঠিক | 

(€) "আমাদিগের বিদেশীয় মছাজনগণ নিদয্ হইলে আমা- 
দিগের অভাবের পরিসীমা থাকে না"। (২৯ পৃষ্ঠা) এখানে 
'আমাদিগের' শব্দের ছুইবার ব্যবহার হুইরাছে--প্রথমটীর 
ব্যবহার নম] হইলেও ভাব ঠিক থাকে। 


মানসী ও মর্্মবাণী 


[ ১৫শ বর্ষ-+১ম খণ্ড---১ম সংখ্য। 


(৬) হিন্ু্ধানী জিতৃসিংছের মুখে শুদ্ধ ছিন্দীর পরিবর্তে 
বাঙ্গালা হিন্দি” গুমিলে শ্রোতার কর্ধে কি রক ঠেকে !? (পৃঃ৩*) 

(৭) ধরণ (পৃঃ ৩৯)১ 'হারাজজাদ+ (পৃঃ ৩৬ )) বহর 
সালিয়ানা' (পৃঃ ৯), “মুরুব্বি ঈাড়াইয়াছে। (পৃঃ৪*) এবং 
খুলতে হইবে ত? (পৃঃ ৬১)--এইগুলিতে স্থলে হথাক্রমে 'ধা রণ”? 
হারামজা্', “সালিয়ান1', 'মুরুব্বি হইয়! কীড়াইয়াছে+১ এবং 
ধুল্তে হবে ত' হইবে। 

পরিশেষে আমাদের বক্তব্য এই ফে, গ্রস্থকারের যখন 
আরও পুণ্তকরচমার আকাত্] আছে, তখন গুদ্ধতার দিকে 
উাহার লক্ষ্য রাখ! উচিত। 


নারীর গৌরব (উপস্ভাস) জরীহ্চারুভূষণ ঘোষ হি-এ 
প্রণীত ( কলিকাতা নিউ সরম্বতী প্রেসে মুদ্রিত ও ১নং কর্ণ- 
ওয়াজিস গ্রীট হষ্টতে মেসার্স ঘোষ এগ কোং কর্তৃঙ্গ প্রকাশিত। 
ডবল জ্রাউন ১৬ পেঞ্জি ৫৫৬ পৃষ্ঠা, কাপড়ে বাধাই, যু ৩ 

ইহা একখানি সামাজিক বগার্থস্থা উপন্যাস | বইধানির 
*নারীর ৫গীরৰ* নাষ পড়িয়া আময়া প্রথষে একটু শক্ষিত হইয়া 
ছিলাম ; কারণ আজকাল মাঁকি বিবাহিত স্বামীকে কদলী 
প্রদর্শন করিয়া স্থানান্তরে গষনই বাঙ্গালা সাহিতো ( সৌভাগ্য 
বশতঃ বাঙ্গালীর সমাজে নহে) নারীর যথার্থ গৌরব বলিয়া 
বিবেচিত হইতেছে । বহিথানি পাঠ. করিয়া! দেখিলাম আমাদের 
সে আশঙ্কা সম্পূর্ণ জমুলক। 

গ্রন্থকার বর্ণিত গাহস্ায চিত্রগুলি বেশ সরস ও উজ্জল 
হইয়াছে। গঞ্জের প্রবাহটিও কোথাও ক্ষুণ্ন হয় নাই --পড়িতে 
পড়িতে আগ্রহ কোথাও মন্দীডুত হয় না। অকুণপ্রকাশ, 
শেফালি, জাইরীণ প্রভৃতির চরিত্রগুলি বেশ নিপুণতান সহিত 
অক্ধত। ইহাই বোধ হয় গ্রন্থকাহের: প্রথম উদ্যদ। কিন্তু 
ভাহার বিশেষ প্রশংপায় বিষয় এই যে, এতবড় একখানি সাড়ে 
পাঁচশত পৃষ্ঠার উপন্লাসেও, তিনি আগাগোড়া বেশ সামঞ্জড 
ফ়াধিতে সমর্থ হইয়াছেন। আশা করি হুচারুভুষণ বাবু লেখ- 
নীকে ক্ষান্ত না দিয়া নব নব উপন্যাস সৃষ্টি করিয়া আমাদিগকে 
আনন্দদ্বান করিবেন। 


কলিকাতা | 
১৪এ, রামতনু বন্থুর লেন “মানসী প্রেস” হইতে প্রীশীতলচন্দ্র তট্টাচার্ধ্য কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত । 


মান্না ও মন্থন, 





রায় বাহাদুর শস্তলধর ০১৭ 
€ চিত্রকর শ্রীতীন্দ্রকুমার মেন ) 
যৌবনে-_চিমটা কম্বল চরণ সম্বল হিমালয়ে বসবাস । 


মর্মবাণী 


০ চৈত্র ১৩ ১ গু, 

১ম হণ চত্র, টু ৯ শন সহখ্যা 
পন্থ! 

গীতা বলেন তাহাদের ধারণা। জ্ঞানচর্চার পৰটা খুবই খলিয়! গিয়াছে 

প্বধর্শে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্ম্ো ভয়াবহঃ* সত্য, কিন্ত সে পথে যাহারা অগ্রসর হন তীহাদের 


এখানে ভগবান্‌ অর্জুনকে সম্ভবতঃ ক্ষাত্রধর্্ের কথাই 
বলিয়্াছেন। এখন বর্ণাশ্রম ধর্ম ভারতবর্ধ হইতে উঠিয়া 
যাওয়ার উপক্রপ্ন করিয়াছে। অন্তত্র উহা ছিল না 
বলিলেই হয়। 

: বর্ণাশ্রম ধর্ম আর যাহাই করুক, এদেশে জবনসংগ্রাম 
কমাইয়। দিয়াছিল। তখন লোক ছিল কম, ভূমি ছিল 
বিস্তর, -তরাদ্দণের বৃত্তি অনায়াসেই চলিত। জ্ঞানচর্ড৷ 
ও ধর্মচিস্তীর অন্ত একদল মানু পুরুযানুক্রমেই একরূপ 
'পরের- উপর দিয়াই ক্ষুৎপিপাসা নিবারণের কাজটা 
সারির়া লইতেন, অন্ত বর্ণের লোকও আপন আপন 
বৃত্তি অন্থরণ করতঃ সহগরভাবৈই গ্রাসাচ্ছাদনের কাজটা 
নির্বাহ করিিত। ওকাঙটা এখনকার এত মারাত্বক ভাব 
ধারণ করে নাই। 

-. এখন এই কাজটাই সকল কানের উপর ধর্ম-চিত্তার 
অধগয় এখন অনেকেই পাঁন দা-_অন্ততঃ -এইরূপ 


অধিকাংশেরই গন্তব্স্থান বা লক্ষ্য এক্ষুৎপিপাঁসা নিবারণ। 
এই ক্ষুৎপিপাসাটা দেশে বড়ই বিকট গাব ধারণ করিয়াছে 


ও করিতেছে। নানারকমের ক্ষুধা, নানারকমের পিপরসি 


যাহ! সে কালে ন্বপ্রেরও অগেচির ছিল, এখন দেঁশবসীকে 
ভারাক্রান্ত করিতেছে। পাশ্চাত্য আকাঙ্গ। 'আপিযা 
পড়িয়াছে, কিন্ধ পাশ্চাত্য, কার্ধ্যকত্বী শক্তি'আদৈ নাই? 
পাশ্চাত্য শিক্ষার একদেশ মাত আঁ কড়াই! ধরিয়া আমরা 
ঘরের শিক্ষা ভুলিয়া গিয়াছি; খরের ধন শাখাতে 
ফেলিয়া! দিতেছি। 

এদেশে গার্হস্থ্য ধর্শের একটা প্রধান অঙ্গ ছিল-- 
অভিথিসৎকার, এখন নিজের “সৎকার” ঘরটি উঠেনা) 
কাজেই অতিথির প্রতি অর্গলবন্ধ। ্পিতৃশ্গণ *দেবশ্গর্ণ 
ও “ভৃতশ্গণ, আলাতন করিতে আসেন মা, তাং 
তাহাদের খোজ নেওয়া অনাবন্তধ। - | 

* খাবিদিগের আঁদর্শ ত উঠিদাই গিাছে' কিন্ত ্বই ফে 


৯৮ 


উদরটিকে কেন্দ্র করিয়া একটি নুতন আদর্শ যন্তক 
উত্তোলন করিয়াছে, তাহারই বা সাধন! হইতেছে 
কোথায় ? অভাব বাড়িতেছে বই কমিতেছে না, উদ- 
পৃষ্তির উপকরণ লোকসংখ্যার অনুপাতে কযিতবেছে বই 
বাঁড়িতেছে না। বিশ্ববিস্কালয়ের দ্বারদেশ্‌ ব) অন্তর্দেশ 
হইতে এত যে যুবকদল প্রতিবংসর সংসারক্ষেত্রে 
ঝাপ দিতেছে, কার্ধ্যস্থলে তাহারা দেখিতেছি নিতাস্তই 
নিঃসম্বল। শাস্কার মন্থ ছিজাতি সম্বন্ধে যে শ্বৃত্বিকে 
এতদূর নিন্দা করিয়া গিয়াছেন, সেই স্ববৃত্বি যা অবল্কনে 


ফয়জনের বিগাসবাসন! তৃপ্ত হইতে পারে? অনেকে 


অনেক পুথি মুখস্থ করিয়া বিশ্ববিস্তালয়ের অয়মাল্যে 
আপনাকে ভূষিত দেখির। যনে করে কার্ধ্যক্ষেত্রেও আমা- 
দের গৌরৰ এইরূপই খাঁকিবে। কিন্তু সংসারের স্থাষরে 
নামিরাই তাহার! দেখে এখানে স্বতস্থ মানদণ্ড। 

সরকারী কাগজে প্রকাশিত পরিপোর্ট* বিশেষের 
লেখকগণ বলেন £-- 

এপ হথ0ড 01 90211 19507001055 
2108 চ০100800% 00৫ 8010575 55 [এ 
[30205210155 

পুত 7126 ৪৮৮6০ 2৫৭6০010510 
05618 5025 আ৮0 6002000 91010 ঘা]! 
01:০0816 620010525606 00 6562011917076 
47819 5 600209]9 9000018 00108210086 08 
০086 ১ 108৮ 98 163৩ 5010019 195৫ 
00927609007 05৮ 20. 20৫106606 
হাল ৫৫8090009 £0৫5 89৩ 29০ 
(91190 0 96 00611790119 10140205013 জা 
91৩ 1688050 24 9901528060157109908 2130. 
8৩09 ০01 80031050206 1095৫ 80৫৩০৫ 
৪:5205 100059860. 20 8208515 843৫ £ ৪ 
০9০৫ 2920 0০ 2:05, 0৮0 ৪০ ০00- 
50৮ €০ 626 ৪ 05 ৫9814 £৫৮ 2:05 
০ &9959/5691% ০ ৪0৩ 05 বৈক্ঞ) 16 
1016 10 026. 21950096 01966. 89৮ 2 


মানসী ও মর্ম্মবাণী 


| ১৫শ বধ--১ম খগ--২য় সংখ্য। 


০2160] 60091795 20511 01:9000208 ৫ 
00060901060 ৮2৮ 00০ ৫162৮6৫091৮ ০1 
06 6০০012210 019900165 2৮ 09590 19 
179৮ 10205 57090021061) 2266 00 52196 0৫ 
9৫৮০০] ০: ০০01165৩ 19001191) 6৫090103208 
1018067 ৮90. 0055 ৮6 2৮696 21001008, 
05099669200. 1096 ৮৮110 19 [9986৫ 
016 11660006015 13910102000, 10 419 
816 6 2610062৮ 60 9005০ 2 ছেচো 201 
005 2100 06011) 6০ 6206 210 [998 
11101) 0065 170600216 
50050101000 01 06 055091 1010 1098 
৩2060 02615 150011003 600109, 21728 


0010910017 2৮0 


065 1099৩ 01090069230. 80126120765 80600 
100100109০1 0909 1916110£ 29০90৮ 90:26 
015010৮ 10620-00916615 200 11105 010 076 
3080৮ হি ৮০ 10 ৮5০5 61908. 48 & 
26069 1016) 60৫5 999067০৫19৩ 80০020- 
10090566 03610056169 6০ 01:0110396210008) 0৮৮ 
0160 71010 200. 55066010615 100১0 01০৩ 200 
2৮) 2, 90012696096 01 80001 16001%60 
হি) 00561012606 006 80152132] 9090৩" 
£০০৮. 9০ 20000) 00: 00682059910] 1) 076 
69008791309, 00980589191 2:00 02096 7110 
06৩৮ 000৫6 %0 6520100000109, 066৮ 
001698 £610619115 00191067 ৮09 00 0361 
90৮ 01 ৮261: 51021520 6৫909000 019099 
৪0 ৪] 21১০৩ 015 06710100900 ০01 
009.0021 1 19199913 0£ 0106. 8/006069006 ০? 
98181569050) ০০060 £618:0019 010০0 1095৩ 
10001591006 12051191) 9৮ 211, 11065 05006005 
€0০ু 05 0801078 (9101 ). ০18 90026 
[0০15 0950 0০৪৮ 193০৮ 199৮ 50210199 প০ 
০115৩, 


ঠা, ১৬২৯ 1 


 গন্থা 


১৯ 


০ যু ০০০১০০১ 


0৫051 10135606 8 010101865 000 00001 
৮০৩ ₹২2০0:৮ (1913-14), 

তাবার্থ_£দেশের সর্ব হিগ্ুভদ্রলোকগণ ইংয়াজী- 
বাঁগলা বিভালয় স্থাপন করতঃ তাছাগেয সস্তানগণের টাকরী 
সংগ্রের উদোস্তে শিক্ষা গ্রামের বিশেষ চেষ্টা ক্সিয়াছেন, 
কিন্ত এই সফল বিস্তালয়ে অপূর্ণাঙ্গ লেখাপড়া তিন 
গন্ত্পপ শিক্ষা মা হওয়া বিষ্তালয়গুলি অনেকস্থলেই 
ছাঞ্জদিগকে এর্লাপ কার্ধোর উপযোগী করি তুলিতে 
পাঞ্ে মাই, যাহা সম্তোষঙ্গলনক বিবেচিত হইতে পারে। 
ব্গদেশে চাকরী এ"ং কার্যে চ,্কবার গথ অনেক 
বাড়িগ্া গিয়াছে; এবং ধদি প্রত্যেক ধুবক যাহী পার্ন 
ভাঙাতেই সম্থষ্ঠ ও ফ্কতজ্ঞ থাকে, তাহা হইলে বাজারে 
অল্প লোকই অলস থাকিয়া যায়। কিন্তু আমরা 
সঝল দিকে সতর্কভাবে অনুসন্ধান লইয়া এই সিদ্ধান্তে 
উপনীত হইয়াছি যে, অনেক যুবক স্কুল বা কলেজে প্রাপ্ত 
শিক্ষার মূলা, সরাতর কর্খকর্তীরা যতদুর মনে, করেম, 


তাহা জপেক্ষা অনেক অধিক মনে করে, এবং ইহাই . 


বর্তঙান অর্থপথন্তার প্রধান কারণ। বিশ্ববিষ্তালয়েয় 
উপাধিধারী বা মধাপরীক্ষা অউতীর্দ ব্যক্তিগণ নগরের 
বাহিয়ে চাকরী গ্রহণ করিতে বড়ই নায়াজ, এবং 
পরিশ্রম ও চার ফলে যে নিদর্শন খরা পূরস্থৃত হইর্াছেম, 
দেই নিদর্শনের অনুপধুক্ত বিষ্েনা করিলে কাধ্যগ্রহণ 
করিতে অস্বীকার করেন এইয়াপে তাহারা সুযোগ 
হাঁরাইয়া ফেলেন, এবং কখন ফখন গাসের পর দাস বা 
বৎসরের পর ধংসর কোন জেলার প্রধান নগরে খুরিয়া 
বেড়ান, এবং তীহারাঁ ধে যৌর্থ পরিধারের অনত্গত 
তাছার উপর দিক্ষাই খর5টা চালাইয়া লন । পীধারণতঃ 
শীষ্বই হউক বিলখেই হউক ইহারা অবস্থীনুক্প কার্যে 
লাগিরা পড়েন, কিন্ত প্রাঙ্ই সেটা নিতীস্ত বিশ্লক্তির 
সঙ্গে এবং সকল অপরাধের জন দায়ী গভর্ণমেন্ট ই 
তাহাদের প্রতি অস্ঠায় ব্যবহার বরধিধাছে এইক্সপ তাব 
দৃঢ়ভাবে পোষণ বরেন। এই হুইল প.শ করাধের 
কথা! যাহারা পাশ করে নাই বা পরীক্ষা পথ্যন্ত পৌছে 
নাই, তাহারাও সাধারণতঃ মনে করে যে তাঁহারা ইংরাজী 


শিখিয়াছে, গ্তরাং, শারীরিক পরিগ্রম আধধ! ইংগেজী 
অনভিজ্ঞ আত্মীয়ের যে বেতনে কাজ করে সেই বেঙন 
ছাড়াইয়! উঠিয়াছে। অবশেষে ইহারা এমন সামান্ 
বেতনের চাফ্রী-প্রহণ করে যাহাতে কোনমতে 
খোরাকীটা চলিয়া যায়” 

বান্তবিকই বিশ্ববিস্তালয়ের উত্তীর্ণ ছঁগ্রগণ এখন 
আপনার্দিগকে যতখানি বড় মনে করেন, দেশের দর্শঞমে 
আর তাহা করেনা। বঙ্ষিমচন্দরের যুগ চলিয়া গিয়াছে, 
বিশ্ববিস্তালয়ে পল্পবশ্তরাছিতা খাড়িগাছে, উত্তীর্ণ ছা্ছ্ের 
সংখ! বিবেচনা কারলে *কাজের লৌক* তেমন 
বাঁড়িতেছে না, অভাব জাগরিত ও উৎপর় হইতেছে, 
দূরীতৃত হইতেছে না। তাহা দুর করিবার, পন্থা 
কোথায়? 

দেশের ইতিহাস ও সামাজিক অবস্থা ভুগিয়! 
যওয়াতেই এই ূর্ণীধায়র উৎপত্তি। অতীতের উপর 
বর্তমানকে প্রতিষ্ঠিত করিতে না পারিলেই নানা বিপদ ও 
অসামঞ্জন্ঠ আসি! অড়ে। যে দেশের পাঠুকাসংগ্কারক 
ছুদিন পরে সমগ্র দেশের কর্তী হইবার জর্শ। ধরে 
পোধণ করিতে পায়ে, গে দেশের ওহগে গা ছাড়িয়া 
দিলে কেধল ভাপিয়াই যাইর্তে হইবে। এদেশের 
পাহৃকা-গংঙ্কারকের পক্ষে দেশের মন্ত্িপদ লাতের আর্শা 
এখনও বহদুর। শ্রমজীবী এখনও এদেশে কেবল 
নির্সশ্রেণীর অর্থোপার্জক নহে, নিযশর়ের জীব ( 
কোনও শিক্ষারতিমানী ব্যক্তি এখনও এদেশে উরে 
সংস্থানের জগ্ভ পাহ্ফা-সংস্কারক বা সুটিয়ার কার্য 
করিতে প্রস্তুত নহে । একজন মুটিয়া মাসে হা ত+ 
৫*২ টাকা উপার্জন করে, ভাই বলিয়া একজন পতদ্র+ 
সম্তান কখনও এদেশে & খর্শে প্রবৃত্ত হইবে নাঁ_ 
দশ টাকার নুষ্থ্রীগিরি পাইলে আপনাকে ফ্তার্থ মনে 
করিবে, অখবা কোথাও গধিকতর সৌতাগ্যশালী 
আর্থীয়ের গলগ্রহ হইয়া! গৌরব অন্থৃতব করিতে থাকবে। 
ইংরেজী শিক্ষা সত্বেও এই ভাবটা এখনও দেশের অস্ছি- 
মজ্জাগত। 

দেশের জল বাধু ও সামাজিক দিয়ম পরিবর্তিত 


5 উপািশিশ্পিন্পাস্পি 


১৭৪ 


মীনসী ও মন্্রবাণী 


[ ১৫শ বধ_-১ম খত-২র লংখ্য 


পিপিপি পি 








না.হইলে কেবল ছপাত1 ইংরেদী পুস্তক মুখস্থ করিয়া 
কেহ পাশ্চত্য মানবে পরিগত হইতে পারে ন|। পাশ্চাত্য 
শিক্ষা হইতে নাৰাবিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান, 'কর্মকুশলত| 
এবং সমালোচনা-শক্তি আমাদিগকে অবশ্বই লইতে 
হইবে। কিন্ত কষণচর্মের যেমন শ্বেত চন্মে পরিণত হওয়া 
সুন্ভব, ভারতবাসীর পক্ষে সম্পূর্ণ ইংরেজ হইয়া ফাওয়াও 
পাইক্ূপ। ... 

. কিন্ত ইংরেজ হইতে না পারিলেই । যে এ মর্ত্য 
জীরৰ বৃথা হুইল, এরূপ মনে করারই ঝা কারণ. কি? 
“সামার এই. দ্েশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি” 
ভাবটা সবের ন! আসিতে.পারে, কিন্তু এটা যে কোনও 
সময়ে একটা দেশের মত দেশ ছিপ, সহ সহত্র বৎসরের 
অভিজ্ঞতায় যে দেশের মানবজীবনের বিকাশ, সে দেশ 
কুমুংন্কার ও. কুশিক্ষার অস্তরাপে প্রচ্ছন্ন থাকিলে যে 
এক্রারে নিন্দনীয় নহে একথা আমরা তুলি কেন? 
শতচেট! করিয়াও আমরা প্রাচ্ভাব ছাড়াইতে পারিনা, 
তবে বাহিরে.এত পাশ্চাত্য ধরণের. অনুসরণ করি কেন? 
ভারতী প্রাচ্যভাব. কি এতই উপেক্ষার বিংয় ? 

আমাদের চতু্বর্ণ হইল-_ধর্শ, অর্থ, কাম ও মোক্ষ। 
অর্থ. ও .কাম্যবস্তর_ দিকে. মানুষের মন. শ্বভাবতঃই 
ধাুমান হয়. সেই ধাবনের বেগ সংযত করতঃ, ধর 


ও মোক্ষ পথের দিকে মানবে. টানিয়। লওয়া চিরকাল, 


এদেশের মুনিধিগণের ব্যবস্থার লক্ষা ছিল। ন্মীন, 


ভোিন, শয়ন, বিষয়ক সকল অবস্থাতেই ধর্্নকে স্মরণ - 
করাইয়| দেওয়ার জন্ত আমাধের দেশে ব্য'স্থার : 
ছড়াছড়ি! অনেকেই এখন এদিকে ততটা মনোযোগ. 
] কিন্ধু এদিকে. 


দেওয়ার অবকাশ পান না বলন।. 
মনোযোগ দিলে যে অর্থচিন্ত। ও কাম্যবস্তর অনুসরণও 
কতকটা .ব্পান্তরিত ভাবে, কতকট| কম উৎকট 
ভাবে, মানুষকে গীড়ন করে, সেটা অস্বীকার করিবার 
যে! নাই। এদেশের গৌরব ত্যাগে, ভোগে নছে। 
এদেশের সমাজের শীর্ষস্থানে দিনাস্তভোজী দিস ব্রা ব্রাহ্মণ, 
ছুগ্ধফেননিভ-শঘ্যাশায়ী শ্রেঠী নছে। আবহমান, কাল 
হইভে এদেশের মাহাত্য বর্নে, বিলাসিতায় নহে। 


দয্লা ও দান সর্ই পুজার জিনিষ, কিন্তু এদেশের প্রাচীন 
আদর্শ তাহার অনেক উপরে। অথচ আমাদের শান্তা" 
হুসারে এদেশ, এ পৃথিবীটাই কর্ণভূমি | 

সেই. আদর্শ আমরা হইস্ায়াছি। হয় ত*- সেরূপ 
ভাবে আর কখনও তাছাকে পাইব নাঁ॥ এ দেশের যে 
বর্ণাশ্রম ধন্থ জীবন-সংগ্রাম কমাইয়! দিয়া, অর্থলিপ্সার 
পথেও কতকট! অবরোধ স্থাপন করিয়াছিল, সেই বর্ণাশ্রম 
ধর্ম ভালই হউক্‌ আর মন্দই হউক. আর ফিরিয়া! আসিবে 
না। ফিরিয়া না আনলেও তাহার আনুসঙ্গিক সামাজিক 
প্রথাগ্ুল আমর! ছাড়িতেছি না। সহজে ছাড়িতেও 
পারিবনা। উচ্চ বর্ণের লোৌক যে পাছুক! সংস্কার অথবা 
সুিয়ার কার্ধ্য করিতে পরব বা অসমর্থ, ইহ! এ বর্ণাশ্রম 
ধর্মেরই আম্ুদঙ্গিক সামাজিক ফগ। 

« এই সামান্দিক প্রথার সহিত যখন আমরা! এতদূর 
ডি তখন যে আদর্শের সংশ্রবে সেই ..সামাজিক 
প্রথার উৎপত্তি, সেই আধর্শটা সময়োপযোগী এআবে 


সন্মথে স্থাপন করিয়া এই “কর্মক্ষেত্রে চঙগিন! €কন+ 


পুর্বে ভূমি অনেক, লোক সংখ অল্প ছিল সত্য, কিন্ত 
দ্রব্য, উৎপন্ধ করিবার. প্রণালীও এতটা আবিষ্কৃত. হয় 
নাই। তখন যদি আমর! বাঁচিস্না থাকিতে পারিতাম- 
তবে এখন. এত কাদি কেন? 

» ভারতবর্ধে”-বাঙ্গাল-_কি নাই টি ধর্মকর্ম ১ 
দেশে জন্মগ্রহণ . করিয়। -বিলাসিতাকেই 'আমরা- জীবনের - 
লক্ষ্য করিতেছি ইহা নিতান্ত স্বণা ও ক্ষোভের বিষয়।, 
বিল্/ফিতার বেগ বমাইহা দিলে যে জীবন সংগ্রাম 
অনেকটা কমিতে পারে ইহা! সর্ববাদিসম্মত। কিন্তু. 
ইহাই যথেষ্ট নহে। দান, ধ্যান এবং উপবাষের পালা 


: আমরা! পূর্বের মত আর আশ! করিতে পারি. না? 


দান এখন নুতন পন্থা অবলম্বন করিয়াছে, ব্যজিগত . 
না হইয়া সাধারণের হিতকর ব্যাপারের দিকে ঝু'কিতেছে। 
ইহাই হয়ত এখনকার সময়োপযোগী । বিলাসিতা 
বর্জন করিয়াও এখন একদল লোক সমাজের অন্ত 
শ্রেণীর স্বন্ধের উপর নির্ভর করিয়া! উদর়ের ব্যবস্থা. 
করিষ্বা লইবার আশ »ডতে পারে না। সকলেরই.. 


ইত; ১৬২৯] 


555 








চস পাপা িস্পপিসিসপিপসপিসপিসিপাসপিসি পপি সপিস্পিউিিসি পাটি তি সপ 


অভাব পুরণ, ই চাই। 

;: এই বাঁছবল দেশে থে নাই তাহ! গিরি 
হা কাপব্যয় হইতেছে। কর্ণকার -ব! স্থত্রধরের পুত্র 
ছপাতা পুথি আগুড়াইয়! হাতুড়ি ত্যাগ ক্ষরিতেছে। 
বৃর-পুঅ তথারস্থ হইয়! মুহুরী বা পিয়ন হইবার জন্ট 
নগরে -ছুঁটিতেছে। ব্রাহ্মণের : শ্ববৃত্তি উঠিয়া যাওয়ার 
সববৃত্ভির “লিগ্স। : স্বাভাবিকই। সুত্রধরের পুব্ধ হইলেই 
যে তাহাকে চিরকাল হাতুড়ি বাটালি লইয়। পাঁকিতো! 
হইবে একথা “আমরা বলিন|!। বর্তমান ধুগধর্ম তাহ, 
চাহে লা।' রথ! হইতেছে লোকের প্রবৃত্তি লইয়া । 
কতকগুলি, জ্োককে যে কামার বা সুত্রধরের কাজ 
করিতেই. হইবে. এবং কিঞ্চিৎ পুঁথি অভ্যাস করিবার 
স্ঙ্গে খী কার্যাট! করিলে যে তাহ! আরও ভাল রকম 
হইতে পারে এই জ্ঞানটাই আমাদের জন্মিতেছে না; 
বেন সকল, বিগ্তার লক্ষ্য এ কেরাণীগিরি, বাহার, 
দির: অন্ত দশ সহজ্ম উমেদার। আমাদের শিক্ষার- 
মধ -অরন্ু যথেষ্ট: দোষ আছে।: জীবন সংগ্রা্ের. 
উপ্নযোগী শিক্ষা এখনও হইতেছে না'। 2এদিকে সাধারণেক্র 
এরং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি পড়িয়াছে। শিক্ষার কিরূপ সংস্কার 
হয় আহা! দেখিবার :ও -জানিবাক নিয়ন বটে। কিন্তু 
ফে- শিক্ষাই: হউক তাহা মানুষকে অধিকতর কর্পটু 
নাঁ করিয়| কর্মের অযোগ্য করিবে কেন?- সামাঞ্জিক 
প্রথার অন্ধ অন্থসরণ, তথাকধিত উচ্চবর্ণের বৃত্তির অন্ধ 
অন্্রমরপই “ইহার প্রধান কারণ বলিয়! মনে হয়। কোন 
কর্ই স্বগার ব্ষিয় নহে, পাশ্চাত্য শিক্ষার এই মূল্যবান 


উপদেশ, আমরা, দেশের সামাঞ্জিক :শাসন ছি ভিন্ন 


না: করিয়া, ষতদুর গ্রহণ করিতে পান! . যার_-তাহ! 
করিল! কেন? আমাদের সাধারণ লোক যথেষ্ট ক" 
সঙ, ছুপাতা পুঁথি পড়িয়াই- আমরা অন্তরূাপ জীব 


হুইয়! পড়ি, যে গ্রাম্য সমাজ আমাদের দেশের বিধি, 


ব্যবস্থার ভিত্তি তাহা ছাড়িয়া,নগরে নগরে -মরীচিকা 
অনন্থবণে প্রহৃথ হই। ইহ! হইতেই 'জীবন সংগ্রাম 
ভীষণ 'হইতে ভীষগ্তর ভাঁব ধাঁযণ করিতেছে। গ্রামের 





পপািস্পি্পিক্পাসিটি পাটি স্পাি আাসাশিটিপািপিসসসিস্িস্ি পসিশাশশিপশিশশাশ্পিস্পাশিী পাসিপিরপাস্পিটশি সিইসি 


জল, গ্রামের মাটা যদি পূর্বে আমাদের শরীর পোঁধণ 
করিতে পারিত, তবে এখন তাঁহা পারে নাংকেন? ডাল; 
ভাঁত, মাছ, ছুধ, ইহার সকলটারই জন্মস্থান মফংশ্বলে? 
জন্মস্থান নগ্ন কেবল বিলাসিতার। অবশ্ত এখন গ্রামস্তলি 
ম্যালেরিয়ারও জন্মস্থান হইয়| পড়িয়াছে, কিন্ত ইছরি 
দিকারণ আমাদের হাতে। আমরা গ্রামে বাদ করিলে 
ও সশস্ত্র হইলে ম্যালেরিয়া কখনও আমাদের হস্ত হইতে 
আত্মরক্ষা! করিতে পারে না1 আমরা নগরে" আসিয়া 
গ্রামকে জঙ্গলে পরিণত করিব, আর «দেশ* বাঁসেক্' 
যোগ্য বলিয়! চীৎকার করিব, ইহাতো ঠিক “দেশ”এর 
উপর সুবিচার করা হইল না! 
- এদেশের কৃষিশির চিরকাল পরিবারগত | বিলাতী 
ভাবে সুদীর্ঘ কৃষিক্ষেত্রের চাষ এখনও এদেশে আরব্ধ 
হয় নই বলিলেই চলে। বিলাতী ধরণে.কার্খানা- কত 
কতক চলিতেছে । কিন্তু পরিঘারগত শিল্প কি উন্নত; 
অভিনব প্রণালীতে -জাগরিত হইয়া! কারখানার সহিত: 
প্রতিষোগিতা করিবার: চেষ্টা করিয়াছে? পরিরারগত : 
শিল্প মানুষের মন্ুঘ্যত্ব যতটা! রক্ষা করে, কারখানা 
ততদৃর নহে? বড় কারখানার উপকা ্সিতা) উপযোগ্সিতা 
অনেক আছে, নগরে বাসও অনেক, সময়ে অনেধা 
কারণে গাবশ্কক, কিন্ত সধলের পক্ষে বাসকল সময়ে 
তা আবস্াক নহে। পরিষারগত শিল্প ধা ক্ু্র কারখান। 
বড় কারখানার সহিত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে -দাড়ীইতে - 
পারিলে গ্রাম্য সমাজের ও দেশের 'ধে উপকার “হয় 
তাহা বর্ণনাতীত। কেরাপীগিরি বা পি্ননগিরির পরিবর্তে : 
এই দিকে কি দেশের লোকের প্রবৃত্তি ধাঁইবে না? আমর! ' 
পুরাতন ভিত্তির উপরে নৃতন প্রণালীতে সাস্ত স্বাস্থ" 
মণ্ডিত, হান্তমুখর কৃষিশিল্প যুক্ত গ্রাম্য সদাগ দেখিতে ১ 
চাই। পন্থা এই দিকে। 
আলাদের করি প্বাধু উক্কাপাত, বজশিখা” ধরিয়া 
স্বকার্ধয সাধনে প্রবৃত্ত হইবার উপদেশ দিয়াছেন । বস 
শিখাকে যে মানুষ কতদুর -কাঁজে লাগাইতে পারে 
কবি তাহ! জানিতেন -না। অবস্ত- ব্রশিখার দাঁসত্বটা ' 
নগরের মধ্যেই এখনও ভালরূপ চ'লতেছে, কিন্ত একটু 


১৫২ 


ধ্ানসী ও মন্খ্ববানী 


| ১৫শ বধ-১ম খও--২য় সংখ্যা 





লি পিসি সপন পি, সিসি সতত পিসি সি তি সিসপাসিপি পিসাসিসিসিিস্পিশটিশি শিস্পিভাাপিনপাপাসপিপিসসপিস্পিসিস্টিস্ট সিসি স্িস্পিপিস্টিস্টি সপািসপাস্পিপিসপা সি পিসি 


চেষ্টা কন্ধিলেও সমবেত 5 ভাবে কার্য করিলে ভাহাকে 
গ্রাহের যধ্যেও যে খাটান যায় ইহা নিশ্চিত। আর 
বায? নগর অপেক্ষা! গ্রামেই তাহায চলাচলট! বেশী, 
সুতরাং - যুবকগণ বাস্তবিক শিক্ষত হইলে তাহাকে 
গ্রামের মধ্যে ভালরূপই খাটাইয়া লইতে পারেন। 
উদ্ধাপাত সন্বন্ধে কোন” মগ্তব্য গ্রকাশ “করিতে 
পারিলাম ন1। 

.. খআবন্তক হইতেছে প্রবৃত্তি, চেষ্টা ও উদ্ভম। হা 
ফি আসিবে না? আমাদের যুৰকগণ বুদ্মত্বার হের 
নহেন। ভ্রান্তি সকলেরই হইতে পারে, সময় থাকিতে 
তাহা সারিয়া লওয়াই মনুষ্যত্বের কার্য । একটা মোটা 
কখ। বলিতেছি। বিশুদ্ধ গোছুদ্ধ শুধু নগরে নয়, অনেক 
পল্লীপ্রামেও ছশ্বাপ্য হইয়। পড়িয়াছে। আমাদের দেশ ক 
এন্তই নিঃসম্বল বে আমরা ছৃগ্ধের জন্ত এই কৃষিসম্পন্ন 
পূর্ণ দেশে হুইজালগ্ডের মুখাপেক্ষী "হইয়া থাকিব? 
সমুজ্র পার হইতে আগত টিনের কৌটার ছধ আমাদের 
ছেলেপিলের জীবন রক্ষা করিবে এবং আমাদের 
বুবকগণের চ| পানের ব্যবস্থা করিবে ইহা! মনে করিলেও 
শরীর অবসর হব! গোচারণের ভূমি বাঙলার অল্প 
আছে সত্য, কিক এখনও এমন ব্যবস্থা কর! বাইতে 
পায়ে যাহাতে ঘেশে ছধ ঘি ও মাখন জাবন্ঠক মত 
প্রপ্তত হইতে পারে। ইউরোপের বহছুদেশেই কৃষি 
সঙ্গিতি আছে। জানাদের শিক্ষিত যুবকগণের অধিকাংশেরই 
"দেশে" অল্প বিস্তর জমী আছে। তীছারা কি নিজ 
গ্রা্ে চেষ্টা করিয়া! সমিতি স্থাপন পূর্বক কৃষির উন্নতি 
ও আনুসঙ্গিক রূপে কহিজাত ভ্রব্য হইতে উন্নত প্রণাগীতে 
অস্ত ভ্রব্য উৎপাদনের ব্যবস্থা করিতে পারেন না? 
ম্খেন্‌ দেশে ঘে পরিমাণ জনীতে বতট। ধান্ত জঙ্ে, 
ভারতের স্তার উর্বর দেশে সেই পরিষাণ জমীভে তাহার 
এক পঞ্চদাংশ মাত্র জঙ্মে; এলজ্জ! (ক রাখিবার স্থান 
আছে? জাপান, ডেন্যার্ক, ইটালী গ্রহৃতি দেশ £ই 
ক্কবিজীবী দেশ অপেক্ষা কৃষিকার্ধ্যে জনেক উন্নত; 
এ কলঙ্ক মোচন করিঝাঁর কোনও চেষ্টা আমরা করিব 
ন|, অথচ সামন্ত চাকতীর জন্ত বাসস্থান পরিতাগ 





্পাপাস্পিসপিস্পিসিস্পি্পিস্িতি 


করিয়া নগরে নগরে তুক্ধিব ও অক্তকে বিশ্রভ নর্ 
তুলিব এই কি প1শ্চাত্য শিক্ষা? 

পাশ্চাত্য সত্যতার সংশ্রবে আমর! অনেক জিনিষের 
অভাব অন্তব করিতে শিখিয়াছি। তাহার সকলগুলিই 
আবন্তক নহে। যাহার অবস্থায় কুলার না সে ফেন 
এই অনাবন্তক অতাব পুরণ করিতে আবতক বোর 
অভাব জন্মাইয়া আপনার ও জাত্মপরিবাবের স্বাস্থ ও 
স্থখ নষ্ট করে তাহ! বুঝিয়! উঠা! কঠিন। পেটে ছবেলা 
তাত যোঁটে না কিন্তু মুখে সিগারেট পায়ে বুট ও কণ্ঠে 
চা টাই__এ কি রকম বিকৃতি ?--দেশের প্রাঠীন ত্যতান্ন 
আত্মাটা হারাইয়া ফেলিয়াছি কিন্তু খোলসট! ছাড়িতে 
পারিতেছি না। আবার ইউরোপের শ্বাবলগ্থন, ইউরোপের 
কর্শপ্রীণতা গ্রহণ করিবার ক্ষত] নাই, কিন্তু ইউরোপের 
বিলাসিতা গ্রাস করিয়া! বসিয়াছে--এই হইয়াছে" 
অধিকাংশের অবস্থা । এমন দিন ছিল খন বাঙলার 
শ্রামগুলি অন্তের নিরপেক্ষ তাবে নিজেদের অতাব 
নিজেরাই মোচন করিত। বর্তমান যুগে অভাব অনেক 
বেশী, কাধ্যক্ষেত্র অ.নক বিস্ৃত ও বিভক্ত; সুতরাং: 
তাহা হইতে পারে না) কিন্তু উৎপন্ন দ্রব্যের অনেক 
উন্নতি হইতে পারে, পরিমাণও অনেক বাড়িতে পারে? 
যদি বর্তদান যুগের বিজ্ঞানচ্চায় ফলই গ্রহণ ন 
করিলাম, তবে পাশ্চাত্যশিক্ষার চোখমুখ ফুটিয়া কি 
হইল? এমন সব লোকও আছেন ধাহার|! নগয়ে 
চাকরী করিয়া কোনরপে প্রাসাচ্ছাদন নির্বাহ ও সামর্ধ্য 
মহ থিয়েটার ও বারক্কোপ দেখিয়া জীবন সার্থক 
করিতেছেন, কিন্তু গ্রামে বা “দেশে” যে কিঞিৎ ভূ 
সম্পত্তি আছে তাহার খবর পর্ধ্যন্ত রাখেন নাঁ। কালেক.- 
টারী নাধজারি সেরেন্তার জরীঙা্ণা হইলে এই গ্রাম্য 
উৎপাতটুকু ছাড়িয়া হেখজার অন্ত বাগ্র হইয়া উঠেদ? 
অক্পসহন্তা ইহাতে তীব হইতে তীব্রতর না হইবায় কথা 
কি? 

শ্রীম বর্জান ও নগরের পুরিতে এক শ্রমজীঘি- 
সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হয় যাহার! নিজের ও অন্তের জীবদ 
ক্রমশঃ দুঃসহ করিয়া ফেলে। বাঙ্গালার আর্থিক 


চৈত্র, ১৩২৯] 


পন্থা 


১৩ 








জীবনের ধারা ঠিক সেইদিকে'বছিতেছে না সত্য--বড় বড় 
কলকারখানার শ্রমজীবী জ্ধিকাংশই বাঙ্কালার বাহিরের 
লোক, কিন্তু তথাকথিত শিক্ষা প্রাপ্ত যুবকগণ এইদিকে 
দেশটাকে আনিতে বথাসাধ্য চেষ্টা করিতেছেন । তাহাদের 
অবলদ্ষিত পন্থ৷ ঠিক হইভেছে ন1। তাহারা পৎত্রাস্ত 
এই সোগার দেশটাকে মাটি করিতেছেন। প্রকৃত পন্থা 
আহ্য সমাজের সমকেত সাহায্যে ব্যক্তিগত উদ্যমে কৃষি 
ও শিল্পের উত্নতি। ইক্ষু হইতে রস নির্গমনের কল 
এক্ষণে অনেক গামেই দেখিতে পাওয়। থয; ইহা ইক্ষু 
ক্ষেত্রের অধিকারিগণের সমবেত চেষ্টার ফল, অথচ 


স্পা পিস্পিস্পিস্পিসপাসপিন্পিশিসা শা শি 


পা পিপি পিস্পিস্পি্পিস্পিসপসি ১ পসপিস্পিশিস্পিপিপাসিস্পিসিসিস্পিসি সিশিপাস্পিসপা সপাস্পাসপি শশিত 


তাহারা পৃথক পৃথক ভাবে আপন আপন রস বাহির 
করি়্া লয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অক্ষু্র রাঁধিয়া, বৈজ্ঞা- 
নি প্রপালীতে কৃষি শিল্পের উন্নতি কতকটা এই ভাবেই 
হইতে পারে। হয়ত' এতটা! সহজে নয়; কিন্তু চেষ্ট! ও 
উত্তম থাকিলে হতাশ হুইবার কারণ নাই। ধাহারা এই 
ভাবে ত্যাগ ও তোগনীতির সমস্থ করিয়। গ্রাম সমান 
পুনগঠনের চেষ্ঠা করিবেন, তাহারাই, বর্তমান অবস্থায় 
দেশের প্রকৃত হিতৈষী, তাহারাই এই হতভাগ্য দেশে 
জীবনরক্ষার পথপ্রদর্শক | 
আৰিশ্বেশ্বর ভন্টচারযয 


বৰসন্ত-শেষে . ৮৮৪ 


এলোনা! বসস্ত এবার বলছ তুমি কেমন করে? . 
কোথার তুমি ছিলে, আহা, ছিলে তুমি কিসের ঘোরে ? 
 চিরটাকাল যেমন আসে তেম্নি করেই সে যে এল, 
দ্বারে ঘারে শিঙাঁর ফু'য়ে তেমনি করেই ডেকে গেল। 
তেম্নি রভীন পত্রে পত্রে রটলে! তাহার নিমন্ত্রণ, 
তেম্নি মুখর করল ভূবন কুপ্তবনের গুঞরণ। 
কুহস্বরের শাণিত শর ম্মরের সুরের শাসনে । : 
তেম্নি করেই ছুটলো! যেগো৷ বিধলো তরুণ প্রাণে মনে। 
তেমনি বরণ সেই আয়ো গন তেম্নি মদের মহোৎসব, 
সেই তূষাঁবেশ তেম্ি আবেশ তেম্সি হাঁসির কলরব, 
বর্ষে বর্ষে যুগে যুগে যেমনটি হয় তেম্নি হলো, 
এলোন! বসম্ত এবার হায়রে কেমন করে' বলো! ? 


& দেখন। হোনীর রঙে লাল হয়েছে পথের ধুলি, 
এখনো & আবিরমাঝঃ কুগ্ধশালার দোল্নাগচতি। 

. খু দেখন! পলাশবাঞে শুকুনে, কুন্ধষ রাশি রাশি, 
এখনে! & নভাবধূর, ঠোঁটের কোণে জাগছে হামি। 
দেখ দেখি, পাঁখীর পানক ছিশ কি আর এম্‌নি চারু? 
এম্‌নি চিকণ পেশন. পে্সৰ ছিল কি আর. ও জেবদারু ? 
ছথারে বারে হলছে হের শুকনো রাজ, সুকুলমাল/, 
প্রদীপশিখার রেখাফি ত চুলছে, তুম নাটিশোলা. । 


তরুণ এবং তরুণীদের ডাগর চোখে যাচ্ছে দেখা, 
মধুনিশার জাগর-বাথা একে গেছে কাজলরেখা | : 
যেমন করে আসে সে গো তেম্নি করেই এসেছিল, 
অভীষ্ট সে যাদের, তারা আড়ম্বরেই বরে” নিল। 
মদধারায় মাতলে! করী, শিল্পীরা তার কলে! ছবি, 
ছুললে! তরী, উড়লে! পরী, গাইল প্রেমে প্রেমিককবি। 
মহোত্সৰে মাতলো তার! জাগলে! তার! দ্যোতঙগানিশা, 
একই পাত্রে প্রিগ্নার সাথে মধুপ মিটাইল তৃষা । 

কাজে দিয়ে জলাগ্রলি জুটলো৷ সবাই কুপ্রবনে, 

গাইল তারা নাচণে। তার! নৃপুর-খর সঞ্চরণে। 

রঙ বেরঙে বসস্তেরে তৃত সাজালে সবাই মিলে, 
কোথায় তুমি বুগাচ্ছিলে? কিসের মোহে কোথায় ছিলে? 


জাবণ্যে যার পড়লে! ভ'1ট1, তারুণ্য ধার অপগন্ত, . 
রসের নিঝর গুকাল যার, জীবন যাহার ভাব্রের মত, 
চোকঢাকা যে কলুর বলদ সংসারেরি ঘূর্ণাপাকে, 
অনাভাৰে দৈন্তজ্ধ/লাঙ্ক জীবন যাহার জগতে থাকে, 
সথার্যমোহে মুস্ধ যেন, বন্ধ যেন বিমন্ধ পাশে 
তাদের ফাগুন আসেনাক-_ মাঘের পরেই বোশেখ আসে 
বসস্ত তার এসেছিল বসন্ত যার প্রেমের গরু 

. কোথায় পাবে সে, ফার প্রাণে মেরুর পরেই মরুর নুরু 

শ্রীকালিদান রায় । 


৮1 


ছানসী ও মর্দ্দবানী 


[ ১৫শ বর্-_-১ম খণ্ড--ংয় সংখ্যা 





একটি দিন 


(ভ্রমণ) 


সেদিন রবিবার--৩*শে জুলাই-কি জানি, কি 
একটা অজানা! বিষাদে আমার হৃদয় ভরিয়াছিল।' কিছুই 
ভাল লাগিতেছিল না। 
- শ্রর্বদিন হইতে কোনও হিসুস্থানী পার্কোপলক্ষে আমা- 
দের বালিকা-বিস্ভানয় তিন দিনের জন্ত বন্ধ হই়াছে। 
কাষের তাড়া নাই; অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়া 
বাটিয়াছেন। কিন্তু আমার পক্ষে কাষ ব্যতীত অলস ভাবে 
বর্ধার সুদীর্ঘ দিন কাটাইতে অত্যন্ত কষ্ট হইতেছিল 
অথচ প্রতিকারের কোন উপায় ছিল ন!। 

বৈকালে একজন সাক্ষাৎ করিতে আসিয়া! আমাকে 
বিষনতার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি নীরব 
রহিলাম। তিনি হয়ত ভাবিলেন। দীর্ঘ গ্রীম্মাবকাশের 
পর সবে মাত্র সেছিন বাড়ী ছাড়িয়া আসায় মনটা 
খারাপ হইয়াছে। আমি সকলের সঙ্গে বেড়াইতে না 
গিয়া, বোডিংএ একা! চুপচাঁপ বসিয়া থাকি বলিয্া তিনি 
অনেক তিরস্কার করিলেন। ৃ 

তাহার তিরস্কারে হঠাৎ খেয়াল হইল, কেন এ 
ছুটিতে বহুদিনের আকাক্ষিত বিদ্ধযাচল বেড়াইয়। আসি 
না! তাহাকে আমার খেয়ালের কথ! বলিলাম। তিনি 
প্রথমে বিশ্বয় গ্রকাশ করিলেন) পরে আমার শরীরের 
পক্ষে বিস্ক্যাটল যাওয়া কোন মতেই সম্ভবপর হইতে 
পারে "না এবং আমি যেন সম্প্রতি তথায় বাই 
ছুঃলাইসের পরিচয় না! দিই এইরূপ উপদেশ দিলেন 1 তবে 
বিদ্ধ্যাচলের জনেক গল্প বলিলেন। তাহার গল্পে বিশ্কা- 
চলের' প্রতি আমার আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাইল) 
আমি তথায় যাইবার প্রলোভন ত্যাগ করিতে পারিলাম 
ঈা( মনে মনে দূ সংকল্প করিলাম বত শীগ্জ পারি 
ভাল সঙ্গী যুটাইয়া ঘাইবই। 
' ধিনি দেখা করিতে আসিগীছিলেন তিনি চলিয়া 


'গেলে, আমার সংকল্পের কথা বোডিংএ একজন শিক্ষরিত্রীর 
নিট বলিলাম। তিনি আমার সঙ্গে পরদিন বাইত 
স্বীকৃত 'ইইলেন। আমার মঙ্লটা আনন্দিত হইর্ল। 
'পরে আরও অনেক শিক্ষত্বিত্রীই সম্মত হইঙৌ্। + - 
কামরা রাত্রি এগাঁরটা পর্যন্ত সমস্ত বন্দোবস্ত করিয়া 
শয়ম করিতে গেলাম। অভি প্রত্যুধে " ট্রেণ-কথা 
রহিল, ধাহার নিদ্রা! পূর্ব ভাঙ্গিবে তিনি অপর সকলকে 


উজাগহিয়! দিবেন । 


সমস্ত রাত্রি আমার নিদ্রা হইল না । গভীর রাত্রে 
মে গর্নর সঙ্গে ভীষণ বারি-ব্ষণ আরম্ত হইল। 
আমার সমস্ত উৎদাহ চলিয়া গেল। ভাবিলাম, হায় ! 
এত 'আকাক্ষা এত আয়োজন সব পণ্ড হইতে চলিল! 
একাগ্র চিত্তে তুগবানকে ডাকিতে লাগিলাম। আমার 
প্রার্থনায় বুঝি বা তাহার আসন টলিল। 
ঘড়িতে টং টং. করিয়া চারি! বাঁজিল। তখনও 
আকাশ কালো মেঘে ছাইয়। রহিযাছে। ,একজন অতি 
সন্তর্পণে আসিয়। আমার শহ্য প্রান্তে উপ হইলেন। 
বুঝিতে পারিলাম, আমার ত্যান্ তিনিও বিদ্ধাচিল 
যাইবার জন্য ব্যস্ত-_কাষেই, আমি নিদ্রিত কি জাগরিত 
দেখিতে আগিয়াছেন। ৃ 
আমি শহ্যা ত্যাগ করিয়া মুক্ত বাঠারনে গিয়া 
স্বীড়াইলাম। কিয়ৎক্ষণ প্রস্কৃতিয এ গম্ভীর মৃত্তির দিকে 
চাহিয়া রছিলাম। সুজলা সুফল! বাংলার কর্ত কথাই স্মৃতি- 
পথে উদ্দিত হইতে লাগিল । বারবার মনে পড়িতে লাগিল । 
' "আবার এসেছে আবাঢ় আকাঁগ ছেয়ে 
“আসে-বৃষ্ির স্থবাস বাতাঁন বেয়ে 
খ্রই পুরাতম হৃদয় আমার আজি," 
পুলকে ছুলিয়৷ উঠিছে আবার বাজি । - 
নৃতন মেঘের ধত্রিমার পানে চেয়ে 1, 


চৈত্র, ১৩২৯] 


একটি দিম 


১৯৫ 








রি পা পাশপিশাল্পাি পিস প্পি্পািশাসি স্পস্ট শশী 


নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করিয়া নিরাশাব্যপ্রক স্বরে তিনি আমার 
ডাকিলেন। আমি বাহির হইতে দৃষ্টি ফিরাইয়৷ লইয়] 
তাহার মুখপানে চাহিলাম। কহিলাম, "এখনও যথেষ্ট 
সময় আছে-_হয়ত আকাশ পরিষষার হয়ে যাবে।” 

ক্রমে ক্রমে সকলেই শধ্যা ত্যাগ করিলেন বটে, কিন্ত 
আঁকাঁশের দিকে চাহিয়া কেহই যাইতে সম্মত হইলেন 
না। আমার উৎসাহ তখনও অটল। যাহা হউক অনেক, 
পরামর্শের পর যাওয়া স্থির হইল। 

প্রায় পীচটা বাজে--মামি তাড়াতাড়ি গান সারিয়া 
ঘর হইতে বাছির হইবার কালে, মাথা ঘুরিয়া চৌকাটে 
পড়িরা গেলাম। বাম পায়ে যথেষ্ট আঘাত পাইলাম। 
একস্বানে খানিকট। কাটিয়া গর্ত হইয়া! গেল। তখন 
আমার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নাই__কয়েক মিনিট মধ্যেই 
যাত্রার জন্ত প্রস্তত হইয়া বাহিরে আসিলাম। প্রথমেই 
একটা বাধা পাওয়ায় মন্ট। একটু খারাপ হইয়া রহিল। 
কাহাকেও কোন কথা বলিলাম না। ৃ 

ংলার সম্মুথেই বালিকা] বিস্তালয়ের ”$” গাড়ী 

প্রস্তুত ছিল। সিদ্ধিদাতাঁ গণেশের নাম শ্মরণ করিয়! 
উহাতে চড়য়! বসিলাম। আমর! যখন ষ্টেশনে পৌছাই- 
লাম তখন ভোরের আলে! দেখ! দিয়াছে। 

প্রাটফরমে প্যাসেঞ্জার ট্রেণখান! দীড়াইয়াই ছিল। 


টিকেট কিনিয়। উহাতে আরোহণ করিলাম। গাড়ীখানা! 


যথাসময়ে ধীরে ধীরে আপনার গন্তব্য পথে যাত্রা 
করিল। আমি জানালা হইতে সুখ বাড়াইয়! তৃণাচ্ছিত 
স্তামল ক্ষেত্রের দিকে চাহিয়! একমনে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য- 
স্থধা পান করিতে লাগিলাম। কখন্‌ যে সাড়ে নয়টা 
বাঝিয়াছে সে হিসাব আমার ছিল না, হঠাৎ গাড়ী থাম র় 
আমার একটু আশ্চর্য্য বোধ করিলাম। চাহিয়! দেখিলাম 
বিদ্ধ্যাচল। হৃদয়ে অনির্ব্চনীয় আনন্দ উপভোগ করিয়] 
সকলের সহিত &্শনে নামিয়! পড়িলাম। 

. কোথায় আশ্রয় লওয়া যায় তাহাই এক্ষণে চিন্তার 
বিষয় হইল। আমি একজন পাণও্ীর নাম জানিতাম ) 
তাহার সন্ধান লইতে চাহিলে ছই একদন আপত্তি 
প্রকাশ করিলেন। কারণ, পাণ্ডা যে শয়াবহ জীব 

৯৪--২ 


পি ৯০৯ পানি ১০০ উিপ্াসপ সি্পশি পিপপাসিসিরসিপস্পি ০ টি ও 


২ শ্শশিস্পিপি পিসি 





পাপন 


তাহাতে কেহ সহজে তাহার সংস্পর্শে আসিতে চাহে না। 

অগত্যা কোন উপায় ন! দেখিয়া, অর্ধঘণ্টা পরে 
পাপ্ডার সন্ধান লওয়াই স্থির হইল। ্টেশনের ব'হিরে 
একদল পাও তর্ক বিতর্ক করিতেছিল; তাহাদের নিকট 
গিয্া! জিজ্ঞাসা কর! হইল, “ইশ্বর পাণ্ড কে বলিতে 
পার?” দল হইতে প্নস্ত উচু* এক পাণ্ডা বাছির 
হইয়। বলিল, “আমি ঈশ্বর পাণ্ডার লোক; চল, 
তোমাদের তাঁহার বাটীতে লইয়া যাইডেছি।* তাহার 
চেহারা দেখিয়াই আমাদের ভক্তি উড়িয়া গেল। কিন্তু 
একাস্ত অনিচ্ছা সত্বেও তাহার সঙ্গে যাইতে বাধ্য 
হইলাম। 

দে আমাদিগকে কোথায় লইন্কা যাইতেছে কিছুই 
বোঝা যাইতেছিপ না জিজ্ঞাসা কর! সত্বেও পরিষ্কার 
ভাবে *কোন কথার উত্তর দ্িতেছিল না। কেবলই 
অনস্ত পথে চলিয়াছে। সে অনস্ত পথের অবসাঁনও 
হয় ন! এবং ঈশ্বর পাওার বাড়ীও নিলে না। 

তাহার ব্যবহারে আমাদের অত্যন্ত বিরক্তি বোধ 
হইল। আমরা তাহার লহিত আর একপদও অগ্রসর 
হইতে চাহিলাম না। সেকি এত সহজে ছাড়িতে 
চান? অনেক উপদেশ দিতে আরস্ত, করিল। তখন 
একজনের মাথায় একটা উপস্থিত বুদ্ধ আসিল। তিনি 
চীৎকার করিয়া বলিয়৷ উঠিলেন, "তুমি যে আমাদের 
ঈশ্বর পাগ্ডার বাড়ী নিয়ে যাচ্ছ, আমরা! কিন্ত 'ইশাহী” 
তা জান তো।” 

আমা'দিগের বেশভূষা! দেখিয়! “ঈশাহি* অর্থাৎ থৃষ্ঠান 
মনে কর! আশ্চর্য্য ছিল না। তাহার ছাতে ছিল একটা 
জলের কুঁদ1_সে তৎক্ষণাৎ উহা সেইখানেই ফেলিয়া 
দিয়া, “রাম রাম* বলিতে বলিতে একেবারে চম্পট । 
একবার পশ্চাতে ফিরিয়াও চাঁছিল না। 

অদূরে একটা পিপুল বৃক্ষ ছিল, তাহার তলায় 
কযেক খণ্ড প্রস্তর সজ্জিত হিল। আমরা তথান্ন 
উপবেশন করিয়া বিশ্রাম করিতে লাগিরাম। স্থির 
হইল বৃক্ষতলে রান্না করি! আহারাদি করা হইবে, 
পরে সহরের যবতীয় দর্শনীয় বন্ধ দেখিতে বাহির হওয়া 


২৩৬ 


যাইবে। বর্ধাকাল--কখন্‌ আচাম্বতে বৃষ্টি আরস্ত হয় 
বরা যায় ন1। সুতরাং পুনরায় সিদ্ধান্ত হইল, আমাধিগের 
ইচ্ছা কার্যে পরিপত হইতে পারে না। | 
সঙ্গীদিগের মধ্যে একজনের কোনও আত্মীয় 
চিকিৎস! ব্যবসা হইতে অবসর গ্রহণ করিফ্া এস্থানে 
শাস্তিতে জীবন যাপন করিতেছেন। তাহার £গৃছে 
আশ্রয় লওয়ার কথা হইল। বৃক্ষতল লইতে উঠিয়া 
পথে পথে ড:ক্তার বাবুর বাটীর সন্ধান করিতে লাগিলাম। 
কিন্ত কোনও সন্ধান মিলিল না। আরও কিয়দ,র গমন 
করিবার পর দুই তিনটা হিনুস্থানী স্ত্রীলোকের সাক্ষাৎ 
পাওয়া গেল। তাহারা গঙ্গাক্নান করিয়া গৃহে চলিয়াছে। 
আমাদিগকে কোনও নূতন জীব বিবেচনা করিয়া বে'ধ 
হয় তাহারা একটু বিস্মিত হইয়াছিল। একজন অগ্রসর 
হইয়া, আমরা কোথায় যাইব জিজ্ঞাস! করিল। আমর! 
তাহাকে ডাক্তার বাবুর বাটার সন্ধান জিজ্ঞানা! করিলাম। 
সে সম্ুথস্থ একখানি ছোট দ্বিতল বাটার দিকে অঙ্গুলি 
নির্দেশ করিয়া ডাক্তার বাবুর বাটা দেোইয়া দিয়া 
অন্ত পথে চলিয়া গেল। আমরা অকুলে যেন কুল 
পাইল'ম। একটি বালক বাটার সম্মুখে রাস্তায় দড়াইয়া 
ছিল। আমাদিগকে দেখিতে পাইয়। ছুটয়া কাছে আসিফ! 
আলাপ করিল এবং সঙ্গে লইয়া! দ্রিতলের বারান্দায় 
উপস্থিত হইল। সেস্থানে বাটার কেহ উপস্থিত ছিলেন 
না। সে গৃহ মধ্যে প্রবেশ করিয়া অনেক কষ্টে একজন 
সত্রীলোককে আমাদিগের নিকট লইয়! আদিল স্ত্রীলোকটি 
আমাদিগকে দেখিয়া! এরূপ হতবুদ্ধি হইলেন যে, কয়েক 
মিনিট পর্যন্ত তাহার বাক্যস্ফরণ হইল লা। পরে 
বোধ হয় লুপ্ত জ্ঞান ফিরিয়া আ'সলে আমাদিগের পরিচয় 
জানিতে চাহিলেন। তাহাকে সমন্ত:বৃত্াস্ত বলা হইলে 
তিনি বুঝাইয়া দিলেন যে আমরা ডাক্তার বাবুর বাটা 
ভ্রমে জনৈক কবিরাজ মহাশয়ের বাটীতে প্রবেশ 
করিয়াছি। তাহার মুখের ভঙ্গিমায় আর দ্বিরুক্তি ন1 
করিয়। তথা হইতে প্রস্থান করিলাম। 
_ তখন বেলা বারোট! বাজিতে চলিয়াছে, ক্ষুধা তৃষ্তায় 
সকলেরই কষ্ট হইতেছে। আবার পথে নামিয়! পরামর্শ 


মানসী ও মন্ধ্মবাণী 


] ১৫শ বধ ১ম খধ--২য় সংখ্যা 


করিতে লাগিলাম, এখন কি করা যায়। এক বাঙ্গালী 
পরিবার যেরূপ অতিথি সৎকার করিলেন, তাহাতে আর 
ঘ্বিতীয়বার অন্ত কোন বাঙ্গালী পরিবারের মধ্যে প্রবেশ 
করিতে প্রবৃত্তি রহিল না। 

আমাদিগের সঙ্গে একজন দরওয়ানকে আন! 
হইয়াছিল। যদিও মে অনেকবার এন্থানে তীর্থ করিতে 
আসিয়াছে, তথাপি এতক্ষণ কোন কথাই বলে নাই। 
বোধ হয় এইবার নরব থাকা আর যুক্তিযুক্ত বিবেচনা 
কন্িল না। সে একরূপ জোর করিয়াই তাহার পরিচিত 
অন্ত এক বাঙ্গালী বাবুর গৃহাভিমুখে আমাদিগকে লঙ্গে 
লইয়া যাত্রা করিল। আমরা যাইতে আপত্বি প্রকাশ 
করিলে কহিল, সে বাবুর &ঁ গৃহে অতিথি হইয়াছে 
এবং গৃহশ্বামী তাহাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন। কয়েক 
মিনিট মধোই আমর! তাহার অভীষ্ট গৃহে উপস্থত 
হইলাম। কিন্তু প্রথমতঃ উহা কোন বাঙ্গালী বাবুর 
বাটী বলিয়া! বিশ্বাস হইতেছিল না। কারণ, উহা! 
সম্পূর্ণ হিন্দুস্থানী ধরণে প্রস্তত। বাঙ্গালী বাবুর নাম 
কগিয়া হয়ত কোন পাগডার বাড়ী লইয়া আসিম্বাছে 
ভাবিয়া! বিরুক্তিও প্রকাশ করিতেছিলাম। 

অ্লক্ষণ মধ্যেই আমাদিগের সন্দেহ দূর হইল। 
কয়েকদিন পূর্বে বিবাহো লক্ষে গৃহস্বামী পরিবার সহ 
কলিকাতা! চলিয়া গিয়াছেন-_গৃহের তত্বাবধানে রাখিয়। 
গিয়াছেন ছইজন দাস দাসী। তাহারা আমাদিগকে 
সসন্রমে অভ্যর্থনা করিল। এন্প অভ্যর্থনা করিতে বোধ 
হয় ভদ্রনামধারী অনেক শিক্ষিত পরিবারও জানেন না। 

গৃছের বারান্দায় জিনিষাঁদি নামান হইল। দরওয়ান 
পাচকের কার্ধ্যে নিযুক্ত হইল। আমর! চা পান করিয়া 
বিশ্রীম করিতে লাগিলাম। অনতিদুরে ভাগীরথী 
কুলু কুলু রবে বহি যাইতেছেন। আমরা গঙ্গন্নানের 
প্রলোভন ত্যাগ করিতে পারিলাম না। অপরিচিত 
স্থানে জিনিষাদি রাখিয়া সকলের একত্র যাওয়। উচিত 
নহে বিবেচনায় ছইগন গৃহে রহিলেন এবং আমর! 
পরিচারিকাকে পথ দেখাইয়। দিবার নিমিত্ত সঙ্গে লইয়া 
চলিলাম। একটা রাস্তা মোড়ে আসিগ মে কহিগ, 


চৈত্র, ১৩২৯ ] 


একটি দিন 


১০৭ 








পাপা পাস্পিশপির্পি্ি পিস্পিস্পিসিস্পি্ি পিসিসিিসপিসি 


গঙ্গায় স্নানের ছুইটি ঘাট আছে, একটি কাচা এবং 
অপরটি সান বাধান? আমর! কোন ঘাটে স্নান করিব? 
আমর! ভাবিলাল, কাচা ঘাটে সান বাধান ঘাট হইতে 
লৌক সমাগম অনেক কম হইবে। স্মৃতরাং এ ঘাটে 
স্নান করাই যথেষ্ট সুবিধাজনক। মে আমাদিগের কথানু- 
সারে কীচা ঘাটে লইয়! গেল বটে, কিন্তু ঘাটের আবস্থা 
দেখিয়া কাহারও নামিতে সাহসে কুলাইল না। কারণ 
গ্রতি মুহূর্তে পদন্থলন হইয়া গঙ্গার অতল সলিলে 
চিরতরে নিমজ্জিত হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে । 

সে স্থান হইতে পুনরায় সান বাঁধান ঘাট অভিমুখে 
চলিলাম। এ ঘাটটা বেশ সুন্দর; গঙ্গাবক্ষে বহুদূর 
পর্য্যন্ত সিঁড়ি নামিয়া গিয়াছে। সেদিন কি একট! যোগ 
থাকায় অনেক লোক গঙ্গাঙ্নান করিতে আসিয়াছিল। 
আবার এস্থানে আসিয়া! ভাবনা হইল, কিরূপে' এত 
লোকের সম্মুখে শ্নান করিব? অথচ নান না করিলেই 
নছে। বাঁটাতে যে ছুইজন অপেক্ষা করিতেছিলেন, 
তাহাদিগকে আনিয়া একসঙ্গে স্নান কর! উচিত বিবেচন! 
করিয়া বাঁটীতে ফিরিয়] চলিলাম। 

একে স্থান নূতন--তছুপরি কেবলি গলির পর গলি 
অতিক্রম করিতে হয় এবং প্রত্যেকটা গলি একই 
গ্রকারের ) স্থৃতরাং পথ ভুল হইবার যথেষ্ট আশঙ্কা! রহি- 
য়াছে। অনেক কষ্টে পথ চলিয়া! বাড়ী আগিয়া তাহা- 
দিগকে লইয়! ঘাটে গেলাম। 

ভখন অনেকেই স্নান সমাপন করিয়া! গৃহে গ্রত্যাগমন 
করায় ঘাট! বেশ একটু নির্জন হইয়াছিল! কেবলমাত্র 
জন কয়েক পাণ্ড তীরে চৌকী পাতিয়৷ বপিয়া সিন্দুর 
ও গঙ্গামৃত্তিকা সাজাইয়। যাত্রীদিগের নিমিত্ত অপেক্ষা 
করিতেছিল। যাত্রীর! শ্নানাস্তে উপরে আসিলে তাহা- 
দিগকে ফেট। দিয়। পয়সা আদায় করিতেছিন। 

আমর! জলে নামিবা4 কয়েক মিনিট পরই আকাশের 
পশ্চিম গ্রস্ত কালোমেঘে ঢাকিয়া গেলএবং সঙ্গে সঙ্গে 
মুষলধারায় বৃদ্িও আরস হুইল। গঙ্গার আোতের সহিত 
বৃষ্টির বিন্দু মিশিয়া৷ বড় সুন্দর দেখাইতেছিল। আমরা 
জলে দদীড়াইয়। তন্ময় চিত্তে সে শোভ! দেখিতেছিলাম। 


পাম্পি পিস্পি স্পস্ট পাস্পিস্পিপস্পস্পা 


৬৩০ 


উপর হহাত ছুই এ এক কব্যকি আমাদিগকে তীরে উঠবার 
নিমিত্ব পুনঃ পুনঃ আহ্বান করায়, আমাদিগের জ্ঞান হইল 
আ'র জলে থাকা নিরাপদ নহে। আময়া তীরে উঠিলাম। 

তীরে একখানি গোপপাতার কুঁড়ে ঘর ছিল? আমরা 
তথায় আশ্রয় লইয়া! অপেক্ষা করিতে লাগিলাম, কখন্‌ 
বৃষ্টি থামৈ। ইচ্ছা, বৃষ্টি থামিলে ফিরিব। যখন একবণ্ট। 
পরও বৃষ্টি থামিবার কোন লক্ষণ দেখা গেল না, বরং 
উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পাইতে লাগিল, তখন বাধ্য হইয়াই 
বৃষ্টি মাথায় করিয়া সেস্থাঁন পরিত্যাগ করিতে হইল। 

অনেক কণ্ঠে বৃষ্টিতে ভিজিয়৷ পথ চলিগ্া বাড়ী ফিরি" 
লাম এবং আহারার্দি করিয়া জিনিষাদি প্যাক করিয়! 
লইয়া সর দেখিতে বাহির হইলাম। আমরা যেস্থানে 
আশ্রয় লইয়াছিলাম, তাহার নিকটেই বিশ্বাবাসিনী দেবীর 
মন্দির আমরা সর্বাগ্রে বিদ্ধ্যবাসিনীর মন্দির 
দেখিতে গেলাম। মন্দিরটি একটী ছোট গলির মধ্যে 
অবস্থিত। মন্দির লোকে লোকারণা ; প্রবেশ করে 
কাহার সাধ্য! তথাপি নিরুৎদাহ না হুইয়। আমি ও 
আর একজন প্রবেশের উদ্ভোগ করিলাম। বারান্দায় 
জনৈক বিপুলকায় পাও যাত্রীর নিমিত্ত অপেক্ষ! করিতে- 
ছিল; সে আমার্দিগের নিকট আসিয়। গৃস্তীর স্বরে কহিল, 
“দেবীকে পাঁচ সিকা না দিলে ভিতরে যাইতে পারিবে 
না। তোমাদের পাও! কে 1” তাহার গম্ভীর স্বর শুনিয়া 
এবং বিপুলায়তন দেহ দেখিয়া! ভিতরে প্রবেশের আকাজা 
তন্দণ্ডেই মিটাগা গেল, পাঠ সিক! দেওয়। ত দূরের 
কথ! । 

আমরা ধীরে ধীরে অন্ত পথে রওনা হইপাম। দরওয়ান 
এতক্ষণ অ।মাদিগের জিনিষ বহন করিয়া বেড়াইডেছিল। 
ষ্টেশনের নিকটেই তাহার পাগার বাড়ী; সে পাওাবাড়ী 
জিনিষগুলি রাখিয়া! 'মাসিল এবং সহর দেখিয়! ফিরিলে 
উহা লওয়া যাইবে স্থির রহিল। 

এক্ষণে কোন্‌ দিকে যাওয়া যায় সকলে বলাবলি 
করিলেন। বহুবার কলিকাত! হইতে পশ্চিম বাইবার, 
পথে ট্রেণ হইতে পবিন্ধ্য পর্ব্বত* এবং তদুপরিস্থ একখ।নি 
ধবলকায় মনোহর বাড়ী দেখিয়াছি। কতবার সাধ 


১০৮ 


গিয়াছে বিস্ব্যপর্বতোপরিস্থ এ বাড়ীর উপর হইতে প্রকৃ- 
তির শোভ! দেখিয়! ন্য়ন সার্থক করি। এত দিন সে 
সুযোগ হয় নাই এবং হইবার আশীও ছিপ না। তাই 
ভাড়াতাড়ি মনে পড়িয়। গেল, আজ কেন মনের সে সাধ 
পূর্ণ করি 1 লই না। আমার প্রস্তাবে সকলেই স্বীকৃত 
হইলেন। পর্বতটা ষ্টেশন হইভে প্রায় ৪৫ মাইল 
ছুরে। বেলাও দেড়টা প্রায়? খুব জোরে পথ চলিতে 
লাগিলাম। মাইল ছুই আন্দাজ চলিয়া ২১ জন বড়ই 
কাতর হইয়া! পড়িলেন। গাড়ীর সন্ধান করিণ্নেঃ 
ধরপ স্থানে গাড়ী না মিলার তাহাদিগকে পাদত্রজেই 
যাইতে হইল। 

ঘুইজন ব্যতীত আমরা সকলেই অরঙ্ষণ মধ্যে 
পর্বতস্থিত বাটার নিকটেই উপস্থিত হইলাম। 
ৰাটার সম্থুথে একট! বটবৃক্ষে দোলন! প্রস্তত করিয়! 
উত্তম বেশভৃষায় সঙ্জিত হইয়া! একদল পাঞ্জাবী স্ত্রীলোক 
মনের আনন্দে দোল খাইতেছিল। আমাদিগকে দেখিতে 
পাইবামাত্্ দোলন! হইতে নামিরা নিকটে আসিয়া অনেক 
আদর যত্ব প্রার্শন করিল এবং বাটার ভিতর 
যাইবার জন্ত অন্থরোধ করিল। তাহারা আমাদিগকে 
হথাযোগ্য সন্ান প্রদর্শন করিলেও, তাহাদিগের আকার 
প্রকারে আমাদিগের মনে একটা খারাপ ধারণ! জঙ্গিয়া- 
ছিল; কাঁধেই তাহাদিগের অন্থরোধ মত বাটার ভিতর 
প্রবেশ করা স্বারসঙ্গত মনে হইল না। দীর্ঘ পথ চলিয়! 
অতিশয় তৃষ্ণ! পাইয়াছিল; তাহাদিগের নিকট জল 
চাহিলাম। তাহার! তৎক্ষণাৎ একটা! পরিফার ঘটাতে 
জল আনিয়। দিল। আমরা তাহ! পান করিয়! কিঞ্চি 
সুস্থতা লাভ করিয়া, অপর ছইজনের নিমিত্ত অপেক্ষ| 
করিতে লাগিলাম । 

সাহার! আসিলে বাটার ছাদে উঠিলাম । তথ! হইতে 
প্রাক্কৃতিক দৃশ্ত কি নুন্বরই দেখাইতেছিল | উর্ধে 
অনন্ত আকাশ-_নিয়ে ভাগীরধী আকিয়া বাকিয়া 
অজানা দেশের উদ্দেশে চলিয়াছেন। আকাশের এক- 
প্রান্ত ঘেন গঙ্গার সহিত মিশিয়া এক হইয়া গিয়াছে। 

বর্যাকাল-_ প্রতি মুহূর্তে আকাশের রং পরিবর্তিত 


মানসী ও হশ্মবানী 


[ ১৫শ বধ_১ম খ৪--২য সংখ্যা 


হইতেছিল। সঙ্গে সঙ্গে মিষ্ট বাতাস বহি প্রাণ মম 
আকুল করিতেছিল। কয়েক ঘণ্টা মধ্যেই সমস্ত আনন্দ 
উৎসাহ পশ্চাতে ফেলিয়া, আবার বোডিংএর সীমাবন্ধ 
নিয়মের মধ্যে যে আপনাদিগকে ধরা দিতে হইবে সে 
কথ! একরূপ ভুলিয়া গিয়াছিলাম। 
ঘড়ির দিকে চাহিয়া নীচ নামির] আসিলাম। এই- 
বার ধীরে ধীরে ষ্টেশনে গিয়া! বিশ্রাম কর! যাইবে অনে- 
কের মত হইল। আসিবার পূর্বরাত্রে একজন বলিয়া 
দিয়াছিলেন, বিন্ধ্য পর্বতের উপর একটা কৃত্রিম হদ 
আছে, হ্দটর নাম পগেরুঘ়া তালাও*। উহার জল 
গেক্ুয়া রঙের, জলের বর্ণান্থদারেই হুদের নাম হইছে 
“গেকুয়া তালা ও* ; আমরা যেন উহ দেখিয়া! আসি। 
তখনও থে সময় ছিল- ট্রেণের নিমিত্ত ট্েশনে 

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিতে হইত | ন্ুুতরাং ছ্রেশনে না: 
ফিরিয়া “তালা ও* দেখিতে চলিলাম। পথ চিনিয়া তথায় 
পৌছিতে বেশী বেগ পাইতে হইল না। কারণ, পরদিন 
*তালাওয়ে* একট! বড় মেলা থাকায় সহর হইতে বিক্রয়ের 
নিমিত্ত নানাবিধ জিনিষাদদি লইয়া অনেক লোক যাইতে- 
ছিল, আমরাও তাহাদের সঙ্গ লইলাম। হী গ্রক্কৃত- 
পক্ষেই দেখিণার বস্ত! যদিও বিশেষ বড় স্থান নহে, 
তথাপিভার স্ুন্বর। চারিধার বাধান। পথিক দিগের 
বিশ্বামার্থ হ্ুদের নিকট প্রস্তর নির্মত বসিবার আসন' 
রহিয়াছে । বহুবিধ বৃক্ষরাজি আসনগুমিকে ঝেষ্টন 
করিয়। আছে। যেন দ্বুশীতল ছায়াদান করিয়া 
প্রচণ্ড কুর্য্যকিরধ হইতে পধিকদিগকে রক্ষা করাই তাহা 
দিগের একমাত্র কাঁধ্য। আমরাও সেই গ্রন্তরনির্শিত 
আসনে উপবেশন করিয়া হ্রদের প্রতি একদৃষ্টে চাহিয়া 
রহিলাম। মৃহ মু বাতাসের সহিত ছই এক বিন বৃষ্টি 
আমাদের গায়ে পড়ার আনন্দই হইতেছিল। একজন 
গান ধরিলেন _ 

শ্যাবনা, যাবনা, যাবনা, ধরে 

বাহির করেছে পাগল মোয়ে। 

ঘরের বাহিরে ফুটিবি আয 

ছুলে ছলে ফুল বলে আমায় ।” 


চৈঞ, ১৩২৯ 


একটি দিন 


১০৯ 





দি 


গান শেষ হইলে আমর! আসন ত্যাগ করিয়া দাড়াই- 
লাম। আমরা! যেপথে পাহাড়ে আসিয়াছিলাম, সে পথে না 
ফিরিয়া! অন্তপথে ফিরিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিলাম, 
বেহেতু তাহা হইলে পঅষ্টভুজা” দ্বেবী মৃত্তি দর্শন করিয়া 
যাইতে পারিব। দেশ দেশীস্তর হইতে কত ধর্মপিপান্থ 
বাঞ্জি কষ্টন্বীকার করিয়। বিদ্ধ্যাচলে দেবী দর্শন করিতে 
আসেন, আর আজ আমরা এমন স্থযোগ হেলায় হারাইব 
ভাবিতেও ব্যথা পাইলাম। 

একবার এবিন্ধ্যবাসিনীর* মন্দিরে প্রবেশ করিতে 
যাইয়া যে শিক্ষালাভ করিয়াছি, এত অর্পসময়ে তাহা 
বিশ্বৃত হইয়া, পুনরায় “অষ্টতুজার” মন্দিরে যাইবার 
ংকল্প করায় অনেকে হাসিলেন বটে; কিন্ত একজন 
এমন কুদ্ধ হইলেন যে তিনি ভিন্নপথে কিছুতেই ফিরিঠ্ন 
না জেদ ধরিলেন। অনিচ্ছ। সর্থেও সকলের সহিত 
পূর্বপথে ফিরিতে বাধ্য হইলাম। ণগেকুয়া তালাওয়ের 
সঙ্গিকটেই একটা বকুল বৃক্ষ ছিল, ভাহা হইতে অজস্র 
ফুল বরিয়া পড়িতেছিল। শৈশবের একটা গান মনে 
আমিল,-. 

“ঝর ঝর ঝরছে বকুল ফুরফুরে হাওয়ায় 
ফুলকুমারী ঘুমিয়ে পড়েছে লতাঁয় পাতায়” 

আমি ফুল কুড়াইবার পোভ সংবরণ করিতে পারিলাম 
মা। আচল ভরিয়া ফুল কুড়াইয়া আবার পথ চলিতে 
আরম্ভ করিলাম। মনটা] কিন্ত বিরক্তিতে পুর্ণ রহিল। 

ক্রেশনের কাছাকাছি আসিয়া দূরওগান পাওীর বাড়ী 
জিনিষ আনিতে চলিল। আমর! সকলে ষ্টেশনে প্রবেশ 
করিলাম। “অষ্টতুঙ্জা” দেবীকে দর্শন করিতে না 
পারিয়া এত ছুঃখ হইতেছিল যে, সবাই নিষেধ করা! 
সঞ্থেও দরওয়ানের সহিত পুনর্ধবার "বিদ্ধ্যবাঁসিনী”কেই 
দেখিতে চলিলাম। 

প্রায় সন্ধ্যা ঘনাইয়! আসিয়াছে_াত্রীরা একে একে 
মন্দির হইতে বিদায় লইয়াছে। মন্দির-প্রাঙগণে 
কেবলমান্র কয়েকজন স্ত্রীলোক কিক্রয়ার্থ পুজোপকরণ 
লইয়। বগিয়া আছে। দরওয়ান এবং আমি উভয়েই 
তাহার পাঁগার সহিত মন্দিরে প্রবেশ করিব স্থির 





পাপা পাপন প পাশিসপিিপিস্পিসস্টা পস্পািসি আপি উল ১ শশাসিসিসটা্সাশাপিসি সি ত 


করিলাম। তাহার পাণ্ডা নাকি অতি ভদ্র, সে কখনও 
যাত্রী দগকে টাকাকড়ির নিমিত্ত উত্যক্ত করে না, যে হাহা 
স্বে্ছায় প্রদান করে তাহাই সে সঙ্ত্ চিত্তে গ্রহণ করে 
ইত্যাদি অনেক কথাই সে আমাকে বলিল। আমিও 
তাহা দরল অন্তঃকরণেই বিশ্বাদ করিয়া *ইলাম। 
একবার" সন্দেহও হইল না যে পাগাজাতীয় জীবকে 
বিশ্বাস করিতে নাই । 

মান্দরে প্রবেশের পর কয়েকজন পাপ্তা আমাকে 
টাকার জন্য বিরক্ত করিতে আরন্ত করিল। তাঁহার! 
যে টাকা চার্জ করিল আমি তাহা দিতে একটুও 
্রস্তত ছিলাম না! আমার সঙ্গে যথেষ্টই টাকা আছে 
পাগডারা জানিতে পারিয়াছিল। কাঁধেই তাহাদিগের টাক! 
দিবার পীড়াপীড়িতে আমার মনে বেশ একটু ভয় হইতে 
লাগিল,। কিন্ত তাহা যাহাতে মুখে প্রকাশ পাতে 
না পায় তজ্জন্ত যথাসাধ্য চেষ্টা করিলামঞ এদিকে 
দুরওয়ানকেও নিকটে দেখিতে পাইলাম না। বাহিরে 
পাগ্ডারা তাহার সহিতও গোল করিতেছে বুঝিতে 
পারিলাম। তাহাদিগের হস্ত হইতে নিস্তার পাইবার 
নিমিত্ব একটা ফন্দী বাহির করিলাম। বলিলাম, 
"আমার নিকট দশ টাকার নোট আছে; পাশের 
দোকান হইতে নোট ভাঙ্গাইয়! টাকা আনিয়! দিতেছি ।» 
তাহারা ইহা বিশ্বীদ করিল। নোট ভাঙ্গাইবার ফাকি 
দিয়৷ একটা ছোট দরজা! দিয়া আমি মন্দিরের বাহিয়ে 
আসিলাম্গ। | 

হয়ত পাণ্ডার! টাকার জন্ত আমার সঙ্গ লইবে ভাবিয়া 
পরিচিত পথ ছাড়িয়া গঙ্গার তীর ধরিয়া বন জঙ্গলের মধ্য 
দিয়! ষ্টেশনের দিকে রওনা হইলাম। সন্ধ্যাক!ল-_ 
অপরিচিত স্থানে পথ ঘাট কিছুই জানি না। বেশ 
বৃষ্টিও পড়িতেছিল) সুতরাং আমার কষ্টের অবধি ছিল 
না। মনে যথেষ্ট ভগও ছিল-_পাগ্ডারা বিলম্ব দেখিয়। 
যদি অনুদরণ করে ! 

ভর সন্ধ্যা আমাকে বৃষ্টিতে পথ চলিতে দেখিয়! 
বোধহয় রাস্তায় ছই একজন হিনুস্থানী ব্যক্তির মনে 
ছুঃখ হইতেছিল! তাহারা ভ্রিজ্ঞাস করিতেছিল। জামি 


১১৪ 


পথ হারাইয়াছি কি না এবং কোথায় যাইব। আশ্চর্যের 
বিষয়, দুরে দীড়াইয়া ভদ্র বেশধারী এক বাঙ্গালী 
যুবক তামাসা দেখিতেছিলেন। 

নিরাপদে ষ্টেশনে ফিরিয়া আসিলাম। আমাকে 
একা ফিরিতে দেখিরা সকলেই বিম্মিত হইলেন। 
আমি তাহাদিগকে আন্ুপুর্ব্বিক সমস্ত বৃত্তান্ত' বলিলে 
তাহারা একাধারে আমার সাহসের প্রশংসা করিলেন 
বটে, আবার তিরস্কারও করিলেন। 

এদিকে আমাকে মন্দিরে দেখতে না পাইয়া 
দরওয়ানের মনে অতিশয় তয় হইল। যে পথগুলিতে 
আমার যাওয়া সম্ভব হইতে পারে মে পথগুপিতে 
আমীর অন্থুদন্ধান করিল। এমন কি পথে যাহার দেখ! 
পাইল তাহাকেই আমার কথ| জিজ্ঞাসা করিল। যখন 
কোন সন্ধানই মিলিল না, এক্ষেত্রেকি করা! কর্তব্য 
পরামর্শ গ্রহণের নিমিত্ত তখন ভয়ে ভয়ে বিমর্যমুখে প্টেশনে 
উপস্থিত হইল। তথায় আমাকে নির্বে বসিয় 
থাকিতে দেণ্য়। তাহার আর আনন্দের সীম! রহিল ন1। 

সমন হইয়া আসিলে *রেলওয়ে* সেতু পার হইয়া 
ওপারে গিষ্স। ব্রেণের অপেক্ষায় বসিয়া রহিলাম। কি 


মানসী ও মন্দরবাণী 


[১৫শ বধ--১ম খণু--২য় সংখ্য। 


ভিড় | একপ ভিড় ঠেলিয়! ট্রেণে চড়া সহজসাধ্য নহে 
ভাবিয়া ভয় হইতে লাগিল। যাহা হউক কোন প্রকারে 
ট্রেণ ছাড়িবার সঙ্গেই মনটা খারাপ হইয়! গেল। যেহেতু 
বন্ুদদনের আকাজ্কিত “বিদ্ধ্যাচল ভ্রমণ* আজও আমার 
অমম্পূর্ণ ই থাকিয়া গেল। 
যথাকালে ট্রেণ খানি আমাদিগকে নির্দিষ্ট স্থানে 
পৌছাইয়া দিল। ্টেশনের বাহিরে স্কুলের “133” 
আমাদিগের জন্য অপেক্ষা করিতেছিল; তাহাতে চড়িস়া 
আবার নিরানন্দ “বোঁডিং হাউসে” ফিরিয়া! আসিলাম। 
তখন রাৰ্রি সাড়ে দশটা - প্রবল বেগে বাঁতাপ 
বহিতেছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিছ্যাৎও চমকাইতেছিল। 
মনে পড়িল-_ 
ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়, 
বিজুলি থেকে থেকে চমকাক্স | 
সে কথা এজীবনে রূহিয়। গেল মনে, 
সে কথা! আজি যেন বলা যায় 
_ এমন ঘন ঘোর বনিষায় |” 


“বঙ্গনারী” । 


মুক্তিনাথ 
(ূর্বানুবততি) 


হদয়কঞ্চের দোকানের বারান্দায় আমাদের আশ্রয় 
স্থান নির্দিষ্ট ইইপ। বারান্দার সমস্ত দৈর্ঘ্য নৃতন 
কম্বল দ্বারা আবৃত হইল, যেন কোন মতে বাহিরের 
কার বাতাস না আদিতে পারে। বারান্দার একন্থানে 
ভাহায়োজন হইল। 

ক নী প্রথমতঃ একটু অসুস্থ বোধ করিতে- 
সাভি হািও কুইনিন্‌ পিল ও কিছু চা সেবনান্তে 
অজানা দেশের বাধ করিতে লাগিলেন। 
পরাস্ত যেন গঙ্গার ৯. দিয় জঠরানল নিবৃত্ত করিতে হই্গা- 

র্থীকাল_ প্রতি ভূরিভোজন। যোড়শোপচারে না! 


হউক অস্থতঃ দশোপচারে উদর দেবতার পূজা শেধ 
করিয়া শধ্যার আশ্রয় গ্রহণ করিলাম । 

১২ই মার্চ প্রত্যুষে শয্যাত্যাগ করিলাম । আজ 
আরুথাটে অবস্থান কষি্না বুড়ী গওকীতে গান এবং, 
সমস্ত দিন বিশ্রাম গ্রহণ জন্ত হদয়কষ্ণ অনুরোধ করিলেম। 
তাহার ভদ্রতা ও আতিথয়তার উপর আর দাবী কর! 
অসঙ্গত-_ বিশেষতঃ আমরা! এখও পথশ্রাস্ত হই নাই। 
আতিথেয়তা ও ভদ্রতার জন্য হৃদয়কৃষ্কে ধন্যবাদ দিয় 
যাত্রার উদ্যোগ করিলাম। 4. 

ত্রিশুলী হইতে আগত সঙ্গী কনেটবলকে একখান 


চৈত্র ১৩২৯ ] 


হইতে বিদায় দিলাম। নয়াকোটের কর্মচারীর নিকট 
লিখিয়! পাঠাইলাম যে আমি স্ষেচ্ছায় কনেষ্টবলকে 
বিদায় দিতেছি এবং আমার লোকের প্রয্বে'জন হইলে 
গোর্খা হইতে আনাইয়া লইব। 

সাত ঘটিকার সময় আরুঘাট ত্যাগ করিয়া! এগারটায় 
খাধ্োক বস্তিতে পৌছিলাম। সমগ্র পথ অতি উচ্চ 
পর্বতে । উপর দিয়া__ত্রিশৃলী হইতে চৌরঙ্গীফেদী পর্যাস্ত 
পথের গ্তার় একটী অগ্রশস্ত পর্বতের উপর খান্চৌক 
অবস্থিত । নিকটে কোনও নদী নাই। দুরে একটা 
ঝরণ! আছে। কাঠমতু সহর হইতে গোর্ধা সহর 
পর্যন্ত পথ খান্চৌক হইয়া দক্ষিণে গিয়াছে। আমাদিগকে 
এখান হইতে এই পর্ধত ত্যাগ করিয়। পশ্চিম দিকে 
পোখরা যাইতে হুইবে। 

গাইড ও ভাবিয়া বেল! বারটা ত্রিশ মিনিটে 
আসিয়া! পৌছিল। ঝরণার জলে দ্দানাস্তে প্রায় সাড়ে 
তিনটায় আহার শেষ করা গেল। এখন্‌ যাঁর! 
করিলে সন্ধার পূর্বে কোনও আশ্রয় স্থানে উপস্থিত 
হইবার সম্ভাবনা ন! থাকায় এখানেই রান্র বাস স্থির 
করিলাম। 

অপরাহ্ণে বস্তির মধ্যে বেড়াইতে গেলাম। প্রায় 
প্রত্যেক গৃহস্থেরই গৃহসংলগ্ন চালায় একখানি তাত। 
স্ীলোকেরাই তুল! পেজে, চরকায় সৃতা কাটে এবং 
তাঁতে কাপড় বুনায়। 

গোর্থার পথে কিছুদূর অগ্রসর হইলে একটা টিলা! 
এই টিলায় উঠিলে উত্তর দিকে একটী তুষার শৃঙ্গ 
দুষ্ট হয়। চন্ত্রকিরণ-সম্পাতে তুষ'র শৃঙ্গের কি্ূপ 
শোভা হয় দেখিবার জন্য, যথেষ্ট শীতবস্ত্রে আবৃত 
হইরী সন্ধ্যার পর এই টিলায় উঠলাম। অগ্ধ শুক্লা 
চতুর্দশী, আকাশও খুব নির্মল। অনেকক্ষণ টিলার 
উপর বসিয়৷ তুষার শৃঙ্গের শোভ] দেখিয়া ধর্দশালায় 
প্রত্যাবর্তন করিলাম। 

 ধর্শশাল য় ফিরিয়া আপিয়! দেখি নিলে এক 
হিন্ুস্থানী সাধুর সহিত এক নেপালী কুলীর বিষম 
বিবাদ উপস্থিত। কুলী সাধুকে প্রহার করিতে উদ্তত। 








মুক্তিনাথ 


৯ পার্পিন্পিস্পি্পিন্পি সপিস্পিস্পিস্পিস্পিসপা পিপাসা শিপ পি িট সি ই 


১১১ 


ব্রহ্ষচারীী সেখানে উপস্থিত এবং বিবাদ মীমাংসায় 
ব্যস্ত, কিন্তু কুলী একটু মাতাল ছিল, সে নেশার 
ঝোকে কাহাকেও গ্রান্ৃ করিতেছিল না। যাহা 
হউক শেষে মুখামুখিতেই বিবাদ শেষ হইয়৷ গেল, “হাতা- 
হাতি” পর্য্স্ত গড়াইল না । 

মধ্য রাত্রে আমাদের কোঠায় এক উপদ্রব। কেহ 
কোঠায় প্রবেশ করিয়াছে টের পাইয়া দেশলাই জালাইসস! 
দেখি যে এক নেপালী ,বালক আমাদের কোঠার মধ্যে । 
সে বলিল অন্ধকার ভূল করিয়া আমাদের কোঠায় 
চ,কিয়াছে। সে চলিয়া গেল এবং বাকী রাত্রটুকু 
নিরুপদ্রবেই অবিবাহিত হইল। ঃ 

১৩ই মার্চ ভোর ৬্টায় রওয়ানা হইলাম । আজ 
দোল পুণিমা ; এদেশেও অষ্টমী হইতে পূর্নিমা পর্যযত্ত 
আবির *খেলা চলে। আবির খেলার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বে 
রাজপথে অশ্লীল গান ও স্ত্রীলোক দেখিলে তাহার প্রতি 
কুৎসিৎ রূসিকতা গুভূতি প্রচলিত ছিল, কিন্তু মর 
জং বাহাদুর বিলাত হইতে প্রত্যাগত "হইয়া (১৭৫১ খ্রীঃ) 
রাজবিধিছারা হোলির এই সমস্ত অশ্লীল ব্যাপার 
নিষিদ্ধ করিয়াছেন। 

হোলি শরীরের উৎসব। ত্বাহার উৎসবে 
যদিও জীবহত্য1 নিষেধ, তথাপি দলে দলে পাহাড়ীয়৷ 
স্ত্রী পুরুষেয়া আবিরলিপ্ত মুখে হাস, মুরগী, কবুতর 
লইয়া নিকটবর্তী পর্বতে দেবীর মন্দিরে যাইতেছে 
দেখিলাম । সেখানে দেবীর প্রীত্যর্থে এই সমস্ত পঙ্গী 
বধ কর! হইবে। 

বেলা ম্টার সময় দারমদী নদী পার হইয়া নয়! 
সাকু নানক স্থানে পৌছিলাম। আমাদের পূর্ব পরিচিত 
মন্ন্যাপীদ্য় ও ভৈরবী পাচ জনের সহিহ সাক্ষাৎ হইল। 
তাহারা ভিক্ষার জন্য বস্তির মধ্যে গেলেন, আমরা নদী 
তীরে বিশ্রাম গ্রহণ কারলাম। 

অর্ধ ঘণ্ট। পরে গাইড ও ভারিয়! আয়! পৌছিল। 
নদীতে স্নান করিয়। চিড়ে ফপর করা থেল। চাউল 
কি অগ্ঠ কিছু এখানে মিলি না। 

ফলারের' সমক্প দেখ! গেল যে ব্রহ্ষচারীতীর পিতরের 


১১২ 


মানপী ও মর্দমবাণ 


[ ১৫শ বর্ং--১ম খ--২য লংখ্যা 








গ্লাসটা নাই। অনুমান হুইল যে বালক গত রাতে 
ফোঠার প্রবেশ করিয়াছিল সেই চুরি করিয়াছে। 
অনুমান পর্যন্তই চার হইল। 

কিছুক্ষণ বিশ্রাম অন্তে বেলা সাড়ে বারোটার সময় 
নয়াসাকু হইতে যাত্রা করিলাম। কিছু দুর নদীর 
কুলে কূলে যাইয়া আবার পর্বতে উঠিতে আরম্ত 
করিলাম। 

বেল! আড়াইটার সময় খুবলাক অধিত্যকাঁয় পৌছি- 
লাম। খুবলাঙ্গ একটা পার্বত্য সহর, ত্রিশূলী অথবা 
অংরুতাঁট হইতে অনেক অনেক উচ্চে। কাঠমুণও্ড হইতে 
“দৌড়ী! হাকিম” (01:05 7826) এখানে আসিয়া 
কয়েক দিন যাবৎ কাছারী করিতেছেন। একথগ্ড 
পরিষ্কার স্থানে এক সামিয়ানার নীচে সতরঞ্ বিছান, 
আমাদের দেশে যেমন যা'া গানের আসর । সতরঞ্চের 
উপর মাঝখানে একখান ইজি চেয়ারে হাকিম বাবু 
গজাবাহাছুর উপবিষ্ট । কেহ কেহ সতরঞ্চের উপর 
বসিয়াছে, অধিকাংশই সতরঞ্চের কিনারায় দণ্ডায়মান । 
অনেক লোক আবার দলবদ্ধ হইয়! কাছারী হইতে 
দুরে বসিয়৷ কি দীড়াইয়া আছে, তাহাদের মোকর্দম! 
অরস্ত হইলে আসিবে । 

আমরা একটু দূর হইতে কাছারী দেখিয়া সহরের 
দিকে উঠিতে আরম্ভ করিলাম। ছুই একজন আমাদের 
পরিচয় জিজ্ঞাসা করিল। একজন পরিচয় শুনিয়া 
রহস্য করিয়! বলিল, প্বাজালীবাবু পাহাড়ীয়া বন্গিয়1”। 

এখনও যথেষ্ট বেলা আছে, আমরা অগ্রপর হইতে 
পারি, বিশেষতঃ হাকিম উপস্থিত থাকাতে অর্থা প্রতার্থা 
এবং সান্খীতে অনেক লোক খুবলাঙ্গে একত্রী হইয়াছে, 
সুবিধা মত আশ্রত্র স্থান নাও জুটিতে পারে__এই 
আশঙ্কার খুবলাঙ্গ ত্যাগ করিয়া অগ্রসর. হইতে আরম্ভ 
করিলাম। কাছারী হইতে এক ব্যক্তি আমাদের সঙ্গী 
হইল। 

খুবলাঙ্গ 'হইতে *উত্রাই*্এর পর বাম দিকের 
পাহাড়ে “চড়াই” ন! করিয়া, আমাদের নৃতন সঙ্গী এক 


ক্ষীণ জলন্রোতের তীর দিয় চলিল। কিছু দুর যাইয়া 
দেখি ডান দিক হইতে অপর একটি পর্বত প্রথমোক্ত 
পর্বতের সহিত মিলিত হওয়ায় একটি ম্বাভাবিক তলা- 
বঙ্মের সৃষ্টি হইয়াছে । এই তলাবর্মের মধ্যদিয়া জল- 
শ্রোত প্রবাহিত। পথ অতাস্ত সংকীর্ণ, বেল! ৩টায় 
সেখানে অন্ধকাঁর, তারপর ছুইদিকে এবং মাথার 
উগর পর্বত থাকাতে ক্ষীণ জলত্রোতও এক ভীষণ 
গর্জনের সৃষ্টি করিয়াছে । মনে যে অকারণ ভয়ের 
উদ্বেক ও না হইয়াছিল এমন নহে। ভগবানের 
মাম মনে মনে স্মরণ করিয়া, সঙ্গীর পশ্চাতে চলিলাম। 
প্রায় অর্দ ঘণ্ট। পরে এই অন্ধকার হইতে বাহির 
হইয়া! হুরধ্যালোক দর্শন ও মুক্ত বাযু সেবন করিলাম। 
সঙ্গী বলিল যে বাম দ্রকের পর্বতের উপর দিয়া আসিলে 
যে সময় লাঁগিত, তাচ1 অপেক্ষা আমরা প্রায় এক ঘণ্টা 
পূর্বে আপিয়াছি এবং “চড়াই উত্রাই” করিতে হয় নাই। 
বর্ধাকাবে এই পথে যাওয়া যায় না, তখন প্রত্যেককেই 
পাছাড়ের উপর দিয়া যাইতে হয়? যে পথে আমরা 
আসিলাম এই জাতীয় পথের নাম *পাকদণ্ডী।” 

এক পর্বতের “চড়াই উত্রাই” হইতে অব্যাহতি 
পাইলে কি হইবে? সন্দুঝে দ্বিতীয় পর্বত। সঙ্গী 
আমাদের নিকট হইতে বিদায় গ্রহণ করিয়া নিকটবর্তী 
অন্য পর্বতে তাহার বাড়ী গেল, আম ও ব্রঙ্গচারীতী 
আমাদের সন্দুবস্থ পর্বতে উঠিতে আরম্ত করিলাম। 

পর্বতের আধিত্য কায় *মুইটেল ভগ্ন বস্তিতে বেলা 
সাড়ে চারিটার সময় পৌছিলাম। এখানে একটা ধর্শশীলা 
আছে, তাহার দ্বিতলে আশ্রয় গ্রহণ করিলাম। ব্রহ্গ- 
চারী্রী আজ আবার একটু অসুস্থ বোধ করিতেছিলেন্জা 
এক ঘণ্টা পরে গাইড. ও ভারিয়া আসিয়া পৌঁছিল। চ 
প্রস্তত হইল, কুষ্টনিন পিপ ও চা গ্রহণ করিয়া ব্হ্- 
চারীজী সুস্থ হইলেন। হদিও আজ পূর্ণিমার নিশি, 
বিশেষতঃ দোল পুণিমা, এবং ত্রদ্ষচারীজীও পরমবৈফন, 
তথাপি নিশিপালনের উপযুক্ত উপকরণের অভাবে ভাত 
ও তরকারী দ্বারাই উভয় নিশিপালন করিলাম । 


চৈত্র, ১৩২৯] 


মুক্তিনাথ 


১১৩ 





প্পাতিস্পিশ্পাপাপি পাস্পাস্পিাস্পািসিপাং 


১৪ই মার্চ অতি প্রত্াষে যাত্রার উদ্যোগ করিলাম, 
কিন্তু যাত্রায় এক্ক বিদ্ব ঘটল। গত রাত্রেযে গৃহস্থের 
মিকট হইতে খাছ দ্রব্য ক্রয় কর! হইয়াছিল তাহাকে 
হিসাব বুঝানই এই বিশ্ব। আমাদের দেশে আট 
আনার জিনিষ ক্রয্ন করিয়া! এক টাক! দিলে দোকাদদার 
তাহার প্রাপ্য আট আন! রািয্। বাকী আট আনা ফিরা- 
ইয়া দেয়। এদেশে নেওয়ার দোকানদারেরা এ হিসাব 
বেশ বোঝে, কিন্তু পাহাড়ীয়ারা বোঝে না। তাহার আট 
আন। পাওনা হইলে তাহাকে আট আনা দিতে হইবে। 
ধক টাঁকা দিয়া প্রথমে তাহার নিকট হইতে যোল 
আন] লইতে হইবে, পরে তাহার প্রাপ্য তাহাকে দিতে 
হইবে। টাঁকা রাখিয়া আট আন! প্রত্যর্পণ করি- 
লেও যে চলে এ হিসাব বোধ তাহার নাই। সকলেই যে 
এই ণ তাহা নহে, তবে আমাদের দুর্ভাগ্য বশতঃ এইরূপ 
একজন "অবুঝ*এর সহিত গত রাত্রে আমাদের কারবার 
করিতে হইয়াছিল। তাহার নিকট যোঁল আন! নাই, কিন্ত 
আমাদের যাহা অবশিষ্ট প্রংপ্য তাহা আছে! দোঁকান- 
দারকে হিসাব বুঝাইতে চেষ্টা করিয়া দেখিলাম, সমস্ত 
দিনেও বুঝান যাইবে না। তখন আমার অবশিষ্ট প্রাপ্য 
প্রথমে লইয়া তাহাকে ছুই মোহর দিলাম । সে কিছুতেই 
হিসাব বু'ঝল না, তখন ব্রহ্ষচারীজী বলিলেন যে আমরা 
তীর্থ করিতে মুক্তিনাথ যাইতেছি তাহাকে ঠকাই- 
বার জন্ত এত দূরদেশ হইতে এখানে আসি নাই। 
ব্হ্ষচারীঙ্গীর বাকো তাহার আপত্বি নির'স হইল 

ং “ঠিকহুয়। বাবাজী* বলিয়। মোহর ছুইটা গ্রহণ 
করিল। 

৫,৩৫ মিঃ নুইটেল ভঞ্জন ত্যাগ করিলাম । ৯১৪৫ মিঃ 
মান্ান্ডী ন্দী তীরে উপস্থিত হইলাম। নদীতীরস্থ 
বাজারটী আজ আঠার দিন পুড়িয়| গিক্লাছে। দোকান 
দারের৷ এখনও ঘর দরজ! নির্মাণ কি দৌকানেয় দ্রব্য 
সম্ভার সংগ্রহ করিতে পারে নাই। আমর! নদীর কুলে 
আশ্রয় গ্রহণ করিলাম এবং গ্গান সমাগপনাস্তে গাইড ও 
ভারিয়ার প্রতীক্ষা করিতে লাগিলাম। 

ব্রিশুণীর পশ্চিম তীর হইতে মারছানডীর পূর্ব্ব তীর 


১৫-৩ত 





২ পপি উস তা প্পির্টস্টিশািত পসিস্পিসিসপিসপিস্পিসপিসপসসিাসি সসপিসপিপ পাপা 


পর্যন্ত এই বিন্বুত প্রদেশের নাম গোর প্রদেশ 67০%- 
1000 06 002100% ) 

বেল! সাড়ে ১২টায় গাইড ও ভারিয়! আসিয়া 
পৌঁছিল। নিকটবর্তী এক বৃক্ষতলে পাকের উদ্ভোগ 
ছিল। ভোব্দন ও বিশ্রাম অস্তে ৪খটিকার সময মার" 
ছান্ডীর,পূর্বব তীর ত্যাগ করিলাম । 

মারছানভীর উপর একটা লৌহ সেতু আছে। পুল 
পার হইয়া নদীর পশ্চিম তীর দিয়! উত্তর দিকে আনেক্ক 
দূর অগ্রসর হইলাম। «এখন আমাদের সম্দুথে পশ্চিম 
হইতে পূর্বে প্রবাহিত একটা বিস্তীর্ণ কিন্ত স্বল্পতোয়! 
নদী। পাঁছাড়ীয়ারা প্রস্তর খণ্ড সংগ্রহ করিয়। নদীর 
স্থানে স্থানে বাধ বাধিয়। মাছ ধরিতেছিল। গাইডের 
কথামত ছইজন পাহাড়ীয়া একটী বাধের ছুই ধারে জলের 
মধ্যে ধীরে ধীরে ছাটিতে আরস্ত করিল, আমি উহাদের 
কাধে হাত রাখিয়। অতি সন্তর্পণে বাঁধের উপর দিবা 
নদী উত্তীর্ণ হইলাম। 

নদীর উত্তর পারে আমাদের সম্তুথে একটী খাড়া 
অনুচ্চ পর্বত । এই পর্বতের উপর' দিয়া পথ। পর্বত 
গাত্র হইতে জল চোয়াইয়া নদীতে পাড়তেছে এবং সেই 
চোয়ান গলে পর্বতে উঠিবার ০০৪ অত্যন্ত পিচ্ছিল 
হইয়া গিয়াছে । 

অতি সাবধানে পর্বতে উঠিলাম। নদী পার হইতে 
যেমন পাহাড়ী'য়াদের সাহাধা গৃহণ করিতে হইয়াছিল, এই 
ক্ষুদ্র পর্বতে আরোহণ করিতেও গাইডের হস্তধারণ 
করিতে হইয়াছিল। 

পর্বতের উপর ছইটি পথ, একটা উত্তর দিকে 
লামবুঙ্গ. গিয়াছে, অপরটা পশ্চিম দিকে মানচৌকা 
বাজারে গিয়াছে । মানচৌক। সমভণে নদীর কুলে। 
একটু অগ্রসর হইলেই মান্চৌক! দূরে দেখা! গেল। 
যে নদীটা পার হইয়া পর্বতে উঠির়াছিলাম, আবার 
সেই নদীটা পার হইয়া বলো ৫-৪৫ মিঃ মান্চৌকা 
বাবারে আদিলাম। 

মানচৌক1 বাজার্টা ছোট। পথের উততয় পার্থ 
কিছু ফাঁকা জাগা, তাহার পর শ্রেশীবন্ধ ভাবে কেক 


শা শিস সিপিসপাস্পাশাশিশ্পিপি্পি্িসিপস্পাসপি সিস্পিপিস্পিস্সিদ 


5১৪ 


খানা দৌকান। হ্থানটী খুব নির্জন যলিয়৷ মনে 
হইল। 

বাজারে প্রবেশ করিতে করিতে ছুইটা বালক 
লারিন্দ৷ বাঞজাই” এক অবোধ্য ভাষার গান গাইতে 
গাইতে আমাদের অনুসরণ করিগ। আমরা এক 
নেওয়ারের দোকানের বারান্দায় রাজিবাসের আয়োজন 
ফরিলাম। বালকছুয় বারান্দার নীচে বসিয়া গান 
করিতে লাগিল। 

খাধেোঁকে মাতাল নেপালী নুলি দেখিয়াছিলাম, আর 
মান্চৌকার মাতাল নেপালী ভদ্রলোক দেখিলাম। 
পোষাকে ও চেহারায় এব্যক্তিকে ভদ্রলোক বলিয়াই 
অনুমান করিলাম, কিন্তু সম্পূর্ণ মত্তাবস্থা। আমাদের 
নিকটে আসিয়া বালক ছুইটাকে কিছু দিতে বলিল। 
আমি তামাসা দেখিবার জন্ত সেই কার্ধ্যটা তাহাকেই 
করিতে বলিলাম। সে তৎক্ষণাৎ ছুই বালককে ছুইটা 
পয়সা! দিল। বালকের! কিন্তু আমাকে কিছুতেই অব্যাহতি 
দিল না, বৎকিঞিৎ আদার করিয়া স্থান ত্যাগ করিল। 
আমরাও কিছু জলঘোগাস্তে রাত্রের অন্ত বিশ্রাম গ্রংণ 
ক্করিলাম। 

; . ১৫ই মার্চ ভোর ৫-৩* মিঃ যাত্রী করিলীম এবং 
" বেল। ১১টায় নদীতীরে সীসাধাট নামক স্থানে উপস্থিত 
হইলাম। মান্চৌকা হইতে সীসাধাট পর্ধ্যস্ত পথ অনেকটা! 
আমাদের দেশের “মেঠো” পথের ভ্তার়। 

_. পৃথের ছুইদিকেই বিস্তীর্ণ মাঠ এবং মাঠের শেষে 
উচ্চ পর্কত। এই পর্বতে লোকালয়। সমতলে কুঞ্জা- 
ভঙ্জন ও সতী পসল নামে ছইটি বস্তির মধ্য দিয়! আমা- 
দিগকে আসিতে হুইয়াছিল। 

, লীসাঘাট.স্থানটী আমাদের দেশের নদীকৃলে চড়ার 
উপরে, বাজারের ন্কার। এখানে লোকেক্প বাড়ী নাই, 
মাত্র কয়েকখান! দোকান। বর্ষুগারীজী ও আমি নদী- 
তুলে এক গাছের ছারায় আত্রন্ন গ্রহণ করিলাম এবং 
ানান্তে কিছু দি ও চিড়া জ্ীপান করিলাম 
, নেপালে আসিয়া! এখানে প্রথম মিঃ গান্ধীর নাম 
শুনিলাম। প্রয়াগন্বত্ব নামে এক ব্রাঙ্ছণ আমাদের নিকট 


মানসী ও মর্দরবাসী 


[১৫শ বর্ষ--১ম খণ্--২য় সংখ্যা 


আসিয়া মিঃ গাঙ্গীর কথা জিজ্ঞাস! করিলেন। এই 
পার্বত্য প্রদেশে- যেখানে পোষ্টাফিস টেলিগ্রাফ নাই, 
কোন রফম সংবাদ পত্রের প্রচলন নাই, সেখানকার 
লোকে তারতবর্ষের নন্কোঅপারেশন-এর বিঘর কি 
প্রকারে জানিতে পারিল জিজ্ঞাসা করার প্রয়াগদত্ত 
উত্তর করিলেন যে, স্তাহাদের পর্বতের একজন লোক 
মংপ্রতি বেনারস হইতে আসিয়াছেন এবং তাহার সিকি 
তীহার৷ গান্ধী মহারাজের কথা! শুনিয়াছেন। 

বেলা ২টায় গাইড ও ভারিয়া আসিয়া পৌছ্ছিল। 
অগ্য আর এখান হইতে অগ্রসর হইব না স্থির করিয়া 
নদীতীর ত্যাগ করিলাম এবং এক দোকানে আশ্রয় গ্রহথ 
করিলাম। 

বৈকালে কয়েকজন থাকালিয়৷ সওদাগরের সঙ্গে 
সাক্ষাৎ হইল। থাকালিয়ার! পোষাকে ও চেহারায় 
তুটিয়া কিন্তু জাতি হিসাবে ভুটিয়। নহে। পৌখরার 
উত্তর হইতেই এই থাকালিয়ার্দের বাসতৃমি। তিববতীয় 
ও নেপালী রক্ত সংমিশ্রপে এই থাকালিয়াদের উৎপত্তি । 
কাহারও মতে উপত্যকার হিন্দুগণ তিব্বতের নিকটবর্তী 
হইয়া আপনাদের সমাজ ও লমধন্্মী হইতে দুরে 
পড়িয়া গেল এবং কালে ভিব্বতীয়দের সঠ্িত মিশ্রিত 
হইয়া গেল। আবার কাহারও মতে তিববতীয়েরাই 
নেপালে নামিয়া আসিক্স! নেপালীদের সহিত মিশ্রিত 
হইয়া! গিরাছে। . 

থাকালিয়া সওদাগরদের সঙ্গে চৌদ্দটা ঘোড়া! ও 
লোকজন ছিল। তাহার! চাউল ক্রয় করিবার জন্ত 
নেপালে বাইতেছিল। ও 

সওদাগরের! রাত্রে কিছু গোলআলু উপঢৌকন দিল। 
ইহ্ারাও মিঃ গান্ধীর প্রসঙ্গ করিল। টি 

রাত্রে আহারাস্তে শয়নের উদ্বোগ করিতেছি; এই 
সময় আর একজন যাত্রী আসিয়৷ আশ্রন্ প্রার্থনা বরিল। 
আমর! চারিজনেই দোকানের বারান্দা পূর্ণ করিয়াছিলাম, 
তাহার উপর পঞ্চম বাক্তির স্থান কর! অসম্ভব না হইলেও 
যে অন্ুবিধাজনক তাহার আর সন্দেহ ছিল না। কিন্তু 
এ বেচারাই বা যার কোথায়? কোনও প্রকারে 


-টৈই ১৩২৯] 
তাহাকে একটু স্থান দেওয়! গেল। এ ব্যক্তি মান্রাী, 
নাম শ্রনিবাস আহ্বাঙ্গীয়, গন্তব্য স্থান মুক্তিনাথ। 

১৬ই মার্চ-__প্রাতঃকাল ৬ ঘটিকায় সময় সীদাধাট 
ভাগ করিলাম। নদী পার হইলেই একটা ছোট পাহাড়, 
পাহাড়ের উপর দিয় পথ। এই পাহাড়ের উপর দিয়! 
কিছুদূর অগ্রসর হুইয়া আমর! এক অতি উচ্চ পর্বতের 
পাদদেশে আসিয়া পৌছিলাম। 

মারছান্ডীর পশ্চিম তীরে পর্বত অতিক্রম করিয়া 
আমরা ষে উপত্যকার আসিয়াছিলাম, আমাদের সন্খুখস্থ 
পর্বত সেই উপত্যকার পশ্চিম সীমা। পর্বতটার নাম 
গুনিল ম “দেওরালী*। নেপালী ভাষায় যে কোন উচ্চ 
পর্বতের নামই দেওরালী। এই পর্বতটার বিশেষ কোন 
নাম আছে কি না জানিতে পারিলাম না। 

পর্বতের সর্বোচ্চ স্থান হুইতে পশ্চিম দিকে অতি 
উচ্চ এক তুযারশৃঙ্গ দৃষ্ট হইল। যেমন যে কোন উচ্চ 
পর্ববতের নাম “দেওর়ালী* সেইরূপ যে কোন তুষারশৃের 
নামই *হিমাল*। 

গর্ববত্ত অতিক্রম করিয়া আমরা এক অতি বিস্তীর্ণ 
সমতল প্রান্তরে প্রবেশ করিলাম। এই স্থান হইতেই 
পোখর! উপত্যকা আরস্ত হইল। 

এখান হইতে দৃষ্টি চতুর্দিকেই প্রায় অব্যাহত। 
পথের উভয় পার্থ অতি বিস্তীর্ণ ক্ষেত্র এবং তাহার শেষে 
. অতি উচ্চ পর্বতশ্রেণী। 

বে 1 ১১-৩*মিঃ সময় সাতম্যুনে নামক স্থানে পৌছি- 
লাম। এখানেও একটা বাজার আছে। বাজারের 
পশ্চিম দিকে একটা নদী। নদীটা প্রায় শুক্ক__ স্থানে 
স্থানে জল আছে। এই নদীতেই কোনরূপে স্নান 
. সমাপন করিয। এক বৃক্ষমূলে বিশ্রাম করিতে থাকি- 
 জাম। 

আমর! বখন নদীকুলে হিলাম তখন গতয়াত্রের পরি- 
চিত প্রীনিবাস আয়াঙ্গার আগিয়! উপস্থিত হুইল এবং 
জানাইল যে গাইড ও -ভারিয়া পশ্চাতে আসিতেছে । 
. শ্রীনিবাস মার অপেক্ষা! ন। করিয়া! পোখর! অভিমুখে যা! 
করিল। 


মুক্তি নাথ 


১১৫ 

১-৪০ মিঃ গাইড ও ভারিয়। আসিয়া .পৌছিল। 
আমর! তখন নদীকৃল ত্যাগ করিয়া বাজারে আসিলাম 
এবং ধর্শশালার দ্বিতলে আশ্রয় গ্রহণ করিলাম। 

রঙ্থচারীনী তাহার নিজের ছায়! মাপিয়! সময় নির্ণয় 
করিলেন তদনুসারে আমি ঘড়ী ঠিক করিলাম । 

বৈকালে নিক্টবর্তা হুদ রূপাতাল দেখিতে গেলাম। 
গাইড আমার সঙ্গে গেল। 

পোখর! উপত্যকা অনেক গুলি হুদ আছে। 
নেপালী ভাষায় পোখ্রা বা পোথরী শবের অর্থ পুঞ্চ- 
রিণী। এই নৈসর্গিক পুক্করিণী-বন্থল বলিয়াই উপত্যকা- 
টার নাম পোখর! হইয়াছে। 
(5০ 11০5৮ 01 1980718 


56621 12106 121568, 0010, ৮121012 61:0000- 


6060103 


59106 16 0515565 5802100--0126 6510 
[০000 0 09015 009250806 2 8200 02 
[0160 91 5094105 ৮৮০০০019610, ) 

রূপাতালের ভীরভূমি কণ্িমাক্ত, কাযেই তীরে যাইতে 
পারিলাম না। হুদের অপর পারে উচ্চ পর্বত। পর্বতে 
ঘর বাড়ী এবং লোকজন এপার হইতে দেখ! যায়। হদে 
পদ্মফুল দেখিলাম। নেপালে বোধ হয়, পদ্ম শব্খ প্রচলিত 
নাই-আমার গাইড পল্মকে “কমল* বলিল। 

সন্ধ্যার পরে ধর্মশালায় প্রত্যাবর্তন করিলাঁম। 
আমরা বিশ্রাম করিতেছিলাম সেই সময় সারিন্া হস্তে 
এক কিন্গর আমাদের প্রকো্ঠে প্রবেশ করিল। এ 
ব্যক্তি জাতিতে এবং ব্যবসায়ে কিন্নর কিন্তু আস্কৃতিতে 
নর। মে আসিয়াই অন্থমতির কোন প্রতীক্ষা! না 
করিয়া! সারি'দ! বাছাইয়। গান আরম্ভ করিল। 

নুপারিটারে নাইডুর তামিল গান ব| মান্‌ চৌকা় 
বালকথয়ের গানের স্তায় এ গানটা সম্পূর্ণ অবোধ্য নছে। 
প্রত্যেক শব্দের অর্থ বুঝিতে ন! পারিলেও ভাব বেশ 
বুঝ! গেল। 


হোম্‌ বোম্‌ মহাদেও সদাশিব নাথা 
রঙ্গ [বিরঙগ অভিঙ্গলে মাতা। 


গারত্রীক! পুত্রা বৃখ বাহন চড়ি 
তৃখ চলে সংসাথ। 
রক্ষণ করি ত্রিথগুলে আই 
তাহ৷ দেখি তিন ভাই প্রকট উদাই 
রা! বিষ মহেস্বর তিনেই জাত 
তিন গুণকে শাস্ত্র বনায়ে। 
রজঃ সতঃ তমগুণ ধন ঘট। লিয়ে 
এক পরগম, গমপর স্যষ্ি 
এতি চারি ধুগ.কা জ্ঞান, জ্ঞাতু পরব্রঙ্ম ভগবান 
চারি যুগে চারি বর্ণ ছায়ে। 
ঘর ঘর বাই অলখ. যোগাঁই 
দশ দিন হুঞ স্থষ্টি অগৎলাই 
ধরম্‌ রচে মনাম| সব বাপ তাই 
পত্তনকা ঝোলি ভরাই। 
জনি বঙ্গুদ্ধর! যুন্ম মচায়া 
বিভৃতি গোলা মাথা চড়াই। 
জান জ্াতুকাঁ পরংবঙ্গ ভগবান 
সত্য ত্রেতা ঘ্বাপর কলি চার যুগে 
চারিবর্ণ ছায়ে। 
মহাদেওকা ধ্যানা ধরমকো জ্ঞান! 
তুমি রচে তগবান স্থষ্টি নর নামা 
নমখওড পৃথিবী, চৌদ্দ ভুবন পালন করে ভগবান 
স্বেতবর্ণ পীতবর্ণ রক্ত বাঘান্বর ভস্ম মাথা, 
ঝুলি বাছুলি মে, লিয়ে বজর ঠিহা বাগ! 
বিধুঃকো চোকামে গিয়া, অলথ, যোগার! 
সব দেওত। গর্জন তঅ নাম। 
বাব, বাহাছুরকো! কুল লিয়া জন্ম 
“কর্মকো! ফলিতলি, সদাশিব ভা" 
গুরু বাবা সম্‌ গিয়া মাথা মুড়াওন! 
গুরু বাবা দিয়! গেক্ুয়া বরণ। 
যমূকো জালা মায়েক! বন্ধন 
শুরি দেওন! ভগবান 
ধ্যান্‌ কর্‌চু অলখমে যান! । 
সঙ্গীতান্তে কিছু পারিশ্রমিক লইয়া কিশ্নর বিদায় 


মীনর্সী ও মন্দ্বাণী 


[ ১৫শ বধ--১ম খ€্ু--২য় সংখ্যা 


গ্রহণ করিল। আমরাও আহারাস্তে বিশ্রাম গ্রহণ 
করিলাম। ূ্‌ 

১৭ই মার্চ প্রাতে ৭টায় সাতম্যুনে ত্যাগ করিয়া 
৯.৩ মিঃ পোখ্বায় পৌছিলাম। সাতম্যুনে হইতে 
পোখরা পর্য্স্ত "চড়াই উত্রাই” মাত্র নাই, তবে পার্বত্য 
দেশ, ঠিক আমাদের বঙ্গদেশের মত সমতলভ্ুমি নহে। 

শ্বেতী গগ্ডকী পার হইয়া পোখ্‌র! বাজারে আসি- 
লাম এবং এক দোকানের বারান্দায় আশ্রয় গ্রহণ করি- 
লাম। উপবিষ্ট অবস্থাতেই একটু তন্ত্রাবেশ হইল। 
কে যেন অ.মার দক্ষিণ হস্ত স্পর্শ করিতেছে টের পাইয়া 
চাহিয়! দেখি এক নেপালী “দখ.সিনা” “্দখ সিনা” বলিয়! 
আমার হাতের মধ্যে একটা মোহর গুজিয়া দিয়া গেল। 
ব্রহ্মগার্ীজীকেও ঠিক্‌ এ ভাবে দক্ষিণ! দিনা সে ব্যক্তি 
ক্রুতগতিতে চলিয়া! গেল । 

আমাদের সম্ুথস্থ রাজপথ দিয়া মিছিল ( [:0০99- 
৪10 )-করিয়! একখানা পান্ধী যাইতেছে এনং অনেক 
লোক পাহ্বীর অনুসরণ করিতেছে! এক ব্যক্তি এক 
খানা প্রকাণ্ড থালা হইতে পশ্চাৎ দিকে পয়সা ছড়া. 
ইতেছে এবং ভিখারীর দল কাড়াকাড়ি করিয়া পয় 
গ্রহ করিতেছে। | 

অনুসন্ধানে জানিলাম এক ধনী ব্যক্তির মৃত্যু হইয়াছে। 
তাহার শবদেহ পান্ধীতে কারয়। শ্মশানে লইয়া! যাইতেছে 
এবং আত্মার সদগতির জন্য দান করিতেছে। 

মৃত ব্যক্তির আত্মার গ্রীত্যর্থে দান গ্রহণ করিতে 
ইইয়াছে বলিয়া ব্রহ্মচারীজী একটু কুপন হইলেন, কিন্তু 
নিরুপায়। দাতা অনেক দুরে চলিয়া গিয়াছেন 'এখন 
আর প্রতিদানের উপায় নাই। *যে। আপ.সে আদ 
হায় উস্কে! আনে দি জিয়ে” এই মহাজন বাক্য উল্লেখ 
করিয়। ব্র্ষচারীজীকে সাত্বনা দিলাম। 

বেলা ১১-৩০ মিঃ গাইড. ও ভারিয়! আসিয়া! পৌছিল। 


গাইড, তখন “সনদ” ( অনুজ্ঞাপত্র ছই খানিকে গাইড 


সনদ বলিত ) লইয়া! আড্ডাতে গেল। (আড্ডা শব্ের 


অর্থ আফিল, যেমন "্নুল্কী আড্ডা” (0011৩ ০০৯, ) 


প্জঙগী আড্ডা” (212116915 ০920০)। কিছুক্ষণ পরে 


টৈস ১৩২৯] 


বিবাহের যৌতুক 


১১৭ 





"আইটন্‌* (8331950£ অথবা! £0)%6৭06-ইনি 
সৈনিক কর্মচারী) “মুবিয়া” (76901000 ) এবং 
আর একজন কর্মচারী আমিলেন। এই তৃতীর কর্ম 
চারীটার নাম ঘুর জঙ্গ | ইনি নেপাল দরবার স্কুল 
হইতে মেটিকুলেশন পাঁশ করিয়া এখন রাক্ধকাধ্যে 
শিক্ষানবীশ অবস্থায় পোখরায় আছেন। ইন, ইংরাঁজীতে 
জালাপ করিলেন, আমারও তাহাতে আলাপের অনেকটা! 
স্থুবিধা হইল। 

বাজারের মধো একখান! দ্বিতল গৃহ পরিষার করিয়া 


আমাদের বাসের অন্য নিদ্দিষ্ট হইল এবং আমাদের 
পন্িচর্দ্যার জন্ত সরকার হইতে একজন লোক নিষুক্ত 
হইল। ব্রক্ষচারীজী ও আমি নিকটবর্তী শ্বেত গণ্ডকীতে 
নান করিয়। মধ্যাঙ্কে জলযোগ করিলাম। আমার গাইড. 
চারিদিনের ছুটা লইয়। নিকটবর্তী পর্বতে তাহার বাড়ীতে 
গেল। আমর! পোখ্-্রায় চারিদিন বিশ্রাম করিব বলিয়! 
স্থির করিলাম। 
ক্রমশঃ 
শ্রীশরচ্চন্্র আচার্য্য । 


বিবাহের যৌতুক 
(গল্প) 


“মহা! মুক্িলে পড়েছি হে--* 

প্রতরাশ সমাপন করিয়া সবে মাত্র “অমৃতবাজার 
পত্রিকা র সম্পাদকীয় স্তস্তে মনোনিবেশ করিতেছি, 
এমন সময় বাল্যবন্ধু অমর ঝড়ের মত গৃহমধ্যে প্রবেশ 
করিয়। ম্বতাবসিন্ধ চঞ্চলতার সহিত বলিয়! উঠিল-- 
মহা! মুলে পড়েছি হে।” আম অমরের স্বতাঁব 
জানিতাম। দিনের মধ্যে সে অস্ততঃ বিশবার “মহা 
মুফধিলে* পড়িয়া থাকে | বিশেষতঃ তাহার বিবাহের দিন 
যতই নিকটস্থ হইতেছে, ততই তাহার মুক্ধিলে পড়াও 
বাড়িতেছে। এই সকল মুফিলের আসান করিতে সে 
আমাকেই অস্ধিতীয় উপযুক্ত পাত্র স্থির করিয়াছিল। 
ধদদিও একবার ব্যতীত দুইবার বিবাহ করি নাই, এমন 
কি দ্তীক্ববার বিবাহ করিব না পত্থীর নিকট এইবপ 
প্রতিজ্ঞাপাশে আবদ্ধ আছি, তখাঁপি অমরের বিবাহসংক্রান্ত 
যাবতীয় জটিল সমন্তার সমাঁধানে আমি তাহার প্রধান এবং 
রোধ হয় একমাত্র উপদেষ্টার আসনে বৃত হইয়াছিলাম। 
আমি হাসিতে. হামিতে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,”অমর, 
“কি মুষ্কলে পড়ল ?*. 


অমর গম্ভীরভাবে বলিল, প্হাসির কথা নয় হে, 
এব!র সত্যি সত্যিই মহা বিপদে পড়েছি।” 

আমি পুনরায় হাসিতে হাসিতে বলিলাম, "কোন্‌ 
বারেই বা সতিকার মহাবিপন্ধে পড়নি*?” 

“ন] হে না, এবারে ভারি” 

"আচ্ছা, আচ্ছা,তাল করে আরাম কেদারাটায় বস -. 
তোমার বিপদের কথাটা শুন্ছি। একটু চা দিকে যা, 
কি?” 

অমর সম্মতি জানাইল। আমি ভৃত্যকে চা আনিতে 
আদেশ দিয়৷ একটি চুরুট ধরাইয়া অমরের মুখের দিকে 
চাহিলাম। 

চাপান করিতে করিতে অমর বলিল "আমার 
বিবাহ সম্বন্ধে আমার মাতামহের মত'মত তুমি ত 
জান?” 

আমি বলিলাম, “যা ।” 

"সম্প্রতি তিনি তার আশীর্বাদ জ্ঞাপন করে দীর্ঘ 
পত্র লিখিয়াছেন এবং একটি অপূর্ব যৌতুক -পাঠিয়ে- 
ছেন। তিনি লিখেছেন.কোনও অনিবাধ্য কারণবশতঃ 


১১৮ 
আমার বিবাহের দিন তিনি উপস্থিত হতে পারবেন 
মা।” 

“অপুর্ব যৌতুক 1” 

“হা, অপূর্ববই বলতে হবে, এরকম যৌতুক কেউ 
ফখনগ পেয়েছে বলে” গুনি নি।” 

শ্জিনিটা কি?” 

শ্তিনহাজার টাকার ইন্সিওর করা একটি 
নেক্‌লেসের বান্স ।” 

“মন্দ কি?” 

কিন্ত বাক্সটির মধ্যে নেকুলেসটি নেই!” 

প্ৰলকি? তা হলে নিশ্চয়ই নেক্লেসটি চুরি 
গিয়েছে। পুলিসে খবর দিয়েছ কি?” 

_ শপুলিসে খবর দিয়ে কি করব? তুমি মনে কর 
দাঁদামশায় সত্যিসত্যিই তিনহাঁজার টাকা দামের একটি 
নেকলেস পাঠিয়েছেন? তা হলে তুমি আমার দাঁদা- 
মহাশরের সম্বন্ধে কিছুই জান না। তিনি খামধা এত 
খরচ করবার পাত্রই নন।” 

“তা হলে আত টাকা ইন্সিররেন্স ফী দেবার 
অর্থকি 1” 

"রী ত মজা দেখান হল যে তিনহাজার টাকার 
একটি গহন! তিনি পাঠিয়েছেন, চোরে চুর্ধি করে? 
মিয়েছে।” 

“আমার ত' সত্যি সত মনে হয় চুরিই গিয়েছে” 

“মা হে না, শীল মোহর গ্রতৃতি ঠিক ছিল, 
আমি কি না দেখেই ডাঁকঘরের কর্তাদের ছেড়ে 
দিয়েছি?” 

“তা, কি করলে তুমি?” 

*আমি দীদামশীয়কে তার বনুমূহ্য যৌতুকের জন্তে 
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে' দিন ছুই হ'ল পত্র লিখেছি। 
তুমি ত জান তাঁর পছন্দসই জিনিষ অতি চম্থকার ন 
বন্ধে তাহার মেজাজ বিগড়ে যায়।” 

“তা বেশ। এখন বিপদট। কি?” 

“আজ বাবুগঞ্জ থেকে একটি লোক এসেছে, তাঁর 
হাতে দাদামশায় আর একখানি চিঠি দিয়েছেন এবং 


মানর্সী ও মর্ম্মবাণী 


[ ১৫শ বর্ব--১ম ধ8--২য সংখ্যা 


জিজ্ঞাসা করেছেন নেকৃলেসটির মা্খানে হক 
আর চারিদিকে পান্না বসিয়ে- দেখতে তাল হয়েছে 
কিনা!” 

শতুমি কি কর্লে?” 

"আমি লিখেছি অতি চমৎকার মানিয়েছে। এমন 
নেকৃলেস আমি দেখিনি 1” 

“আমার বোধ হয় তোমার দাদামশার ভুলক্রমে 
নেক্লেসটি পাঠান নি। তোমার তাঁকে জানান উচিত 
ছিল।” 

পন হেনা। তিনি কি রকম রুপধ তা তজান ঝ। 
তিনি এর বাক্সটি দিয়েই নেকৃলেস দানের পুণ্য করতে 
চান। ভুমি জাননা আমাদের নীরর্দ বাবু কি 
করেছিলেন ?* 

«কি করেছিলেন ?+ 

*্তার ভাগিনের বিখ্যাত প্রত্বতত্ববিৎ গোপাল 
বাবুর বিবাহের সময় সকলেই বল্লেন তোমার অগ.ধ 
বিষয়, আর একটিমাত্র ভাগিনেয়, একটা দামী কিছু 
জিনিষ উপহার দেওয়া উচিত। মীরদ বাবু বল্লেন 
'তা ত” বটেই। তারপর গোপাল বাবুর বিবাহের সময় 
পাটন! থেকে নীরদবাবুর ইন্সিওরকর! একটি প্যাকেট 
এসে উপস্থিত &ল। সকলে দেখবার জন্ত ব্যগ্র 
হলেন। মোমজামার ভিতর কাঠের ছোট বাক্স । তার 
ভিতর কাঠের গুঁড়ো। তার তিতর ব্রাউনকাগজে 
সযত্বে মোড়া একটি ভাঙগ! পাখরবাটী। তৎসঙ্গে 
একখানি শুদ্র কাগজে নীরদবাবু লিখেছেন “বাবা 
গোপাল, তুমি বিধাতার অনন্ত জন ভাগারে প্রবেশ 
করিয়া যে রত্ব আহরণ করিতেছ তাার নিকট পাখি 
ধনরত্ব কিছুই নহে। এই ভাঙ্গা! পাখরবাটাটি অধস্বে 
মাঁটার নীচে পড়ি! ছিল, হয়ত উহ! চকু কিংবা! 
অশোকের সময়ের। আমরা উহার মূল্য জানি মা, 
কিন্তু ভূমি উহার মুল্য কত নিশ্চয়ই জান। সুতরাং 
অকুষ্ঠিত চিত্তে তোমাকে আমার আশর্বাদী স্বরূপ 
উহ! পাঠাইলাম? বল! বাহুল্য পাথর বাটানটি ঘাস কয়েক 
মা পূর্বে নীরদ বাবুর ঝি বাজার থেকে কিদে 


চৈ, ১৩২৯ ] 


বিশ্বাহের যৌতুক 


১১৯ 








প্পাপিসিপ্পসপিসপাপা্পিিসিপিসিসি সিসি 





এনেছিল এবং তা ভেঙ্গে ফেলবার জন্তে জরিমানাও চির হারান; তাছার উচ্ লতা অমরের মাতার 


দিয়েছিল।” 

*গোপালবাবু কি করলেন 1” 

“গোপাল বাবু কিন্তু মামার উপহারটি সাদরে গ্রহণ 
করেছিলেন। তার উপর এমন একটি গবেষণা" 
পূর্ণ প্রত্বতত্ববিষয়ক প্রবন্ধ লিখে বাঁগবাজার এ্টিকোয়ে- 
্বিয্যান দোসাইটার এক সভায় পাঠ করেছিলেন যে 
সভায় ধন্ত ধন্ত পড়ে গির়েছিল।” 

“যাই হোক্‌, এখন তুমি যথার্থই মনে কর যে অগাধ 
সম্পত্তির মালিক তোমার মাতামহ তার একমাত্র নাতির 
বিবাহে শৃন্য হস্তে আশীর্বাদ করেছেন?” 

“আমার তকোন সন্দেহই নেই। তুমি জান তিনি 
টাকাকড়ি সম্বষ্ষে আমার প্রতি কি রকম ব্যবহার 
করে এসেছেন। এখন এমন বুদ্ধি খেলেছেন যে হয়ত 
নেকুলেস হারাশোর জন্তে আমাকেই সম্পূর্ণ দায়ী কর্বেন। 
আমি কেবল ভাবছি তখন আম কিরকম করে তার 
এই প্রতারণ! বরদাস্ত কর্ব।”* 

পমাচ্ছ। আমি ভেবে দেখি। বিপদ বখন রি 
তা! হতে উদ্ধারের উপায়ও তখন নিশ্চয় আস্বে 


চি 


পাঠক পাঠিকাগণকে অমর ও তাহার মাতামহের 
একটু পরিচয় দেওয়া আবশ্তীক। অমরের মাতামহু 
ঘনস্তাম বাবু বাবুগঞ্জের প্রসিদ্ধ জমিদার। তাহার অগাধ 
বিষয়সম্পন্তি। অন্নবয়সেই ঘনস্টাম বাবু বিপত্বীক হন, 
একমাত্র কন্যার মুখ চাহিয়া! সংসারযাত্র! নির্বাহ 
করিতেহিলেন। যথাসময়ে একটা সুপ ও সুস্থকার 
দরিদ্র যুবকের সহিত কন্তাটির বিবাহ দিয়! জামাতাকে 
নিজগৃহে পুত্রের ন্যায় প্রতিপালন করেন। খনশ্াম বাবুর 
জামাতা! বতীন্নাথ বি-এ পাশ করিয়া বিলাতে গিয়া 
ব্যারিষ্টার হইবার .ইচ্ছ। প্রকাশ করেন এবং ঘনশু!ম 
' খাবু অত্র অর্থবায় করিয়া জামাতাকে ইংলগ্ডে বিস্তা- 
শিক্ষার্থ প্রেরণ করেন। তখন তাঁহার দৌদিত্র অমর 
 খাকমাসের শিঞ্ড। যতীক্জ বিলাত গিয়া কুসংসর্গে পড়িয়া 


মৃত্যুর কারণ হয়। কিছুকাল পরে বতীন্্রনাথ দেশে 
ফিরিয়া আসেন এবং অত্যধিক পানদোষ ও অস্তান্ত 
অনাচারের জন্য অকালে মৃত্যামুখে পতিত হুন। 

ঘনগ্তাম বাবু সেই অবধি অমরকে মানুষ করি 
আসিতেছেন। তিনি তাহাকে উচ্চ শিক্ষা দিয়াছিলেন, 
কিন্তু যাহাতে সে কোনও রকমে বিলাসী না হইয়া 
গড়ে সেই দিকে তাহার বিশেষ দৃষ্টি ছিল। বাস্তবিক 
খন অমর মেসে থাকিয়া আমাদের সঙ্গে পড়িত, তখন 
আমরা তাহাকে নিতান্ত দরিদ্র বলিয়াই জানিতাম। 
সে যে ঘনশ্াম বাঁবুর অগাধ বিষয়ের উত্তরাধিকারী তাহ! 
কেহই আমর! জাঁনত'ম না । অমর সেজন্যই তাঁহার 
দাদামহাশয়কে অতিশয় কৃপণ বলিয়া জানিত। তাহার 
স্নেহের একমাত্র অমরকে তিনি যে ভাবে রাঁখিয়াছিলেন 
তাহাতে সকলেই তাঁহাকে কৃপণ বলিয়া মনে করিবে 
তাহাতে আশ্চর্য্য নাই। 

যখন অমর এম-এ পাশ করিয়া বিলাত গিয়া 
ব্যারিষ্টার হইবার ইচ্ছা প্রকাশ 'করিল তখন ঘনশ্াম 
বাবু প্রবল আপত্তি করিলেন। অবশেষে অমর তাহার 
কোনও বন্ধুর সহিত গোপনে বিলাত যাত্রা কৰে। 
সেখান হইতে তাহার অর্থাভাব জানীইলে ঘনস্তাম বাবু 
টাক1 পাঠাইতে আরম্ভ করেন, কিন্তু তিনি এরপভাবে 
টাকা পাঠাইতেন যাহাতে একটি দরিদ্র ছাত্র ইংলণডে 
কোনও ক্রমে দিন গুজরাণ করিতে পারে। 

বিলাত হইতে ফিরিয়া আসিলে বিখ্যাত ব্যারিষ্টায় 
মিষ্টার রায়ের কন্তার সহিত অমরের বিবাহের বথ! 
উঠে। পাত্রী অমরের মনোমত হইল কিন্তু এবারেও 
ঘনস্তাম বাবু প্রবল আপত্তি. তুলিলেন। তিনি বিলাত- 
ফেরৎ সমাজের উপরেই খড্ঠাহস্ত হইয়াছিলেন এবং সেই 
সমাজে যে ভাল ভাল লোক থাকিতে পারে কিছুতেই 
তাহা বিশ্বাস করিতেন না। 

কিন্ত ব্যাপার এন্সপ গড়াইয়! গেল যে মিস্‌ রায়ের 
সহিত অমরের বিবাহ স্থির না করিলে উভয় পক্ষেরই 
দারুণ মনঃকষ্ট হয়। নৃতরাং বিবাহের দিন স্থির করিয়া 


১৫৬ 


অমর তাহার দাদামহাশয়কে পত্র লিখিল। দাদামহ!শর 
বোধ হয় তাহার ক্রোধ গোপন করিয়া লিখিলেন, 
“অনিবার্ধ্য কাঁবণ বশতঃ* তিনি বিবাহস্থলে উপস্কিত 
হইতে পারিবেন না। কিন্ত ভিনি যে নববধূকে শুনাহস্তে 
আশীর্বাদ করিবেন তাহ! আমার বিশ্বাস হইতেছিল না। 


৫ 


৩ 


অমরের বিবাহ হইয়া! গিক্লাছে। আজ গ্রীতি- 
ভোজনের নিমন্ত্রণ। আমি অয়রের বাসায় উপস্থিত 
হুইবামাত্র অমর আমাকে হলের এক কোণে টানিয়! 
লইয়া! গিয়া বলিল, “ভারি বিপদ হে-_» 

মামি বলিলাম, “কি হয়েছে?” 

প্দাদামশায় এসেছেন।” 

“বেশ ত!» 

প্তিনি নেক্লেসট! দেখতে চাইছেন। তিনি বলছেন 
নেকলেসের দৌলকট1 জহরীদের যে রকম বলে দিয়ে- 
ছিলেন সেইরকম করেছে কি না নিজে দেখতে চান।” 

“উপায় ?” 

*নিরুপায়। আমি বলেছি আল্মারীর চাবিট! 
কোথায় ফেলেছি, খুঁজে দেখ্ছি। তিনি ত ভারি 
বকৃ্ছেন। বল্ছেন আজকের দিনে নববধূকে তার 
জাশীর্ববাদী নেক্লেসট! কেন পরান হয়নি ?” 

“আচ্ছ৷ আমি দেখছি, কি করতে পারি।” 


৪ 


হলের মাঝখানেএকটি কৌচে মিষ্টার রায় ও ঘনস্টাম 
বাবু বসিয়। কথা কহিতেছিলেন। খধনস্তাম বাবু বলিলেন, 
“আপনার সঙ্গে কথ কয়ে আমি ভারী খুসী হলেম। 
বিলেত ফেরত সমাজে যে এরকম লোক আছে আমার 
ধারপাই ছিল না। বিবাহের রাত্রে না আম্তে পারায় 
ভারি ছুঃখিত আছি। আমার প্রতিবেনী ও বা-াবন্ধ 
মথর! বাবুর শেষ অবস্থা। তার এরকম বাড়াবাড়ি হল 
হে আমার আসা! হয়ে উঠল নাঁ। এখন একটু সুস্থ দেখে 
এসেছি।” 


মানসী ও মর্খবাদী 


[ ১৫শ বধ--১ম খত --২য় সংখ্য। 


মিটার রার বলিলেন, *আপনি এই বসে যে বাধুগঞ্ 
থেকে কল্কাতার এসেছেন এই বথেষ্ট।* 

ভামি কৌচের পশ্চাতে দণ্ডায়মান ছিলাম। বুক- 
ঠকিয়া সম্পুথে আসিফ! বলিগাম, *এখানে খনশ্াম বাবু 
আছেন !” 

ঘনশ্যাম বাবু বলিলেন, “কেন? আমি ঘনশ্তাম ব বু।* 

“টেলিফোনে একজন বল্লেন বিবিগঞ্জের বৃন্দাবন 
বাবুর শ্বাদ হয়েছে। বাড়ীর লোকেরা আপনাকে খবর 
দিতে বল্লেন।” রা 

প্বাবুগঞ্জের মথুরা বাবু কি?” 

“হা হা এ নামই বটে ।* 

“তাই ত! কি করা যায়?” 

মিষ্টার রায় বলিলেন, "আপনি কি এখনই যেতে 
চাঁন?” 

নি বাবু বলিলেন, "যেতে ত চাই, কিন্তু এখন 
ট্রেখ পাওয়া যাবে কি ন! সন্দেহ, আমি বিপদে পড়লাম।* 

মিষ্টার রায় বলিলেন প্তারর আর কি? আমার 
মোটরে আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি ।” 

আমি সেখান হইতে সব্রিয়! পড়িলাম। বলা বাহুলা, 
টেলিফোনে এঞ্রাতীয় কোনও সংবাদই আসে নাই! 
বুড়াকে তাড়াইবার এই ফিকির ছাড়া অন্ত কিছু আমার 
মাথায় আসে নাই। 


৫ 


ইহার পর কয়েকদিন চলিয়া গিয়াছে । আজ 
আঙ আমার অমরের বাসায় তাহার নবপরিণীতা- 
বধূর গান গুনিবার নিমন্ত্রণ । আমি গৃহে প্রবেশ করিব! 
মাত্র অমর আমাকে আলিঙ্গন করিঙা। বলিল, "ভারি 
বিপদে পড়েছিলাম হে--» 

আমি বলিলাম, প্যাক, বিপদট। 
গিয়েছে ত?” 

অমর নববধূর ৰিকে চাহিয়। হাসিয়া! বলিল, “হয ।” 
বধৃও মৃছ হাদিতে লাগিল । আমি নব ধূর কণ্ঠে একটি, 
বহুমূল্য নেকৃলেস্‌ লক্ষ্য করিলাম। 


এখন কেটে 


দ্ৈত্র, ১৩২৯] 


স্বাি জিজ্ঞাসা! করিলাহ, “এ ন্ক্লেস্টী কোথা 
খেক £ল? তোমাকে ক্ষতিপূরণ করতে হুল ন! কি?” 

অমর বলিল, পটে নিয়েই স্ব বিপদ ঘটেছিল।” 

গ্ৰা।শারটা |ক করেছিল হে?” 

ৰ্যাপারট। খুব সোজ!। ঠাকুরলাল হীরাঁলাল কোম্পা- 
মীর দোক!নে দাদামশায় একটী নেকলেস পছন্দ করেন 
এবং ইন্সিওর করে আহার গ্রিকানায় পাঠাতে বলেন। 
জছ্রী তখনই এক কর্শ্চারীকে সেটি প্যাক করেঃ 
পাঠাতে আদেশ দেয়। কর্শরচারীটা প্যাক করবার 
সরঞ্জামাদি আনতে গিয়েছে ইভাবসরে দাদমচাশয় জার 
একবার নেক লেস্ট দেখে দোলকটি পরিবর্তন করবার 
ইচ্ছা প্রকাখ করেন। জন্থরী নেকলেস্টি নিয়ে 
কারিকরকে ডেকে বখা বধি আদেশ দিয়েক্ে ; দাদা- 
ঈহাশরগজ ঘরে ফিরে এসেছেন। এমন সময়ে 


ইঞজিপ্টে নৰ আবিষ্কার 


১২3 


পূর্বোক্ত কর্ণচারিটি এসে নেকলেসের বাঝট পূর্বা- 
স্থানে দেখতে পেয়ে পাক করে' পূর্ব আদেশমত 
মার ঠিকানায় ইন্সিওর করে” পাঠিরে দিয়েছে 
মোঁদন জন্থরী নেকলেসটী পরিবন্তিত করে পাঠাবায় 
সমর সমস্ত হটটন! জানতে পারে এবং ক্ষমা প্রার্থন| 
করে গন্ধ লিখে নেকলেসটা দাদামহাশসকেই পাঠিয়ে 
দে। আমর! সেদিন দাদামহাখরকে প্রণাম করতে 
গিয়ে ত ভারি ভারি অগ্রস্তভ হয়েছিলাম । দাদামহাশয় 
একজন ভদ্রফহিলার সপ্মুখ আমার থে কাণ মলে? দিয়ে- 
ছিলেন তা” 

অমর বিকৃতমুখ্ভ্গী কির কাণে হাত বুঙ্গাইতে 
লাগিল, নববধূ হাসিয়া উঠিল । ঃ 

আমি বলিলাম? “বাক, লব ভাল বার শেষ সকাল ।” 


ভ্রীবিভাবতী ঘোষ। 


ইজিপ্টে নব আবিষ্কার 


বিগত ১৯২২ ত্রীষ্টাব্ধের ডিসেম্বর মাসে লর্ড কার্ণারতন্‌ 
(70৭ 02921০০ ) কর্তৃক ইজিপ্টের লাঙ্গর 
[41০0 নগরে সমাট্‌ তৃভাঙক্ষেদেনের (1005 018 
105) সমাধি মন্দির আবিষ্কৃত হইয়াছে। লাঙ্গর 
জাজ লোকে লোকারপ্য। দেশ বিদেশ হইতে, এমন 
ফি ভ্দূর আমেরিকার যুক্ত প্রদেশ সমূহ হইতে দলে 
ছলে দর্শক লাক্ষরে স্াগত হইতেছেন। ফোটরে যোটরে 
এবং এয়ার! পানে এই নগর জাজ গ্লাবিত। ওংস্থকে র 
চাঞ্চল্য নিবাণ হেতু সরকার হইতে বিশেষ রক্ষী বা 
স্পেণাল গাডের বন্দোবত্ত হুইয়াছে। 
লাক্ষরের সন্নিকটে ইজিপ্টের প্রাচীন ক্বাজবংণের 
সমাধিক্ষেত্র রাজ উপতাক। (ড৪1165 ০1 8৩ 71005) 
নত পরিতিত | এই স্থানটি কু পর্বাতঙালা সঙ্গাকীর্ণ; 
পর্বতের ভিতর দিয়া অগ্রশত্ত পথ এবং পথিপার্থে 
মাঝে, মাঝে গুণ গ্রফোষ্ঠ সমূহ বিস্তদাদ। এই সক 
১৬ 


প্রকোষ্ঠ যে কতকান পূর্বে নির্িভ হইয়াছিল, সভা 
বল! হুঃসাধ্য হইলেও পুরঝাতাত্বকদিগের অদমা উৎমাহ 
ও অধ্যবগায়ের ফলে ইনাথের অনেকগুলির এঁডিছাসিক 
বিবরণ ইতিষধো সন্কলিত হইয়াছে। 

প্রাচীনকালে হিশরীঘিগের মধ্যে মৃত্তদেছ রক্ষার 
বিশিষ্ট ব্যবস্থা ছিল। এই বিশিষ্ট ব্যবস্থাকে “মামি- 
ফিকেশন্” (72405791909500 ) এবং এই উপারে 
রক্ষিত দেহকে প্মাহ।” (20202005 ) কছে। প্মানীশ্র 
ছই চারিটি নধুনা অনেকে কলিকাতার "এশিয়াটিক 
মিউজিয়ষ্* বক ফাছুঘরে তক্গাবন্থায় দেখিয়া! খাকিবেন। 
মিশরীদের “মামিফিকেশন* ব্যাপার একটি ছোট খাট 
যজ্জবিশেষ ছি বলিলেও অত্যন্ত হয় না। এই 
অনুষ্ঠানে কত প্রকার আয়োজন উদ্যোগ ও মগ্রতগ্্রাদি 
প্রক্রিয়। অবস্তীক হইত, এই প্রবন্ধে ভাড়ার উল্লেখ 
নিশ্রয়োজন | :.ফলতঃ বিষ্চিষ্ন সময়ে বিডির সমাজের 


১২ 


লোক বিশেষ বিশেষ উপারে “মামী” প্রস্তত করিত। 
মিশরীর!1 পরোক্ষভাবে মানবের কর্মাফলে বিশ্বাসপরায়ণ 
ছিল। তাহার! ইহাও মনে করিত যে, মানবের, এমন,কি 
পণ্তপক্ষীরও ছুইটি করিয়া আত্মা আছে। মৃদ্ভার পর 
শকা” (০) নামক দ্বিতীয় আত্ম। কিছু কালের জন্ত 
দেছে আবদ্ধ থাঁকিয়৷ যথাসময়ে নবদেহছ লাত; করে।' 
এই ধারণার ফলে নুদীর্থকালের জন্ত দেহরক্ষীর উপায় 
উদ্তাৰিত হয় এবং এই জন্যই তাহারা প্মামী*র সহিত 
মৃত আত্মীয়ের জীবিকা! ও প্রির'ভোগ্যের নিদর্শন স্বরূপ 
নানাবিধ দ্রব্য সঞ্চিত রাখিত। * অর্তীত, জীবনে 
বে ব্যক্তি বে বস্তর প্রতি আসক্ত ছিল বা যে 
উপায়ে জীবন যাত্রা নির্বাহ করিত, ভাবী জীবনেও 
সে ব্যক্তি সেই বন্তত্র প্রতি. আসক্ত হুইবে এবং সেই 
উপায়ে: জীবন যাপন করিবে, অশনভৃষণের সরপ্রাম 
রক্ষার ইহাই উদেগ্য ছিল। ধনীব্যক্তির আত্মীরেরা 
তদীয় সম্মানোপযোগী বন্ুমূলাবান অলঙ্কারাদিও সঞ্চিত 
বাখিতেন এবং তন্করের ভয়ে তাহাদিগকে অতি সাবধানে 


এবং সংগোপনে শমামীশ রক্ষা কক্রিতে হইত । লোক-. 


চক্ষুর অন্তরালে গিরিগর্ভে “মামী* করার ইঠাই একমাত্র 
কারণ। বড় লোকের দেহের সহিত যে কেবল তোগ্য- 
বন্তাই থাকিত, তাঁহ। নহে; পরস্ধ তাহার জীবনেতিহাস 
এধং তৎসামক্ষিক অবস্থাও কা্ঠ ব| প্রন্তর ফলকে 


»ঞ্ 10 10৪, 0 1)00019, 11560 ক্11]) (20 1১00 10 


079 00১) (& ০))8191001, 91 101) ১8৮৪ 681)০01511 
৪6৮ ৪78৮৮ 001৮) 870 রর (১9 1009089 000. 


90191006 72)800 19 10466502068 080 নিৃলাা08 115 টিয়া 
9100০ চে স৪8-11)2৮ 9£ 1119 200 (0 %1)001৮ 61০0861 
09৮18 8991060 00 1/৮6 0061) 8) 10000860715] 80500 তঠ 
০910, 1)০ ২:8৪, 705৮8717701645 88089 6০ 5০, 


900008537৮০ ১৪. £701997 ৬15) 00751571891 090 ১ 


7891৮ 8০৫ (0৩ 78501408 0১,910, 13990, 0 42, 


৪৮90৪ 2:852৮508 91810010 ০০1 (001০ ৮০ 
0858০৪ 05৩ 7১০৫193 ০৫ (1১0 0০৯. ৩০৪1০১০, 11005 7995 
116550 /2০7 8160: & 80719৪ ০1 107110)18.0012)09$$ 80 0109 
8009৮ ০1৫ £09 8০০] (01000013506 0 0019) 
দা0310: 0009 0059 76৮0) 0 0১9-৫1%5 2) 1১301) 1৮174 
1980051)) 11%৩3.1৮5519) 05 47 


মানসী ও মর্ম্মধাণী 


[ ১৫শ বর্--১ম খণ্ড--২য় সংখ্য। 


উৎকীর্ণ থাকিত, অথণ!প্যাপিরাস্‌ ত্বকে লিপিবদ্ধ থাকিত। 
এই সকল ফারণ বশতঃ গত অর্থ শতাবীর- চেষ্টার: 
ফলে মিশর হইতে প্রাচীন সভাতার ইতিহাস অপেক্ষা- 
কৃত সহজে সঙ্কলিত হইয়াছে এবং হইতেছে ।' যে 
বিদ্তা বলে এই ইতিহাস সম্কলিত হয়, তাহাকে *ইঞ্জিপ্ট- 
লঙ্গি* (5৫510০1025 ) কছে।, . 

মোর্স উইলকিন্পন্‌ (চু(111100), সল্ট (9919. 
বেল্জোনি (861507$), মাস্পেরো! (4450০:০), গ্রেকী 
(0:6০) প্রভৃতি . অনেকেই ইতিপূর্ব্বে অনেক 
এতিহাসিক তথ্যের আবিফার করিয়াছেন। . মিঃ. 
থিও.ডার ড্েভিস্‌ (41. 7175000:6 109519) যখন, 
কয়েকটি .রাজকীয় সমাধিমন্দির এবং তন্মধ্যে রাজা. 
তৃতীয় এমেনছেটেপের এক প্রিয়া মহিষীর "পিতা 
মাতার “মামীশ্র আবিষ্কার করেন, তখন অনেকেই মনে” 
করিয়াছিল যে, রাজ সমাধিক্ষেত্রে আর কোনও বিশিষ্ট 
আকাজ্কষিত বন্ত থাকা সম্ভব নয়। সম্প্রতি লড 
কাণারভ্বন্‌ এবং তাঁহার সহযোগী মিঃ হাওয়ার্ড কার্টার 
(খা ০৯০ 02:৮০) এই আভিমত খণ্ডন 
করিয়া দিয়াছেন। ইহাদের উভয়ের অক্লাস্ত পরিশ্রম 
ষে কেবল সফল হইয়াছে, তাহা নয়, তদ্দারা .. আজ 
এক যুগান্তর উপস্থিত। ইহার! কয়েক বংসর.যাবৎ 
ইজিপ্টে কয়েকটি বিশিষ্ট ব্যক্তির পমামী*র অনুসন্ধানে 
ব্যাপৃত 'ছিলেন এবং কয়েকটি সমাধিমন্দির.আবৰিফারও 
করিয়াছিলেন। বর্তমান আবিষ্ধারের কিছু পূর্বের মিঃ 
কার্টার একটি ত্রিকোণাকার ভূমি খনন করিতে করিতে, 
গ্রায় সত্তর হাজার টন্‌ পরিমিত রাৰিশ বাহির করিবার 
পর .ষ্ঠ রামেসিসের (2:8206565 ৬7) সমাধির প্রা 
দলগজ ব্যবধানে পৌছেন। তখন তাহার হঠাৎ. মনে 
হয় যেন তিনি একটি নুতন সমাধি মন্দিরের নিকট 
উপস্থিত হইয়াছেন | এপর্যন্ত মাত্র তিনটি রাজ সমাধির 
অভাব. ছিল) রাজ! তৃতাঙক্ষেমেন, রাজী ন্বেঙক্গের! 
80060117279) এবং রাজ! তথমেস্‌ (10980069 1) 
এর সমাধি। কার্ণারভন্ও তাহার সহিত যোগ দেন। 
খুঁড়িতে খুঁড়িতে তাহারা প্রথমে একটি .সি'ড়ি দেখিতে, 


০ 


ঠচত্র» ১৩২৯ ] 


পাইলেন, তৎপরে শিল্মোহর কর] একটি প্রাচ'রের 
কিয়দংশ নয়নগোচর হইল। উহা! যে একটি সমাধি 
মন্দিরের প্রবেশ ত্বার, তাহাতে তাহাদের সন্দেহ রুহিল 
না) তৰে তাহার! মনে করিয়াছিলেন, হয়ত উহা তৃতীয় 
তথমেসের উজির বা কোন উচ্চ রাজবংশের কর্মচারীর 
সমাধি হইবে। কিন্তু .'অনুমন্ধান করিতে করিতে ক্রমে 
তাহারা প্রাচীরের একপার্ে তৃতা'ঙক্ষেমেনের “কার্ত,দ্‌” 
বা- পরিচয় পত্রের কবচ বিলম্বিত দেখিতে পান। এইরূপ 
কবচ ছুই দ্রিকেই বিলম্বিত থাক] নিয়ম, কিন্তু হার! 
কেবঙ্গ-একটি “কার্তম্*ই গাইলেন। দক্ষিণ পার্খে 
যে স্থলে “কাস” থাকা উচিত, মে স্থলে তুতাঙুক্ষেমেনের 
নিক্গ নামাঞ্কিত মোহরের পরিবর্তে রাজকীয় সমাধির 
সাধারণ মোহরের (১৫০ 91 0176 1২0%24 ₹০৫:01)09119) 
ছপ দেখা গেল। এই শিলমোহর গুলির মধ্যস্থলে 
একটি মাস্থষের প্রবেশোপযোগী পথ আছে এবং সেই 
পথ দিয়া তস্করেরা স্বর্ণ রৌপ্যাদি মূল্যবান দ্রব্য অপহরণ 
করিয়াছিল বলিয়া বৌধ হইল। অবশেষে মিষ্টার কার্টার 
ও লর্ড কার্ণারভন্‌ সমাধির প্রথম কক্ষে প্রবেশ করিয়া 
দেখিতে পান যে, সেই কক্ষে শ্লেট প্রস্তরে নির্শিত 
তিনট স্বৃহৎ -পালস্ক, তাহার প্রত্যেক খানিতে দুইজন 
লোক এককালে পাশাপাশি শয়ন করিতে পারে, 
কয়েকটি আশ্চর্য্য কৃত্রিম মন্তক এবং আদ্ুত রকমের 
অন্তান্ত দ্রব্য রহিয়াছে । পালস্ক. গুণি দেখিয়া! তাহাদের 
মনে হয় যে, উৎমবাদি উপলক্ষে সম্রাট, ও সম্রাজ্ঞী উহাতে 
উপবিষ্ট হইস্জ। কর্মমচারীদিগের নিকট রাজসম্মান গ্রহণ 
করিতেন। একথানি পাঁলক্কের নীচে প্রাচীর গাত্রে 
একটা ছিদ্রপথ দৃষ্ট হয়। পথটি এত সন্কীর্ণ যে, তাহাতে 
একজন লোক কোন ক্রমে. গমনাগমন করিতে পারে। 
রদ্ধ, পথে, প্রচীরের অপরপার্থে, আর একটি গ্রকোষ্ঠ 
দেখা. গেল। এ গ্রকোষ্ঠে মূল্যবান পালঙ্ক, কৌচ, 
চেনার, টেবিল।-আলাবাষ্টার প্রভৃতি, এক কোণে সুবর্ণ- 
মণ্ডিত চারিখানি রথচক্র, এবং আরও কত কি রহিয়াছে 
তাহা নির্ঘ্র কর! যায় না। এই সকল বপ্তর নামের 
 ভালিক. এবং বিবর্ণ পরে . প্রকাশিত হইবে। হাহা 


ইজিপ্টে নব আবিষ্কার 


১ 


হউক, এই কক্ষের পরে আরও একটি কক্ষের দ্বার 
আবিষ্কত হইয়াছে এবং লর্ড কার্ণারভনের বিশ্বাস যে, 
উহ্থার মধ্যেই বাজ তৃতাউক্ষেমেনের “মামী” পাওয়া 
যাইবে। তিন হাজার বৎসরের মৃত দেহ! পর্বত 
কন্দরের তিমিরাবৃত শ্ভিত কক্ষে চিঃশান্তিতে নিমাজ্জত 
সম্রাট, দেহ! জীবিত কালে যাহা নিতান্ত ভাগ্যবান 
ব্ক্ষি ভিন্ন অপরের দর্শনের উপায় ছিল না, তাহ! 
আর কয়েক দিন পরেই সর্বদাধারণে বিন! উপঢৌকনে 
যদৃচ্ছ! দর্শন করিবে। আর ফেসঙ্ষল দ্রব্যের কথ| বলা 
হইল, তিন হাজার বৎসরের ব্যবধানেও আকন সভ্যজগতের 
সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি ইংরাজ ও মাফিন, উহাদের শিল্পকৌশলে 
ও চমংকারিত্বে মুগ্ধ হইয়া বিন্ময় বিস্কারিত নেত্রে 
চাহিয়া আছেন। কে বলিবে সভ্যতার চরমাদর্শ 
কোথা! 

এই আবিষ্কার উপলক্ষে এ্রতিহাসিক মহলে ইতো- 
মধ্যেই বেশ একটু সাড়া পড়িযাছে। ফ্যারাও তুতাঙ, 
ক্ষেমেনের ইতিহাস অনেকেই অল্পরস্তর অবগত আছেন। 
ইনি মাত্র সাত বৎসরকাল রাজত্ব করিয়াছিগেন। 
ইহার সময়ে ই্জিপ্টে এবং তাহার পার্খববত্তী রাজ্য সমূহে 
যে ঘোর সামান্দিক আন্দোলন হইয়াছি/+ তাহার বিশ্বৃত 
বিবরণ পাওয়া যায় না; সে সম্বন্ধে দেশীয় এতিহাসিক 
জোজেফামন্‌ (0০9001015 ) কৃত "০০০৫৮ 41010105 


নামক গ্রন্থে উদ্ধৃত মানেখোর (148205০ ) একটি 


স্থদীর্ঘ রচনা হইতে যে সকল ঘটনা অবগত হওয়া 
যায়, এতিহাসিকেরা৷ তৎ্সমুদয়কে কিংবদস্তী বলিয়! 
অগ্রা্থ করেন। ব্রিটশ মিউজিরমের প্রত্বতত্ববিভাগের 
ভার প্রাপ্ত স্তর আর্ণেষ্ট ওয়ালিস্‌ বাজ,( 31 157169 
ড৫০119 0808০), অধ্যাপক ফিওার্স পেটা, (7১:02 
[170009 7৩৮০), মিঃ ই, এফ ওটেন্‌ (ই 13 
ঢু, 0960), মিঃ আর্থার উইগহল্‌ (ঘা, ৮00 
৩1217011) প্রভৃতি পুরাতত্থাবদ্গণ তৃতাঁঙ.ক্ষেমনের 


সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার আলোচন! 


আরম্ভ করিয়্াছেন। ইহাদের কাহারও কাহারও. মতে 
তুতাঙ্ক্ষেমেনই, -এপ্রীচীন ইত্তিহাপ" এবং. বাইবেলের 


১২৪ 
8০এুঘ্ও বা ইস্রেলাইট, ইহুদীদিগের ইজিপ্ট 
পরিত্যাগ বিভাগে বণিত প্অত্যাচারী ফ্যারাও” 
(6091508 01 086 0107/:589191 ইহার সমাধিতে 
অপরাপর প্রব্যের সহিত একতাড়া প্যাপিরী লিপি 
পাওয়া গিয়াছে এবং উহাতে সমসাময়িক ইজিপ্ট, প্যালে- 
টান, আরব, ব্যাবিলোনয়া প্রভৃতি রাজ্যের পরস্পরের 
মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজক সম্বন্ধ পরিশ্ছুটভাবে 
লিখিত আছে বলিয়া সক ই মনে করিতেছেন। 
প্যাঁপরীয় লিপি পাঠের পূর্বেই (বিলাতের প্ডেলি-মেল্* 
পঞ্জে মহামতি উইগজল, যে বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ 
করিয়াছেন, ভাহার মর্ম এই ধে, ত্রীঃ পৃঃ ১৩1৫ অবে 
ইজিপ্টের রাজ! তৃতীয় এমোনোফিলের ( 4১12610- 
7585 10.) মৃত্যু হয়। এই রাজার দ্বাজদ্বের শেদভাগে 
মিশরদেশে থিবিসে প্রতিষ্ঠিত আমন্দেবের (80002) 
গুরোহিত সম্প্রায় অত্যন্ত প্রবল হইয়াছিল। আমনের 
উপা্নকেরা পৌত্তলিক ছিলেন এবং তীহার্দের বিরোধী 
দল এটনের (5602. ) উপাসনা! করিডেন। এটনধর্ঘ্ 
অনেকট! একেস্বরবাদের অনুয্প। এই ধর্প তৎকালে 
বর্তমান কায়বোর নিকটবর্তী ছেলিওপোলিসে (€10110- 
0০105) প্রচলিত ছিল। ফ্যারাও চতুর্থ এমেনোফিসের 
সাজস্বের চতুর্থ বংসরে আমন্‌ এবং এটন্‌ উপাসকদিগের 
শ্রতিদ্বন্বিতা চরম সীমার পৌছিঙ্বাছিল। রাজ! 
এমেনোফিস্‌ আখনাটন্‌ ( £/08৮০1 ) নাম ধারণ 
পৃষ্ক শ্বরাজ্যে এটনের উপাসনা প্রবর্তিত ফরেন এফং 
সী; পৃঃ ১৩১৭ আবে শ্বীর রাজধানী মধ্য ইজিপ্টের টেল্‌- 
এল্-অমর্ণার (1611-01-2010:08, ) লইয়া বান। ৬ 
উক্ত ঘটনার পর রাজা! আখআাটন্‌ আরও তের 
হংসন্ধ স্বাঞ্জত্ব ককিয়াছিলেন। রাজত্বের শেষভাগে 





000 ৪৮0 15028083010 7০১০১৮008 65৮ 
15 6৪115 01০80 00081080080 (41091700105 1৮) আনত 
9900091190 1০0 18৬59 1006৭ ৪0 (0 10030 & 06 
9501৮510597 005 86 06125৮26051 ঞ0জা25, আ100 
৪০ 25091555113 9 165 50115 ৮০ ৮৮5 2:৩8059019- 
858৩৮৪50৮06 68৩ 08895505 00 2৩ 3০0. 
8580, চু 39 


মানসী ও মর্মবাসী 


[ ১৫শ বর্ং_১ম খু --২র সংখ্যা 


তিনি আমনের পুরোহিতবর্গ ও পুরাতন দেবদেবীন্ব 
বিদ্বেধী হন। মৃত্যুকালে ইহার পুত্রসন্তান নাখাক্ষায় 
কন্ঠ শ্েডেক্ষয। পিডসিংহাসনের অধিষ্ষারী হইয়াছিলেদ। 
প্রেতেক্ষরা বাজী হইলে তৃতাওক্ষেদেন তাহা চেথাপে লে 
অথব! তত্বাধধায়কের কার্যে নিধুক্ত হল। শেওক্ষেয়াযগ 
সন্তান ছিল না) এজগ্ঠ তাহার মৃত্যুর পয় প্রন্কত 
উত্তপ্াধিকায়ী অভাবে এবং সম্ভবতঃ বুদ্ধি কৌশলে, 
তুভাঙ্ছরেমেনই শৃষ্ট সিংহাসন বাত করিক্জাছিলেল। ইদি 
আমন ধর্শের পক্ষপাতী ছিলেন এবং সিংহাসন প্রাপ্তির 
পর উক্ত ধর্্ের পুনঃ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেম। তবে 
প্রজাঁবদ্রোহের ভয়ে এটনের উপাসনা এক ফালে 
পরিত্যাগ করিতেও পারেন নাই। তাহার পর ফ্যায়া 
আই (45) সিংহাসনায়োহণ কয়েন, কিন্তু হী; পুঃ 
১৩৪৫ আবে তীহারও মৃত্যু হয়। আই-এ পক্সে 
ভোরেম্-হব ([10:600110-) রাজ! হন। ইনি পৌস্ত- 
লিকত'র অত্যন্ত গোঁড়া ছিলেন এবং শ্রকেশ্বরবা্দী এটন 
উপাসকদিগের বিশেষতঃ ইন্দীন্দিগেরর উপর শ্রীধল 
অত্যাচার জারস্ত করেম। এটন উপাসকেরা! অপবিষ্ঞ 
ও বিধর্মী বলিয়া ঘোষিত এবং পরিশেষে ইঞ্চিপ্ট হইতে 
বিতাড়িত হইয়াছিল। হোয়েস্হেব প্রায় ত্রিশব€সন্ব 
রাজত্ব করেন কিন্তু ্রতিহাসিকগঞ্ ভূতীয় এমেনোফিসের 
মৃত্যুকাল অর্থাৎ খ্রীঃ পৃঃ ১৩৪৫ অফ! হইতেই পাছার 
সিংহাসন প্রাপ্তির সময় নির্দে”, কডিগাছেদ। উইগহল 
ঝূলন যে এই জন্তই চতুর্থ এমেনোফিস ( জাখদাটগ ) 
ও হোয়েম্ছেবের মধ্যবত্তী এটন বর্ধ সম্পর্কিত ফ্যারাও 
গণের বিশেষ কোন ইতিহাস পাওয়! যায় মা। এটন 
বম্্ প্রচলনের সময় ইজিপ্টে বৈদেশিক বা! এশিয়ার 
লোৌকদিগের এবং তাহা্দিগের আচার ব্যবহারের প্রতি 
উদারতা দেখান হইত, কিন্তু ইহ! অধিক দি স্থান্থী 
হয় নাই। তুতাক্ষেমেন ও আইএর সম হইতেই 
এটন-হিংস! এবং বিদেশয়দিগের প্রতি বিছ্বেবন্ধি 
প্রজ্লিত হয়। ইজরেলাইটদিগের দাসত্ব বিধয়ণ, ছ্ষি্নপে 
তাহাদিগকে ফ্যান্বাওএর আদেশে ইষ্টক প্রশ্বত ফিতে 
এবং অট্টালিক| নির্থাপকাধ্যে মনতুরী ফিতে ' হইত, 





সতের ৩ কা বি নি ই পি ০ ২ পা 


হায়। ইজরেলাইটদিগকে অত্যাচার ও দাসত্ব হইতে 
মুক্তি দিবার জন্তই মোজেসের প্রতি ঈশ্বরের আদেশ 
হইয়াছিল | মোজেন ঈশ্বরের জাদেশ লইয়! ফ্যারাও এর 
ঈয়ধায়ে বছবান্ব গ্দ করেন এবং অবশেষে তাহার 
গ্বরেশবাসিগণকে উদ্ধাপ্ধ করিতে সমর্থ হদ। ইহাই 
[0003 বৃত্বান্ত। উইগহ্ল্‌ সাহেবের অতে ইহ! 
জীঃ পৃঃ ১৩৪৫ অফেন্ধ ঘটলা। 

ভূতাঙক্ষেমেন ইহাদিগের প্রতি ফেন অত্যাচার 
করিয়াছিলেন, মাদেখোর যিবয়ণে তাহার একটি 
কিংবদন্তী আছে। একা রাজা! এমেনোফিস ( মালেথোর 
হতে) এপিনপুর এমেলোপিপ নামে এক বিজ্ঞধ্যক্তিকে 
প্রশ্ন করিয়াছিলেন, পক +*দ্িলে দেবতাগগিগের সাক্ষাৎ 
পাওয়া ধার ?* উদ্তরে এছেদোপিস বলেন যে, দেশকে 
অন্পৃন্ট বর্জিত কধিতে দা পারিলে দেধতায়৷ দেখা 
দিষেন লা!) কর্ণা্ষে প্রাপ্ত তুভাজ্ছেমেনের যে ইল] 
(85219) ঘ। প্রস্তয়লিপি পাওয়া পিক়াছে, তাহাতে 
ভূতাজ্জেমন শ্বদ্ংই লিখিয়াছিলেন যে, তিনি আদনের 
মন্দিরগুলির সংস্কার করিতে বাধ্য হন, যেহেতু লেক্ধপ 
না করিল গ্েবতারা দেখ! দিবেন না। মানেধেো 
আরগু লিখিক়াছেন থে জাশী হাজার অন্পৃষ্ত বাঞ্তিকে 
(90499 0601৫) একত্র ফরিম্বা দীল নদের 
পুর্বতীয়ে প্রস্তর কার্টিতে পাঠান হইয়াছিল। তথায় 
তাহার! হেলিওপোলিসেয এক পুরোহিতকে সহায় বূপে 
প্রাপ্ত হয়। এই পুরোছিতফ্ষে মোজেস্‌ ঘলিয়া বিশ্বাস 
করা যাইতে পারে; কেন মা, মোজেস হেলিওপোলিসেই 


বাইবেলের 1320043 অধ্যায়ে তাহার পরিচয় পা যা 





১২৫ 
শিক্ষালাত করিয়াছিলেন এবং তিনিই যে ঈশ্বরকে 
প্রেমময় পিতা ৰলিয়া সর্বপ্রথম প্রচার করিয়াছিলেন, 
তাহা এ্রতিহাসিক সত্য। এই ছুইটা বিষয়ে এবং আরও 
কয়েক স্থলে এ্রতিহাসিক ঘটনার সহিত মানধোর 
বিবরপের এরক্য আছে। মহামতি উইগহল সাহেবের 
দু বিশ্বাস যে, মানেখোর বিবরণকে প্রলাপ বাক্য 
বলিয়। উড়্াইয়! দেওয়া চলে না, বন্ততঃ এই বিবরণই 
০০৪ ফালীন ,ফ্যান্াও দিগের প্রকৃত ইতিহাস, 
কেবল মাঝে মাঝে সামান্ত পরিবর্তন আবন্তটক। তাহাই 
হদি হয়, তবে ভূত জ্েমেনই যে নির্যাতনের ফারাও 
€(160975001 ৮8৩ 01001653100 ) তাহাতে সন্দেহ 
নাই। গ্রাচীন ইতিহাসের এই অংশ আজিও অস্ফুট 
রহিয়াছে এবং তৃতাজ্মেমনের সমাধি মান্ছরে প্রাঞ্চ 
পাডঁলপি হইতে এই অংশেরই উদ্ধার হইবে বলিয়া 
অঁতিহাসিকগণ বিশ্বাস করিতেছেন। 

আদিখিজয় রায়চৌধুরী । 


ক 00005 09ত 1106161019। 6580 ] 11] 86100 11098 
৮০ 0015180105৮ 10000 018568৮ 0)110£ 0010 005 
790019 ৮0৪ 010110150 ০1 187861 ০০৮ 0৫ 1085৮- 
10 7050003 4, 

280050581৭8 019598 ৪14 101) আট 10? &1-0 
6010 7612901501৭ ২1110 00010010300 01 18180] 
[১9৮ 007 5০০1০ 2০, 6১৪৮ ৮0০) 209 10014 & ৪৮ 6০000 
10 69 স110910088.--19 152:0008 6, 


400 0019 1,010 0:00 90889 07060 09898) 88)1118, . 


9০ 10, ৪9০০1: 07060 [0087801) 16702 06 108710৮ ৮৪৪৮ 
8৪ 196 ৮৮০ ০0110191706 18189] £০ ০৪৮ ০1 018 100, 
10, 11) 8000৪ 6 





( উপন্যাস ) 


সপ্তম পরিচ্ছেদ 
সুসঙ্গিনীর দুঃখ । 


সন্ধ্যার পর ব্মনুপ্রভা -মাসীমাকে রামায়ণের সীতার 
পাতাল প্রবেশের অংশটি পড়িয়! শুনাইতেছে, আর এক 
একবার ঝআিতে মাসীমার অশ্রগ্লাবিত মুখের পানে 
চাহিয়া! দেখিতেছে, এমন সময় বাহির.হইতে কে ডাকিল, 
পম! ঠাকরুণ, দুয়োরট। একবার খুলে দিন ।” 

অনুপ্রভা জিজ্ঞানা করিল, "কে গা?” উত্তর আসিল, 
“আমি ঝি 1» 

হোগমায়ার অনুমতি লইয্। অনুপ্রভা তখন উঠিয়া 
আসিয়া হুয়ার খুলিয়া দিল। ঝির সহিত একটি অব- 
গুঠনবতী রমণী বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিল। 
_. যোগমারা তখন উঠিয়া! বসিয়াছেন, এমন সময় অব- 
গু$নবতী ঘরের.তিতর আসিয়! তাহাকে প্রপাম করিয়া 
ঈাড়াইল। যোগর্মায়। সবিম্ময়ে দেঁখিলেন, শুভ্র বমন 
পরিহিতা তাহার বিধবা! পুত্রবধূ--সজল নয়নে তাহার 
সঙ্গুবে দড়াইয়া। 

“বৌমা! এস মা আমার! লক্ষী আমার! তোর 
এমন বেশ আমার দেখতে হ'ল মা!” 
_.. বলিয়া বোগমায়া তাড়াতাড়ি উঠিন্লাপুত্রবধূকে বুকের 
উপর টানিয়া লইলেন। তাহার ছুই চক্ষু দিয়া ঝর ঝর 
করিয! অশ্রু ঝরিতে লাগিল। 

স্থসঙ্গিনী কাদিতে কীদিতে বলিল, “মা,॥ আমার 
কোনও দৌষ নেই মা! এমন যে বাঁঝ। করবেন তা আমি 
কখনও ভাবিনি। মা কত বারণ করেছিলেন। আপনি 
যেন তাঁববেন না! মা, টাক! পয়দার লোভে আমিও এ সবে 
মত দিয়েছি। ক্রতদিন থেকে আস্ব আস্ব বলে হ'ফাচ্চি, 
বাবার ভষে আগতে পারিনি। আজ তিনি কলকাতা 
গেছেন কাল ফির্বেন--তাই আজ মাকে বলে এলাম।” 


যোগমায়া ' সঙ্গেহে বধূর অস্র মুছাইয়! বলিলেন, 
*তোমার এর জন্যে কোন দোষ নেই বৌম!। কেন্দ তুমি 
লজ্জা! পাচ্চ মা? জীবনের কোনও সাঁধ মিটল না) এই 
বয়সেই দুঃখের বোঝ। মাথায় করতে-হলতোমায়। তোমার 
কথ! ভেবে যে আমার মনটা! পুড়ে ছাই হরে বায়। এর 
উপর আবার তোমার উপর রাগ কর্ব 1” 

এই শ্লেহ্সিগ্ধ ম্বরে বধূ অভিভূত হইয়া পড়িল। 
্বাগুড়ীর পায়ের কাছে উপুড় হইয়া পড়ি! ফুলিয়৷ ফুলিয়! 
কাদিয়া সুষ্গিনী বলিল, "আমার কন মা! আপনারা 
এতদিন আপনাদের কাছে আনিয়ে রাখেন নি? বাঁবা 
রাজী নেই বাহলেন? কেন মা আপনারা .জোর করে 
আন্লেন না? তাইতে মা অভিমানে আমার জ্ঞান থাকৃত 
না। নিজে জলে পুড়ে মর্তাম, আপনাদেরও জালাতাম। 
আমার. যত খারাপ ভাবতেন, মা, আমি তত খারাপ 
ছিলাম না 15 পর | 

স্থসঙ্গিনী মনেন্ন আবেগে এতকালকার হৃদয় রুদ্ধ 
যে কথাগুরি বিয়া, ফেলিল, তাহা শুনিয়। যোগমায়! যেন 
এতদিনকার অন্ধকারের মধ্যে আলোক. দেখিতে পাই- 
লেন। এই তীব্র অন্থুশোচনায় . তাহার হৃদয়.ভরিয়া 
উঠিল যে, স্তাহার বুদ্ধির দোষে কতদিন ধরিয়! এই হুত- 
ভাগিনী অন্তরে অস্তরে দগ্ধ হইয়া... উঠিয়াছে। কি ছঃখ 
ও মর্মবেদনায় অভাগিনীর জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলি 
কাটাইয়ছে! | 

যোগমায়! অশ্রসজল চক্ষে বধূর অশ্রু মুছাইয়া ক্নেহ- 
ভরে পৃষ্ঠে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিলেন, “বৌমা, 
তোঁমার কোনও দোষ নেই মা। যাকিছু দোষ আমারই 
আর কেঁদনা মা। আমি আশীর্বাদ করছি তুমি শাস্তি 
পাও মা। আর, আসছে জন্মে তুমি সর্বগ্রখে সুখী হবে 
এ আমি তোমাকে সর্বাস্তকরণে বল্ছি।” 

ভারপর শ্বাশুড়ী পুত্রবধূতে অনেকক্ষণ ধরিয়! গ্ধনেক 


চৈত্র, ১৩২৯] 


কথাই হইল ধোগমারা বুঝিলেন চুজনে পরস্পরের প্রতি 
প্রচুর অনুরাগ সত্বেও এক্ক বিপুল অভিমানে দিন 





কাটাইয়াছে। একজন অভিমানের সেই বিরাট পাষাণ 


ভার ফ্লেলিয়। চলিয়! গেল, আর একজন কতকাল ধরয় 


সেই আগুনে পুড়িতে থাকিবে তাহা তগবানই জানেন। 


তখন একটি একটি করিয়া পুত্রের জীবনের ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ 
ঘটনা হইতে বৃহৎ ওপ্ররণীর ঘটনাগুলি/যাহাতে মৃত্যুশয্যা- 
শারী যুবকের স্ত্রীর প্রতি কত না! ভালবাসাই মর্খ্াস্তিক 
ভাবে লুকান ছিল, সে সমস্ত যোগমায়া যখন সাশ্রনয়নে 
বলিতে লাগিলেন, তখন, আহত স্থান হইতে বিদ্ধ বাণ 


উঠাইয়! লইলে.যেমন সেখান/হইতে ক্ষিনকি দিয়া রুক্ত 
ছুটিতে থাকে, তেমনি সেই ত্বভাগি নী“ এহিক সুখ বঞ্চিত: 


নারীর. হৃদয়ের: -শত. -যুখ- যা যেন ব্রক্ত 'ঝরিতে 
লার্িল।:. .. ৮ ৩.০, এ 

তারপর 
সোমার মন' ঘুঝত মা, কিন্তু ষে যে.কেন তৌমাহে-জোর 


করে আনবার, কথা রলত্‌ না সেইটি তুমি জান্তে না। 
তাকে যে এরঁক্কাল রোগে ধরেছিল ত আমাদের বোঝবার: 


আগে সে বুঝেছিবা। বাঁবা-আমার যাবার ক'দিন আগে 
বলেছিলেন-__-এ বোগটায্ ম!.তিল'ত্িল করে মহুতে হয়। 
কুকের ভিতর -কি. যে একটা; অসহ্ যন্ত্রণা হয় তাঁচমার 
তোমাকে কি. বল্ব মা1..ডাই' আমি হবাদের- ভাঙগবাসি 
তাদের কাউকে আমার কাছে-আসতে 'দিতে বা: বেশী- 


ক্ষণ বঙ্‌তে বলতে ইচ্ছা করেন11 এবস্ত্রণা যদি ' .তোমার- 


ঝবৌয়ের হয, সেকি ভগ্মীনক হবে 1৮: 


: প্বামী.ও শ্বাশুড়ীর প্রতি সঙ্গিনীর মন দিন - দিন যে. 


কঠিন হইয়াছিল অশ্রুবর্ধণে তাহা সিক্ত হইয়া আসিতে 


হারনিহিত: প্রেমের-বীন্ আজ যেন মুহূর্তে অস্কুরিত হইয়া 


তাহার সমস্ত হৃদয় ভরিয়া উঠিল। সে শ্বাশুতীর পা ছুটা 
ধরিয:বলিল, স্া্আমি গ্াণনার -কাছে আজ থেকে 
থাকব! ভামাক্ষে-থা কতৈ.দেবেন মা?” র্‌ 
ম” ব্যিতকঠে ঘোগঘায়। ব্িলেন, “ছি মা, অমন: কথা 
সি :নলগ্তে :আন্ে! ভৌমাকে নিয়ে ঘর কর্ব এষে 
স্নান লন 'আশ্ব য় ছিল গ্তা৯আর কি. বলর €তাঁমায় মা £ 


অপুরণ 


পা্পিস্পিস্পিস্পান্পার পর্পিপিস্পপিসপিশ্পিসপিস্পিস্পি ্পসপিস্পিসি পাপ পিপি সি শি ২ সি 


যৌগমায়।' কী রিল *শরুৎও. 


১২৭ 


ভগবান তা থেকে একেবারে বঞ্চিত করলেন, তার কি 
করব। কিন্ত এখন তোমার বাবার কাছেই তুমি 
থার মা। আমার শগীর তে! দেখছ, আজ আছি 
কাল নেই। এখন যদি তোমার বাঁবার অমতে চলে আস, 
তাহলে ভবিষ্যতে তিনি তোমার উপর হয়ত রাগ কৰে 
থাকব্রে।- তাতে তোমার ক্ষতি হবে মা! আমায় যে 
তুমি এতখানি ভালবাস, এই জন্যে আমি খুব দুখী 
হয়েছি। শঃত্যাওঠার পরে তোমাকে যে বুকের মধ্যে 
আকড়ে ধরবার উপায়* দিলে, এতেই আমি ক্ৃতার্থ। 
যদি পার মা, মাঝে মাঝে এক একটিবার আমাকে একটু- 
থানির জন্য দেখা দিয়ে যেও। তাহলেই আমি অনেক 
শান্তি পাব” ঃ 

বলিয়া যোগমায়। সুধঙ্গিনীর চোখের কেপে যে জল- 
টুকু লাগিয়াছিল তাহা মুছাইয়।৷ দিয়া, তাঁহার - চিবুকে 
হাত দিয়া সঙ্গে চুদ্ধন করিলেন । 

নুসঙ্গিনী তৎন উঠিরা বলিল, “মা একবার এদিকে 
আন্ুন।” 

- পাশেই রাহ্াঘর। সেখানে আদিলে সুসঙ্গিনী 
অঞ্চল হইতে খুপিয়া একশত টাকা করিয়া দশ খানি 
নোট হাজার টাক! শ্বাশুড়ীর পায়ের কাছে রাধিষক! 
কহিল, “মা, এই নোট কখান! জ্যাঠামশায় আপনাকে 
গেবার জন্ত দিয়েছেন । বাবার এই রকম ব্যবহারে তিনি 
বড়ই বজ্ছিত হয়েছেন। তিনি বলে দিয়েছেন, আমার 
ভাই যে অন্তায় করেছেন আমি তার কথঞ্চিত প্রায়শ্চিত্ত 
করবার চেষ্টা করছি মাত্র 1” 

যোগমায়া নোট করথানার ধিকে একবার চাহিয়। 
বলিলেন, "তোমার জ্যাঠামশ য় একজন সাধুপুরুষ। 
ত্বকে আমার প্রণাম জানিয়ে বোলে! মা, তিনি যেন 
শুধু আমায় আশীর্বাদ করেন আর কষ্ট না পাই। 
এ টাকা তাকে ফেরত দিও। অশোক আমার ছেলের 
মত। আর কারও কাছে সাহাধ্য নিলে সে মনে ছুঃখ 
কর্বে। তিনি যেন না ভাবেন য! হয়ে গিয়েছে তার 
অন্ত আমি কাউকে গালিমন্দ দেবো । আমার অদৃষ্টে 
ছিল বলে এ সব হ,৮, কারও কোন দৌষ নেই যা. 


১২৮ 


স্থুঙ্গিনী নোটগুলি সেইদত রাখিয়াই বলিল, 
প্জযাঠাহখার তাহলে বড় ক্ষুঞ্ হবেন হা।” 

ভূমি বুঝিয়ে বোলে! মা, ধেন মন্গে কিছু না করের। 
তোমার শ্বশুর একট! ব্যবস্থা করে গেছেন। হিচ্ছু 
ফ্যামিজি এছ্‌ইটি ফণ্ড থেকে মাষ্ধে মাসে ১০ টাঁক। করে 
পাই, ত্বাতে ছুক্ষনের একরকম চলে যায়। বেশী লোত্ত 
ত ভাল নয় ম1।* ্ 

বলি নোট করখানি পুনরায় পুত্রবধুর অঞ্চলে বাধিয়! 
দিলে। 

ফোগমায়! তখন উঠিয়া, সামান্ত কিছু খাবার করি 
সুসঙ্গি্ী ও ঝিটিকে খাওয়াইয়। দিলেন। 

তারপর যোগমায়! নিজেই বলিলেন, প্রা হ'ল 
আর দ্বেরী কোরোনা। এসো! মা ।” 

বাহিরে আসিয়! ঝিকে বলিলেন, “তুমি ম! বেয়ানকে 
বোলো, আজ যেমন দয করে বৌমাকে একবার 
পাঠিয়েছিলেন এমন দয়! যেন মাঝে মাঝে করেন।” 

অন্ুপ্রভা এতক্ষণ চুপ করিয়া বগিয়াছিল। 
সুসঙ্গিনী বাহিরে যাইতে উদ্তত হইলে অস্ুপ্রভ! তাহাকে 
একটি প্রণাম করিয়া বলিল, ”বৌদি, তোমার সঙ্গে 
একসঙ্গে থাকবার কপাল তো করে আননি। তবু 
এমনি করে মাঝে'মাঝে এসো ভাই ।* 

স্ুসঙ্গিনী 'স্থুপ্রভাকে হস্তে ধরিয়া তুলিয়া তাহার 
মুখের পানে চাহিয়া গদ্গদ কঠে কহিল, “আস্ব বৈ কি 
ঠাকুরবি। তুমিও মাঝে মাঝে যেও ভাই |” 

বৌদি ও ঠাকুরবি এই ছুটি নৃতন সম্বোধন শুনিরা 
ও বলিয়া এক নূতন ভাবে সসঙ্গিনীর সমস্ত হৃদয় 
পরিপূর্ণ হইয়া! ভঠিল। এই সাদাত ছুটি কথায় 
কেন যে তাহার সর্বাশরীর শিহরিয়া উঠিল, কেদঈ 
বা তাহার ছটি চক্ষে এমন করিস জল ভরিয়া উঠিল 
তাছা। সে বুঝি! উঠিতে পাঠ্লি মা 

সপ্ন একফেটা চোখের জল ফেল্রা যোয়াকে 
্বাশুড়ীকে প্রপাম করিয়! বিয়ের সঙ্গে বাটার বাহিরে 
আবিল। বাড়ী যাইবার পথে এব কথাই বারবার 
তাহার দনে হইতে লাগিল--আন্ক হি তিনি খাকিকেদ 


মানসী ও মর্দবানী 


1 ১৫শ বধ-্”১ম খণ্ড স্যর সংক্কা 


তান পারে ধরি! রলিতাহ-স-গ আহি সোফা 
কু'ঝতে পাকি নাই, তাই কত কথ। দিকাছি। আজান 
ক্ষমা করি. 

বিয়ের জলক্ষিতে সুমঙ্গিনী বারবার চন্ছু মুছতে 
সুছিতে-যুছিতে পিত্রালয়ে আসিয়া! উপস্থিত্ত হইজ। 


অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ 
ভৈরব বাবু। 


স্থসঙ্গিনী স্বাগুড়ী সহিত ফেখ! করিদ যাইবার 
কয়েকদিন পরে একদিন অপরাহে হেরস্থবাধুর দ্বাখ- 
বর্ষার পু সুখীর আসিয়া! যোগমারাকে প্রণাষ করিরা 
কহিল, প্জ্যাঠাফশায় বাইরে এসেছেন। জাপনাদের 
বাইরের ঘরে বোসে, আপনাকে গোটাকতক বখ! 
বলে বাবেন। আস্তে পারেন ভিৰি 1” 

হ্যা, আাম্বেৰ বৈ কি বাবা। নিষ্ধে এস তাকে 
বলিয়। যেগমাম। তাড়াতাড়ি বাহিরের ছয় খুলি) 
দিবা ভুধীরকে তাহার জ্যোঠাহহাখরুক ডাকি 
আনিবার জন্ত পাঠাই! দিলেন। জ্যাঠামহাশকে তাবিথ 
স্থধীর তাহাকে বাহিরের ঘরে বসাইবা। 

জোঠামহাশয়ের গেরুয়া! বসন পরিহিত দীর্ঘ গৌর 
দেহ ও প্রশাস্ত সুখবগ্ডল দেখিয়! যোগধার। কোনয়প 
সঞ্চোট না করিয়া তাহাকে প্রণাম করি জিজ্ঞান! 
করিলেন,“জাঘাকে কি বল্বের) বলুন |” 

উভৈরববাবু একটু হাসিয়া বলিলেন, “মা, ভাজি 
তোমার চেয়ে বলে চেস্ব বড়, সেজজ্ে ভুমি বলেই কথা 
আরম্ত করলাম কিছু মনে করো বা। জাহি হে ছুট 
কারণে ডোমার কাছে এসেছি হ। ভা ঙখা এক কে 
বলছি।” 

ঘলিয়! মুধীরূফষ একবার ভাকিলের । জুখীর 
জ্যাঠামাশরকে বসাইয়া! চিয়। বাড়ীর ভিরজার এহটা 
পেয়ার! গাছের তলার দীড়াইয্া তাকিতে ছল তে, বাহাদের 
বাড়ী ভীহাদের কিছুই না বজিরা, গাছে উঠি! পড়াটা 
উডিক হইবে কি না। আদব অন্ধ জা চাবহাখনের 


চৈত্র, ১৩২৯ ] 


অপুণ 


নে 
১২০৯ 





পানি িস্পিসি সিসি উিস্পিপি পিসি ৬০ ৩ পিপি ১৩৯ সপাসিপীতা পসপিননপান্পিস্ণসপিম্পাস্পিসপি শি ৩৩৩৩ 


আহ্বান শুনিয়া আপাঠতঃ সে চস্ত! ত্যাগ করিয়া ঘরের 
প্রবেশ করিল। | 

স্থধীরকে দেখি! টৈরব বলিলেন, প্নুধীর একে 
প্রপাম করে পায়ের ধুলো নাও।” তারপর যোগমায়ার 
সামনে যাইয়া বলিলেন, * 1, আমার প্রথন অস্টারাধ, 
তুমি এই বালঞ্কে আনীর্বান কর।” 
, যোগমায়া। বালককে সন্গেছে দার্ঘসীবন ও বিশ্তা- 
সমুদ্ধর আশীর্বাদ করিঞ। উঠাইলেন। 

সুধীর তখন আবার পেয়ারার অভিযানে বাহির হইয়া 
পড়িল। 

একটু নিস্তব্ধ গাকিয়া ডৈরব বাবু বলিলেন, "তোমার 
সঙ্গে আমার ভাই যে বাবার করেছে, তাতে আমার 
তোমার লজ্জা পাওয়া উচিত। 
কিন্তু আম এনেছি তার ভয়ে তোমার কাছে ক্ষম! 
চাইতে । সে নিজের জিনিস নিজের স্বার্থ এতবড় 
করে দেখছে যে আর কারে! একান্ত স্বার্থ তার নজবেই 
পড়াছ না| এঠে তো তার কল্যাণ হবেনা মা। 
সে যা করেছে তার ম্জনা নেই। তবু মা তোমাকে 
আম্মি চিনি, তাই তার এতবড় অপরাধের জন্তেও ক্ষম! 
চাইতে সাহস করছি। তাকে তুম ষদি সর্বান্তঃকরণে 
ক্ষমা না করো মা তাহলে ভার সর্বনাশ সুনিশ্চিত।* 

যোগমায়া ধীরে ধারে বলি লন, "মামি আপনাকে 
সত্যি বল্ছ তীর উপরে আমার কোন আক্রোশ নেই। 
তিনি যা করেছেন, তার মেয়ের ভাল ভেবেই। এতে 
করে তিনি আমার ভালও করেছেন। স্বামী পুত্রহারিয়ে 
তাদের সম্পত্তি নিয়েই মত্ত হয়ে ছিলাম। এট তো! 
ভাল হচ্ছিল না| তাই ভগবানই গুর হাতত দিয়ে 
সে সব কেড়ে নিলেন। তিনি আঘাত দিয়ে বুঝিয়ে 
দিলেন এতে আমার মঙ্গল নেই। বৌমার বাপের 
এতে ফোন দোষ নেই ।” 

রব বাবুর মুখমণ্ডল একটু উজ্দ্বল হয়া উঠিল। 
তিনি কহিলেন, পতুমি ষে এ ছুঃখটাকে এমন সহ 
করে নিতে পেরেছে এতে বড় সুখী হুজাম ম। 
ওই তো চাই। এর চেয়ে বড় সাধন! তো খুব 

৫৭৫ 


কাছে আসতে 


পি তাস পিসি পি শাশিশ 7 পাটিপশী শা পিপি 





তত পাসপিম্পাপসি 


কমই আছে। তিনি যা দেবেন সবই আমার মঙ্গলের 
জন্যে, এটকু মান গ্রচণ করতে পারলে আর কিছুরই 
অভাব থাকৃবে না।” 

যোগমায়৷ আপনার প্রশংসায় লক্জিত হটনা মুখ নত 
করিল্নে। 

টৈরব বাবু আবার বলিলে, “কিন্ত মা একটা 
বিষয়ে তোমার সঙ্গে আমার ঝগড়া করবার আছে। 
সুদুর হাত দিয়ে থে কাগঙ্গ ক ল পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, 
তা নেওনি কেন মাঠ কেন মনে করতে পারছ না 
যে ভগবান আমার হাত দিয়ে তোমাকে ওই গ্রিনিষট। 
পাঠিয়ে দিলেন ?* 

যোগমায়া। নম্রভাবে উতর করিলেন, “তা যদি দেবেন 
তাহলে যেগুল আমি আমার ব্লতাম, সেগুলি হাত 
থেকে, সরিয়ে নিলেন কেন ? বোধ হয় ভগনান আমাকে 
অভাবেক্ট রাখতে চান। সে অবস্থাতে আপনার টাকা 
নেওয়াটা তীর ইচ্ছার বিপরীত হবে না কি? আর 
যতই পাব, ততই তে! লোভ বেড়ে যাবে ।” 

ভৈরব বাবু বলিলেন, প্কিন্য মা তোমার যে এখন 
টাকারও দরকার। তোমার কাছে যে মেয়েটি রয়েছে 
ভারও যে বিয়ে দিতে হবে” পু 

যোগমায়া। আমার বাবার ভাগলপুরে বে বাড়ী 
আছে তা £ই পাবে, খান ছুয়েক গহনাও ওর গায়ে 
আছে ॥ এই থেকে তার দয়! চলে একরকম চলে যাবে। 

ভৈরব বাবু এবার একটু ক্ষুণ্ন হইয়া বলিলেন, 
“তাহলে ম! আমাকে এমনিই ফিরিয়ে দেবে?” 

যোগমায়াও একট বিচলিত হষইগ্লা বলিলেন, «আপনি 
আমার উপর রাগ করবেন না বাবা। আমার স্বামী 
একট! ব্যবস্থা করে গেছেন, তার থেকে আমি মাসে 
দশ টকা করেপাই। মোটামুটি ভাবে চল্‌তে পারলে 
এতেই কুতোনো উচিত। বেশা লো করাট| গঠিত, 
তাই আমি আপনার অর্থ সাহাঘা নিচ্ছি না তবে 
যর্দ আমার দরকার ভয়, তালে আম 
নিঃসংকোচে আপনাকে জানাব একথা! বলে রাখছি 1৮ 
শতাহলে মা, তোমার কখনও যদি দরকার হর 


কখনো 


১৩৪ 


আমাকে বৃন্দাবন ধাম হরিদাস বাবাজীর আশ্রম এই 
ঠিকানায় জানিও। তাহলে যেখানেই আমি থাকিন! 
কেন খবর পাব। এখন তবে উঠি মা।” ং 

বলিয়া ভৈরব বাবু উঠিগ্া ঈাড়াইলেন। 

যোগমায়। ভৈরব বাবুকে আর একবার প্রণাম 
করিলেন। ভৈরব বাবু আশীর্বাদ করিলেন, “শ্রীভগবানের 
চরণে তোমার অচলা! মতি হোক মা। তোমার চরিত্র 
লোকের আদর্শ হোক ।* 

হা মায়ের মত মা বটে! মণির হুর্ভাগ্য যে এর 
সঙ্গে তার বিবাদ করতে হল। এমন শ্বাশুড়ীর কাছে 
মেয়েকে রাখতে পারলে না সে! 

ভাবিতে ভাবিতে ভৈরব বাবু বাসায় আসিলেন। 


উনবিংশ পরিচ্ছেদ 
অশোক ও অন্ুপ্রভা। 


প্রভাতে অশোক যোগমায়ার নূতন বাড়ীতে আসিয়া 
ডাকি ল, ৭খুড়িমা |” 

অন্ুপ্রভা ঘর হইতে বাহিরে আমিয়া বলিলেন 
গঅশোক দা, আস্থন।” তার পর ঘরের ভিতর হইতে 
একথানি আসন 'আনিয়া বসিতে দিয়া কহিল, "্মাসীমা 
গঙ্গায় নাইতে গেছেন, এলেন বলে ।” 

অনুপ্রভার সহিত কথা কওয়া আজ তার প্রথম, 
তাই কিসের একটা আনন্দ ও ভয়ে অপোকের বুকটা 
যেন কীপি়্া উঠিল। 

অশোক কহিল, "এত সকালে এই শীতে নাইতে 
গেছেন 1” 

অনুপ্রভা ' মালীমা তে] বারমাস সকালেই নান) 
আর উনি শরীরকে কত কষ্টই যে সওয়াচ্ছেন, বাইকে 
থেকে কেউ তা বুঝতে পারে না। মাসীমার মত 
মানুষ আমি আর কখনও দেখিনি। এটি, আপনি 
ধাড়িয়ে রইলেন যে, বস্ুন। 

অশোক 'আদনে বসিয়া কহিল, প্থুড়মার মত 
মাহ্ষ পাওয়া সত্যিই ছুল্ভি। আমার মনে হয় খুড়িমার 


মানসী ও মন্মরবাণী 


[ ১৫শ বর্ষ--১ম খগ্ড--২য় সংখ্য। 


স্নেহ পাওয়া একট! সৌভাগ্য । অথচ এ স্নেহ পেয়ে 
মনে হয় না ঘে আমি একাই এ ভোগ করি। আর 
কাউকে ভাগ দিতে পারলে যেন আরও ভাল লাগে। 
যেমন তোমাকেও তে] খুড়িমা ভালবাসেন, কিন্তু তার 
জন্তে কোন ঈর্ষ! হয় না। বলিয়া অশোক অন্থু প্রভার 
পানে চাহিয়! মৃহ হামিল। 

অন্প্রভাও নত মন্তকে হাসিয়া দিজ্ঞাস1! করিল, 
“আপনি তো কাল এপেন না। মাপীমা সন্ধ্যার সময় 
বল্ছিলেন আপনি বোধ হয় আ.স্বেন।” 

অশোক এই কথাটাতেও একটা কি রকম আনন্দ 
অনুভব করিল। কয়েক মাস হইল অনু প্রভা এখানে 
আসিয়াছে এবং এই কয়মাপ সে এই পিতৃমাতৃহীন! 
কিশোরীর সংকোচহীন ব্যবহার, সংযত ও সিদ্ধ 
কথারার্তা, সুনিপুণ ও সন্গেহ পরিচর্ধ্যা দেখিয়া 
মুগ্ধ হইগ্নাছে। আব্িকার এই কথাটায় তাহার মনে 
হইল বোঁধ হয় অন্ুপ্রভাও খুড়িমার সহিত তাহার 
প্রতীক্ষায় ছিল। 

এই কথাটুকুতে মনে মনে আনন্দ অনুভব করিয়া 
অশোক বলিল, "আমাদের তো সে রকম কলেজ নয় 
যে শনিবার কলেজ হ:লই ছুটি হবে আবার সোমবারে 
খুলবে | আমাদের রবিবারেও কায করতে হয়।” 

অন্ন ভা! অশোকের পানে তাহার শাস্ত সরল চোখ 
ছুটি রাখিয়া জিজ্ঞাস! করিল, “আচ্ছা তাহলে আপনি 
কি করে বাড়ী আসেন ?” 

অশোক উত্তর দিল, প্দরকার পড়লেই আমাদের 
প্রিক্সিপাল সাহেবের কাছ থেকে ছুটি নিতে হয়। তাও 
একটা দিন বাঁ একটা রাত্তিরের বেশী আতকাল 
ছুটি মেলে না।” 

ছুজনেই খানিকক্ষণ স্তন্ধ থাকিবার পর অশোক 
জিজ্ঞাসা করিল, “আচ্ছা তোমার আর সে দেশের জন্ত 
মন কেমন করে না?” 

কথাট। একটু অতফিত হওয়ায় অনুপ্রভা একবার 
চমকিত হইয়া একট! বড় নিশ্বাস ফেলিয়৷ কহিল, 
“সেখানে আর কে আছে যেমন কেমন করবে। মা 


চৈত্র, ১৩২৯ ] 


অপূর্ণ 


১৩১ 





সি তসিপাস পিপাসা পট সিটি ৭৩ সপ 


বাধার আর দাদামশায়ের কথা! মনে হ'লে বড় 
কষ্ট হয়।” 

বলিতে বলিতে অনুগ্রভার চক্ষু হইতে বড় বড় 
কয় ফে?টা অশ্রু ঝ'রয়া পড়িল ৃ 

অনুপ্রভাকে কীদিতে দেখিয়া অশোক বড়ই 
লজ্জিত ও অন্তু হইল। সে ভাবিল এরূপ প্রশ্নে 
ষে অনুপ্রভার কষ্ট হইবে তাহা পূর্বেই তাহার ভাবা 
উচিত ছিল। 

অশোক কুঠিত হইয়া কঠিল "আমার একথাটা 
তোলা বড় অন্তায় হইয়া গেছে অন্ু। তুমি কিছু মনে 
কোরো না।” 

তারপর একটু সান্তনা দি শান্তভাবে কহিল, 
প্ঞডুঃখ তো সবারি জন্ত সঞ্চিত আছে। একদিন না 
একদিন পেতেই হবে 1” * 

ভম্গুপ্রভা চোখের জল মুছিয়া কহিল, প্প্রা় এক 
সঙ্গেই আম'র সব ছুঃখগুলি পেতে হল তাঁই বড় কষ্ট 
হয়! বাবা মাকে বন্তেন অন্থুকে বেশ ভাল করে 
লেখ পড়া শেখাব। ওকে যেন খুব গুচ্ছির থানি 
সংসারের কাধ দিয়ে ঘিরে ফেলোনা। কায তো বড় 
হলে করবেই কিন্তু তখন হয়ত লেখপড়া করবার 
সময় আর পাবে না। মা আমার বাবার কথা এমন 
মানতেন যে পারতপক্ষে আমাকে তিনি কোন কাথ 
করতে দিতেন না। শেষে বাবাকে আবার বঙ্গতে 
হত কাযটাও তো! শেখ! দরকার, একটু একটু 
কাযও শিখি 91” 

বলিয়া অঙ্গপ্রভা গ্বর্গগত জনক জননীর অসীম 
স্নেহের কথ ভাঁবিয়। আর একব!র অশ্রু মুছিল। 

অনুগ্রতার অশ্রবিদ্বুগুলি যেন তীক্ষকণ্টকের মত 
অশে!কের বক্ষে বিধিতে লাগিল। ম্নেহের সহিত একটা 
বিরাট সহান্নভূৃতির ঢেউ ত'হার হৃদয়ের কাণায় কাধায় 
ভরিয়া উঠিল। সান্বনার দুটি মিষ্ট কথা বলিবার ভস্ 
তাহার সমস্ত এন চঞ্চল হইয়া] উঠিল। কিন্তু লজ্জায় 
সেতাবের কোন কথ! সে বলতে পারিল ন1। 
" কথাটা 'অন্তদিকে উল্টাইয়। লইবার জন্য শেছে 


০ প৯ সপ পস্পিশ্িিসিিপি্ি্িউি পাস স্দিসিিশিসির্পা পাতা পাশপাশি তি চুর 


ঢাক কহিল, তোমার কাঁকাঁদের কাছে থাকার 
চেয়ে এখানে ভাল আছ তো ?” 

" অনুপ্রভা! আদ্রকে কহিল, “তা খুব আঁছি। 
মাঁসীমার কাছে মায়ের মতই স্নেহ পাচ্ছি। আর 
বাবা মারা গেলে সেখানে যে কটা দিন ম! ছিলেন, 
কি ঝষ্টই তিনি পেয়েছিলেন । তবে মাপীমার মতই 
তিনি কোন কষ্ট পেয়ে বলতেন না, ভাই এক রকমে 
কেটে যেত। কিন্তু সেই অবস্থঠেও বাবার ইচ্ছ! 
বলে আমাকে ঠিক ভাবে পড়াশুনো কন্ততে দিতেন । 
না পড়লে ছঃখ করতেন। কাকারা কত ০ই জন্তে 
নিন্দা করতেন, ছুর্বাক্য বল্তেন, তিনি শ্রাহথ করতেন 
না) কোন উত্তরও দিতেন না। আমি যর্ণি বল্তাম 
মা, এখন এই দুর্দশা হল, আর ওপব কেন ? 
মার চোখ ছুটো৷ সজল হয়ে উঠঠো, আর আমার পানে 
চেয়ে বলতেন তার ইচ্ছা ছিল তুমি ভাল করে লেখা- 
পড়া শেখ) আমার যতদুর সাধ্য তাঃ সে ইচ্ছা 
পূর্ণ করতেই হবে, নইলে যে আম শাস্তি পাব 
না মা” 

অশোক মুগ্ধ হইয়! জিজ্ঞাসা করিল, “তোঁদার বাবা 
মারা বাবার কত পরে তোমার না মারা গেছেন ?* 

অ্থপ্রভা মৃদুস্বরে বলিল, প্ছমাস পরে। ডাক্তার 
বলেছিলেন বাবার কথ! তেবে ভেবেই মা মারা গেলেন। 
মা যাবার সময় বলে যান, এখানে আর থেকো ন৷ মা, 
তোমার মাপীমার কাছে গিয়ে থেকো; তাহলে আর 
ভাবনা থাকবে না” 

অশোক অন্থপ্রভার মাসের সম্বন্ধে আরও একট! কথা 
জিজ্ঞাদা করিতে যাইবে, এমন সময় যোগমায়া গঙ্গান্নান 
করিয়া আর্জবমনে ফিরিয়া অশোককে দেখিয়া বলিলেন, 
“অশোক বে! কতক্ষণ এসেছিম্‌ বাবা ?” 

অশোক বলিল, গ্প্রায় আধঘণ্টা হল এসেছি খুড়িমা ! 
আচ্ছ! খুড়ীমা, এত শীতে তুমি একখান! শুকনো! ঝাঁপড় 
কেন নিয়ে যাওন!? হঠাৎ ঠা লেগে যে অনু 
করবে 1» পু 

যোগদায়া একঘটি জল লইয়া পা ধুইতে ধুইডে 


১৬২ 
বলিলেন, “এখনও ডাক্তার হসনি, এরি মধোই আরস্ত 
করলি বাব! কিন্তু অভ্যাসে সব সহা হয় এটা তে 
মানিস্‌?% 

অশোক। কিছু কিছু হয় তা মানি। তাবলে 
শীতের সকালে একেবারে আধক্রোশ হেটে গিয়ে গঙ্গান্নান 
করে, তার পর খাল গায়ে থাকলে শরীর বেশী দিন সহা 
করবে না, তাও মানতে হবে। 

যোগমায়া । দেখ, অশোক, ডাকার হয়ে শুধু রেগ 
হলে তার চিকিৎসা কি করতৈ হবে এটা শিথিস্নে। 
কি হলে রোগ বেশী হবে লা সেটাও দেখা দর- 
কফার। আমার মনে হয় ঠাণ্ডা, জল বা বাতাসকে অত 
ভয়'না করে সব যদ একটু সইয়ে নেওয়া ষায় চো তার 
ফল খুব ভ'ল হয়। অত সহঞ্জে সার্দ লাগেনা, অসুখ 
করে না। তু বাবা, সবাহ যা বলে, অন্ধের মত তা শুনে 
যাসনে, নিজে একটু ভেবে নতুন নতুন বিষয় সন্ধান করে 
আমাদের দেশের চাঁকৎশান্ত্রের সঙ্গে তাদের চিকিৎসাশাস্ত্ 
মিলিয়ে একট! নতুন সত্যিকার সুস্থ থাকবার উপায় বার 
কর। 

অশোক ষোগমায়ার কথাগুলি শুনিয়া শ্রদ্ধা না করিয়া 
করিয়া খাকিতে পারিল না। একটু হাঁসয়! বাঁলল, 
“তোমার কথ! সব সাঁভা খুড়িম। তবু তুম কাপড় ছেড়ে 
এসে কথা কও . তু'ম এই শী-ত তোমার ডিজে কাপড়ে 
কথ কইছ, আর আমার বুকের ভিতর যেন কীপুনি 
হচ্ছে ।” 

যোগমাস্স। ঘরের ভিতর গিয়া! বস্ত্র পরিবর্তন করিয়। 
বাহিরে আসিলেন। অশোককে জিজ্ঞাসা করিলেন, প্হারে 
অশোক, তুই তো তাহলে এই আস্ছিস সবে কল্কাতা! 
ধেকে। একটু চ1 করে এনে দিক ।” 

অশোক একটু বিশ্িত হইয়া পিজ্ঞাসা করিল, 
পুড়িমা আমি 01 তোমাকে বলিনি যে আমি এখখুনি 
জানা, কেমন করে তুমি জানলে 1” 

যোগমায়া বলবেন, পশরৎ যাবার পর থেকে তুই 
ষেআগে আমাকে দেখে তবে কাড়ীতে বাস! ফাল 
কাটে এলে অবধ্থই কাণন্তিল 1? 


মানসী ও মন্মরনাণী 


[১৫শ বর্-১ম খধ-হয় সংখ্যা 


অন্ুপ্রভা ততক্ষণ উঠিয়া গিয়াছিল। সে মনে মলে 
এই ভাবিয়া লংত্জচ হইয়া উঠিয়াছিল যে, চায়ের কথাটা 
তাহার আগেই মনে হওয়া উচিত ছিল। 

অশোক বলিল, পখুড়মা তোমার যে এখন আহি- 
কের সময়। আহ্কটা সেরে এস, আমি ততক্ষণ 
বদি।” 

হোগমায়া বলিলেন, "সে পরে হঝেখন বাবা । তোর 
সঙ্গে দুটো কথা কই আগে। এখন আহ্কিকে গেলে ত 
তোরই কথা মনে হবে, ভগথানের দিকে ত মন যাবে 
না।* 

এই কথাতে অশোকের প্রতি যোগমায়ার যে 
স্নেহ প্রকাশিত হইয়া! পণড়ল তাহা অশোক মনে মনে 
বুঝিম্াা বড় আনন্দ লাভ করিল। 

ফোগঘায়া যেন একটু ভাবিয়া বঠিলেন, “দেখ, বাবা 
এবার থেকে একটা কথা বল্ব ভেবে রেখেছি । অনুর 
বয়স ত ১৫ হল। এবার একট সম্বন্ধের চেষ্টা ভাল করে 
কর, আর দেরী করা ভাল নম ।* 

কি কারণে তাহা ঠিক বলা যায় না, কিন্তু কথাট! 
শুনিবামান্র তাহা যেন একট! আঘাতের মতই অশোকের 
কাণে বেদনা! দিল। একট, সামল ইয়া দেরীতে 
বলিল, প্হাণ দেখব খুড়িমা। কিন্তু তাড়াতাড়ি অনুর 
বিয়ে হয়ে গেলে তোমার যে একল! থাকতে হবে 1” 

যোগমায়া একটা নিশ্বান ফেলিয়া বললেন, ণতা 
বলে আর উপায় কিবাবা? আরদেরী করাঠিকনয়। 
আমি চোখ বুজলেই তখন যে আও মুস্কল হবে।” 

অর একট, পরে অস্থপ্রভা চা লইয়া আদিল । 

গ্বাঃ সুন্দর রং হয়েছে তো?” বলিয়া অশোক চা 
লইয়া ধীরে ধীরে পান করিল। 

তারপর উঠিয়া ষোগমায়াকে প্রণাম করিয়া কহিল, 
*তা ভলে এখন উঠি খুড়িমা, আবার বিকালের দিকে 
জ্াসকোগখন * 

পথে বাঞির হইয়া অশোক ভাবিতে লাগিল--অহর 
বিবাছের কথায় তাহার মন্টার ভিতরটা কেন এরকধ 
যেনা বহি | মে হেছকে নিজে বিকান্ছ হাসিতে 


চৈত্র, ১৩২৯] 


যোগ্য পাত্রী বটে। 
তারপর সে মনে মনে কহিল- যাহার সহিত,মন্ুর 
বিবাহ হউক না! কেন, সে যেন থোগ্যপাত্রে পড়ে; 


তারার বেদন 


১৬৩ 


এমন কথা কোন দিন মনে করে না | কিন্তু তাহাকেও কখনও কষ্ট "যন না পায়। ভগবান অস্ুপ্রভাকে 
বিবাহ ত একদিন করিতে হইবে 1 হখ, বিখাহ করিবার যেন সর্ধস্থাসে সুখিনী করেন। নিজের অজ্ঞাতসারে 
একটি! দীর্ঘানস্বাস বাহির হইল। 


ক্রমশঃ 
ভ্রীমাণিক ভট্টাচার্য্য । 


তারার বেদন 


গগন্র তারা তুবনের পানে 

কেন অপকে চাহিয়া! বুদ্দ ? 
নিদ্রা-বিহীন দীর্ঘরজনী 

জাগে মুগ-যুগ দেয়ানময় ! 
খুঁজে মরে মেকি সান অমতাক্ 
কোথা বাঞ্ধত দয়িত কোথায় )- 
জনম তাহার যাবে কি বুখায়, 

লভিণে না কভু কাঁমনা জয়? 
নিরাশা-আশাধার হৃদাক1শে তার 

কবে হবে ওগো অরুণোদয় ? 


সে কি হয়ে কতু মরণের দূত 

গভীর নিশীথে প্রবেশি ঘরে-- 
নিয়েছিল হার” পরাণ পুতুল 

ভননীর বুক শূন্ত করে? 
বিলাপ রোদন শাকাতুরা মা'র 
আকাশে-বাতামে তোলে হাহাকার, 
কম্পিত করি দিগবদিগস্ত 

বেদনা £ স্বরে ফেলিল ভরে; 
তারি জাল! দিয়ে জলে কি তারকা 

শত অভিশাপ বক্ষে ধরে? 


করুণ কোমল গ্রেম-বিহ্বল 


সোক ছিল কোন গেষ্ের রাণী, 


আশা স্থমোহন-ম্বপন বুনিচ 
রুচে'ছল তার কুটার খানি? 
কোথা হতে এল তুষারের ধারন 
"4 স্কুকুল-তাসনা কুটিল মা আর, 


লুকানো যে র'লঞ্মনের কোণায় 

সোহাগের কঠ ললিত-ব!ণী ॥ 
সুখ-জীবনের স্ৃতিটারে আজ 

নিতে চায় সেকি বুকেতে টামি? 


সেকি ছিল €গৌো কাধিনী কুসুম 

প্রসারিত বন-আলক পরে) 
এল উন্ম।দ উত্তব্র-বাযু_ 

নিশি না পোহাতে পড়িণ ঝরে? 
আজো বুঝি তাই ভূষিত নয়া:ন 
চেয়ে আছে প্রিয় কাননের পানে, 
ফুলের মধুর সঙ্গ হারায়ে 

নীরবে আপণন গুমরি মরে) 
আশাখিজল তার শিশিরের রূপে 

সারা ব ধায় পড়িছে ঝরে। 


সেকি ছিল কোন স্বাধীন দেশের 

যশোমগডত মুকুট পরি 
বিজয়ের মহা! গৌরব ভাতি-_ 

পরাধীনতার কালিম! হরি? ? 
আজি আর হায় নাহিক স্থদিন__ 
অধীনতা-পাংপ সে দেশ মলিন, 
তাই কি উল পুণোর শিখা 

গেছে চলি তারে অধার করি--- 
ওই সে সুদুর মুক্ত গগনে, 

স্বাদ ন৩1 যায়ে রেখেছে? বরি ! 


'সীত্রীণভিগ্রসজ 'ফোধ 1.. 


১৩৪ 


মানসী ও মর্্মাবারী 


[ ১৫ ব্ষ---১ম খ৪--২য় সংখ্যা 


স্বাস্থারক্ষায় আপত্তি * 


কাহার আপত্তি ?--৭বীরবলের।” 

কিরূপে জানিলে1--গত পৌষমাসের “ভারতবর্ষে 
উদ্ধৃত, *বিজলী* পত্রে প্রকাশিত, *গুরুশিষ্ুসংবাদ” 
পড়িয়া। 

কিন্ত কিসের স্বাস্থ্যরক্ষ! 1-_সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা। 

প্বীরবল* কি বলেন 1- শ্রবণ করুন :__ 

শিষ্বু।__“বাংলা সাহিত্যসম!লোচন| পড়ে দেখুন, তাঁর 
ভিত্র স্থধু একই বিষয়ের থ্চার আছে। লেখাটা শিব 
কি অশিব, এই হচ্ছে সমালোচকদের একমাত্র ভাবনা । 
এই কারণেই বা'লায় "সাহিত্োর স্বাস্থ্য রক্ষা বেরিয়েছে” 

গুরু 1--এর কারণ জানো? সাহিত্যে যাক! শিব 
গড়তে বাদর গড়ে, তারাই হচ্ছে সব সাহিত্যরাজ্যের 
মহ! শিবভক্ত ।” 

বীরবল স্বাস্থ্য ক্ষ! চাঁন না কে বলিল 1__অবশ্ঠ চান, 
কিন্তু সে শরীরের স্থাস্থ্যরক্ষা, সাহিতোর স্বাস্থ্রক্ষাতেই 
তাহার যত আপত্তি। 

সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষা মানে কি ?__মানে সেই বইট! 
পড়িলেই জানিতে পারিবেন। 

কিন্ত বই না পড়িলে কি জানতে পারিব ন1? - 
সমালোচক হইলে গারিবেন। কারণ সমালোচক হইলে 
বিশেষতঃ গালি দিতে হইলে, বই ন| পড়িলেও চলে। 


বীরবল তবে সে বই পড়েন নাই ?- ন! পড়াই 
সম্ভব | 

তাহার প্রমাণ ?-তিনি নিজেই বলিতেছেন,__ 
উক্ত পুস্তকে কেবল একই বিষগ্ন আছে-_লেখাটা শিব 
কি 'অশিব। বইট! পড়িলে এরূপ ভ্রম হইত না । 

কিন্তু তিনি যে উক্ত গ্রন্থের উৎপত্তির কারণ পর্্য্ত 
নির্দেশ করিয়াছেন 1-_তাহাও বই না পড়ার ফল। 

সে কেমন 1-প"্সাহিতোর স্বাস্থারক্ষাগ্র গ্রন্থকার 
আর যে সব বই লিখিয়াছেন তাহাতে কেবল বীদরই 
গড়িয়াহেন। তাঁহার “উড়ষ্যারচিত্র,৮ “ঞ্চবতারা৮ 
“অনুপমা” কেবল কিদ্ি্ধার ইতিহাস। সুতরাং 
এম্থকার একজন মহা শিবভক্ক । 

বীরবল বই না পড়িয়া সমালোচনা করেন কেন 1-- 
তাহার কারণ তিনি সাহিত্/রাজ্যে একজন বীর এবং 
তাহার গায়ের বলও খুব বেশী । 

শ্রীনন্দী। 


« এই লেখাটি ছুইমাপ পুর্বে প্রকাশার্থ 'ভারতবর্য? সম্পাদকের 
দিকট পাঠান হইয়াছিল। ছুইমাস গরে তিনি জাশাইয়াছেন যে 
ভারতবর্ষে ইহার স্থান হইবে না অথচ *গুরুশিষ্য সংবাদ” 
ভারতবর্ষে উদ্ধৃত করা হইয়াছিল। 70017):118010 191710688 
আমরা কবে শিখিব?-লেখক। 


অভাগী 


কেমন করে বলব সথি কি বাথ! মোর হৃদয় মাঝে 
থেকে থেকে উথলে উঠে আজ, 
কি যেন কি ঝড়ো হাওয়ার মাতন আমার বক্ষে বাজে 
টুটিয়ে দিয়ে সকল বাধন-লাজ। 
ঘতই কঠিন দেহের বেদন, সহ করা তনেক সোজা, 
" “মলের বেদন সহা করা ভার; 


ব্যথার বাধী না হঃলে সই, বেদন-দাহ যায়না বোঝ! 
ছলকে ওঠা জোয়ার জলের ধাঁর! 

মিথ্যা সবই, মিথ্যা সথি জগৎ মাঝে মায়ার খেলা 
সুখ কোথ| সই তপ্ত মরুর গায়? 

এক নিমে-ব ভেঙ্গে গেছে স্বপ্নে গড়! সতের মেল! 
ডুবলে! খেয়া ঘাটের কিনারায় 


চৈজ্ত ১৩২৯ ] একজন অতি 


স্পেস 





কেমন করে সইগে! সখি, কেমন করে সইগো আম 


অবশ হৃদে রুধি নয়ন ধার? 

নামিয়ে এম্থ সখের ভরা! বিভল প্রাণে, দিবস যামী 
দিন যে এখন সহা কর! ভার। 

দুখ-দায়রে ডুব দিয়েছি ঠিক থাকি তাই দুখের মাঝে, 
সুখের পরশ কেমন করে সই? 

সুখের মাঝে বুঝতে পারি কোন খানে মোর দুঃখ বাজে 
তাই যে বেদন-বিভল হয়ে রই। 

বাপের আমি বড় মেয়ে কত সুখে ছিলাম সেথা 
শ্বশ্তর বাড়ীর আমিই বড়বধূ, 

চারদিকের আদর আমার ভুলিয়েছিম সকল ব্যথ! 
ভেখেছিপাম জীবন বুঝি মধু । 

সুখ সোহাগে ডুবে হিলাম, হৃপু ছিলাম প্রেমের ডোরে 
ভাবতে যে আজ কেমন হয়ে যাই! 

সুখের নিশ! ফুরিয়ে গেল অভাগিনীর স্বপ্রঘোরে 
কেমন করে জানব বল তাই? 

হঠাৎ হিয়ার কুপ্ধবনে চিতার আগুন উঠল জলে 
পোড়! বুকে পড়ল খুবি বাজ; 


৪ 


চ 


বড় ধনীর কথ! ১৩৫ 


প্রভাত আলোর ক্ষণিক হাসি মিলিয়ে গেল কমলদলে 
ফুটিয়ে তুলে পুড়িয়ে গেল আজ ! 


এমনদিনে বরণ ডালার ভার ছিলতো৷ আমার! পরে, 
আজ যে হোথা ষেতে আমার নাই! 

অলঙ্লুণে, কপালপোড়া আজকে আমি, বাসরঘরে 
একটুখানি নাই তো! সখি ঠাই। 

আগার ঘরে আমার দরে পারব নাকে যেতে আমি 
আনাতে মোরগনাইকে। অধিকার। 

তাই বলি সই কেমন করে অমন দিনে দিবসযামী 
অবশ হৃদে কাধ নয়ন-ধার। 

ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকি মুখটি ঢেকে আপনমনে 
কখন পাছে দেখতে কেহ পায়! 

লজ্জা ভরে সন্থুচিতা, শি'বে উঠ ক্ষণে ক্ষণে, 

" ছন্রু সুছি কোণের নিরালায়। 

কে জানে গো সুখের দিনে কোন অভাগীর চক্ষে ধারা) 
উৎসবে হায় নাইক কাহার ঠাই? 

কি ব্যথা আজ বক্ষ চেপে, প্রাণ করৈ শোর পাগল-পা, 
কেমন করে সইব খল তাই! 

শ্রীসতীন্দ্রমোহন চট্টোপাধ্যায় । 


একজন অতিবড় ধনীর কথা 


জগতের প্শ্ব্যশালী লোকেদের মধ্যে রথস্চাইল্ড, 
কার্নেগী, +কৃফেলার প্রভৃতির নামই এদেশে অনেকের 
কাছে পরিচিত। তাহারা ভিন্ন তাহাদের সদৃশ ঝা 
তাহাদের অপেক্ষা অধিকতর ধনবান বক্তির কথাও 
গুন! যায়। পিয়ারপণ্ট মরগ্যান (]. 77১০ 3৫011200) 
এর নাম এখানে অনেকেই জানেন না, কিন্তু তাহার 
স্থায় অর্থ সম্পদে সমৃদ্ধ. তাহার »ময়ে বা পূর্বেও 
আর কেহ ছিলেন না। ইনিও আমেরিকার লোক 
ছি. ন।. 


এই জদ্ভুত ধনমন্পন্ন ব্যক্তি একদিনে ১৫০০০****৯২ 
টাকা কোনও এক বিষয়ে চাদ! স্বরূপ দান করিলেও 
কাহাকেও তাহার কৈফিয়ৎ দিবার ছিল না। যে 
সম্পত্তর উপর তাহার আধি ত্য ছিল তাহার পরিমাণ 
১৯১৬২৫০০৯৯২ টাকা। ইহার পূর্ববে কোন এফ ব্যক্তির 
আক্তাধীনে এত অধিক ধন কখনও ছিল না। তাহার 
চতরিত্র লেখক বলেন, তেতালিসটা প্রধান প্রধান জাতির 
বার্ধিক আদা রাজস্বের অপেক্ষা মিষ্টার' মরগ্যানের 
সম্পত্তি প্রায় ৩****০**৯০২ টাক! অধিক এবং পৃথিবীর 


জে শু ০০০০৩ 


১৩৬ 
সমস্ত স্বর্ণের মুূলোর অপেক্ষা প্রায় ৬৯৯৯০৯০৯৯০২ 
টাক! অধধক। 

তিনি. ১৬টী চ্টীনার লাইন ও ৪৪টা রে লাঈনের 
আধকাঁরী ছিলেন। উহাতে ৩০* বৃহদায়তন বাম্পীয় 
পোত এবং ৩০*০* যাত্র'গাড়ী ও মালগাড়ী চলাচল 
করিত। তাহার রেল লাইনের !বস্ততি প্রায় ৮১৮৫১৪ 
মাইল এবং ১২০০০ মলবহনের উপযোগী ষ্ঠাহার 
মার ছিল। 

এই মহা! ধনাঢার চর্িত্রগত বিশিষ্টতা, দৈনন্দিন 
জীবনের কার্ধযাবলী, ক্ষমতার গুঢ়সত্র কি, এবং স